দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ২৯ হাজারের বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৮হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এই আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরাফাতের ময়দানে অনেকগুলো নিম গাছ লাগানো রয়েছে। ৫০ বছর আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না। সম্ভবত ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ওমরা পালন করতে গিয়ে তৎকালীন সৌদি বাদশাকে হাজিদের ছায়ার জন্য নিম গাছ রোপণের পরামর্শ দেন। সে সময় দেশ থেকে প্রায় এক লাখের মতো নিম গাছের চারা পাঠিয়েছিলেন তিনি। এখন গাছগুলোকে সৌদি আরবের মানুষজন নিম গাছ হিসেবে ডাকে না, ‘জিয়া ট্রি’ নামে ডাকে।’
মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) গাছ রোপণের কথা বলে গিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবুজ রঙটা নবীর খুব পছন্দ ছিল এবং তিনি অনেক গাছ রোপণও করেছেন। গাছ পরিবেশ থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে আমাদের জীবনে উপকার করে থাকে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, ‘তোমরা যতদিন বাঁচবে, প্রত্যেক বছর একটা করে গাছ রোপণ করবে। গাছটা যখন একটু বড় হবে তখন তোমার বন্ধুর মতো মনে হবে এবং গাছটা যত বড় হতে থাকবে তুমিও বড় হতে থাকবে। তোমার পাশাপাশি যখন গাছটা বড় হবে দেখবে যে একটা অদ্ভুত একটা ভালোলাগা কাজ করবে।’
এ সময় শিক্ষার্থীদের গাছ রোপণে উৎসাহ দিতে শিক্ষকদের আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বর্ষার সময় শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু যে অনুপাতে বৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল, তা হচ্ছে না। আমরা যখন ছোট ছিলাম এই বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি হতো। এখন সেই বৃষ্টিটা হচ্ছে না। প্রয়োজন কিংবা অপ্রয়োজনেও গাছ কাটা পড়ছে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ দেশেই আমাদেরকে থাকতে হবে। আমার ঘর যদি আমি সুন্দর করে গুছিয়ে না রাখি তাহলে আমিও একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকবো। এতে করে আমার মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতি হবে।’
শুধু আজকের দিন নয়, প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্ত একটা করে গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের গাছ রোপণে উৎসা দিতে হবে। স্বাভাবিকভাবে দেশে গাছ যত বাড়বে আমাদের পরিবেশ তত ঠান্ডা হবে। পরিবেশ ঠান্ডা হলে আমাদের থাকতেও তত আরাম হবে।’
এর আগে বিএনসিসি সদস্যদের গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনপ্রতিরক্ষা ধারণার সঙ্গে বিএনসিসির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণেই সংগঠনটিকে দেশের দ্বিতীয় সারির প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
দেশের সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনসিসির কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণ এবং অধিক সংখ্যক তরুণ তরুণীকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে যথাযথ বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে বিএনসিসি দেশের তরুণ সমাজের নৈতিক বিকাশ নেতৃত্বের গুণাবলী এবং দেশপ্রেমে জাগ্রত করতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী
তওবা ছাড়া সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেছেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম দ্বারা পরিচালিত হবে। শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) সম্মেলনে হেফাজতের আমির এ কথা বলেন। ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে।
মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র। তাঁকে তাবলিগ জামায়াতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের একাংশ নিজেদের আমির মানেন। কোরান শিক্ষা দিয়ে অর্থগ্রহণ হারাম- সাদ কান্ধলভীর বক্তব্যের কারণে দেওবন্দিধারার আলেমরা তাঁর বিরুদ্ধে।
বক্তব্য থেকে সরে না আসা পর্যন্ত দেওবন্দের অনুসারী বাংলাদেশের আলিমরা সাদ কান্ধলভীকে টঙ্গীর ইজতেমায় আসতে না দিচ্ছেন না। তিনি আসতে না পারলেও তাঁর অনুসারীরা পৃথক ইজতেমা করেছেন। দুই পক্ষের দুই দফা প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হচ্ছে।
মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সরকারের উদ্দেশে হেফাজত আমির বলেন, সাদ কান্ধলভী তওবা করে যত দিন দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করবেন, তত দিন তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না।
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজামের পরিচালনার দাবি করে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চলবে। সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে এনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করতে হবে।
হেফাজতের আমির বলেন, তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের অনেকে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর’।
সম্মেলনে ঘোষণাপত্রে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে না দেওয়াসহ নানা দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রমুখ।
রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, মেশিন লার্নিং ও সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, উচ্চশিক্ষা স্তরেও স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাকে সমানভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শিক্ষাক্রমে এসব যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘খেলাধুলা’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে আরও দুটি নতুন বিষয়, যার একটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারায় নিয়ে এসে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি শিক্ষার এই অংশটুকু সম্পন্ন করতে হবে।
উচ্চশিক্ষায় বাস্তবমুখী জ্ঞান
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিছক সনদ বা থিওরি যথেষ্ট নয়। থিওরি ও প্র্যাকটিসের উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের অর্জিত সনদকে কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির শক্ত হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাক্রম সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার কলেজ থাকার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি—কীভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় এবং বাস্তবতার নিরিখে পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা যায়।’
এর পাশাপাশি দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, তাঁদের লক্ষ্য হলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা। এ কারণে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিমার্জনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্লেনারি সেশনটি সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিম, ইউনেসকো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ প্রমুখ।
শনিবার নভোথিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বহু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তা বাস্তবে রূপ পায় না। প্রশাসনিক ও আর্থিক এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করাই এ প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য।
আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এই মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন
ডেঙ্গু পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে। ঢাকা কেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশন ভবন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়া আজ শনিবার শুরু হয়ে চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি, ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনানুগ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন।
সকালে ইসির ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সেলিম আহমেদ খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও- ১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধিতরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।’
ইসির তথ্যমতে, দেশের ভেতর ও বাইরের ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হবে।
ইসি ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। ৬ অক্টোবর ইসি সেই আপিলগুলোর নিষ্পত্তি করবে। প্রার্থীরা ৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
ইসির তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এই উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জন ভোটার ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন পরিচালনায় ৩ হাজার ১৫২ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন; যার মধ্যে রয়েছেন ১৮৫ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৯৮৯ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৭৮ জন পোলিং অফিসার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বাসযোগ্য দেশ গড়তে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় দিতে হবে।
তরুণেরাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে অনলাইনে দেশের সব জেলার স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লাখ লাখ তরুণের সঙ্গে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান তরুণদের শক্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসি সদস্য ২২ হাজার। এ ছাড়া হাইস্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক মানুষ দেশ পুনর্গঠনে নামলে কেউ আমাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
তরুণ সমাজের পরিবর্তনের ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, একটি দেশের এত বড় তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে সেটা করা সম্ভব। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারা সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই হয়েছে।
দেশব্যাপী শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস আমরা ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। হয়তো আমরা ১০০ ভাগ পারব না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ সফল হতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। ডেঙ্গু সাধারণত ভাঙাচোরা পাত্র, প্লাস্টিক বা জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়। আমরা যদি সবাই মিলে এসব পরিষ্কার করি, তাহলে দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব।
সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কাজটা খুব কঠিন নয়। প্রতি সপ্তাহে আপনি যদি আপনার নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করার জন্য এক ঘণ্টা সময় দেন, তাহলে দ্রুততার সঙ্গে আমরা পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে সক্ষম হব। রাস্তাঘাটে অনেকে অসচেতনভাবে ময়লা ফেলে দেন। আমরা যারা পরিচ্ছন্নতা অভিযান করব, তারা যেন এসব মানুষকে নিরুৎসাহিত করি এবং সচেতন করি।
ময়লা-আবর্জনা থেকে রোগজীবাণু ছড়িয়ে আপনজনেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করেন তিনি। বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং উপস্থিত তরুণদের এই কাজে ব্রতী হওয়ার শপথ পড়ান।