ছবি : সংগৃহীত
ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে আজ ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা, বেচা-কেনা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তাদের প্রত্যেককে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের পাশাপাশি মাছ পরিবহন, বিক্রি ও মজুতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্য আইনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
গিয়াস উদ্দিন
সচিব পদমর্যাদায় গিয়াস উদ্দিন রিমনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গিয়াস উদ্দিনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, “যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, যেটি আগে ঘটে, তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিমন ক্যাম্পাস জীবনে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে সাংবাদিকতা ছেড়ে পুলিশে যোগ দেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, গঙ্গা চুক্তিতে মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পানিসম্পদমন্ত্রী এ প্রত্যাশার কথা জানান। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) নিজেদের মিলনায়তনে এ আয়োজন করে।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়া তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে আগামী বছর সরকার মূল কাজ শুরু করতে চায় বলেও জানান তিনি।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট এবং বাংলাদেশের জন্য মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট। যেখানে বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ এর সুফল পাবে। পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি, আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমান হবে।’
‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ’ মন্তব্য করে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসছে, দীর্ঘদিন থেকে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে ওই অঞ্চলের মানুষ জীবনধারণ করছে। আমরা এই মহাপরিকল্পনার নামে যা আলোচনা করছি, এটা নিয়ে প্রচুর সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের যেসব বিশেষজ্ঞ সদস্য রয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি, মিটিং করেছি এবং দায়িত্ব দিয়েছি। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ, তাঁদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন।’
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘খুব শিগগির এর ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ হাতে নিতে হবে। স্টাডির ভিত্তিতেই আমরা প্রজেক্টের কাজ শুরু করব। আমরা আশা করছি, এটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব শেষ করে যেন ২০২৭ সালে মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।’
তিনি বলেন, অন্যদিকে গঙ্গা চুক্তি নিয়ে সবাই বেশ উদ্গ্রীব। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ৩০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল, যাতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী যে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনা।’
পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না, জানতে চাইলে শহীদউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যাঁরা বাস করেন, তাঁরা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজের সমীক্ষা সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছি। তিস্তার মতো বৃহদায়তন প্রকল্পের সমীক্ষা রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্ভব নয়। অতীতে যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা পর্যাপ্ত কারিগরি সহায়তা নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই আমাদের সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।’
ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছে ঢাকা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টনে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।
আজ বিসের সেমিনার উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা চায়। পানিবণ্টনের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনের অবস্থান রয়েছে। পানি ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং ভারতের পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চাওয়া হয়েছে।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের কাছে নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনা শুরু করতে পারেন। এখন আমাদের তাদের জবাবের অপেক্ষা করতে হবে।’
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, খুব শিগগির এ বিষয়ে জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তী দফার পানি চুক্তি নবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান সম্ভব। কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই এসব বিষয় সমাধান করতে হবে।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং মর্যাদা নিশ্চিত ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়।
এ সময় তারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি, নিজস্ব বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে বিকৃত এবং রাজনীতিকে দূষিত করার অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.), সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য-অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য-কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য-দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)-সহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নিহত আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ২০১৯ সালে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করে। সাক্ষাৎকালে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত স্বাধীনভাবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন, ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এসব কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে, আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এছাড়া আবরার ফাহাদের কবর পাকাকরণ কার্যক্রম ও পাশের মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন।প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে আশ্বাস দেন এবং আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রতিশ্রুতি দেন। একসঙ্গে মসজিদটির নির্মাণকাজ অবিলম্বে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। সাক্ষাৎকালে আবরারের বাবা তাঁর ছেলের হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, আবরার হত্যা মামলার একজন আসামি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর বিষয়টি পরিবারকে জানানো হয়েছিল। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। আর যেন কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘প্রত্যেক ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েই আমার মতো কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। আমি চাই, কোনো ক্যাম্পাসেই যেন আর আগের মতো পরিবেশ ফিরে না আসে। আমার মতো কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
সাক্ষাতে আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে আবরার ফাহাদের বিষয়ে জানাতে পাঠ্যবইয়ে তাঁর ঘটনা অন্তর্ভুক্তির দাবিও জানান আবরার ফাইয়াজ। এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন।
আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহতদের তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে। এর আগে আবরার ফাহাদের মতো বিভিন্ন সময়ে যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদেরও একটি তালিকা করা হোক। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আবরারের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন, ৫ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আবরার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতার সমালোচনা করেন।
মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ, ফেনী নদীর পানি এবং গ্যাস রপ্তানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পরদিন রাতে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা তাঁকে হলে ডেকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে হলের সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়। ময়নাতদন্তে অতিরিক্ত মারধরের কারণে তাঁর শরীরে গুরুতর আঘাত ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের শাস্তিসহ ১০ দফা দাবি জানান। ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। পরবর্তী সময়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা নয় আসামি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিও লিভ টু আপিল করেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে ১ হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ
দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মাঠের সংকট দূর করতে প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এসব মাঠে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে মাঠগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সারা বছর সেখানে খেলাধুলার পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৭টি জেলায় মাঠ তৈরির জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথাও বৈঠকে জানানো হয়।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে দেশের বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং সারা বছর মাঠে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করারও নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমানের বক্তব্যের বিভ্রান্তিকর অনুবাদ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।
বাংলাফ্যাক্ট জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদুর রহমানের বক্তব্যের বিভ্রান্তিকর অনুবাদ ছড়াল গণমাধ্যম। ডা. জাহেদুর রহমান ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়’ বলেছেন দাবি করে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দের বিভ্রান্তিমূলক অনুবাদ করায় এই বক্তব্য নিয়ে পাঠকের মনে প্রশ্ন দেখা নিয়েছে। অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে ‘রাজনৈতিক পুনর্মিলন’ নয়, রিকনসিলিয়েশনের কথা বলেছেন তিনি। তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বাংলাফ্যাক্ট নিশ্চিত হয়, তিনি আওয়ামী লীগের রিকনসিলিয়েশন, এর পূর্বশর্ত, দায় স্বীকার, ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন।
ডা. জাহেদুর রহমান ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়’ বলেছেন দাবি করে বেশ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব সংবাদের শিরোনামে, ফটোকার্ডে ও ক্যাপশনে এই উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদনে ‘রিকনসিলিয়েশন বা রাজনৈতিক পুনির্মিলন’ লেখা হয়েছে, অর্থাৎ ‘রিকনসিলিয়েশন’ শব্দটির ব্যাখ্যা বা অনুবাদ হিসেবে ‘রাজনৈতিক পুনর্মিলন’ ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ফেসবুকের কমেন্ট সেকশন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক পাঠক এতে বিভ্রান্ত হয়েছেন।
বাংলাদেশে চলমান গুজব, ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।