‘অ্যাপেক্স’ সিনেমার দৃশ্য
এখন সব বড় তারকাকে অবধারিতভাবে নেটফ্লিক্সের ‘কর্তব্য’ পালন করতে হয়। শার্লিজ থেরন সেটা কয়েক বছর ধরেই করেছেন। এসব সিনেমা হয় ঝাঁ–চকচকে, কিন্তু ভেতরে প্রাণ থাকে না। কিছু আশাজাগানিয়া মুহূর্ত থাকলেও ‘অ্যাপেক্স’ তাই মোটাদাগে চলনসই সিনেমা। তবু সারা দুনিয়ার মানুষ দেখছে, গত ২৪ এপ্রিল মুক্তির পর থেকেই এখনো নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে ছিল সারভাইভ্যাল থ্রিলারটি। এখন রয়েছে দুইয়ে। মুক্তির প্রথম ১০ দিনেই হয়েছে ৮ কোটি ভিউ!
আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের সিনেমাটি পুরোনো ঢঙের। শুরুর দৃশ্যটাও দুর্দান্ত, যা মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’কে। নরওয়ের এক সুউচ্চ পাহাড় চূড়া আরোহণে ব্যস্ত সাশা (শালিজ থেরন) ও টমিকে (এরিক বানা)। ভয়ংকর ট্রল ওয়ালের খাড়া পাহাড়ে শীতকালে চড়া সহজ নয়। দিনের শুরুতে তাঁরা তাঁবু থেকে মাথা বের করে চারপাশ দেখেন, আর দর্শক তখন হাঁ করে আবিষ্কার করে—তাঁদের তাঁবু ঝুলছে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া এক পাথুরে পাহাড়ের গায়ে। তাঁদের ছোট্ট আশ্রয়ের নিচে আছে শুধু ভয়ংকর এক অতল খাদ। প্রথম দৃশ্য থেকেই পরিচালক কোরমাকুর ও চিত্রগ্রাহক লরেন্স শের এমন সব মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ড্রোন শট ব্যবহার করেন, যা পুরো ছবিজুড়েই বিপদের অনুভূতিকে তীব্র করে তোলে।
ঝড় ঘনিয়ে এলেও সাশা থামতে চায় না। আঙুল রক্তাক্ত ও ব্যান্ডেজে মোড়া থাকা সত্ত্বেও সে আরও ওপরে উঠতে চায়। কিন্তু বাস্তববাদী টমি দিন শেষ করার পরামর্শ দেয়। সামান্য পা ফসকে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত সে সাশাকে রাজি করায়। টমি সাশাকে জানায়, এ ধরনের চরম অ্যাডভেঞ্চারে সে নিজের সীমায় পৌঁছে গেছে এবং আর এগোতে চায় না। ফলে পরদিন নিরাপদে নিচে নামার চেষ্টায় ট্র্যাজেডি ঘটলে তা খুব একটা অপ্রত্যাশিত লাগে না।
পাঁচ মাস পর, গল্প চলে আসে অস্ট্রেলিয়ায়। টমিকে হারিয়ে শোকাহত সাশা এখানে এসেছে একা ক্যাম্পিং করতে, নির্জনতা খুঁজতে। কাল্পনিক ওয়ানডারা ন্যাশনাল পার্কে পৌঁছে সে এক পার্ক রেঞ্জারের (অ্যারন পেডারসন) সঙ্গে দেখা করে। তিনি সাশাকে সতর্ক করেন—এত নির্জন জায়গায় একা যাওয়া নিরাপদ নয়। তাঁর অফিসের দেয়ালে ঝোলানো অসংখ্য ‘নিখোঁজ ব্যক্তি’র পোস্টারই সেই আতঙ্কের ইঙ্গিত দেয়।
শুরুতেই সম্ভাব্য হুমকির আভাস পাওয়া যায়। স্থানীয় এক ভয়ংকর ক্যাঙারু শিকারি (ম্যাট হোয়েলান) ও তার মাতাল সঙ্গী (রব কালটন) সাশাকে বারবার বিরক্তি করে। এরপরেই দৃশ্যপটে হাজির হয় তুলনামূলক নিরীহ, সদা হাস্য স্থানীয় যুবক বেন (ট্যারন এগারটন)। পেট্রলপাম্পে সে সাশাকে বলে, সরাসরি রাস্তা না নিয়ে একটু ঘুরপথে যেতে, কারণ দৃশ্যগুলো নাকি অসাধারণ সুন্দর। সে মিথ্যা বলে না, প্রকৃতিই সেখানে ছবির অন্যতম আকর্ষণ।
পরদিন সকালে সাশা নদীতে কায়াকিং করতে নামে। দৃশ্যগুলো ‘দ্য রিভার ওয়াইল্ড’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। পাথর, জলপ্রপাত আর ভয়ংকর স্রোতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। আসল বিপদ শুরু হয় তখনই, যখন সাশার ব্যাগ চুরি হওয়ার পর বেন হাজির হয়ে তাকে নতুন সরঞ্জাম ও সকালের নাশতার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু খুব দ্রুতই বোঝা যায়, তার উদ্দেশ্য ভয়ংকর। কিছুটা সময় পর বোঝা যায়, হাতের ক্রসবো দিয়ে বেন আসলে সাশাকে শিকার করতে চায়! এরপর শুরু হয় শিকারি বেন আর সাশার ইঁদুর-বেড়াল দৌড়।
‘অ্যাপেক্স’-এর গল্প এগোয় চেনা টেমপ্লেট মেনেই। ‘উলফ ক্রিক’, ‘কিলিং গ্রাউন্ড’, ‘ফ্রি সোলো’ থেকে শুরু করে ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’—অনেক সিনেমার সঙ্গেই এটির মিল আছে। কোরমাকুর অস্ট্রেলিয়ার পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সাশার প্রাণপণ দৌড়ের দৃশ্যগুলো প্রবল রোমাঞ্চ তৈরি করে।
এগারটন বেন চরিত্রটিকে যথেষ্ট শীতল ও ভয়ংকর করে তুলেছেন। কখনো অদ্ভুত হাস্যরস, কখনো শিশুসুলভ আচরণ—সব মিলিয়ে তার মধ্যে মানসিক বিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। যখন সে সাশাকে ধরে নিজের ভয়ংকর আস্তানায় নিয়ে যায়, তখন সাশা ভয়াবহতা বুঝতে শুরু করে। এগারটন দারুণভাবে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন উচ্চারণও রপ্ত করেছেন।
তবে এসব মুহূর্তের চেয়ে বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হলো—কখন কার হাতে নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে, সেই টানাপোড়েন। এগারটনের উন্মাদ চিৎকার আর ভয়ংকর ক্রোধ ভরা চোখের বিপরীতে থেরনের সংযত দৃঢ়তা ও সহনশীলতা তৈরি করেছে দুর্দান্ত এক দ্বন্দ্ব। সাশা চরিত্রে শালিজ থেরন কোনো অজেয় সুপারহিরো নন বরং সত্যিকারের আতঙ্কিত ও বিধ্বস্ত এক নারী। তাই যখনই সে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়, সেটি দর্শকের জন্য রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সরু গিরিখাতে আটকে পড়ার পর তার পাহাড়ে ওঠার দক্ষতা আবার কাজে লাগে। পর্দায় যারা শার্লিজকে দেখেছেন, তাঁরা জানেন—সবচেয়ে কঠিন অ্যাকশন চরিত্রও সামলানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর আছে। এবার তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার দুর্গম প্রকৃতির মধ্যে, যেখানে একদিকে প্রকৃতির ভয়ংকর শক্তি, অন্যদিকে এক উন্মাদ সিরিয়াল কিলার—দুইয়ের সঙ্গেই লড়তে হয়। তবে এটিকে তাঁর জন্য খুব কঠিন অভিনয় বলেও মনে হয় না। একেবারে দায়সারা নয়, কিন্তু নিজেকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জও করেননি। বরং মনে হয়, তাঁর বাকি অ্যাকশন ক্যারিয়ারে তিনি হয়তো সব সময়ই ‘ফিউরিওসা’র ছায়া বয়ে বেড়াবেন।
২০২৪ সালে রোমান্টিক ড্রামা ‘টাচ’-এর পর কোরমাকুর আবার ফিরেছেন তাঁর চেনা সারভাইভ্যাল থ্রিলারের জগতে। এখানে তিনি তুলে ধরেছেন এমন এক রোমাঞ্চপিপাসু নারীর গল্প, যার কাছে নিজের সীমা পরীক্ষা করাই যেন জীবনের উদ্দেশ্য, বিশেষ করে যখন সব প্রতিকূলতা তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কোরমাকুর তাঁর লোকেশন ব্যবহারে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। গল্পের প্রতিটি মোড়, গুহা, নদীর স্রোত আর জলপ্রপাতকে তিনি এমনভাবে কাহিনির সঙ্গে মিশিয়েছেন যে প্রতিটির সম্ভাবনাই পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়েছে।
তবে সিনেমাটি কেবল এই সময়ের গল্প বলে, একবারে সহজবোধ্য ভাষায়; চরিত্রের গভীরে যেতে চায় না। ফলে সাশা আর বেনের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অংশগুলো কখনো কখনো কিছুটা পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে। সাশার মতো শক্ত মনের একজন চরিত্র সহজে ভয় পাবে না, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বুদ্ধিমান একজন মানুষ কেন একেবারে অচেনা কারও পরামর্শে জনবিরল পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
গল্প খুব ছকবাঁধা হলেও মাত্র ঘণ্টা দেড়েকের ‘অ্যাপেক্স’ একবার দেখা যেতেই পারে।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
ইতালির ভেনিসে হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ভেনিস শাখার কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করা একদল যুবক তাকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক বাঁধনকে ‘জুলাই জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ সময় তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে তারা। হামলাকারীরা নিজেদের ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করে।
এ ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বিস্তারিত জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ফিজিক্যালি হ্যারাস করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই। তারা আমার শরীরে হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে। আমার কানের পাশে আঘাত করেছে।’
এ ছাড়া তার ভাইয়ের স্ত্রীকেও আঘাত করা হয়েছে বলে ভিডিও বার্তায় জানান বাঁধন।
তাকে দমানো এত সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।’
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। বর্তমানে তিনি মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন।
বিপাশা বসু
দীর্ঘ কয়েক বছর পর্দার আলো থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসু। এবার সেই বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফিরছেন তিনি। তবে বড়পর্দার কোনো সিনেমা দিয়ে নয়, ক্রাইম থ্রিলার ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক হানসল মেহতার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘বারাবাঁকি’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে বিপাশাকে। ২০২০ সালে ‘ডেঞ্জারাস’ সিরিজে অভিনয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে তার বড় কোনো প্রজেক্ট। ফলে প্রায় ছয় বছর পর অভিনেত্রীর প্রত্যাবর্তন ঘিরে দর্শকের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
হানসল মেহতার ‘বারাবাঁকি’ নির্মিত হচ্ছে সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা অলোক লালের লেখা ‘দ্য বারাবাঁকি নারকোস: বাস্টিং ইন্ডিয়াজ মোস্ট নটোরিয়াস ড্রাগ কার্টেল’ বই অবলম্বনে। আশির দশকের উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকি জেলার বাস্তব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে সিরিজটির গল্প।
সে সময় বারাবাঁকিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল কুখ্যাত আফিম ব্যবসা ও মাদক কার্টেল। সেই চক্রের বিরুদ্ধে এক দূরদর্শী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার দলের পরিচালিত অভিযান ঘিরেই এগোবে সিরিজের কাহিনি। বাস্তব ঘটনা, অপরাধজগতের অন্ধকার দিক এবং টানটান উত্তেজনায় সাজানো হবে ‘বারাবাঁকি’।
জানা গেছে, সিরিজটির গল্পের প্রাথমিক ধারণা শোনার পরই অভিনয়ের বিষয়ে সম্মতি দেন বিপাশা। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবার হানসল মেহতার সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। গল্পে তার চরিত্রটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের লুকেও পরিবর্তন এনেছেন বিপাশা। নতুন সাজ ও ভিন্ন অবতারে তাকে পর্দায় দেখা যাবে। তবে তার চরিত্রের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আনেননি নির্মাতারা। ফলে বিপাশার চরিত্র ঘিরে দর্শকের জন্য বিশেষ চমক রাখা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে মুম্বাইয়ে গোপনে সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে। বিপাশা বসু ছাড়াও এতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন বিশাল জেঠওয়া ও সানি কৌশল।
এর আগে ‘স্ক্যাম ১৯৯২’, ‘স্কুপ’ ও ‘স্ক্যাম ২০০৩’-এর মতো আলোচিত ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছেন হানসল মেহতা। বাস্তব ঘটনা ও নির্ভরযোগ্য গল্প বলার জন্য তার নির্মাণ নিয়ে দর্শকের আলাদা আগ্রহ রয়েছে। এবার তার পরিচালনায় বিপাশা বসুর দীর্ঘ বিরতির পর প্রত্যাবর্তন-সব মিলিয়ে ‘বারাবাঁকি’ নিয়ে এরই মধ্যে বলিউডে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
পরীমনি
সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া ছবিতে তার কোলে দেখা যায় এক সদ্যজাত শিশুকে।
ছবিটির সঙ্গে পরীমনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘তিন নাম্বার জন ডান। আলহামদুলিল্লাহ।’
এরপর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে কি তৃতীয় সন্তানের মা হলেন পরীমনি? নাকি আবারও কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন এই অভিনেত্রী- এমন প্রশ্নই ঘুরছে সামাজিক মাধ্যমে। শিশুদের প্রতি পরীমনির ভালোবাসার কথা অবশ্য অনেকেরই জানা। নিজের সন্তানদের পাশাপাশি অন্য শিশুদের প্রতিও তার রয়েছে আলাদা টান। বিভিন্ন সময় একাধিক সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। এমনকি একসময় মজা করে ১০০ সন্তানের মা হওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন পরীমনি।
চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কে থাকাকালীন তাদের ঘরে আসে ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পূণ্য। পরে রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ছেলেকে নিজের কাছেই রেখে বড় করছেন পরীমনি। এরপর তিনি একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নেন। তার নাম রাখা হয় সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম।
বর্তমানে দুই সন্তান নিয়েই পরীমনির ব্যস্ততা। অভিনয় ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের জন্য সময় বের করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমেও নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করতে দেখা যায় তাকে।
এদিকে সোমবারের ছবিতে পরীমনিকে দেখা যায় গাড়ির ভেতর রোদচশমা পরা অবস্থায়। তার কোলে থাকা সদ্যজাত শিশুটিকে নিয়েই মূলত শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্ত-অনুরাগীদের অভিনন্দন ও নানা প্রশ্ন জমতে থাকে।
শিশুটির পরিচয় এবং ‘তিন নাম্বার জন ডান’ ক্যাপশনের রহস্য জানতে পরীমনির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কাছ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে শিশুটিকে ঘিরে রহস্য আরও বেড়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই ধারণা করছেন, পরীমনি হয়তো নতুন করে কোনো শিশুকে দত্তক নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ছবির শিশুটি হয়তো তার পরিচিত কারও সন্তান। তবে শিশুটির পরিচয় কিংবা ছবির প্রকৃত প্রেক্ষাপট এখনো নিশ্চিত নয়।
পরীমনির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফলে এখন সবার অপেক্ষা, ‘তিন নাম্বার জন’ নিয়ে আসলে কী বলতে চেয়েছেন পরীমনি, সেটি কবে নিজেই পরিষ্কার করেন তিনি।
দেব ও শুভশ্রী
‘হ্যালো বাংলাদেশ, আই ক্যান সি ইউ।’ দিন কয়েক আগে পশ্চিমবঙ্গের টাকি থেকে নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এভাবেই ক্যাপশন দিয়েছিলেন দেব। পশ্চিমবঙ্গের এই নায়ক ও প্রযোজক বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়।
ছবিগুলোতে এ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া এসেছে প্রায় তিন লাখ। অনেক বাংলাদেশি দর্শকও মন্তব্যের ঘরে দেবকে শুভকামনা জানিয়েছেন। কেউ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন ‘বুনোহাঁস’ সিনেমার কথা। দেব অভিনীত সিনেমাটির কিছু অংশের শুটিং হয়েছিল বাংলাদেশে। তবে দেব এবার আলোচনায় শুভশ্রীর সঙ্গে নতুন সিনেমা নিয়ে। একসময় ব্যক্তিগত জীবনেও সম্পর্কে থাকা এই তারকা জুটি একসঙ্গে ১২ বছর পর নতুন সিনেমা করেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘দেশু ৭’–এর টিজার মুক্তির পরই সাড়া ফেলেছে।
১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের টিজারজুড়ে অ্যাকশন হিরো দেবের পাশাপাশি ফিরেছে দেব-শুভশ্রী জুটির পুরোনো রোমান্স। দেব ও শুভশ্রী ছাড়াও টিজারের বড় চমক অনির্বাণ ভট্টাচার্য। বড় চুল, চোখে রোদচশমায় ‘ভিলেন’ অনির্বাণের লুক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বছরখানেক ধরে টালিউডে ফেডারেশনের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ‘নিষিদ্ধ’ অনির্বাণ ভট্টাচার্য এ সিনেমা দিয়েই নতুনভাবে ফিরছেন।
টিজারের পর সিনেমাটির প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’–এর টিজারও এসেছে গত শনিবার। গানের টিজার শেয়ার করে দুই তারকা লিখেছেন, ‘কিছু সম্পর্ক কখনোই মিলিয়ে যায় না...সেগুলো কেবলই ফিরে আসার পথ খুঁজে নেয়।’ ক্যাপশনের এ দুটি লাইন যেন বলে দিচ্ছে অনেক কিছু। অনেকে মন্তব্যের ঘরে দুই তারকার সম্পর্কের কথাও লিখেছেন।
২০০৯ সালে রাজ চক্রবর্তীর চ্যালেঞ্জ দিয়ে শুরু হয় দেব ও শুভশ্রীর জুটি। এরপর টানা কয়েকটি হিট সিনেমায় তাঁদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। কিন্তু ২০১৩ সালে খোকা ৪২০ মুক্তির পরপরই এই জুটির সম্পর্কে ফাটল ধরে।
‘দেশু ৭’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন দেব। এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ১৬ অক্টোবর।
জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস। ছবি: ইন্সটাগ্রাম
‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬’-এর বিজয়ীর নাম ঘোষিত হলো। ডোমিনিকান রিপাবলিকের সুন্দরী জোহেইরি মোলা দোমিঙ্গেস হলেন ৭৩তম মিস ওয়ার্ল্ড। শনিবার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে তার মাথায় নীল মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড, থাইল্যান্ডের ওপাল সুচাতা চুয়াংস্রি। এবার প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্পেনের এলিজাবেথ রেইনেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন মিস মালয়েশিয়া তানুসিয়া চেট্টি।
বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এ স্নাতক মোলা শুধু ফ্যাশন ও মডেলিং জগতেই সফল নন। তিনি একাধারে সাহিত্য ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষিকা, পেশাদার মডেল এবং সংবাদ জগতের সঙ্গেও যুক্ত। তিনি ‘ভয়েস অব টুমরো’ নামক একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।
এই প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিশুদের ইংরেজি ভাষার শিক্ষা ও তাদের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। জোহেইরি মোলা এখন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিস ওয়ার্ল্ড সংস্থার বিভিন্ন সামাজিক কাজ, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং বিশ্বজুড়ে ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ প্রচার অভিযানের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এ বছর মিস ওয়ার্ল্ডের আয়োজন বসে ভিয়েতনামের নিয়া ট্রাং শহরে।
মিস ওয়ার্ল্ড বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যে এরিক মর্লে প্রতিযোগিতাটির সূচনা করেন। প্রতিযোগীদের কয়েকটি ধাপে যাচাই করা হয়।
এবারের আসরে মোট ১১১ জন প্রতিযোগী ছিলেন। তাদের আফ্রিকা, আমেরিকা ও ক্যারিবীয়, ইউরোপ এবং এশিয়া ও ওশেনিয়া– এই চার মহাদেশীয় অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
চলতি বছরের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সামানজার সাঈদ বিউটি উইথ আ পারপাসে নিজ মহাদেশে প্রাথমিকভাবে সেরা ছয়ে থাকলেও ফাইনালের সেরা চল্লিশে জায়গা পাননি।
প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন নিকিতা পোরওয়াল। তবে তিনি সেরা ২০-এর তালিকায় স্থান পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে তানজানিয়া।
সূত্র: বিবিসি
সালমান শাহ ও শাবনূর
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম প্রয়াণ দিবসে তাকে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন একসময়ের ঢালিউড কুইন শাবনূর। রোববার বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সালমান শাহর সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করে আবেগঘন বার্তা দেন তিনি।
শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান…।’
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার স্মৃতি নিজের হৃদয়ে এখনো অমলিন-এমনটাই জানিয়েছেন শাবনূর। পর্দার প্রিয় রাজপুত্র ও দর্শকের স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ আজও স্মৃতি ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে বেঁচে আছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শাবনূরের ভাষায়, সালমান শাহর অকালপ্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি। সময়ের সঙ্গে প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা ও অভিনয়ের মায়া দর্শকের হৃদয়ে এখনো একইভাবে জীবন্ত।
সালমানকে স্মরণ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘তোমার ৩০তম প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অশেষ ভালোবাসা। যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতবাসী করুন।’
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান সালমান শাহ। তার আকস্মিক মৃত্যু সে সময় পুরো দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল। মৃত্যুর ৩০ বছর পরও কমেনি এই অভিনেতার জনপ্রিয়তা।
মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন সালমান শাহ। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন তিনি।
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পরও নতুন প্রজন্মের কাছেও তার জনপ্রিয়তা অটুট। তার পোশাক-পরিচ্ছদ, মাথার ব্যান্ডেনা, চোখের সানগ্লাস, বাইক, কালো ঘন চুল ও মায়াবী হাসি-সবকিছুই এখনো তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে রাখে। সময় পেরিয়ে গেলেও তাই দর্শকের ভালোবাসায় আজও অমর হয়ে আছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই স্বপ্নের নায়ক।