জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
শিক্ষকতায় নিষ্ঠা, পেশাগত দক্ষতা, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেছেন। উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পর জেলা পর্যায়েও সাফল্য অর্জন করে বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।
জেলা পর্যায়ে এ স্বীকৃতি অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই আজ খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এই প্রতিযোগিতা জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।
নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে। এ জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার শিক্ষকতা জীবনের সূচনা ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর। ওই দিন তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে কয়েক বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালের ২২ এপ্রিল স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি এ বিদ্যালয়েই সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিধি বিস্তৃত করেছেন তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি সোনিয়া সরকার নিপা গার্লস গাইড আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত।
তিনি বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক এবং বিভাগীয় ওয়ারেন্ট গাইডার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৭টি প্রশিক্ষণ গ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এসব প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে ভূমিকা রাখছেন তিনি। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা অর্জনেও সোনিয়া সরকার নিপার রয়েছে বিস্তৃত শিক্ষাযাত্রা। তিনি ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেন এবং ২০১৯ সালে এ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস, ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বাংলা বিষয়ে এমএসএস এবং ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাবিজ্ঞানে মাস্টার্স পর্যায়ে অধ্যয়ন করেছেন। এর পাশাপাশি ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিইডি) সম্পন্ন করেন। বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন ও পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা ও আত্মোন্নয়নের প্রতি নিজের আগ্রহের পরিচয় দিয়েছেন। সোনিয়া সরকার নিপার জন্ম ও পারিবারিক শিকড় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সেক্টর কমান্ডার দেলোয়ার হোসেন সরকার এবং মাতা শামসুর নাহার সরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শিক্ষানুরাগী পারিবারিক পরিবেশ তার ব্যক্তিগত জীবন ও মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষকতা তার পরিবারের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তার মা একজন প্রাক্তন শিক্ষক। তার খালা বর্তমানে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার শ্বশুর কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক। এ ছাড়া তার ছোট জা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পুষ্করিণীপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। পরিবারের একাধিক সদস্যের শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্যে শিক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে। ব্যক্তিগত জীবনে সোনিয়া সরকার নিপা বিবাহিত। তার স্বামীর নাম মোহাম্মদ সামসুজ্জামান। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে আজমাইন ফাইক জামানের বয়স ১৪ বছর।
সে বর্তমানে কুমিল্লা জিলা স্কুলের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মেয়ে নুসাইবা ফাতিহা জামানের বয়স সাত বছর। সে কুমিল্লার আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গার্লস হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। কর্মজীবনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবার ও সন্তানদের দেখাশোনা তার দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাগত দায়িত্ব, ব্যক্তিগত জীবন এবং আত্মোন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় রেখে এগিয়ে চলেছেন তিনি। শিক্ষকতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বাইরে সোনিয়া সরকার নিপার অন্যতম শখ লেখালেখি করা। বিশেষ করে কবিতা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লিখতে তিনি পছন্দ করেন। সমাজ, সময় ও মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় নিয়ে ভাবনা প্রকাশের প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষকতার পাশাপাশি এই সৃজনশীল চর্চা তার ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক তুলে ধরে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের বাইরে নিজের চিন্তা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করার আগ্রহ তার বহুমুখী মননশীলতার পরিচায়ক। শিক্ষকতা, গার্লস গাইড প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা ও লেখালেখি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সম্পৃক্ততা কর্মজীবনের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া সোনিয়া সরকার নিপার কর্মজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, পেশাগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নতুনভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের পর এখন তার লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়ে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরা এবং কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করে সম্মানজনক অর্জন বয়ে আনা। এ জন্য সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া কামনা করেছেন তিনি। একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা তার পেশাগত পথচলায় একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, পেশাগত দক্ষতা ও ধারাবাহিক আত্মোন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় এগিয়ে চলার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এখন জাতীয় পর্যায়ে নতুন সাফল্য অর্জনের অপেক্ষায়।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন এবং ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী উপস্থিত থাকবেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক এ আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে থাকবেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীর।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ব গণমাধ্যমের ভূমিকা, সংবাদ পরিবেশনের নৈতিকতা, গণমাধ্যমের জবাবদিহি এবং আত্মসমালোচনার বিভিন্ন দিক নিয়ে সেমিনারে আলোচনা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেবেন।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে যোগ্য প্রার্থীদের বাতিলের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় বিক্ষোভ মিছিলে ‘২৪’এর অঙ্গিকার, চাকরি পাবে মেধা যার’, ‘চাকরিতে দলীয়করণ, মানি না মানবো না’, ‘শিক্ষাঙ্গণে দলীয়করণ, মানি না মানবো না’, ‘নিয়োগে বৈষম্য, মানি না মানবো না’, ‘মেধার প্রতি অবিচার, মানি না মানবো না’, ‘সিন্ডিকেটের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘প্ল্যান প্ল্যান কোন প্ল্যান, নিয়োগ বাণিজ্যের মাস্টার প্ল্যান’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “এই সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষক নিয়োগে পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। এনটিআরসিএ বাদ দিয়ে তারা দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চেয়েছিল। এর আগে ভাইভার নাম্বার বাড়িয়ে দলীয়করণ করতে চেয়েছিল। এ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তা মেনে নিবে না। শিক্ষক নিয়োগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারকে ভূতে ধরেছে। সরকার বারবার হাসিনার মত ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। ২৪’-এর অঙ্গিকার ছিল মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া।”
সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “মেধাবীদের হয়রানি না করে নিয়োগ দিন। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের বাদ না দিয়ে আওয়ামী গুপ্তদের বাদ দিন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা উন্নত করুন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজী বন্ধ করুন। এ দেশের শিক্ষার্থীরা অবিচার ও বৈষম্য মেনে নেয়নি, নেবে না। আমরা সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে মেধাবীদের নিয়োগ বাস্তবায়ন করুন। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে দলীয়করণ ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।”
উল্লেখ্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে ভেরিফিকেশন শেষে বিভিন্ন জেলার ১২ শতাধিক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাদ পড়া অনেক প্রার্থীর দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই এবং নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও তাদের জানানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ২৯ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য পৃথক তালিকায় এসব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের জন্য ৭ জন, ২০২৩ সালের জন্য ৭ জন, ২০২৪ সালের জন্য ৭ জন এবং ২০২৫ সালের জন্য ৮ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীতদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন ফরম অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত ফরম নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। এর দুই সেট হার্ডকপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর সঙ্গে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট বা গ্রেডশিটের কপি জমা দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও প্রয়োজন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জমা দেওয়া সব কাগজপত্র যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক অথবা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এসব কাগজপত্রের হার্ডকপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরে জমা দিতে হবে।
হার্ডকপির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সফটকপি পিডিএফ আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। এ জন্য darainju@gmail.com ঠিকানা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনোনীত ২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০২২ সালের তালিকায় রয়েছেন সাদ্দাম হোসাইন, রুমানা সিদ্দিকা মারুফা, আয়েশা আক্তার, রোকেয়া পারভিন, মো. বিল্লাল হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রোমা ও মুজতানিবা জাহান মাশরাকা।
২০২৩ সালের তালিকায় রয়েছেন মো. আনোয়ার শাহ, সারমিন আক্তার, সাদিয়া জান্নাত মিতু, জয় পাল, মোছা. শুমোনা আক্তার, তানজুম আহমেদ নূদী ও তাসনিমা আক্তার।
২০২৪ সালের জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীতরা হলেন আরিফুল ইসলাম, আসমা আক্তার, মুহাম্মদ গোলাম রোহমান শাফি, সাদিয়া খানম, রাগিব শাহরিয়ার রাফি, জান্নাতুন নাহের উর্মি ও মো. মুহিব আহসান চৌধুরী।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের তালিকায় রয়েছেন সোমাইয়া তাবাসসুম, ফারিয়া আক্তার ইভা, শানজিদা সারমিন মৌরি, দীপান্বিতা বৈদ্য, আনিকা তাবাসসুম অন্তরা, আভা রহমান, বিদিশা অধিকারী ও মোছা. ফারিয়া ইয়াসমিন।
বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষের জেরে নোবিপ্রবি বাসে হামলা, গ্রেপ্তার ২
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) গোমতী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের পর বাসচালককে মারধর ও বাসের লুকিং গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নোয়াখালীর সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃত দুজন মোটরসাইকেলের আরোহী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনায় বাসচালক দিলীপ রবি দাস আহত হয়েছেন। তার অভিযোগ, মোটরসাইকেলের দুই আরোহী তাকে মারধর করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটির একটি লুকিং গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী সকালে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাস থেকে কবিরহাটের উদ্দেশে গোমতী বাস নিয়ে রওনা হন চালক দিলীপ রবি দাস। বাসটি সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে তিনি ইন্ডিকেটর দিয়ে বাসটি ঘোরাচ্ছিলেন। এ সময় কবিরহাটের দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল দ্রুতগতিতে এসে বাসটির পেছনের দিকে আঘাত করে।
এ নিয়ে বাসচালক মোটরসাইকেল আরোহীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন চালক। পরে বাসটির একটি লুকিং গ্লাসও ভাঙচুর করা হয়।
বাসচালক দিলীপ রবি দাস বলেন, আমি প্রায় ১২–১৩ বছর ধরে নোবিপ্রবিতে গাড়ি চালাচ্ছি। সকালে কবিরহাট যাওয়ার পথে সোনাপুর জিরো পয়েন্টে বাস ঘোরানোর সময় আমি ইন্ডিকেটর দিয়েছিলাম। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি মোটরসাইকেল বাসের পেছনের চাকার কাছে এসে পড়ে।"
তিনি আরো বলেন , এ নিয়ে কথা বলতে গেলে মোটরসাইকেলের একজন আরোহী আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও গালাগাল করেন। পরে আমাকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। আমি বাস থেকে নামার পর ওই ব্যক্তি চাবি দিয়ে তার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন এবং লাথি মারেন।"
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সোনাপুর জিরো পয়েন্ট এলাকার টোল আদায়কারী সুমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ইন্ডিকেটর দিয়ে সড়ক পার হচ্ছিল। এ সময় কবিরহাটের দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটি অতিরিক্ত গতিতে এসে বাসের চাকার সঙ্গে ধাক্কা দেয়। পরে মোটরসাইকেলের আরোহীরা বাসচালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।”
সুমন বলেন, “একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের আরোহীরা বাসচালককে নিচে নামতে বলেন। তিনি নামার পর তাকে ঘুষি মারা হয়। পরে বাসের হেলপারকেও মারধর করা হলে তিনি ভয়ে বাসের ভেতরে উঠে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা অপর ব্যক্তি বাসটির একটি লুকিং গ্লাস ভেঙে ফেলেন।”
ঘটনার পর বাসচালক দিলীপ রবি দাস বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘‘যেটা ঘটেছে, সেটা আসলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চালক ও হেলপারের ওপর হামলা হয়েছে, এটা দুঃখজনক। যারা হামলা করেছে, তাদের যেন বিচার হয়, সে জন্য আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।’’
নোয়াখলীর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’’
ছবি: বিশ্ব নদী দিবসে নোবিপ্রবিতে CoEN-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী, পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নিজস্ব সংগঠন Coastal Environment Network (CoEN)-এর উদ্যোগে এ র্যালির আয়োজন করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও CoEN-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় নদী রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।
এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বন নেই তো নদী নেই, নদী নেই তো পানি নেই, পানি নেই তো জীবন নেই।’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র্যালিতে নদী, বন, জলাভূমি ও পানিসম্পদের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
র্যালিতে অংশ নেওয়া পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান সৈকত বলেন, “নদী আমাদের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু দখল, দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের অনেক নদী আজ সংকটের মুখে পড়েছে। শুধু নদী দিবসে সচেতন হলেই হবে না, সারা বছর নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের এই র্যালির মাধ্যমে আমরা শুধু একটি দিবস পালন করছি না, বরং নদী রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছি।”
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো বর্ষায় বন্যা ও তীরভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মিঠাপানির জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় CoEN-এর মতো শিক্ষার্থীভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী শুধু পানির উৎস নয়, আমাদের কৃষি, অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির অংশ। তাই নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নদীকে শুধু একটি জলপ্রবাহ হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে বন, জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই নদী সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।
Coastal Environment Network (CoEN)-এর সদস্যরা জানান, নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। নদী দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি নিয়মিত পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব নাগরিক ও নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রেও CoEN-এর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।