বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিএসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিমাল হাজব্যান্ড্রি বা ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’ চালুর দাবিতে আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের একাংশের একাডেমিক ফলাফলে ‘বিরূপ প্রভাব’ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক ফলাফলকে ঘিরে নতুন করে এ অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে মূল্যায়নে পক্ষপাতের শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর কয়েকটি কোর্সের ফল নিয়েও আগে থেকে প্রশ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেও দীর্ঘদিন কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এএনএম এহসানুল হক হিমেলের সাম্প্রতিক ফলাফলকে ঘিরে। লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফল প্রকাশের পর অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের ‘মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল—উভয় অংশেই তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন। ২০২৫ সালে কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হিমেল তাঁর আগের সেমিস্টারগুলোর ফলাফল ও নম্বরপত্র প্রকাশ করে সাম্প্রতিক ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর দাবি, আন্দোলনের আগে তাঁর ফলাফল সন্তোষজনক ছিল। আন্দোলনের পর ফলাফলে আকস্মিক পরিবর্তন এবং সর্বশেষ একই কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় অংশে অকৃতকার্য হওয়ায় মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হিমেল বলেন, ‘আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়ে আমার চার সেমিস্টারের ফলাফল মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। লেভেল-২, সেমিস্টার-২ শেষে আমার গড় সিজিপিএ ছিল ৩.৬৭১ এবং তখন পর্যন্ত কোনো কোর্সে আমার ক্যারি (ফেল) ছিল না। আন্দোলনপরবর্তী সময়ে লেভেল-৩, সেমিস্টার-১-এ আমার জিপিএ কমে দাঁড়ায় ২.৯৪৬। পরবর্তী সেমিস্টারে জিপিএ ৩.২৭৮ হলেও মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কোর্সের থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল উভয় অংশেই এফ গ্রেড এসেছে, যা খুবই অপ্রত্যাশিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘উক্ত কোর্সের ক্লাস টেস্ট, এটেন্ডেন্স এবং নোটবুকে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও ফেল আসাটা অস্বাভাবিক। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনো শিক্ষকের কাছেই কাম্য নয়। ধারাবাহিকভাবে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে আমি এবং আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমার সহপাঠীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব আমাদের একাডেমিক জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ছে।’
তবে বিষয়টি শুধু হিমেলের ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আরও কয়েকটি কোর্সের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ‘এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স’ ও তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ‘অ্যানিম্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্স দুটি পশুপালন অনুষদের ডেইরি সায়েন্স ও অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পড়ান। দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সের তুলনায় এসব কোর্সে তাঁদের ফলাফল অস্বাভাবিকভাবে কম হয়েছে।
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘এলিমেন্টারি ডেইরি সায়েন্স’ ও ‘অ্যানিম্যাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ দুইটি ভিন্ন বর্ষের দুটি কোর্সেই সর্বোচ্চ গ্রেড এ প্লাস পেয়েছেন মাত্র তিনজন করে শিক্ষার্থী। একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সে তুলনামূলক ভালো ফল করলেও এসব কোর্সে প্রত্যাশার তুলনায় কম ফল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
ভেটেরিনারি অনুষদের শুধু লেভেল-২ ও লেভেল-৩ নয় লেভেল-১ এর শিক্ষার্থীদেরও পশুপালন অনুষদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কোর্সের ফল নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। একই সেমিস্টারের অন্যান্য কোর্সে ভালো ফল করলেও এসব কোর্সে ফলাফল তুলনামূলক কম হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
ফলাফল পুনরালোচনার দাবিতে লেভেল-৩ সেমিস্টার-২ (লেভেল-৩ সেমিস্টার-১ এর ফলাফল নিয়ে) এবং লেভেল-২ সেমিস্টার-২ (লেভেল-২ সেমিস্টার-১ এর ফলাফল নিয়ে) এর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন করেন। ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের মাধ্যমে গত ২৬ জানুয়ারি পৃথকভাবে আবেদনগুলো জমা দেওয়া হয়। তবে আবেদন করার ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল জানানো হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
ভুক্তভোগী ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভেটেরিনারি ও পশুপালন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে। আর সেই বিরোধের নেতিবাচক প্রভাব একাডেমিক মূল্যায়নে পড়ছে এবং তার ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা শিক্ষার্থীরা।’
পশুপালন অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শিবলী সাদী বলেন, ‘গত ১৮ আগস্ট অ্যানিমাল হাজব্যান্ড্রি অনুষদের লেভেল-৩, সেমিস্টার-২-এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে পরিলক্ষিত হলো, গত সেমিস্টারের ধারাবাহিকতায় এ সেমিস্টারেও কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে সংঘটিত আন্দোলনে যারা সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ফলাফলেই বিপর্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের মিট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কোর্সে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের কারও থিওরি, কারও প্র্যাকটিক্যাল এবং কারও উভয় অংশেই ফেল এসেছে। গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সমঝোতা সভায় উপাচার্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের প্রশাসনিক কিংবা একাডেমিক শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে না। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করছি। আশা করি, উপাচার্য এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান করবেন।’
এ বিষয়ে পশুপালন অনুষদের ডিন ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্বকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা আন্দোলনের প্রভাব একাডেমিক ফলাফলে পড়া উচিত নয়। ছাত্ররা যেটি আশঙ্কা করছে, সেটি ঘটেছে বলে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এরকম ঘটে থাকলে সেটি খুবই দুঃখজনক। একজন শিক্ষকের ভূমিকা একজন বিচারকের চেয়েও বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো ছাত্রের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি।যেকোনো গোপনীয় বা নেতিবাচক বিষয় নিশ্চিত না হয়ে সরাসরি ফেসবুকে বা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত নয়। এতে বিভ্রান্তি ছড়ায়, যা পরবর্তীতে দূর করা কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা চাইলে ফলাফল পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারে। অনুষদের ডিন হিসেবে আমি সেখানে তাদের সহযোগিতায় আছি।’
ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল। এরপর তারা অনুষদের ডিনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করে। আমি আবেদনগুলো একসঙ্গে সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সিদ্ধান্ত বা ফলাফল সম্পর্কে জানতে পারিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, ‘পরীক্ষার ফলাফল পুনর্বিবেচনার বিষয়ে এক্সাম কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি বলতে পারবেন ভেটেরিনারি অনুষদের ছাত্রদের আগের আবেদনটি পৌঁছেছে কি না বা কেন সেটি অ্যাডজাস্ট করা হয়নি।’
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, 'তদন্ত কমিটির মাধ্যমে যাতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যায় এজন্য বিস্তারিত বিবরণসহ আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান 'স্ট্যাটিউটস ও অর্ডিন্যান্স' অনুযায়ী একাডেমিক নিয়ম মেনে ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনার বিষয়টি দেখা হবে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমস। ছবিঃ সংগৃহীত
দীর্ঘ ১০ বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে সংগীত পরিবেশন করে শিক্ষার্থীদের মাতালেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে তার পরিবেশনায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিল্পীর জনপ্রিয় গানগুলোতে আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে শুরু হয় নগরবাউল জেমসের সংগীত পরিবেশনা। তাকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি গান শুনতে কনসার্টস্থলে ভিড় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগীত পরিবেশনের দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে জেমসের কণ্ঠ শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। তার গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনায় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও আনন্দ-উল্লাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, "জেমসের গান ছোটবেলা থেকেই শুনি। তাকে নিজের ক্যাম্পাসে সরাসরি গান গাইতে দেখা এবং তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে পারা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আয়োজন আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কাদের প্লাবন বলেন, "জেমসের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি উপভোগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পুরো কনসার্টজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত।"
এদিকে গান পরিবেশনাকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমসকে আবার আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তার আশ্বাসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান'। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র্যালি, শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নগরবাউল জেমসের কনসার্টসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালের ২ নভেম্বর সরকারি জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার স্মরণে এবার ২০ অক্টোবরের পরিবর্তে ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথিয বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করা শুভ লক্ষণ নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শুধু চাকরিমুখী শিক্ষা দেওয়া নয়; বরং গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটানো।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে অপসংস্কৃতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করানো হয়েছে। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তিনি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, গবেষণার পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হবে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ২০০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাসের প্রসঙ্গও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
আলোচনা সভায় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাজধানীর বুকে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা ও বঞ্চনা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি ও ইতিবাচক উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ ও রঙ্গভূমি পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ অফসাইড, কোমল গান্ধার, কিম্ভুত ও স্বরূপ ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে।
দিনের সমাপনী আয়োজন হিসেবে থাকছে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট। সন্ধ্যায় তার পরিবেশনা উপভোগ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
নোবিপ্রবি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার ও গবেষণাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনের ব্যবধানে অন্তত পাঁচ দফায় সাপ দেখা গেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। উদ্ধার হওয়া ও মেরে ফেলা সাপগুলোর বেশির ভাগই বিষধর পদ্ম গোখরা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার তো বটেই, নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও সাপে কাটার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম নেই। ফলে কেউ বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের জন্য প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রথম সাপের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখান থেকে দুটি পদ্ম গোখরার বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। এরপর ২৯ ও ৩১ অক্টোবর দুই দফায় শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে সাপ দেখা যায়। ৩০ অক্টোবর জুলাই শহীদ স্মৃতি হলে এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ল্যাবে সাপের উপস্থিতি পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে সাপের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবন থেকে সাপ উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি)-এর সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জুওলজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম মিতু। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে যেসব সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বিষধর। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সাপ দেখামাত্র না মেরে দ্রুত তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাপের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, রাতে চলাচল কিংবা হঠাৎ কোনো ভবন বা কক্ষে সাপের মুখোমুখি হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর কেউ সাপে কামড়ালে দ্রুত অ্যান্টিভেনম পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দিন-রাত সমানভাবে সাপের দেখা মিলছে। কাউকে সাপে কামড়ালে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। এভাবে সাপের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। মেডিকেলে নাপা ও গ্যাসের ট্যাবলেট ছাড়া আর কিছুই নেই। অবিলম্বে অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করা উচিত।’
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুস সালাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা এখনো ঝোপঝাড়মুক্ত হয়নি। প্রকৃতির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝোপঝাড়ের কারণে সাপের উপস্থিতি বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিনই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন ইমন বলেন, ‘অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ঝোপঝাড় ও প্রয়োজনীয় স্থান আগাছামুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি সাপে কামড়ালে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাপের উপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে দিন-রাত বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ(ভারপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমাত আরা পারভীন বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম সদর হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও দেওয়া হয় না। এর আগেও আমরা একাধিকবার অ্যান্টিভেনম আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড়গুলো পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছি। এ ছাড়া অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির (বাপাজস) গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখার হোসাইন।
ইফতেখার হোসাইন পূর্ববর্তী কমিটিতে প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রায় ১১ বছর ধরে নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগে ১৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ভারতের এমসিআর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি পূর্ণ অর্থায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয় সংবাদপত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত কলাম ও ফিচার লেখেন।
গত ১৬ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সমিতির সাধারণ সভায় ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মো. আবুল কাসেম শিখদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (সুমন) এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম (শিবলী)।
২০২৭–২০২৮ মেয়াদের জন্য ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য পদধারী হলেন সিনিয়র সহসভাপতি রফিকুল ইমলাম পান্না (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর) ও মো. নজরুল ইসলাম (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান (চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়) ও মো. সাইফুল ইসলাম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আল-আমিন খান (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ রহমান সরকার (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সালমান সাদেকীন চয়ন (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাক জাহান (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস) এবং ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)।
এ ছাড়া কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. বশিরুল ইসলাম (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), গোলাম মর্তুজা (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), কামরুন নাহার (ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), খাদেমুল ইসলাম (হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. সাহেদ হাসান (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়), খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), আবু সালেহ মুহাম্মদ মূসা (ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ফররুখ মাহমুদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
উল্লেখ্য, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনসংযোগ কার্যক্রমের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতি (বাপাজস) ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিবছর বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে চীন সরকার। এর মধ্যে অন্যতম চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (সিজিএস), যা চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের (সিএসসি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ বৃত্তির আওতায় চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। স্কলারশিপের ধরন ও শর্ত অনুযায়ী এতে টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও মাসিক ভাতার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) প্রাক্তন ৫জন কৃতী শিক্ষার্থী। তাঁদের স্কলারশিপ অর্জনের অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা তুলে ধরেছেন নিয়ামুল ইসলাম তামিম।
মো. জিয়াউর রহমান
বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জিয়াউর রহমান চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। তিনি চীন সরকারের ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের আওতায় এ সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার সময় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন জিয়াউর রহমান। উচ্চশিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি মাসিক ভাতার সুবিধা থাকায় এটিকে কর্মজীবন থেকে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেন তিনি।
নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জিয়াউর রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পর ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করি। ইমেইলের মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলাম। আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএসের স্কোর ও একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জিয়াউর রহমান বলেন, সেখানে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য অধ্যাপকদের অধীনে পৃথক ল্যাব আছে। এসব ল্যাবে বিভিন্ন ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি থাকায় শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা তৈরি করতে পারে।
জিয়াউর রহমানের মতে, বুটেক্সে স্নাতক পর্যায়ে এ ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারিক গবেষণার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন এবং গবেষণার দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে।
মো. রাকিব হাসান গাজী
বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাকিব হাসান গাজী চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের আওতায় চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে রাকিব বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল আমার। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সুবিধাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
চীনে টেক্সটাইল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকিব কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন। রাকিবের মতে, ভালো সিজিপিএ বজায় রাখার পাশাপাশি গবেষণাপত্র, সম্মেলনে প্রকাশনা ও প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। এ ছাড়া পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অধ্যাপকদের গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে জেনে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো প্রস্তুত রাখা জরুরি।
ভাষাগত দক্ষতার বিষয়ে রাকিব বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোয়েফলের মতো পরীক্ষার স্কোর সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি প্রাথমিক চীনা ভাষা শেখা দৈনন্দিন জীবন ও যোগাযোগে সহায়ক হতে পারে।
চীনে যাওয়ার পর প্রথম দিকে ভাষার পার্থক্য, খাবার ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন রাকিব। অনুবাদের অ্যাপ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চীনা বাক্য অনুশীলন, উপযোগী খাবারের জায়গা খুঁজে নেওয়া এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক ব্যবহারের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
মেহেদী হাসান ইমন
বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইমন চীনের ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের (সিএসসি) আওতায় এ সুযোগ অর্জন করেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা ও শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতার পর উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের ইচ্ছা ছিল। স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি আমাকে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ করেছে। তাঁর মতে, এ সুযোগ একাডেমিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।
নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথমে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের শর্ত সম্পর্কে খোঁজ নেই। এরপর একাডেমিক কাগজপত্র, সিভি, স্টাডি প্ল্যান ও সুপারিশপত্র প্রস্তুত করে আইইএলটিএসসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেই এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করি।
বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইমন বলেন, স্কলারশিপের মাধ্যিমে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার জন্য, স্নাতক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা, ভালো একাডেমিক ফলাফল বজায় রাখা এবং গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা জরুরি। পাশাপাশি নিজের সিভি শক্তিশালী করা, সুস্পষ্ট স্টাডি প্ল্যান তৈরি এবং সুপারিশপত্রের জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।
স্কলারশিপের শর্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নিজে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
হাসান মাজহারুল হক
বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান মাজহারুল হক চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে ফুল-ফান্ডেড বৃত্তি পেয়েছেন। এ বৃত্তির আওতায় তাঁর টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও মাসিক ভাতার সুবিধা রয়েছে।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হাসান বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন আমার অনেক দিনের। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রস্তুতি, অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি আমার কাছে আনন্দ, আবেগ ও কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত হয়ে আসে।
বুটেক্সে পড়ার সময় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর। ফাইবার কম্পোজিট, টেকসই উপকরণ, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেক্সটাইলের স্থায়িত্ব নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণার আগ্রহকে আরও স্পষ্ট করেছে। হাসানের মতে, গবেষণার এ অভিজ্ঞতা এবং নিজের আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা তাঁর আবেদনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কলারশিপ পাওয়ার পেছনে কোনো একটি বিষয়কে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তিনি।
বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসান পরামর্শ দেন, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার দক্ষতা, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। শুধু সার্টিফিকেট বা প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে শেখার মানসিকতা, গবেষণার মৌলিক দক্ষতা এবং নিজের কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।
হাসানের মতে, বিদেশে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য সবার প্রোফাইল একই রকম হওয়া প্রয়োজন নেই। নিজের যোগ্যতা, আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন
বুটেক্সের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর(মাস্টার্স) করছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে এ সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ অর্জনকে নিজের ও পরিবারের জন্য আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন শাওন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শাওনের কাছে এ অর্জনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
গবেষনা নিয়ে শাওন জানান, বুটেক্স ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। গবেষণার সুযোগ এবং উন্নত ল্যাবে হাতে-কলমে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই চীনে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেই। শাওন জানান, উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোজেলের মতো উন্নত উপাদান নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পেয়েছি।
বুটেক্সের যেসব শিক্ষার্থীর স্নাতক পর্যায়ে পর্যাপ্ত গবেষণা বা প্রকাশনার সুযোগ হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে পিএইচডি করার আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের জন্য সিএসসি স্কলারশিপকে সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শাওন। তাঁর মতে, এ ধরনের বৃত্তি আন্তর্জাতিক গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সুযোগ করে দিতে পারে শিক্ষার্থীদের।
শাওন জানান, তাঁর ক্ষেত্রে চীনে আসার জন্য ভাষা পরীক্ষা বা চীনা ভাষা জানা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে নতুন ভাষা শেখা চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও অন্য দেশের সংস্কৃতি, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও গবেষণার পরিবেশ ভালোভাবে বুঝতে সে দেশের ভাষা শেখা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শাওন।
নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্টেক্স কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান ‘অভ্যর্থনায় আলোড়ন ৪.০’। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধান চত্বরে ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘হেমন্তের আঙিনায়, নতুন স্বপ্নের তাসে!’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল সৃজনশীলতা, সংগীত ও আড্ডার সমন্বয়ে নানা আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে তোলা এবং নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সৃজনশীল চর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় তিনটি বিশেষ পর্ব—আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা, ‘গানে গুঞ্জনে’ ও ‘আয়েশী বৈঠক’। গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিল্পসত্তা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পান। অন্যদিকে, ‘গানে গুঞ্জনে’ পর্বে সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের মাতিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি ‘আয়েশী বৈঠক’ পর্বে পরিচিতি ও আড্ডার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও নতুন বন্ধন তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া স্বাগতবার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে নতুন সম্ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করা এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন গল্প রচনার আহ্বান জানানো হয়।
এবিষয়ে আর্টেক্সের লিডার তামিম হোসেন বলেন, “বুটেক্সে বর্ণিল পরিবেশে সম্পন্ন হলো আর্টেক্স ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা ‘অভ্যর্থনায় আলোড়ন ৪.০’। এতে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজ নিজ বিভাগের বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে এবং গ্রাফিতির মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাসকে এক নজরে চেনার সুযোগ করে দিতেই এই আয়োজন।”
আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা ও সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।