দেশের ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৩০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ হয়েছে। ২৫ দিনব্যাপী এ আয়োজনে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) শ্রেণিকক্ষে কোর্সটির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে এবং জিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল। এতে দেশের ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
জিটিআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. বেনতুল মাওয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে সমাপনী অনুষ্ঠানে দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরস্কার দেওয়া হয়। দলগত পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের পাঁচজন করে সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন দুজন করে এবং প্রথম স্থান অর্জন করেন একজন। অনুষ্ঠানে সব প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, দেশে অনুমোদিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৯টি থাকলেও আপাতত আমরা সবাইকে ট্রেনিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে পারছি না । দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এই গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে আসছেন এবং তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করছেন চেষ্টা করবেন এখানে থেকে যা শিখতে পেরেছেন সেটার যথাযথ ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে করার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ১৯৮১ সালে স্বর্ণপদক পেয়েছে তার অসাধারণ কাজের জন্য এবং তারা প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে কাজগুলো করে যাচ্ছে শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনোনয়নে। ২০০৭ সালে আমরা যখন প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ফাউন্ডেশন ট্রেনিং শুরু করেছিলাম তৎকালীন ইউজিসির চেয়ারম্যান যিনি ছিলেন উনি খুব প্রশংসা করেছিলেন এবং কথা দিয়েছিলেন যতদিন গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ক্লান্ত না হবে, এতদিন পর্যন্ত উনারা ফান্ডিং করে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রথম কোনো সরকার শিক্ষায় ৫% পর্যন্ত জিডিপি বরাদ্দ করতে চেয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা ২% বরাদ্দ করেছেন। আমরা এখান থেকে অনেক ভালো কিছু আশা করছি এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা এবং মানব সম্পদকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার নিয়ে কথা বলেছি, ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আট অনুষদের অধীনে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৩৬ শিক্ষার্থী। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কৃতী শিক্ষার্থীদের মেডেল ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদভুক্ত আল হাদিস বিভাগের আলী আহসান মুহাম্মদ জুবাইর, মোহাম্মদ আল ফায়েদ, দেলোয়ার হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও নাইমুর রহমান, আল কুরআন বিভাগের আব্দুল্লাহ ইহসান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং দাওয়াহ বিভাগের নাজমুল ইসলাম ও নোমান আল হাদী।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যয় সানা, সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ্য সাহা, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমী খাতুন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মেহেদী হাসান শিকদার।
এছাড়া প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ফলিত রসায়ন বিভাগের মহুয়া রহমান, জান্নাতুন নায়িম ও নাফিজ রহমান সায়েম, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আহাসান হাবিব এবং আইসিটি বিভাগের মাহফুজুর রহমান।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত লোক প্রশাসন বিভাগের মুনতাকিম রহমান, অর্থনীতি বিভাগের টগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সিরাজাম মনিরা।
জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আব্দুল বাশার এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের মেহেদী হাসান। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত পরিসংখ্যান বিভাগের মেহেদী হাসান লিমন ও মাহামুদুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম, কলা অনুষদভুক্ত আরবি বিভাগের তানজিলা খাতুন, হাফিজুল ইসলাম ও জেবা রহমান। আইন অনুষদভুক্ত ল অ্যান্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সাদিয়া, রাফিয়া খাতুন ও আমজাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি ও কৃতী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, এটি নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য উল্লেখযোগ্য দিন। তোমাদের যোগ্যতা, মেধা ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হলো। তোমাদের ওপর নতুন একটি দায়িত্ব অর্পিত হলো। কর্মক্ষেত্রে দেশ ও মানুষের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তোমরা ভূমিকা রাখবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই অ্যাওয়ার্ড সহযোগিতা করবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে দেশ ও বিদেশে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিদেশেও একই সুনাম ধরে রাখবে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) গত ১১ মাসে আট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পানিতে ডুবে, দুজন সড়ক দুর্ঘটনায়, দুজন অসুস্থ হয়ে এবং একজন কীটনাশক পানে মারা গেছেন। এরমধ্যে সর্বশেষ চার দিনে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ক্যাম্পাসে। একের পর এক শিক্ষার্থীকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১২ নভেম্বর মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন। মৃত্যুর আগে পড়াশোনা নিয়ে তিনি অতিরিক্ত হতাশায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি সিলেটের লালাখালে ঘুরতে গিয়ে গোসল করতে নেমে মারা যান তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুসআব আমীন। তিনি সাঁতার জানতেন না।
গত ১৫ মে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র বিছানাকান্দিতে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত বণিক (২২)। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিন বন্ধু মিলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডসংলগ্ন একটি জলাশয়ে গোসল করতে নামেন তারা। একপর্যায়ে পানির তীব্র স্রোত ও গভীরতায় তলিয়ে যান শান্ত। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরের চৌকিদিখি এলাকার ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে মারা যান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপাঞ্জন ঘোষ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সুইমিংপুলে সাঁতার কাটার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে নগরের দরগাহ গেট এলাকার নূরজাহান হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিসান হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান।
এ ছাড়া প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে গত ৪ অক্টোবর কীটনাশক পান করেন রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বাঁধন (২১)। ৯ দিন পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান রহমান। শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন তপোবন আবাসিক এলাকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রতন। এসব ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনায় আমরা শিক্ষার্থীদের বাঁচানোর জন্য দ্রুত সাড়া দিয়েছি। কিন্তু মৃত্যু অনিশ্চিত। একের পর এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। অদম্য মেধাবীদের হারানো শাবিপ্রবির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’
নোবিপ্রবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনার
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ‘থিঙ্ক বিফোর ইউ ক্লিক: রেসপনসিবল সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ এন্ড সাইবার সিকিউরিটি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এ প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি অপব্যবহারের প্রবণতাও লক্ষ করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক মন্তব্য, ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং সাইবার হয়রানির মতো ঘটনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপাচার্য আরও বলেন, আমরা এখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলেই একটি অভিন্ন পরিবারের অংশ। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। আমরা কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার আগে তার সত্যতা যাচাই করব, সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করব এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। সচেতনতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় ভূমিকা প্রতাশ্যা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), নোয়াখালী ড. মো. নুরুল হুদা ভূঁইয়া ও নোবিপ্রবি শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের সাইকোলজিস্ট মো. আবু তারেক। প্রোগ্রাম মডারেটর ছিলেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক (কিউএ) ড. মো. শিবলুর রহমান। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ইনস্টিটিউট এবং বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শ্রেণি প্রতিনিধি এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নোবিপ্রবিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) কর্মচারী ঐক্য ফোরামের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) নোবিপ্রবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। ডেঙ্গু প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ যেহেতু সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তাই আমাদের ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। নোবিপ্রবিতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ফগার মেশিন দ্বারা মশক নিধন কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালানো। বক্তব্যে কর্মসূচির আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, কর্মকর্তা ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাখায়েত উল্ল্যাহ, কর্মচারী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন সুমনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
জবির বাসে নতুন রাউটার স্থাপন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পেতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেনের উদ্যোগে রাউটার স্থাপন করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস- উল্কা-২ ও উত্তরণ-২ বাসে রাউটার স্থাপন করা হয়। এ রাউটার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক মো. তারিক বিন আতিক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মোঃ, মাহিদ হোসেন নিকট হস্তান্তর করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে বাসে করে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ যাত্রাপথে মোবাইল ডাটা শেষ হয়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত ডাটা প্যাকেজ না থাকা কিংবা নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। এ ভোগান্তি কমাতেই বাসে ওয়াই-ফাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উত্তরণ বাসে যাতায়াতকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান বলেন, “আমরা প্রতিনিয়তই ক্যাম্পাসে যাতায়াতের সময় ভালো ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হই। বাসে যাতায়াতের সময় পড়াশোনা, অ্যাসাইনমেন্টসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে ইন্টারনেটের দরকার হয়। কিন্তু মোবাইল ডাটা ও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অনেক সময় তা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। বাসে রাউটার স্থাপনের উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ উপকারী হবে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময়টুকু কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।”
ছাত্রদলের ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময়টুকু যেন কাজে লাগে, সে চিন্তা থেকেই বাসে রাউটার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করেন। এ সময় ইন্টারনেটের প্রয়োজন হলেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁরা তা ব্যবহার করতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের এ ভোগান্তি কিছুটা কমাতে এবং তাঁদের পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় অনলাইন কার্যক্রমে সহায়তা করতেই আমার এ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”
জকসুর পরিবহন সম্পাদক মো. মাহিদ হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেক্টরের অনেক সংকট আছে। সংকটের মাঝেও আমরা হচ্ছে চেষ্টা করেছি, যেন শিক্ষার্থীদের যেভাবে হচ্ছে পরিবহনে যেভাবে সুবিধা দেওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের হচ্ছে যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন ভাই নিজ থেকে হচ্ছে আমাদের পরিবহন দপ্তরে দুটি রাউটার হস্তান্তর করেছে। ওই চারটা রাউটার আমরা উল্কা-২ বাস এবং হচ্ছে উত্তরণ-২ এই দুইটা বাসে আমরা হস্তান্তর করে দিয়েছি। ভাইয়ের যেই যে কাজগুলো মানবিক কাজগুলো, শিক্ষার্থীবান্ধব যে কাজগুলো, সেগুলো চলমান থাকুক। শাহরিয়ার ভাইকে হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই।”
এ সম্পর্কে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. তারিক বিন আতিক বলেন, “আমরা রাউটার হাতে পেয়েছি এবং তা বাস দুটিতে স্থাপন করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে বলে আশা করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় যাতে পড়াশোনার ব্যাঘাত না ঘটে এজন্য শাহরিয়ারের এ উদ্যোগের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পরে তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। এতে বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের বিকল্প নেই। তবে শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ ও ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাসকে সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা, অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশাদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসান, সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ তাসফিক, সহযোগী অধ্যাপক সুমন কুমার মজুমদার, সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এবং সহযোগী অধ্যাপক দেওয়ান বদরুল হাসান।
কর্মসূচিতে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে পেয়ারা, কাঁঠাল, লেবু ও আমড়াসহ বিভিন্ন ফলদ গাছ এবং নিম ও অর্জুনের মতো ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।