ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন পুলের ভাড়াকৃত বাসের দুর্ঘটনায় আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা নিহত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ-সহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ পরবর্তী উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যানারে মিছিল পরবর্তী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এসময় মীর মোশাররফ হোসেন ভবন থেকে স্লোগান ধরে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল বডি তাৎক্ষণিক প্রশাসনের কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।
এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই, ভাড়ায় চালিত গাড়ি বন্ধ চাই, সেফ রোড সেফ জার্নি, ফিটনেস বিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে, উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা সম্বলিত প্লেকার্ড দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৬ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অভিযুক্ত চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা, নিহতের পরিবারকে কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর যাবতীয় দায়িত্ব প্রশাসনের গ্রহণ করা। এছাড়া নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন, বাসের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ে স্থায়ী কমিটি গঠন, নিজস্ব বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, চালকদের ডোপ টেস্ট করানো এবং ভাড়ায় চালিত বাসের গতিসীমা লঙ্ঘন বা উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, গতকাল আনুমানিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ভাড়াকৃত বাসের মাধ্যমে ১১ মাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা নিহত হন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন
যুদ্ধ কেবল সেনাবাহিনী, সরকার বা রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যকার সংঘর্ষ নয়, এর গভীরতম স্তরে এটি একটি মানবিক ট্র্যাজেডি বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে একজন মানুষ, প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের পেছনে একটি পরিবার এবং প্রতিটি বাস্তুচ্যুত মানুষের পেছনে ক্ষতি, ভয় ও আশার গল্প রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব মিডিয়া: নৈতিক দায়বদ্ধতা ও আত্মপর্যালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার তিনটি নৈতিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকতার প্রথম নৈতিক দায়িত্ব হলো সত্য, দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো মানবিক মর্যাদা এবং অবশেষে তৃতীয় দায়িত্ব হলো প্রাসঙ্গিকতা ও ভারসাম্য।”
তবে গণমাধ্যমের নৈতিক দায়বদ্ধতা শুধু সাংবাদিকদের একার নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। যুদ্ধকালীন তথ্য প্রকাশ জনমত ও আন্তর্জাতিক ধারণাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা, সঠিকতা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির প্রতি শ্রদ্ধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্বের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, তাদের স্বাধীন যাচাইকরণ, সাংবাদিকদের সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্য তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দলিল সংরক্ষণে সহায়তা করা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নাগরিকদের দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। উপাচার্য বলেন, বর্তমানে প্রত্যেক ব্যক্তি তথ্যের প্রচারক হয়ে উঠতে পারেন। কোনো নাটকীয় ছবি, ভিডিও বা অভিযোগ শেয়ার করার আগে প্রত্যেকের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, সেটি সত্য কি না, বিশ্বাসযোগ্য কি না এবং সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কি না।
তিনি বলেন, “আমি কি সমঝোতায় অবদান রাখছি, নাকি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছি?” এই প্রশ্নটিও তথ্য প্রচারের আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যুদ্ধের ওপর গণমাধ্যমের প্রভাব তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “মিডিয়া একা কোনো যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে না, তবে মানুষ কীভাবে যুদ্ধকে অনুধাবন করে তা প্রভাবিত করতে পারে।”
তাঁর মতে, গণমাধ্যম একদিকে মেরুকরণকে আরও গভীর করতে পারে, অন্যদিকে সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একইভাবে এটি সহিংসতা বাড়াতে পারে অথবা মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরতে পারে। গণমাধ্যম সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করার পরিবর্তে প্রতিটি মানবজীবনের মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।
অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, “আমাদের যা প্রয়োজন তা কম সাংবাদিকতা নয়, বরং আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা; মতপ্রকাশের কম স্বাধীনতা নয়, বরং সত্য ও সত্যতা যাচাইয়ের প্রতি আরও বড় প্রতিশ্রুতি; নীরবতা নয়, বরং নৈতিক ও সাহসী প্রতিবেদন।”
তিনি আরও বলেন, “আসুন আমরা কোনো অপপ্রচার ছাড়া সত্যকে, কোনো বিদ্বেষ ছাড়া সমালোচনাকে, কোনো দায়িত্বহীনতা ছাড়া স্বাধীনতাকে এবং কোনো দ্বিমুখী নীতি ছাড়া মানবতাকে সমুন্নত রাখি।”
আজকের আলোচনা এমন একটি গণমাধ্যম সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রাখবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেই সংস্কৃতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য, মানবিক মর্যাদা, শান্তি ও দায়বদ্ধতা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদীকে স্বাগত জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ফারসি ভাষায় ইরানি রাষ্ট্রদূতকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনের প্রতিনিধি সোফিয়া এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন, মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীরসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী
পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলো পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহকে অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্টভাবে উপস্থাপন করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী। তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে এবং ইসরায়েলিদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পশ্চিমারা বা যুক্তরাষ্ট্র যখন আক্রমণ চালায়, তখন তাদের যুদ্ধের বিভিন্ন দিক থাকে এবং তার মধ্যে অন্যতম প্রধান দিক হলো ‘মিডিয়া যুদ্ধ’ বা গণমাধ্যম যুদ্ধ।”
তিনি বলেন, “পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে দৃশ্যপট এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ফিলিস্তিন ও গাজার নির্যাতিত ও বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো সন্ত্রাসী, আর যেসব ইসরায়েলি হাজার হাজার মানুষ হত্যা করছে, তারা নাকি ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার রক্ষক!”
জাহানাবাদী বলেন, “পশ্চিমাদের এই যুদ্ধের বয়ান বা ন্যারেটিভ সম্পূর্ণ অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্ট।”
স্বাধীন গণমাধ্যমের দায়িত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতিতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব হলো বিশ্বমঞ্চে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ন্যায়বিচারের ঘটনাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরা।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে স্বাধীন গণমাধ্যমকে কোনো পক্ষের হয়ে কাজ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা সত্য, ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পক্ষে থাকুক।”
যুদ্ধের সময় বেসামরিক স্থাপনা ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা যুদ্ধ আইনের অধীনে হাসপাতাল, শিশু, বিদ্যালয়, নারী কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনায় আক্রমণ বৈধ কি না, তা গণমাধ্যমের সামনে প্রশ্ন হিসেবে আসা উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যুদ্ধক্ষেত্রে যে কর্মকাণ্ড করছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি অংশ সেগুলো আড়াল করার এবং যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্বের স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাহানাবাদী বলেন, “আপনারা ইরানে আসুন এবং স্বচক্ষে দেখুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেখানে মানবতাবিরোধী কী পরিমাণ যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে।”
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইরানিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আশা করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীর ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস
পশ্চিমা গণমাধ্যমের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বা ‘Fourth Estate’ ধারণা এখন কার্যকর নেই বলে মন্তব্য করেছেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস। তার মতে, গণমাধ্যমের কাজ শুধু তথ্য জানানো নয়, বরং জনমতকে নির্দিষ্ট দিকে প্রভাবিত করাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রেগরি জে. সিমনস বলেন, “পশ্চিমের গণমাধ্যম সম্পর্কে কিছু আদর্শিক ধারণা প্রচার করা হয় যেমন ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ যা সম্পূর্ণ নিরর্থক। উন্নত বিশ্বে কার্যকর কোনো ‘চতুর্থ স্তম্ভের’ ধারণা এখন মৃত।”
তিনি বলেন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি বিকল্প পরিসর তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রচলিত গণমাধ্যমের বয়ানকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে টাকার কার্লসন ও জাজ নাপোলিটানোর মতো ব্যক্তিদের উদাহরণ দেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে সিমনস বলেন, “পশ্চিমে ধারণা দেওয়া হয় গণমাধ্যমের কাজ তথ্য জানানো। কিন্তু তাদের কাজ তথ্য জানানো নয়, বরং প্রভাবিত করা।”
তার ভাষ্য, জনমতকে এমন কিছু কর্মকাণ্ডের পক্ষে প্রভাবিত করতে গণমাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে, যেগুলোর নৈতিক, আইনি বা নীতিগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যুদ্ধের ক্ষেত্রে তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “একদিকে এটি হলো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ তথ্যকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে এক নির্দিষ্ট উপায়ে ভাবানো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করানো।”
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে সিমনস বলেন, যুদ্ধ শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর পাশাপাশি তথ্যের ক্ষেত্রেও লড়াই চলে। তার মতে, প্রতিপক্ষের বয়ান বা ‘ন্যারেটিভ’ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সংঘাতের ব্যাখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, “আপনি যদি পরিবেশের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারেন, তবে আপনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারবেন। আর যদি প্রতিপক্ষ আপনাকে সংজ্ঞায়িত করে ফেলে, তবে আপনি তাদের বর্ণনার কবলে বন্দী হয়ে পড়বেন।”
পশ্চিমা রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিমনস। তিনি বলেন, কোনো সাম্রাজ্য বা সভ্যতার পতনের অন্যতম লক্ষণ হলো রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব সম্পর্কেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেন।
পশ্চিমা অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের শিল্প উৎপাদন বিদেশে স্থানান্তর করেছিল, যার সুবিধা পেয়েছে চীন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরেশিয়া অঞ্চলে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্তম্ভ হলো রাশিয়া, চীন ও ইরান।
পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যম সম্পর্কে সিমনস বলেন, “পশ্চিমা মূলধারার গণমাধ্যম নিজেদের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি তথ্যকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণকে প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ উপন্যাসের তুলনাও করেন তিনি।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন সিমনস। এসব বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
তাঁর দাবি, “কৌশলগত লড়াইয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ইতিমধ্যেই হেরে গেছে।” এ পরিবর্তনের পেছনে বিকল্প গণমাধ্যম ও গ্লোবাল সাউথের গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে সিমনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি নৌ ও বিমান বাহিনী। তার মতে, ইরানের মতো বড় ভূখণ্ডের একটি দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের সামরিক সক্ষমতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংঘাত দুটি স্তরে পরিচালিত হচ্ছে। একটি হচ্ছে বাস্তব সামরিক যুদ্ধ এবং অন্যটি তথ্য ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ।
বিকল্প গণমাধ্যমের কারণে ইরানের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও পরিচয়ের বিভিন্ন দিক বিশ্ববাসীর কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে বাজার ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন, ঢাকায় নিযুক্ত ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমদ ইহসানুল কবীর। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সাংস্কৃতিক সংগঠন অংকুরের ২০২৬-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হলেন এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হলেন প্রান্ত সাহা প্রহর।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সহকারী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন দিগন্ত আশ্বাস, মাশফিয়া রহমান ও রিমি চৌধুরী। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন আবিদ আজাদ শুভ।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-
যুগ্ম সম্পাদক মোছা. রিমি খাতুন, রেহনুমা রশীদ ও কামরুল হাসান। কোষাধ্যক্ষ লস্কর মহন্ত, প্রেস ও প্রকাশনা সম্পাদক রাজকুমার বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক খন্দকার সাব্বির, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাশেদুল হাসান এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সুস্মিতা শর্মা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘ফুলকুঁড়ি আসর’-এর ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় ফুলকুঁড়ি আসর তারামেলা শাখার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সংস্কৃতি কেন্দ্রের (টিএসসিসি) সামনে পায়রা উড়িয়ে ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে তারামেলা শাখার পরিচালক খন্দকার আহনাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিচালক মুবাশ্বিরের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন শাখার উপদেষ্টা ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আল মোহিত এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান। এছাড়াও শাখার সদস্যরা ও বিভিন্ন পর্যায়ের শিশু-কিশোররা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শাখার পরিচালক খন্দকার আহনাফুজ্জামান বলেন, “পৃথিবীকে গড়তে হলে সবার আগে নিজেকে গড়—এই অনন্য স্লোগানকে সামনে রেখে ফুলকুঁড়ি আসর ১৯৭৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফুলকুঁড়ি আসর নিরলসভাবে শিশু অধিকার ও শিশুদের মনন বিকাশ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আজ ফুলকুঁড়ি আসর তার ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।”
শাখার উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আব্দুল আল মোহিত বলেন, “একটি গাছ বা অন্যকিছু কীভাবে গড়ে উঠবে, তা ছোটবেলা থেকেই নির্ধারিত হয়। একইভাবে ছোটবেলা থেকেই নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হয়। ফুলকুঁড়ি যেভাবে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে গাইডলাইন দিচ্ছে এবং সাঁতার শেখানোসহ তাদের মানসিক বিকাশে কাজ করছে, সেজন্য তারা প্রশংসার দাবিদার। তাদের নির্দেশনা ও গাইডলাইন অনুসরণ করলে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই সুন্দর মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি তাদের এই সুন্দর উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই এবং শিশুদের এই পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানাই।”
অন্য উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান বলেন, “ফুল যেমন তার সৌরভ ছড়িয়ে দেয়, তেমনি আমাদেরও মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে দেশ ও সমাজে সৌরভ ছড়িয়ে দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ফুলকু্ঁড়ি আসর তারারমেলা শাখা বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মাইন্ড ম্যারাথন, চিত্রাঙ্কন,গল্প বলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, ফুলকুড়ি গেমস ও বিতর্ক উৎসবসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম।
চলমান মধ্যপ্রাচ্যের রক্তাক্ত সংঘাত এবং সেখানে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের ভূমিকা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বিশেষ আন্তর্জাতিক সেমিনার।
‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস।
আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন এবং ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী।
অনুষ্ঠানে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। একাডেমিক আলোচনায় অংশ নেবেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের শিক্ষক আহমদ ইহসানুল কবীর।
আয়োজনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে জবির ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আমি আসলে এই প্রোগ্রামটা নিয়ে খুবই আশাবাদী এবং আনন্দিত। পৃথিবীতে চলমান সবচেয়ে ক্রুশিয়াল একটি বিষয় নিয়ে আমরা এই প্রোগ্রামটি করছি। মিডল ইস্টের যুদ্ধ এবং সেখানে বৈশ্বিক মিডিয়ার দায়-দায়িত্ব, তাদের নীতি-নৈতিকতা এবং তাদের যে কার্যকলাপ সেটির ওপরে এই প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হবে।"
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এই অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এই প্রোগ্রামটিতে উপাচার্য থেকে শুরু করে শিক্ষক, ছাত্র সবার মধ্যে একটা অন্যরকম উৎসব উৎসব আমেজ তৈরি হয়েছে, যা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছে। আমি মনে করি এটি এমন একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম যা অনেকেই অনুসরণ করবেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বাইরের আগ্রহী গবেষক ও শিক্ষার্থীদেরও বিশেষ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করি সবার সার্বিক সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে।"