বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে( বাকৃবি) নিপীড়নবিরোধী দিবস ও শহীদ আবরার ফাহাদ এর সপ্তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণ ও ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ও শারীরিক নির্যাতন (র্যাগিং ও নিপীড়ন) বন্ধের প্রতীক হিসেবে তাদের এ আয়োজন।
বুধবার( ৭ অক্টোবর) বাদ আছর বাকৃবির সেন্ট্রাল মসজিদে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় শতাধিক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মসজিদ সংলগ্ন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন শাখা ছাত্রশিবির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, সাথী, কর্মী ও সমর্থকরা।
বাকৃবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মঈন বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস জোগায়। শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই, কোনো শিক্ষার্থী যেন মতের ভিন্নতার কারণে নিপীড়ন বা হয়রানির শিকার না হন। শহীদ আবরারের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। গতবছর শহীদ আবরার ফাহাদের ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় ‘নিপীড়নবিরোধী দিবস’ ঘোষণা ও তা যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
নোবিপ্রবিতে বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্ট'স ফোরাম-র নেতৃত্বে সাজিদ-মেহেদী
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্ট'স ফোরাম-র ২০২৬-২৭ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাজিদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান।
নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন এসিসিই বিভাগের মো. হাসান আলী ও সিএসটিই বিভাগের তাসীন ইসলাম ঋজু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিয়াম মাহমুদ ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রীতম কীর্ত্তনিয়া এবং কৃষি বিভাগের সৈকত বড়াল। এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন টিএইচএম বিভাগের মো. কাওসার মাহমুদ এবং সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শিক্ষা বিভাগের মুঈন উদ্দিন।
ফোরামের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এসিসিই বিভাগের অর্নব দাস ও উপ দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফলিত গণিত বিভাগের সাইদুল ইসলাম সিয়াম। এছাড়া অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মো. মারুফ হোসেন। উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. জাবের। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকর্ম বিভাগের নাহিয়ান চৌধুরী। উপ-প্রচার সম্পাদক হয়েছেন বাংলা বিভাগের হামিম।
আইন সম্পাদক হয়েছেন আইন বিভাগের মো. তানভীর রেসাদ। ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন বিজিই বিভাগের ইবাদুর রহমান। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের আফরিন জান্নাত মুনিহা।
ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এমবিজি বিভাগের মো. তানভীর হোসেন এবং উপ-ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিএসটিই বিভাগের কার্তিক চন্দ্র পাল। ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের ফেরদৌসি বিনতে হাফিজ এবং উপ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন সিএসটিই বিভাগের সাইমা আক্তার। ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন পরিসংখ্যান বিভাগের মো. শাকিল রহমান এবং উপক্রীড়া বিষয় সম্পাদক হয়েছেন ইএসডিএম বিভাগের দেবাঞ্জন সমদ্দার। এছাড়া আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শিক্ষা বিভাগের উম্মে হাবিবা। উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজিই বিভাগের মিজানুর রহমান। তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইআইটি বিভাগের আঁখি আজাদ। উপ-তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একই বিভাগের মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আবির। শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ফার্মেসী বিভাগের জিমহা আক্তার। সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন একই বিভাগের মেহেরুন্নেসা মীম। পরিবেশ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সুরাইয়া তাবাসসুম সেতু। ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ইএসডিএম বিভাগের কামরুল ইসলাম মিথুন। প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইসিই বিভাগের মো. নাজমুল হোসেন। গবেষণা ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফলিত গণিত বিভাগের স্বাক্ষর মুখার্জী।
নতুন কমিটি নিয়ে সভাপতি মো. সাজিদ তালুকদার বলেন, বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্ট’স ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমাদের এই সংগঠন হবে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
সকলের মতামত ও সহযোগিতা নিয়ে ফোরামকে আরও সুন্দর, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নিতে চাই। চলুন, আমরা একসাথে স্বপ্ন দেখি, একসাথে এগিয়ে যাই-আমাদের ঐক্যই হোক আমাদের শক্তি, আর আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠুক বৃহত্তর বরিশালের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান বলেন, বৃহত্তর বরিশাল স্টুডেন্টস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি ফোরামের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, বড় ভাই-বোনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। তারা আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, আমি সেই বিশ্বাসের যথাযথ মূল্য দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে বৃহত্তর বরিশালের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী,কর্মকর্তাসহ সকলকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বজায় রেখে কাজ করতে চাই। ফোরামের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি বৃহত্তর বরিশালের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।
নতুন কমিটি বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইবাদুর রহমান বলেন, অনেক দিনের স্থবিরতার পর নতুন কমিটি আসায় স্বাভাবিকভাবেই সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। নতুন নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণে পরিষদের সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাণবন্ত, কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—এটাই আমাদের কাম্য।
সদরঘাটে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনার পর ছাত্রদলের কিছু কর্মী মীমাংসার নামে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকা নেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
তার পোস্টে ঘটনার সূত্রপাত হিসেবে বেশি ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধের কথা বলা হলেও, জানা যায় ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; লঞ্চটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে হিমেল এসব কথা বলেন।
এর আগে, লঞ্চে মাদক সেবনের সন্দেহে দুই জবি শিক্ষার্থীকে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
ঘটনায় জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ, আলিমুল ও পবন এবং জিয়াউদ্দিন বাসিতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শের আলীর উপস্থিতি ছিল।
পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তবে ফেসবুক পোস্টে হিমেল দাবি করেন, ঘটনাটি মূলত বেশি ভাড়ার দাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চকর্মীদের তর্ক থেকে শুরু হয়। তার দাবি, পরে মালিকপক্ষের লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে আহত এক শিক্ষার্থী তার সহপাঠী ও সিনিয়রদের সহযোগিতা চান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে থাকা বন্ধুবান্ধব ও সিনিয়ররা তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে যান এবং মালিকপক্ষ ও টার্মিনাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচারের দাবি জানান।
হিমেল আরও দাবি করেন, মালিকপক্ষ পরে বারবার ক্ষমা চেয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। আহতদের চিকিৎসা খরচ ও মোবাইলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় মালিকপক্ষ মানবিক দিক থেকে কোনো নগদ অর্থ দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সেখানে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, কত টাকা বা কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে-এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবগত নন বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনার পর লঞ্চ মালিকপক্ষের সঙ্গে মীমাংসা বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে। লঞ্চে কর্মরত এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং পরে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে অর্থ কার হাতে বা কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাননি।
এদিকে, হিমেলের পোস্টে ঘটনাটি ভাড়ার টাকা নিয়ে শুরু হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে কোনো যাত্রী ছিল না; সেটি সদরঘাটে এমনিতেই রাখা ছিল। ফলে লঞ্চে যাত্রী না থাকলে ভাড়া নিয়ে বিরোধের বিষয়টি কীভাবে ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরই ছাত্রদল আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল তার ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই না করে সেটিকে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে প্রচার করা কতটা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা- সে প্রশ্ন তোলেন।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন মীমাংসার সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছাত্রদলকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তাদের ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৬ শিক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৯ সালের জন্য ছয়জন, ২০২০ সালের জন্য পাঁচজন এবং ২০২১ সালের জন্য পাঁচজন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯-এর জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনীত ছয় শিক্ষার্থী হলেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের মো. সাগর ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. ইসমাইল হোসাইন হৃদয়, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সুরাইয়া বিনতে রফিক, অর্থনীতি বিভাগের মিতু রানী রায়, আইন বিভাগের মাহমুদা আমির ইভা এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শারমিন আক্তার। তারা সবাই ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
২০২০ সালের জন্য মনোনীত পাঁচজন হলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অনুরাধা পাল, মার্কেটিং বিভাগের মো. নয়ন হোসাইন, গণিত বিভাগের তাসলিমা আক্তার, লোকপ্রশাসন বিভাগের মাহাবুবুল আলম এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের মো. আনিক মিয়া। তারা ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া ২০২১ সালের জন্য মনোনীত হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের রুনা আক্তার, পরিসংখ্যান বিভাগের রেহানা আক্তার তামিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের লায়লা নিগার তানভী, আইন বিভাগের হামিদা সুলতানা এবং ফার্মেসি বিভাগের মৌসুমি আক্তার মিতু। তারা ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে ইউজিসি প্রবর্তিত একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ২০০৫ সালে এ পদক চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষদ বা বিভাগে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়।
ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৪৬৯ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) কোরিয়া-বাংলাদেশ ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রজেক্টের উপস্থাপনা ও তায়কান্দোর ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিনিধিদল।
গত সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ কোরিয়ার ইও জিইয়ন ও লিম বঙ ট্যাক যুব নেতৃত্ব ও তায়কান্দো বিষয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিনিধিদল আগামী ১৮ নভেম্বর জাবিতে কোরিয়া-বাংলাদেশ ইয়ুথ এক্সচেঞ্জ ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রজেক্টের উপস্থাপনা এবং ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি তায়কান্দোর ওপর একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করতে চায়।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক শামছুল আলম প্রতিনিধিদলকে জাবিতে স্বাগত জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি অনুষ্ঠান আয়োজনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ড. খন্দকার মো. শরিফুল হুদা, শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক আজমল আমীন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন ও বিডিজবস প্লাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে ‘শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও কর্মসংস্থান’ বিষয়ক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবঙ কী-নোট স্পিকার ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। এছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, সোসিও ইকোনমিক হেলথ এডুকেশন অর্গানাইজেশনের মহাপরিচালক ড. মেহেদী হাসান, এনজিও সংস্থা ‘সেতু’র মাইক্রোফাইন্যান্স (MF) বা ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক মো. আলাউল আলম এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির এজিএম ও শাখা প্রধান আবুল কালাম আজাদ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে সুপারিশ বা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু তার একাডেমিক ফলাফলই বিবেচ্য নয়। রক্তদান কর্মসূচি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেকে উপস্থাপন করেছে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষতা শাণিত করতে হবে। ভবিষ্যতে সরকার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করলে কিংবা যেকোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে Problem Solving Capacity না থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের জন্য কতটা উপযোগী—সেটিও বিবেচনায় আসে।”
উল্লেখ্য, এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে বর্তমান চাকরির বাজার ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা, কার্যকর পেশাদার CV প্রস্তুতকরণ, ইন্টারভিউ কৌশল এবং কর্মজীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উচ্চশিক্ষায় অসাধারণ কৃতিত্ব ও মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ 'প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক' ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১-এর জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ১৩ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সর্বমোট ৪৬৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করে, যার মধ্যে বুটেক্সের ২০১৯ সালের ৪ জন, ২০২০ সালের ৪ জন ও ২০২১ সালের ৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
ইউজিসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৯-এর জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন–ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুস্মিতা সাহা, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ. এম. এহসানুল হক, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের মো. সবুজ এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আখিরি জান্নাত।
২০২০ সালের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন–ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আবু সাঈদ, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তানিয়া আক্তার, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের মো. রেদওয়ানুল ইসলাম, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পূজা কুন্ডু।
এছাড়া ২০২১ সালের জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীরা হলেন–ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. নাঈমুল ইসলাম, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এস.কে. মোহাম্মদ রাফি, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফৌজুন নাহার খান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. ইমরান হোসেন এবং টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের পৃথ্বিলা কামাল।
নীতিমালা অনুযায়ী, মনোনীত প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ২২ ক্যারেট মানের ৪.৫ গ্রাম স্বর্ণ ও ১০ গ্রাম রৌপ্য দিয়ে তৈরি একটি আকর্ষণীয় পদক এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণায় তরুণদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিভাবান গ্র্যাজুয়েটদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ প্রদান করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।