• প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৮:৫৩ এএম

রাজধানীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলকৃত আব্দুর রহমান ও নজরুল হল উদ্বারে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে শাখা ছাত্রদল।


আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)  বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে দুই হল উদ্ধারে অভিযান যান নেতাকর্মীরা। এ-সময় তারা বেদখলকৃত দুই হল উদ্ধারে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আসেন।



এর আগে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শুরু করে রায়সাহেব বাজার হয়ে আরামিটোলা এলাকায় অবস্থিত আব্দুর রহমান হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নেতারা বেদখল হলগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দেন এবং দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।


এরপর টিপু সুলতান রোডে অবস্থিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলেও ব্যানার টানিয়ে বসবাসরতদের হলের জায়গা ছাড়তে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেন। এ-সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেওয়াল লিখন করে দখলকৃত হলের গেইটিগুলোতে 'জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হল', অবৈধ হল ছাড়তে হবে' এসব লেখা লিখে দেন।


এ-সময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এখানে বসবাসরত পরিবারগুলো সরে যাবেন। তারা আমাদের কাছ থেকে সাত দিনের সময় চেয়েছিল। মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করে আমরা ১০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছি।


সংগঠনটির সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন বলেন, যেকোনো ধরনের অপশক্তিকে রুখে দেওয়া হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি নিজ দখলে নেওয়া হবে। ছাত্রদল জানে কীভাবে আন্দোলন করতে হয় এবং কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা আব্দুর রহমান হল ও নজরুল ইসলাম হল পরিদর্শন করেন এবং হল দুটির সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হলগুলো বেদখল থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম আবাসন সংকটে ভুগছেন।


উপস্থিত শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের সম্পত্তি দখল করে নেয়; আমরা আমাদের সেই সম্পত্তি ফিরত চাই। দীর্ঘ সময়ের আবাসন সংকট  একটু হলেও মিনিমাইজ হবে।


আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হল নেই, অথচ ঢাকা শহরের আনাচে কানাচে ৬ থেকে ৭ টি হল দখল হয়ে আছে। এখন সময় প্রশাসনের সহয়তায় আমরা আমাদের হল ফিরে পাওয়ার।


এ-সময় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সর্দার, মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, মো. শাহরিয়ার হোসেন, মাহমুদুল হাসান খান, রবিউল আউয়াল ,অনিক আরিফ,সহ জবি ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী পাশাপাশি জকসু'র ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

নোবিপ্রবি শব্দকুটিরের সভাপতি জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শান্ত রায়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৬ এএম

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাহিত্য সংগঠন ‘শব্দকুটির’র ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জসিম উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কৃষি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত রায়।


‎নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের ফরাদিন পারভেজ ও ওশানোগ্রাফি বিভাগের মো. শফিউল্লাহ। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাহবুবুর ইসলাম মিলি। সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুমাইয়া ইসলাম সারা।

‎এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফার্মেসি বিভাগের মেহরাজ হোসেন এবং দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন বাংলা বিভাগের মারুফ হোসেন।


‎কমিটিতে বিভিন্ন বিভাগে আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উচ্চারণ ও আবৃত্তি বিভাগের প্রধান হিসেবে রয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আবৃত্তি শুভ। উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান হয়েছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অর্পিতা পৌদ্দার অর্পণ। লেখালেখি, সম্পাদনা ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলা বিভাগের মাজেদা বেগম।


‎নতুন কমিটি নিয়ে সভাপতি জসিম উদ্দীন বলেন, শব্দকুটিরের সঙ্গে আমার পথচলা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই। সাহিত্য চর্চাকে আরো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে  এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। আমি সবসময় একজন শ্রোতা হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ শব্দকুটির আমাকে যে দায়িত্ব ও জায়গা দিয়েছে, তার ভার আমি অনুভব করি। একা এই দায়িত্ব বহন করা সম্ভব নয়। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে আমরা সবাই মিলে শব্দকুটিরকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে পারব।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্যচর্চার যে দূরত্ব এবং প্রশাসনের সঙ্গে যে কিছুটা গ্যাপ রয়েছে, তা কমিয়ে সাহিত্যের মেলবন্ধন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাবো।


‎ তিনি আরো বলেন, বিগত দুই বছর সদ্যবিদায়ী সভাপতি মুজতাবা ফয়সাল নাঈম ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব, ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। সংগঠনের একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে তিনি আমাদের এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন। তাঁর প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।একই সঙ্গে শব্দকুটিরের প্রতিটি সদস্যের শ্রম ও ত্যাগের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। সবার সহযোগিতা নিয়ে আমরা শব্দকুটিরকে আরও সমৃদ্ধ ও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

‎সাধারণ সম্পাদক শান্ত রায় বলেন, আমাকে সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্বে ভূষিত করায় বিগত কমিটি এবং অ্যালুমনাই কমিটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সংগঠনের পূর্ববর্তী সকল গঠনমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও সুদূরপ্রসারী করে তোলাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। সাহিত্যপ্রেমী শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও যৌথ প্রচেষ্টায় সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল উপায়ে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।"


‎এ ছাড়া সংগঠনটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন—শ্রুতপূর্ণা মণ্ডল (শিক্ষা), হাসিবুর রহমান সরকার (এসিসিই), বুশরা আক্তার দীপালী (সমাজকর্ম), মীর মুনতাসীর (অনুজীব বিজ্ঞান), সামিয়া জাহান (সমাজবিজ্ঞান), বিশাখা চৌধুরী তমা (ইইই), সারিকুল আক্তার (বাংলা), মেহেদী হাসান ইমন (বিজিই), ইমতিয়াজ হোসেন সায়েম (ব্যবসায় প্রশাসন), আব্দুল হাই (বাংলা) এবং ইয়াসিন আরাফাত (শিক্ষা)।

‎নতুন কমিটির নেতৃত্বে ‘শব্দকুটির’র সাহিত্যচর্চা, লেখালেখি, আবৃত্তি, উপস্থাপনা, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা করছেন সংগঠনটির সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্য ও সৃজনশীলতার চর্চা বাড়াতে সংগঠনটি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৭ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত নবীনবরণের ছবি ও ভিডিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজে প্রকাশের ঘটনায় জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দলীয় আবহের বিভিন্ন খবরের তথ্য-উপাত্ত প্রচারিতভাবে Jagannath University নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ১৬ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের নিউজ প্রকাশের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে ওই পেজ থেকে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে নোটিশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে তার এ ধরনের কার্যক্রম ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী, অসদাচরণের শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


এ বিষয়ে কেন তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


উল্ল্যেখ্য, ১৬ সেপ্টেম্বর জবি শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আগমন উপলক্ষে ৪২ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর বরাত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক, হলসমুহের প্রভোস্ট, প্রশাসনিক দপ্তরের পরিচালক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ছাত্র-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।


এ কমিটি প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছি। সবাইকে নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করে আগাবো।


প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নিরাপত্তা জনিত ইস্যু নিয়ে কাজ করছি। সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিব। কোনো ধরনের যাতে ঘাটতি না থাকে সেই বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি।


প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনে আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের লেখা ‘মনটাকে কাজ দিন’ বই শিক্ষার্থীদের উপহার দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৭ এএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের লেখা ‘মনটাকে কাজ দিন’ বই শিক্ষার্থীদের উপহার দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে অন্যান্য উপহারসামগ্রীর সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে গোলাম আযমের লেখা ‘মনটাকে কাজ দিন’ বইটিও তুলে দেওয়া হয়।


এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, নবীন বরণের মতো আয়োজনের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীদের কাছে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।


নবীন শিক্ষার্থীদের আবেগ ও সরলতাকে ব্যবহার করে কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক মতাদর্শকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তার প্রতিবাদ করা হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আহমেদুল কবীর তাপস।


ক্যাম্পাসে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রতি দায়িত্বশীল থাকে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


এদিকে, ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর আহ্বায়ক রাফিউর রহমান রুহান বলেন, একাত্তরের রণাঙ্গনের একজন প্রমাণিত অপরাধীকে যখন কেউ সাংগঠনিকভাবে উদযাপন করে অথবা তাঁর মতাদর্শকে সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে, তখন তাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান ও বাংলাদেশপন্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। 


ক্যাম্পাসে সদ্য আগত নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে দেশমাতৃকার রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের জন্য দায়ী একজন ব্যক্তিকে ‘কাল্ট’ হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুহান।


এ বিষয়ে শেকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান নাঈমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। তাঁর লেখনীও অনেক সহজ-সরল। বইটির বিষয়বস্তুর গুরুত্ব বিবেচনা করেই নবীন শিক্ষার্থীদের এটি উপহার দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ইবি খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে মুমতাহিনা-অথি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটির ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।


এতে সভাপতি হিসেবে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসলিমা আরেফিন অথি মনোনীত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত কমিটি ঘোষণা করা হয়।


কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-


সহ-সভাপতি সাবরিনা খাতুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিথী খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া খাতুন, অর্থ সম্পাদক মোসা: ইসমা খাতুন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মারজাহান আক্তার তানিয়া, দপ্তর সম্পাদক উম্মে মরিয়ম, প্রচার সম্পাদক কাজী ফাতেহা আসমিয়া আর্দি, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা, বিতর্ক গবেষণা সম্পাদক রুনা লায়লা, অনুষ্ঠান সম্পাদক রিয়া আক্তার রুমা।


কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন-


ইসরাত জাহান, তাসনীম, সুমাইয়া নাজনীন এবং সুমাইয়া জাহান।


দায়িত্ব পেয়ে সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা আরেফিন অথি বলেন, “সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার মূল লক্ষ্য হবে সোসাইটিকে আরও সক্রিয়, সুসংগঠিত ও সদস্যবান্ধব করে তোলা। যেখানে নতুন সদস্য থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ সদস্য সবাই নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে নতুনদের প্রশিক্ষণ ও আত্মবিশ্বাস তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে চাই।”


সভাপতি মুমতাহিনা রিনি বলেন, “খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটি বরাবরই আমার একটি ইমোশনের জায়গা। ২০২২ সালে আপুদের হাত ধরে আমার যে যাত্রা শুরু হয়েছিলো সময়ের পরিক্রমায় আজ আমি সেখানে সর্বোচ্চ দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। এটা আমার জন্য যেমন আনন্দের তেমনই চ্যালেজ্ঞেরও বটে। আমি আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো খালেদা জিয়া হল ডিবেটিং সোসাইটিকে একটি জাতীয় পর্যায়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, যেনো এখান থেকে দেশসেরা বিতার্কিক তৈরি হয়।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ পিএম

দায়িত্বকালীন এক বছরের কার্যক্রমের বিবরণী প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরেন।


সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণ কার্যক্রমের অডিট প্রকাশ না করা হলেও প্রকাশিত পেজেন্টেশনে কয়েকটি কাজে খরচকৃত অর্থের পরিমাণ দেখা যায়।


প্রেজেন্টেশনে দেখানো বছরব্যাপী কার্যক্রমের মধ্যে ছারপোকা দমন ও পরিচ্ছন্নতায় ব্যয় হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। প্রদর্শিত স্লাইডে উল্লেখ করা হয়- 'হলে ছারপোকা নিধন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই কমেছে।'


এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে খরচ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম বানাতে খরচ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা এবং এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারে ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ের কথাও জানানো হয়েছে প্রেজেন্টেশনে। 


এছাড়া একাধিক কাজের কথা উল্লেখ করলেও বিস্তারিত খরচের পরিমাণ এখনও প্রকাশ করেনি ডাকসু। ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, অডিটের কাজ চলছে, খরচের বিস্তারিত কিছুদিনের মধ্যেই জানানো হবে।


সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডাকসু যে কাজ করেছে তা ৩৫ কোটি টাকার চাইতেও অনেক বেশি। তবে প্রশাসনের বাধার কারণে আমরা অনেক কাজই করতে পারিনি। 


সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখন পর্যন্ত প্রশাসন দেয়নি। পুরো সময় জুড়ে প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। তবে শত অসহযোগিতা সত্ত্বেও এক বছরে আবাসন, পরিবহন, হলে খাবারের মান ও স্বাস্থ্য গবেষণার মতো ডাকসু কমিটি হাজারের বেশি কাজ করেছে।


শিক্ষক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘DU Teachers’ Evaluation’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে।


কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, হলভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। গবেষণা বিষয়ে কর্মশালা, গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেশন এবং শিক্ষা এক্সপোসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়। 


পরিবহন খাতে শনিবার বাস সার্ভিস চালু, বিভিন্ন রুটে সন্ধ্যার ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস এবং সাপ্তাহিক ঢাকা-কুমিল্লা বাস সার্ভিস চালুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রুট বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।


কার্যক্রমের বিরবরণ দিয়ে দিয়ে ‘খতিয়ান’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে ডাকসু। বইয়ের একটি বড় অংশে বাস্তবায়ন না হওয়া বা আটকে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।


ডাকসুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও চাকরি মেলার মতো ছয়টি উদ্যোগ আটকে রয়েছে।


এ ছাড়া মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা, হলের ভর্তুকি মূল্যে খাবার, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড় সৌন্দর্যায়ন, ওয়াকওয়ে ও আলোকসজ্জাসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্পও বাস্তবায়িত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিন, মোবাইল টয়লেট, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিভিন্ন হলের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ আটকে থাকার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 


ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম চালু এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার নিয়েও বইয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর