অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সংগৃহীত ছবি
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার কোনো প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মুস্তাফিজকে নিয়ে যেটা ঘটেছে, সেটা দুঃখজনক। শুরুটা কিন্তু বাংলাদেশ করেনি।
খেলাধুলা হচ্ছে একটি দেশের সফট পাওয়ার, খেলোয়াড়দের আমরা এম্বাসেডর বলি। একজন ভালো, বিখ্যাত খেলোয়াড় খেলতে যাবে-দয়া-দাক্ষিণ্য করে তাকে নেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক। এটা দুই দেশের কারোর জন্যই ভালো নয়।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কোনো প্রভাব দেশের অর্থ ও বাণিজ্যে পড়বে না।
রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার মনে হয় এখানে ইমোশনাল বিষয় কাজ করেছে। দুই পক্ষই বিষয়টি বিবেচনা করবে। আমরা চাই না সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মুস্তাফিজ একজন সেরা খেলোয়াড়-এটা সবাই স্বীকার করে, তারাও স্বীকার করে। বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে উপযুক্ত। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ কেউ নিলে তার প্রতিক্রিয়া হবেই।
এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, একটা ক্রিয়া হলে আরেকটা প্রতিক্রিয়া হয়। তারা আমাদের খেলোয়াড়কে ডেকে নিয়ে প্রত্যাহার করেছে। এর প্রতিবাদে আমরা যা করেছি, সেটা যথাযথ প্রতিক্রিয়া।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে। আমাদের প্রতিক্রিয়া যথাযথ। এটি ভারতীয়দেরও ভাবাচ্ছে। এমনকি ভারতীয় পার্লামেন্টারিয়ানরাও বলেছেন, এটা ঠিক হয়নি। আমি মনে করি, যেখান থেকে বিষয়টি শুরু হয়েছে, সেখানে শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারবো, একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও বজায় থাকবে।
স্মার্টফোন
দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হয়েছে। চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় স্মার্টফোন পাওয়া যাবে। এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক গ্রুপ ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওই তথ্য দেন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষক ও সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ আরও সুগম হয়েছে। তারা এখন সহজেই আবহাওয়া, সারের মাত্রা কিংবা পণ্যের বাজারদর জানতে পারছেন। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চালু করার ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ঘটছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শক্তিশালী ইন্টারনেট, ‘এক নাগরিক এক ওয়ালেট’ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি একে অপরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির সার্বিক গতি নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ অপরিহার্য। শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো ছাড়া ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সুফল পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব নয়।
‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভাবন যেন থমকে না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সাইবার নিরাপত্তা ও নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে সিগারেটের দাম আবার বেড়েছে। নিম্নস্তরের বা কম দামি প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা করা হয়েছে। গত বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। এর দুই মাসের মাথায় নিম্নস্তরের সিগারেটের ১০ শলাকার সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য আরও ৩ টাকা বাড়ানো হলো। তবে অন্য তিন স্তরের সিগারেটের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাঝারি স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য আগের মতোই ৯২ টাকা থাকবে। আর উচ্চ স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২১০ টাকা বা এর বেশি বহাল থাকছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার চারটি স্তরেই সিগারেটের দাম বাড়িয়েছিল। তবে সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু নিম্নস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়।
বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া সিগারেটকে সাধারণত চারটি মূল্য স্তরে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে বাজারের সবচেয়ে কম দামি সিগারেটগুলো নিম্নস্তরের অধীনে ধরা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনও কাটেনি। রাজধানীর অনেক মুদি দোকানেই মিলছে না তেল। দু-এক দোকানে পাওয়া গেলেও সেগুলো শুধু ২ বা ৫ লিটারের বোতল। আধা লিটার ও এক লিটারের তেলের বোতল নেই বললেই চলে। খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীরা বলছেন, সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো। তারপরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি।
মূলত ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম ছাড়ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকট হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ক্রেতা ধরতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।
আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তেল কেনার জন্য ক্রেতারা ৪-৫টি দোকান ঘুরে একটিতে পাচ্ছেন, তাও কাঙ্খিত পরিমাণের বোতল মিলছে না।
বিক্রেতারা জানান, বাজারে সয়াবিনের আধা লিটার ও এক লিটার বোতলের সরবরাহ একেবারেই নেই বললে চলে। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। এখন শুধু দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে; যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। তাও শুধু ২ ও ৫ লিটারের বোতলে।
মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় ফরিদ নামের একজন ক্রেতা বলেন, আমার লাগতো এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল; কিন্তু কয়েক দোকান ঘুরেও তা পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে দুই লিটারের বোতলই কিনেছি। যে কারণে অন্য সদাই না নিয়েই বাড়ি ফিরছি।
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম হয়েছে ২০৪ টাকা। অর্থাৎ, ২ লিটার তেল কিনতে এখন ক্রেতাকে একসঙ্গে গুনতে হচ্ছে ৪০৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের জন্য ১০২০ টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রির কমিশন একবারে কমিয়ে দিয়েছে। এখন প্রতি লিটারে মাত্র এক টাকা কমিশন দিচ্ছে।
রামপুরা এলাকায় ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ৫ লিটার তেল কিনলে এমনিই মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফাই ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা ইনভেস্ট করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।
বোতলজাত তেলের এ সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।
বাড়ছে ডিমের দাম
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোয় ডিমের দামও বাড়তে শুরু করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুদিন ধরেই ডিমের দাম একটু বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়।
তবে স্থিতিশীল রয়েছে ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা।
সবজির বাজার কেমন
রাজধানী ঢাকার বাজারে খানিকটা চড়া দামে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। এর মধ্যে ঢ্যাঁড়স ও পটলের দাম কমে সপ্তাহ দু-এক আগে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় গেলেও এখন আবার সবজিটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দেশি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। লম্বা আকারের বেগুণের দামও বেড়েছে।
মোটামুটি ভালো মানের এই জাতের বেগুণ কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। কচুর মুখি ৫৫ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
চিচিংগার দামও খানিকটা চড়া। এগুলো বাজারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, বরবটির দাম বেশি চড়া। পণ্যটি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। ভালো মানের ঝিঙ্গা ও কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।
বাজারে এখন কাচা মরিচের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি কাচা মরিচ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. বিমা দাবি নিষ্পত্তি, প্রিমিয়াম আয়, লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সূচকে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে দেশের জীবন বিমা খাতে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে।
গ্রাহকসেবায় দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সোনালী লাইফ ২০২৫ সালে মোট ৪০৫ কোটি টাকা বিমা দাবি পরিশোধ করেছে। ২০২৬ সালেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩০৬ কোটি টাকা বিমা দাবি নিষ্পত্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি যোগ্য দাবিগুলো সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে কোম্পানিটি।
২০২৬ সালেও সোনালী লাইফের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট প্রিমিয়াম আয় প্রায় ৫৭২ কোটি টাকা। বছরের প্রথম আট মাসেই এই পরিমাণ প্রিমিয়াম আয় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক সক্ষমতা, গ্রাহক আস্থা এবং বাজারে ধারাবাহিক কার্যক্রমের প্রতিফলন তুলে ধরে।
অন্যদিকে, কোম্পানির ২০২৫ সালের ব্যবসায়িক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সোনালী লাইফের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ৮৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং নবায়ন প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ৫৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। নবায়ন প্রিমিয়ামের এই শক্তিশালী অবস্থান গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা এবং পলিসি নবায়নের ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন।
বিভিন্ন ব্যবসায়িক সূচকে সোনালী লাইফের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। মোট প্রিমিয়াম আয়ের দিক থেকে দেশের ৩৬টি জীবন বিমা কোম্পানির মধ্যে পঞ্চম, লাইফ ফান্ডের দিক থেকে সপ্তম এবং বিনিয়োগের দিক থেকে দশম অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাশাপাশি মোট প্রিমিয়াম আয়, নবায়ন প্রিমিয়াম আয়, লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই চতুর্থ প্রজন্মের জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে সোনালী লাইফ।
সোনালী লাইফের এই অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছে গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা, আর্থিক শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব। বিশেষ করে দাবি নিষ্পত্তিতে ধারাবাহিক অগ্রগতি গ্রাহকদের প্রতি কোম্পানির দায়বদ্ধতা ও সেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
দাবি পরিশোধে ধারাবাহিকতা, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫৭২ কোটি টাকার প্রিমিয়াম আয়, শক্তিশালী লাইফ ফান্ড ও বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. দেশের জীবন বিমা খাতে নিজেদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার একটি সুস্পষ্ট চিত্র তুলে ধরছে।
ভবিষ্যতেও গ্রাহকদের আস্থা ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা ও টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেট্রোরেল
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মেট্রোরেলের তিন প্রকল্প একসঙ্গে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। তিন প্রকল্পের মধ্যে দুটি হলো- জাপানের অর্থায়নে মেট্রোরেল লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও লাইন-৫ নর্দার্ন (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব। অন্য প্রকল্পটি হলো- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প।
তিন মেট্রোরেলসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প সাতটি ও সংশোধিত প্রকল্প পাঁচটি।
একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মেট্রোরেল প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে ব্রিফ করেন।
জানা গেছে, বুধবার একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। পরে এই প্রকল্পের সঙ্গে জাপানের অর্থায়নের সংশোধিত দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাপানের অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। জাপানের অর্থায়নের ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ১৩.১০ কিলোমিটার আন্ডরগ্রাউন্ডসহ ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।
দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১১৭.৬৪ শতাংশ। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এমআরটি করিডোর নির্মাণ ও চালু করা।
শিগগির আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট)। প্রকল্পের সবকিছু মোটামুটি প্রস্তুত। রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এ মেট্রো লাইন। হাতিরঝিল অংশের লাইন যাবে টানেল দিয়ে। আফতাবনগর থেকে বাকিটা হবে উড়াল।
এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা যৌথভাবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (ইডিসিএফ)। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার।
সোনার দাম কমলো
দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
এদিন বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ১ হাজার ১০৮ টাকা। তার আগে ৬ সেপ্টেম্বর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। এতে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হলো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।
এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকা।
৯ সেপ্টেম্বর ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা।
আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়। সোনার গহনার দাম কমানোর পাশাপাশি এখন রুপার গহনার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৬ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।