ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) বলেছে, গ্রেপ্তার ছরওয়ারে আলমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তসহ ফরেনসিকের পর বলা যাবে।
গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দলটি। জিডিটি সাইবার-সংক্রান্ত হওয়ায় খতিয়ে দেখার জন্য ডিবির কাছে দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ছরওয়ারে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে হাতিরঝিল থানায় মামলা হয়েছে। তদন্তের জন্য মামলাটি ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কার্যালয়ে আনা ব্যক্তির ব্যবহৃত মুঠোফোন, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য জব্দ করা হয়েছে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জব্দ আলামতের ফরেনসিক করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়াতে এবং সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশকে সহযোগিতা করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
বঙ্গভবনের এই কর্মকর্তা এই হ্যাকের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে ডিএমপির ডিবি প্রধান বলেন, তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। তদন্তের স্বার্থে যা যা করার দরকার, তার সবকিছু করা হবে।
মামলা হওয়ার আগে বঙ্গভবনে সার্চ (তল্লাশি) করা যায় কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, যে কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছে, তারা তা বলতে পারবে।
আজ বৃহস্পতিবার ডিএমপির ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, মূলত রাজনৈতিক চাপে ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে এখন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
গত শনিবার বিকেলে জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। নারীকে অবমাননা করা পোস্টটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে জামায়াতের অফিশিয়াল ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে জামায়াতের আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
একই বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরতে গত রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে জামায়াত। সেখানে বলা হয়, সরকারি মেইল ব্যবহার করে এই কাজ করা হয়েছে।
এক তরুণীকে ঘিরে ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্বে রাজধানীর সবুজবাগে খুন হয়েছেন কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ (২৭)। দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন সিফাত। এরপর তিনি জানতে পারেন সাজিদুল ইসলাম সাজিদ নামে আরেক যুবকের সঙ্গে চার বছর ধরে সম্পর্ক চলছে ওই তরুণীর। এ নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।
গত রবিবার বিকেলে রাজধানীর মাদারটেক এলাকায় সিফাত হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় র্যাব সাজিদ ও তার সহযোগী আল আমিন হোসেন জয়কে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল সোমবার র্যাব-৩ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব ৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মাদারটেক বড়ইতলা এলাকায় ওই তরুণীর বাসায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান সিফাত। এ খবর পেয়ে জয়ের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন ও রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় যায়। জয় তখন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন। জয়ের সহযোগীরা বাসায় ঢুকে সিফাতের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তিতে জড়ায়। ধস্তাধস্তিতে সময় ইয়াছিন ও রাজু আহত হয়। পরে তারা নিচে নেমে আসে। সিফাতও মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে জয়ের সহযোগীরা তাকে পেছন থেকে হামলা করে এবং ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। স্থানীয়রা সিফাতকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। র্যাব ৩-এর অধিনায়ক বলেন, রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁও হাজিবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁও শেখের জায়গাবাজার থেকে প্রধান আসামি জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, সিফাত প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন। ওই তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে সাজিদের সঙ্গেও তার চার বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সিফাতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে।
অন্যদিকে জয় ওই মেয়েটির সঙ্গে মাদারটেক আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবাদে পরিচিত ছিলেন। জয় এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝেমধ্যে বন্ধুদের নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি সিফাত জানতে পেরে জয়সহ তাদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে জয়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
র্যাব-৩ অধিনায়ক জানান, হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে সবুজবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুক্তা ইসলাম মাওয়া
২৫ বছর বয়সী মুক্তা ইসলাম মাওয়ার পায়ে শিকল। বাসার খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তাঁকে। ওই তরুণীকে সহিংস শাস্তি দিতে এমন অমানবিক আয়োজন তাঁর স্বামী সোহেল শিকদারের (৩১)। কয়েক সেকেন্ড পরপর তাঁকে চামড়ার বেল্ট দিয়ে সজোরে পেটানো হচ্ছিল। ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল মুক্তার চোখ-মুখ। শরীরজুড়ে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। মায়ের ওপর এমন বর্বর নির্যাতনের সময় পাশের রুমে কাঁদছিল তাঁর দুই সন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪)। দুই শিশুর কান্না কী করে সহ্য করবেন মা! তখন মুক্তা তাঁর স্বামীকে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’ সন্তানের কান্না ও স্ত্রীর অশ্রুসজলেও মন গলেনি সোহেলের।
রাজধানীর খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে এর ভিডিও করেন সোহেল শিকদার। সেই ভিডিও মুক্তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে সোহেল লেখেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ এরপর খিলক্ষেতের বাসা থেকে গত বৃহস্পতিবার মুক্তাকে নিয়ে যান স্বজনরা। তবে সেটি তাঁর নিথর দেহ! সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিলেন মুক্তা। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সোহেল নির্যাতনের পর হত্যা করে স্ত্রীকে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছেন। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ ও যৌতুকের জন্য কয়েক মাস ধরে মুক্তাকে নির্যাতন করে আসছিলেন সোহেল।
৩ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুক্তাকে পেটানোর সময় সোহেল বলছিলেন, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু। তোকে আমি ছাড়ব না। তোকে আজ ছাড়ব কি ছাড়ব না, এটা আমার বিবেচনা। একবার শুধু কথা ক।’ বেল্ট দিয়ে নির্দয়ভাবে পেটানোর পর তাঁর শরীরে রক্তাক্ত কালচে জখম হয়ে যায়। এক পর্যায়ে মুক্তা বলছিলেন, ‘আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এ কথা বলার পর তাঁকে আরও পেটানো হয়। তখন মুক্তা বলছিলেন, ‘আমাকে আর মাইরো না, ও আল্লাগো।’ নির্যাতনের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে চোখ বন্ধ করে অনুচ্চ স্বরে কিছু একটা বলছিলেন তিনি। তখনও তাঁর শরীরে বেল্ট দিয়ে আঘাত চলছিল।
মুক্তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গত শুক্রবার খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন তাঁর ছোট ভাই তানভীর রহমান। এজাহারে বলা হয়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে মুক্তার ওপর নির্যাতন করে আসছিলেন সোহেল শিকদার। সর্বশেষ ৩০ আগস্ট মুক্তাকে বেল্ট দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিন মুক্তার ওপর নির্যাতনের ভিডিও তার এক স্বজনকে পাঠান সোহেল। তখন হুমকি দেন, মুক্তাকে মেরে ফেলা হবে। পরে গত বৃহস্পতিবার মুক্তার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর পান স্বজনরা।
তানভীর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তাঁর বোনের লাশ সিলিং ফ্যান থেকে নামানো হয়েছে। কয়েক মাস আগে আমার কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন সোহেল। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় বোনকে মারধর করা হতো। তিনি আরও বলেন, মাকে হারিয়ে তাঁর দুই বাচ্চা সারা দিন কান্নাকাটি করছে। বারবার বলছে, বাবা মাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
তানভীর বলেন, আমরা চার ভাই-বোন। বাবা ছোটবেলায় মারা যান। মা আমাদের বড় করেছেন। অনেক নির্যাতনের পর মায়ের কষ্টের কথা চিন্তা করে আমার বোন অনেক কিছু গোপন করতেন। নির্যাতন সহ্য করার পরও মারা যাওয়ার আগে পুলিশের কাছে যায়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুক্তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জে। একই এলাকার সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ের পর থেকে মুক্তা খিলক্ষেতে স্বামীর সঙ্গে থাকেন। সোহেল প্রথমে খিলক্ষেত এলাকার মুদি দোকানি ছিলেন। পরে তিনি এম্ব্রয়ডারি ব্যবসায় জড়ান। সেখানেও ভালো করতে পারেননি। এরপর স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক চাওয়া শুরু করেন।
খিলক্ষেত থানার ওসি মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন বলেন, মুক্তাকে পেটানোর যে ভিডিওটি পাওয়া গেছে, সেটি তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগের। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা, না আত্মহত্যা। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে স্বামীর হাতে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে কল এসেছিল ১৮ হাজার ৬২৬টি। ২০২৪ সালে অভিযোগ আসে ২৩ হাজার ৩৩টি। এর মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল ১১ হাজার ৪১৮টি। ২০২৩ সালে ২৬ হাজার ৭৯৮টি কলের মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ৯ হাজার ৯১৩টি। ২০২২ সালে ২১ হাজার ৭১২টি কলের মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ৬ হাজার ৫৬০টি। ২০২১ সালে ১২ হাজার ১৬৯টি অভিযোগের মধ্যে স্বামীর বিরুদ্ধে ছিল ৩ হাজার ৩৪৮টি।
এসআইকে পিটিয়ে হত্যায় গ্রেপ্তার আসামিরা
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা টার্গেট ছিল না। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা বলে জানিয়েছে র্যাব। সোমবার সকালে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা সিটি এলাকায় এসবির এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে তাদেরই এক গেঞ্জি কারখানায় ঢুকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে ১৫ জনের নামে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এরপর ‘হামলার মূলহোতা’ প্রাইভেটকার চালক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় রোবাবর রাতে মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে এজাহারনামীয় আলাউদ্দিন, আপন, জিহাদ ও ইমরানকে এবং আমিনবাজার থেকে র্যাব-৪ এর হাতে গ্রেপ্তার চারজন হয়- নূর মোহাম্মদ রুদ্র, রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিম।
র্যাব-১০ এর অধিনায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছি। তাদের বিভিন্নভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র্যাব-৪ আরও চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলে এজাহারনামীয় ১৫ জনের মধ্যে র্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
ঘটনার বিবরণে র্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন ওই গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সাথে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এসআই আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন, এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়।
এরপর তারা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিশেষ করে আপন এবং জিহাদ অত্যন্ত অপরাধী প্রবণ হয়ে উঠেছিল, বেশ কিছুদিন থেকে তাদের আগের অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্ত।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিল না। কারণ আলতাফ হোসেন এসবিতে চাকরি করেন, উনি সেই সময় সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ ও একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে একজন বৃদ্ধ মানুষকে (অটোরিকশা গ্যারেজের রিকশার মালিক) যখন আঘাত করা হচ্ছিল তখন মানবিকভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এটা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা।’
হামলাকারীরা প্রত্যেকেই নেশাগ্রস্ত ছিল, যেটিকে ‘মূল বিষয়’ বলছেন এই কর্মকর্তা।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট এবং মাদক সংক্রান্ত এটা আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে ওখানে আলতাফের উপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওখানকার গ্যাংয়ের মূলহোতা বলা যায়। তার বিরুদ্ধে তিনটা মাদক মামলাও আমরা পেয়েছি। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় চরমভাবে আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নিয়েছিল।’
এ সময় র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজাজামান ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ না, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি এই ধরনের ঘটনার সময় নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা-ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। যেটিকে নাগরিকদের ‘নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রেপ্তার ডাকাত দলের পাঁচ সদস্য
বিদেশি একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ওয়াকিটকি ও বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত এক জোড়া হ্যান্ডকাফ। সঙ্গে এক রোল কালো স্কচটেপ, একটি শপিং ব্যাগ ও একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস। এসব সরঞ্জাম নিয়ে বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পাঁচজন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই পাঁচজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার একজন বর্তমানে র্যাবে কর্মরত। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বনানী থানাধীন ‘এ’ ব্লকের ৪ নম্বর রোডের খায়ের প্যালেসের সামনে এ অভিযান চালানো হয়। প্রায় ৪৫ সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. মাসুদ রানা (২৯), মো. রাজিব হাওলাদার (৩০), হাফিজুল মাতব্বর (২৪), মোহাম্মদ শাকিল হোসেন (২৪) ও মো. বাদলকে (৪২)।
ডিবির তথ্য মতে; গ্রেপ্তার মাসুদ রানা র্যাবের সৈনিক। তিনি র্যাব সদর দপ্তরের ডগ স্কোয়াড বিভাগে কর্মরত।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এই বিষয়টি আজকে সকালেই ঘটেছে এবং সাথে সাথে ডিবি কর্তৃক তাঁকে (মাসুদ রানা) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে তাঁকে র্যাব কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে একজন মেজরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তিনি অনুসন্ধান করে দেখবেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
রাজধানীর মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁরা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত কি না, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস এবং তাঁরা আগে কোনো অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জব্দ পণ্যসহ আটককৃতরা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত দুই দিনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার চোরাচালানের পণ্য আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সম্প্রতি পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশী সিগারেট, মোবাইল ফোন, যন্ত্রাংশ, বিদেশী মদ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
৩১ আগস্ট সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা দুই যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি চালান কাস্টমস গোয়েন্দারা। এমডি মনসুর আলম নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৩১ কার্টুন এবং মোহাম্মদ নওয়াজ শরীফ নামের অপর যাত্রীর কাছ থেকে ২৫০ কার্টুনসহ মোট ৪৮১ কার্টুন বিদেশী সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
একই দিনে ব্যাংকক থেকে আসা অন্য একটি ফ্লাইটের টিপু আল ইমরান নামের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। তার ব্যাগ থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৩৬টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি রেডমি টার্বো ৪ প্রোভ এবং ১৭টি অনার ২০০ মডেলের ফোন রয়েছে। আটক মোবাইলগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।
উক্ত যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে আরো ৫৫০টি মোবাইল ডিসপ্লে এবং ৯৫০টি বোতাম মোবাইলের মাদারবোর্ড জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক মূল্য ২২ লাখ টাকা এবং মাদারবোর্ডগুলোর মূল্য ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এছাড়া এয়ারপোর্টের ব্যাগেজ বেল্টের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি হাতব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগটি থেকে ৩ লিটার বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬০ হাজার টাকা।
১ সেপ্টেম্বর গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে বাহরাইন থেকে আসা মোহাম্মদ আল আমিন নামের এক যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমকালে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ১৮ লিটার রেড লেবেল ব্র্যান্ডের বিদেশী মদ উদ্ধার করেন শুল্ক কর্মকর্তারা। জব্দ করা এই মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে ৩১ আগস্ট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযান চালানো হয়। দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কার্টুন বিদেশী সিগারেট, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দুই দিনের অভিযানে জব্দ হওয়া সব পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য বিশ্লেষণ ও বিমানবন্দরে নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে চোরাচালান রোধে তাদের এ নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে তিনি জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সুরাহা হবে। আর এসব ঘটনায় তাদের পথ দেখাচ্ছে মোজাফফরের ফোন।
গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। খোঁজা হচ্ছে ডিজিটাল এভিডেন্সও। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি।
জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর আরও বলেন, কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত।
তিনি বলেন, তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল এ মর্মে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও আমরা তদন্ত করছি।
হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই প্রসিকিউটর।