ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শিল্পাঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে। দিনের পর দিন রান্নার জন্য চুলায় আগুন জ্বালানো যাচ্ছে না। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারিতে বাড়ছে ভোগান্তি। গ্যাসের অভাবে বন্ধ হওয়ার পথে শিল্পকারখানা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল পুরোপুরি সচল হতে সাত থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে আবাসিক, শিল্প, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। ফলে চাহিদার তুলনায় গ্যাস ঘাটতি আরও বেড়েছে।
রাজধানীর কিছু এলাকায় রান্না প্রায় বন্ধ
গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা ও বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকছে যে, রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না।
অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, ইন্ডাকশন কুকার ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে তখন পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।
রাজধানীর মনসুরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এভাবে আর কত দিন চলা যায়?
মালিবাগের বাসিন্দা মোর্শেদা সেতু বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে, কোনো রান্না করা সম্ভব হয়নি। রাত ৯টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অন্য কোনো রান্না করা সম্ভব হয়নি।
কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা মার্জিয়া আক্তার বলেন, দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা চুলায় কড়াই বসিয়ে রেখেও তেল গরম করা যায়নি। ছোট শিশুর জন্য সময়মতো খাবার তৈরি করতে না পেরে প্রতিদিন বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে।
সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। রাজধানী থেকে জেলা শহর–সবখানেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন দিনের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে মধ্যরাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, একটি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় এখন ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার ২ পিএসআইরও কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
মুন্সীগঞ্জে মাটির চুলায় ফিরছে মানুষ
মুন্সীগঞ্জে দিনের কোনো সময়ই রান্নার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও গ্যাস এলেও চাপ এত কম যে চুলায় শুধু টিমটিম করে আগুন জ্বলছে। এতে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
শহরের মালপাড়া, মানিকপুর, খালইস্ট, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, দেওভোগ ও মধ্য কোটগাঁও এলাকায় অধিকাংশ বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট দেখা গেছে।
অনেক পরিবার কাঠের জ্বালানিতে মাটির চুলায় রান্না করছে। কেউ কেউ এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। অনেক পরিবার সকালের খাবার হোটেল থেকে কিনে খাচ্ছে।
গ্যাস না থাকায় শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। মেশিন চালাতে না পারায় প্রতিদিন লোকসান গুনছেন উদ্যোক্তারা। দীর্ঘদিন সংকট চললে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মুক্তারপুর তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপক শরীফুল ইসলাম বলেন, সারাদেশেই গ্যাস সংকট চলছে। সরবরাহ বাড়লে মুন্সীগঞ্জ ও মিরকাদিম এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
নারায়ণগঞ্জে স্থবির শিল্পাঞ্চল
গ্যাস সংকটে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ উপজেলার শিল্পাঞ্চলে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বস্ত্র, স্পিনিং, নিটিং, ডাইং ও কম্পোজিট কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।
আড়াইহাজারে দেড় শতাধিক বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। এসবের মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। শ্রমিকরা কারখানায় গেলেও কাজ করতে পারছেন না।
শিল্পমালিকরা জানান, বয়লার চালানোর জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাস চাপ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক কারখানায় চাপ নেমে এসেছে এক থেকে দুই পিএসআইয়ে।
রূপগঞ্জের ভূলতা, গোলাকান্দাইল, রূপসী, তারাব, কাঞ্চন ও বরপা এলাকার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই চিত্র। উৎপাদন কমে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভূলতার একটি স্পিনিং কারখানার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দিনের বেলায় অধিকাংশ মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
কুমিল্লায় আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি
কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় রান্নার মতো গ্যাসের চাপ থাকছে না। নগরীর বাগিচাগাঁও, নতুন চৌধুরীপাড়া, চর্থা, রানীর বাজার, ঠাকুরপাড়া, হজরতপাড়া, নুরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সংকট বেশি।
অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বেড়েছে উৎপাদন খরচ। কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট এখন আরও প্রকট হয়েছে। জিয়ারকান্দি, মাছিমপুর, বাতাকান্দি ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকে না।
বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলছে, অবৈধ সংযোগ, পাইপলাইনের লিকেজসহ নানা কারণে গ্যাস অপচয় হচ্ছে। সংকট সমাধানে নতুন বিতরণ লাইন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
টঙ্গীতে তিতাস অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। রোববার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা গোপালপুর সাহারা মার্কেট এলাকায় তিতাস কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করলেও দীর্ঘদিন ধরে বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ মিলছে না। এতে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা বলেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ‘নো গ্যাস, নো বিল’ কর্মসূচিসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হবে।
বিক্ষোভ শেষে তিতাস গ্যাস টঙ্গী জোনের ব্যবস্থাপক মো. মেজবাউর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
অন্যান্য জেলায় ভোগান্তি
সিরাজগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় অন্তত দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন অচল হয়ে পড়েছে। চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ময়মনসিংহে ভোর পর্যন্ত কয়েকটি স্টেশনে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস থাকলেও সকাল ১০টার পর অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নরসিংদীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চালকেরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে যাওয়ায় একাধিকবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বিগত বছরগুলোতে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানা গেলেও এবার শিক্ষার্থীদের ১৬১৪০ নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
এসএমএসে ফল জানার নতুন নিয়ম
মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে HSC লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। উদাহরণ: ‘HSC DHA 123456 2026’ লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।
অনলাইনে ফল জানার নিয়ম
এসএমএসের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া, নিচের দুটি ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে। সেগুলো হলো- eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে সরাসরি কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন শুরু ১ নভেম্বর
এদিকে, প্রকাশিত ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ-সংক্রান্ত আবেদনপ্রক্রিয়া ও নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়, যা শেষ হয় ৮ আগস্ট। তবে, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।
আশকোনা হজ ক্যাম্প
যাত্রীদের টিকিট-সংক্রান্ত সেবা সহজ করতে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে পুনরায় চালু করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট বিক্রির কাউন্টারের সময়সূচি সংশোধন করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কাউন্টারে সেবা পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংশোধনী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আশকোনা হজ ক্যাম্পের টিকিট বিক্রির কাউন্টারের সেবার সময়সূচি উল্লেখ করা হয়েছিল। সংশোধনীতে জানানো হয়েছে, নতুন সময়সূচি অনুযায়ী কাউন্টারটিতে সেবা দেয়া হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বলাকায় অবস্থিত বিক্রয় বুথে কারিগরি জটিলতা দেখা দেওয়ায় যাত্রীদের টিকিট-সংক্রান্ত সেবা স্বাভাবিক রাখতে আশকোনা হজ ক্যাম্পের কাউন্টারটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া টিকিট পুনরায় ইস্যু করার প্রয়োজন হলে যাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পের কাউন্টারের পাশাপাশি বিমানের মতিঝিল বিক্রয়কেন্দ্র থেকেও সেবা নিতে পারবেন।
টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির নাগোয়া শহরে অবস্থিত টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি কারখানার গাড়ি সংযোজন (অ্যাসেম্বলি) প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসাহিকো মোয়েদা, টয়োটা সুশো করপোরেশনের গতিশীলতা বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিগেরু হারাদা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শিনিচিরো ওতসুকাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদারে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তিসহ মোট ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রকল্পে পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৬৫৬ বিলিয়ন ইয়েন অর্থাৎ ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি।
টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানের রুমন, উপ প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে টহল জাহাজ দেওয়ার অনুদান সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনুদান হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ইয়েন (১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) দেবে।
এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন বিষয়ক একটি সহযোগিতার স্মারক (এমওসি) সই হয়েছে।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য দুই দেশের মধ্যে কর্মসংস্থান বিষয়ক এমওসি হয়।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও সহযোগিতার একটি স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে সই হয়েছে লেটার অব ইনটেন্ট বা প্রাথমিক সমঝোতাপত্র।
যে দুটি প্রকল্পে ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে সেগুলো হল, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন ও উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২)। এর মধ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৫৮৮ বিলিয়ন ইয়েন (১০০.৮ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ ২) এর জন্য পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন (১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার) ঋণের প্রতিশ্রুতি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) মাধ্যমে বেসরকারি খাতেও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, “বেসরকারি খাতেও দুই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারকসহ বিভিন্ন চুক্তি ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
“এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।”
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে সস্ত্রীক জাপানে যান। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ বঙ্গভবনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু চাকরি প্রত্যাশী নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির চাহিদা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা এবং উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ দুপুরে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
তাঁরা জানান, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সর্বশেষ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় নাম।
মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি যুগোপযোগী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় প্রশিক্ষিত করে দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নুরুল হক নুর
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীতে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে একজন কর্মীর যেতে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।
বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর খরচও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
নুরুল হক বলেন, নভেম্বরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা শুরু হলে দুই থেকে চার দিনের মধ্যে পরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করে কর্মীরা যেতে পারবেন। নভেম্বরের ১ তারিখ অথবা প্রথম সপ্তাহে ফ্লাইট চালু হতে পারে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে মেডিকেল পরীক্ষার অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করবে। মেডিকেল পরীক্ষার খরচও নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে। তবে নভেম্বর থেকে কর্মী পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত ৩৩৮টি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের চাহিদাপত্র (ডিমান্ড লেটার) জমা দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত ব্যবস্থা এফডব্লিউসিএমএস এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট সেবার মাধ্যমে এসব চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়া কোনো চাহিদাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, চাহিদাপত্র সত্যায়নের পাশাপাশি কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। কোন কোন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা করা যাবে, তা দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
অনুমোদনহীন মেডিকেল কেন্দ্রে পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, মেডিকেল পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। অনুমোদিত কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষা না করতে কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।