রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে পুরোনো সেই ব্যস্ততা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬, সময় : ২:২৬ এএম

ঈদের আগে গতকাল (১৬ মার্চ) শেষ কর্মদিবসে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে পুরোনো সেই ব্যস্ততা। একই সঙ্গে বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল যাত্রীদের আনাগোনা। 


দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। এতে লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কজুড়ে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। রাজধানীর পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে যাত্রীর চাপ, তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।




ঈদের আগে গতকাল (১৬ মার্চ) ছিল শেষ কর্মদিবস। ফলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরতে দেখা গেছে পুরোনো সেই ব্যস্ততা। একই সঙ্গে বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল যাত্রীদের আনাগোনা। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ।


গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সদরঘাটে লঞ্চ শ্রমিক, কুলি ও মজুরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ (১৭ মার্চ) থেকে ঘাটে চাপ আরও বাড়বে।


সদরঘাট ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। কুলি-মজুরদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাই বেশি। ঈদের ভিড় এড়াতে অনেকে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করেছেন।


সাধারণ সময়ে বরিশাল রুটে এক বা দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও এখন যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় চারটি করে লঞ্চ ছাড়ছে। আজ থেকে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।


ঢাকা থেকে মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। চাঁদপুর রুটে ডেক ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।


চাঁদপুরগামী আল বোরাক লঞ্চের টিকিট বিক্রেতা জমির উদ্দিন জানান, এখনো ডেকে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও কেবিনে কিছু যাত্রী রয়েছে। তিনি বলেন, "আজ থেকে যাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।"


চরফ্যাশনগামী একটি লঞ্চের স্টাফ আবদুল বলেন, "ঈদের সময় ছাড়া বছরের অন্য সময় লঞ্চগুলো প্রায় ফাঁকাই থাকে। তাই ঈদকে ঘিরেই কিছুটা ব্যস্ততা ফিরে আসে।"


পরিবার নিয়ে বরিশাল যাচ্ছিলেন যাত্রী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, "ভিড় এড়াতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। ভাড়া আগের মতোই রয়েছে।"


পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় সদরঘাটের ব্যস্ততা আগের তুলনায় কমেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে ঈদসহ বড় উৎসবের সময় আবারও সেই পুরোনো কর্মব্যস্ততা ফিরে আসে।


বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, "ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নতুন ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে। শেষ কর্মদিবসে ভিড় কিছুটা বেড়েছে। তবে সেতু চালুর পর সাধারণ সময়ে আগের মতো চাপ আর থাকে না।"


এদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে সোমবার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর ভিড় তেমন দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চাপ বাড়বে। টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টারের কর্মকর্তারা জানান, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে একটি ভিজিল্যান্স টিম অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে।


এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা বলেন, "যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।"


সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার ফারুক হোসেন জানান, "১৭ থেকে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট শেষ। তবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।"


মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে।


গাইবান্ধাগামী যাত্রী আব্দুল আলীম বলেন, "পাঁচ দিন আগে টিকিট কেটেছি। এখন টিকিট পাওয়া যায় না। ভাগ্য ভালো থাকলে স্ট্যান্ডিং বাসে ওঠার সুযোগ মেলে। ভাড়া ৭৫০ টাকা নিচ্ছে, আগে ৬০০ টাকায় যাওয়া যেত।" তবে কাউন্টারে প্রদর্শিত ভাড়ার তালিকায় গাইবান্ধার ভাড়া ৭৫০ টাকাই নির্ধারিত রয়েছে।


এ বিষয়ে বাসচালক শফিকুল বলেন, "ভাড়া আগেও একই ছিল। তবে যাত্রী কম থাকলে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতো। ঈদের সময় গাড়ি খালি ফেরে, তাই ভাড়া কমানো সম্ভব হয় না।"


এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহনের চাপ বাড়ছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকেল ৪টার পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যা ও আজ ভোরে চাপ আরও বাড়তে পারে।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহামুদুল হক জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুটি মোবাইল টিম ও চারটি পেট্রোল টিমসহ ছয়টি দল কাজ করছে। 


তিনি বলেন, "নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।"


উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। সরকার ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।

 




শেখ ওয়াসিম রনি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩১ পিএম

পুরান ঢাকার লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর বন্ধুর অফিস থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান শুরুর পর শুক্রবার ভোরে লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন বলেন, আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওয়াসিম রনি। তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন বন্ধু মাসুম। এই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধেই হত্যাকাণ্ড ঘটে। 


মাসুমের ভাষ্য, টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন রনি। ৮ সেপ্টেম্বর তিনি টাকা চাইতে মাসুমের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনের নিচতলার অফিসে যান। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে জোরে ঘুষি মারেন মাসুম। এতে রনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তার হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে অফিসের পেছনের দিকের একটি করিডোরে নিয়ে সেখানে লাশ বালুচাপা দিয়ে রাখেন মাসুম। 


ওসি জানান, রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুৃমকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর পাওনা তিন লাখ টাকার চেক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন তিনি ওই অফিসে যাওয়ার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পান স্বজনরা। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে তারা অভিযুক্ত মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে মাসুমের স্ত্রী বলেন, রনি বাসায় এসেছিলেন, কথা বলে চলে গেছেন। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন। 

‎মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেননি মাসুম। তাই টাকা ফেরত চান রনি।

‎অভিযুক্ত মাসুম চৌধুরীর স্বজনরা জানান, মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় তার কারখানা ছিল। প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তিন লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে দুজনের বিরোধ দেখা দেয়।


মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর একটি পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ এএম

রাজধানীর মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর একটি পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে সেখানে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।


ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।


তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে এবং এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।


এর আগে এদিন সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে এপেক্স ভবনে আগুন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট।


রাজধানীর রোজ গার্ডেন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

ঢাকা শহরকে মাদক, ময়লা, মশা ও যানজটমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‌‘পদে থাকা না থাকা বড় বিষয় নয়; জনগণের সন্তান, ভাই ও সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে চাই। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’




বুধবার রাজধানীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ওয়ারী থানা বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।



বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবা করাই তাঁদের প্রধান কাজ। মাদক, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায় কিংবা অন্যের জমি দখলের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।




নিজের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাঁর আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছে। আগামী দিনে আরও ভালো করার জন্য তিনি সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।




ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লং মার্চের নামে কয়েক শ গাড়ি নিয়ে রোডশো করা হয়েছে। এতে জনগণের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমদানি করা জ্বালানির অপচয় হয়েছে। লং মার্চ করতে হলে একটা পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়। দেশে একটা সেই ধরনের সংকটের প্রয়োজন হয় এবং সেখানে গণমানুষের পার্টিসিপেশনের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার, শত শত কিলোমিটার গিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করা হয়, সেটিকে বলে লং মার্চ।’




তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম তারা বেশ কিছু ভাড়া গাড়ি নিয়ে দামি দামি গাড়ি নিয়ে এসি গাড়িতে করে একটা পিকনিকে গেল, একটা রোডশো করল। এই রোডশো করার মাধ্যমে তারা আসলে কী অর্জন করতে চেয়েছে, সেটি তো আমি জানি না। তবে অবশ্যই তারা জনগণের কষ্টে অর্জিত যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমরা আমদানি করে থাকি, সেই আমদানিকৃত জ্বালানির অপচয় করেছে, অপব্যয় করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ তারা নষ্ট করেছে এটাই বাস্তব, প্রকৃত সত্য।’




গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন বড় গ্রুপকে সিলিন্ডার গ্যাসের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এবং ওই ব্যবসার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করা হয়েছে।




বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, তারা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে পারত। কিন্তু তারা নানা ধরনের অভিযোগের তীর ছুড়ে চলেছে। গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপি আন্দোলন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করে চলে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।




বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দুবাইয়ের একটি  ল ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে। বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হবে।



ইশরাক আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতারাতি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।




আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ দল হলেও তাদের সমর্থকদের বাংলাদেশের জনগণের বাইরে বের করে দেওয়া হয়নি। নিরীহ আওয়ামী লীগ সমর্থক বা ভোটার পরিবারের ওপর জোর-জবরদস্তি, অর্থ আদায় কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য থাকে না। তিনি বলেন, যারা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল, বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য লুটপাট ও দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিরীহ সমর্থকদের হয়রানি করা যাবে না।




অনুষ্ঠানে বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন, ওয়ারী থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মুক্তা, গোলাম মোস্তফা সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুকিতুল আহসান রঞ্জু, ওয়ারী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাসুদ রেজা সুমন ও তবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ারী থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বুলবুল।



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৭ পিএম

শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর ও সংযোগের (টাই-ইন) কাজের কারণে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


আজ বুধবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাসাবো, খিলগাঁও, মাদারটেক, শাহজাহানপুর, সিপাহীবাগ, তিলপাপাড়া, মালিবাগ, শান্তিবাগ ও তালতলা মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং অংশে রেললাইনের দুই পাশে ভালভ স্থাপন এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিতরণ লাইন স্থানান্তরের কাজের টাই-ইনের জন্য এ সাময়িক সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে।


সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।


আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দল।


এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।


এনসিপির সূত্র আরও জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।


এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।



এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।


  ঢাকা সিটিসহ স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা ভোট করবে এনসিপি


এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।



প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।



জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।


৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।



জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তাঁর নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।


গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।


জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।


আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।



জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।


জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্য শরিকেরাও মনে করে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগত নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করলেও রাজনৈতিকভাবে ১১–দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এর মধ্যে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।


এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেবে তারা।


জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগোবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরা আলাদাভাবে ভোট করবেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রচারের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

রাজধানীর কদমতলী থানার শনির আখড়ায় দোকানে ঢুকে মো. আসলাম খান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে এক অভিযুক্তকে আটক করেছে। তাঁর কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।


শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে শনির আখড়া রয়্যাল হাসপাতালের সামনে ‘লাকীজ কুকারিজ’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আসলাম খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।


আহত আসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তাঁর বন্ধু মনোয়ার হোসেন জানান, তাঁরা দোকানের ভেতরে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত যুবক দোকানে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসলামকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। এতে আসলাম রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।


মনোয়ার হোসেন আরও জানান, গুলিতে আসলামের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে এবং কপালের ডান পাশে আঘাত লাগে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধাওয়া করে আটক করেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা এর পেছনে পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, তা তিনি জানেন না।


ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, গুলিবিদ্ধ আসলামের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি কদমতলী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।


ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, শনির আখড়ায় গুলির ঘটনায় দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তির নাম মনজুরুল ইসলাম বলে জানা গেছে। তবে কী উদ্দেশ্যে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।