• প্রকাশ : রবিবার ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৮:৫৬ এএম

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ


ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে আগ্রহী বাংলাদেশ। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র  এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে ইচ্ছুক।


ওয়াশিংটনে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।


শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ২০ দফা পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এই পরিকল্পনার ধারাগুলোর মধ্যে একটি ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির নিরাপত্তা এবং তত্ত্বাবধানের জন্য একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠন। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনও এ নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।


জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ওয়াশিংটনে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ছবি : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।


প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, সম্ভব হলে বি-১ (স্বল্পমেয়াদী ব্যবসা) ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এই ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি দিতে বিশেষ অনুরোধ করেন ড. খলিলুর রহমান। জবাবে অ্যালিসন হুকার বিষয়টি আমলে নেন এবং মার্কিন সরকার এই পদক্ষেপটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন। ভবিষ্যতে যদি পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বন্ডের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।


এ ছাড়া নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার আন্তরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন হুকার।


বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


ড. খলিলুর রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে হুকারকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


হুকার জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করেন।


নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।


রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা দেশ উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান এই সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও অনুরোধ করেন।


বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় দায়িত্ব বহন করছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান হুকার। তিনি এই সংকটের সমাধান এবং দায়ভার সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকাকালে রোহিঙ্গাদের জীবনমানের সুযোগ বাড়ানোরও অনুরোধ জানান তিনি।


জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং দেশের সেমি-কন্ডাক্টর উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান।


আন্ডার সেক্রেটারি হুকার প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।


এ ছাড়া গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী’র অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।


হুকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।


এদিকে, পৃথক এক বৈঠকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড ও বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।


বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. খলিলুর রহমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস।


অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।


এ সময় মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে সহায়তা করে যাবে। আমি নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই।’


সব অনুষ্ঠানে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন।




রিয়াদ-দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইট স্থগিত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ রোববার বিমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে অব্যাহত হামলার মধ্যে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। 


এর আগে ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মামগামী এবং ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছিল এই বিমান সংস্থা। 


এদিকে যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করছে।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সৌদি আরবে যাওয়া কিংবা বাংলাদেশে ফেরার জন্য জেদ্দা বা মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন।


ফ্লাইট পরিচালনা ও সময়সূচি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পরে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের বিমানের নিকটস্থ বিক্রয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।


সোমবার ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আজ রোববার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 


বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে নাম হবে ‘অর্ণব’। তবে আরব সাগরে সক্রিয় আরেকটি লঘুচাপ আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে সেটির নাম হবে ‘অর্ণব’।


আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কা খুব কম; অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদিও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আজ রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘণীভূত হয়ে আগামীকাল সোমবার পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে বুধবার নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।


গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৭ অক্টোবর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক প্যানেলের সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এসব দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব করা, যার অর্থ সাগর। তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় দুটি লঘুচাপের মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটিই এই নাম পাবে।


এর পরের নাম ‘মুরাসু’, যা প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় মুরাসু বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা ও জনসাধারণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা। একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় থাকলে নামের মাধ্যমে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।


গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


এদিকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। 


আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।


বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪০ পিএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এর অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 


এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত যে রায় জাস্টিস খায়রুল হক দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত সেটা বাতিল করেছে। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার প্রতিস্থাপন করতে হবে। এটা আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটাই আমাদের আন্দোলন ছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা। এটা হবে ইনশাল্লাহ। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এটা প্রতিস্থাপন করা হবে।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান- সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবর্তন চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার ভারত সরকারকে কয়েক দফায় চিঠি পাঠিয়েছে। এটা আমরাও শুনছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে আমাদের নেইবারিং কান্ট্রিকে, পার্শ্ববর্তী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতেও ফ্যাসিবাদী শক্তির এ রকম অপপ্রয়াস প্রথম থেকেই চালু ছিল। তবে, পলাতক শক্তির কোন অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না।


তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেটা তারা তাদের স্ট্রাটেজি অনুসারে করতেই পারে। তবে আমরা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে তারা বাংলাদেশে অপতৎপরতা চালাবে এটা হতে দেওয়া হবে। 


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৩৯ জন । এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বচ্চ ১৪৮ জন,  আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। 


বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৯৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ২৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ১৫৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২১৭ জন, খুলনায় ২৯৭ জন, বরিশালে ২১১ জন, রাজশাহীতে ২২৪ জন, ময়মনসিংহে ১৫৫ জন এবং রংপুরে ৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২২৭ জনে। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।


গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪০০ জন।


বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৫৬ জন রোগী এসেছেন।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে চলছে নানা ধরনের প্রস্তুতি। রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমন ও যাতায়াতের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।


যাতায়াত ও অনুমতি: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতীত সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌযান চলাচলের অনুমতি প্রদান করতে পারবে না।


সফরের সময়সীমা: আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ হতে ১৫ মার্চ ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকরা যাতায়াত ও ভ্রমণ করতে পারবেন।


জাহাজ চলাচল: টেকনাফের পরিবর্তে শুধুমাত্র নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজসমূহ চলাচল অব্যাহত থাকবে।


পর্যটক সংখ্যা সীমিতকরণ: সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) জনের অধিক হবে না।


পরিবেশ সংরক্ষণ ফি: সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি বাবদ পর্যটক প্রতি ১০০ (একশত) টাকা করে দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি-২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


পূর্বের নির্দেশনা বলবৎ: তাছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২২ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের সকল নির্দেশনাও বলবৎ থাকবে।


উল্লেখ্য, উক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার (কক্সবাজার) এবং ট্যুরিস্ট পুলিশকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।