আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড
আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও বিচারের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। তবু পাল্টায়নি রূঢ় বাস্তবতা। রাজধানীর কাফরুলের গার্মেন্টস কর্মী বীথির (ছদ্মনাম) মতো নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নারী আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন বিচারের আশায়।
যেখানে আইন অনুযায়ী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা, সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতেই লাগছে মাসের পর মাস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছরও। আর অভিযোগ গঠনের পর চার থেকে ছয় মাস এমনকি আট মাস অন্তর শুনানির তারিখ পড়ছে। সবমিলিয়ে বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর।
তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষী হাজির না হওয়া এবং শুনানির দীর্ঘ বিরতিতে ঝুলে আছে হাজারো মামলা। অপরাধ দমনে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ না থাকায় প্রায়ই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস।
রাজধানীর কাফরুলের জব্বারের গলিতে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিবেশীর বাসায় ধর্ষণের শিকার হন গার্মেন্টস কর্মী বীথি (ছদ্মনাম)। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় এক বছরের মাথায় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয় কাফরুল থানা পুলিশ। চার্জশিট দাখিলের পর গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এ।
বিচারে পাঠানোর পাঁচ মাস পর গত বছরের ১৭ জুলাই এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন বিচারক। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য চার মাস পর একই বছরের ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় এ দফায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয় আট মাস পর। আগামী ৯ জুলাই মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। দুই আসামিই রয়েছে জামিনে। অন্যদিকে, বিচারপ্রার্থী মাসের পর মাস ঘুরছেন আদালতের বারান্দায়।
সর্বশেষ আইন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের পর থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার কথা। অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসে এবং হাতেনাতে ধরা না পড়লে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করার কথা বলা আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে। আর অভিযোগ গঠনের পর ৪ থেকে ৬ মাস, এমনকি ৮ মাস অন্তর মামলার শুনানির তারিখ পড়ছে। বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ফলে ধর্ষণের বিচার ও শাস্তি দৃশ্যমান হচ্ছে না। অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর নড়ে চড়ে বসে সবাই। সরকার-প্রশাসন, নারী অধিকার কর্মীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া হয় নানামুখী পদক্ষেপ। বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশ উত্তাল অবস্থা তৈরি হওয়ার পর দুবার আইন সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে এক নারীকে নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, খিলক্ষেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর আইন সংশোধন করে সরকার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ আইনের অধীনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে। পাশাপাশি ধর্ষণ মামলার আসামি শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।
এরপর গত বছরের মার্চে মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের বিচার ও তদন্তের সময়সীমা কমিয়ে আনে। ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের সময় অর্ধেক করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়লে তদন্ত হবে ১৫ কার্যদিবসে; অন্য ক্ষেত্রে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করতে হবে।
এ ছাড়া অভিযোগ গঠনের পর থেকে বিচার হবে ৯০ কার্যদিবসে। তবে বিচারক মনে করলে সময় বাড়াতে পারবেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বলা হয়, আদালত যদি মনে করেন ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মেডিকেল সনদ দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করা যাবে, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষা লাগবে না।
ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর এ অপরাধ দমন ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধর্ষণের বিচার ও তদন্তে গতি ফেরেনি। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানার বেশকিছু ধর্ষণ মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫-৬ মাস ধরে ঝুলে আছে তদন্ত। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আসামি আটক হলেও অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে প্রতিবেদন দাখিল হচ্ছে না।
গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদে নিজ বাসায় ধর্ষণের শিকার হন ১৫ বছরের কিশোরী আমেনা খাতুন (ছদ্মনাম)। আসামি মো. রিয়াদ চৌধুরীকে (১৯) ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হওয়া ধর্ষণ মামলায় নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। কিন্তু ৬ মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি দক্ষিণখান থানা পুলিশ। পাঁচবার সময় পিছিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে।
জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক সাদিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি গত মাসে বদলি হয়ে গেছি। এত কম সময়ে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া ও তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয় না। ধর্ষণের সঙ্গে এ মামলায় পর্নোগ্রাফি আইনও আছে।’
আসামি হাতেনাতে ধরা পড়েছে, নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকলেও এ মামলায় কেন হয়নি, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। নতুন অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে আমার জানা নেই।’
গত বছর রাজধানীর উত্তরখানের চাঁনপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে জাহিদুল হক ওরফে সাফান (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ৩১ অক্টোবর জাহিদুলের বিরুদ্ধে মামলার ৫ মাস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি উত্তরখান থানা পুলিশ। আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য রয়েছে।
এদিকে বিচারের পথ সুগম করতে দুই দফা আইন সংশোধনের পরও দেশে ধর্ষণের ঘটনা কমেনি। উল্টো বিগত এক বছরে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয় ২১ হাজার ৯৩৯টি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ৯টি অভিযোগে মামলা করা যায়। সেগুলো হলো ধর্ষণ ও ধর্ষণের কারণে মৃত্যু, বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, যৌনপীড়ন, যৌতুক, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানি এবং দহনকারী পদার্থ দিয়ে সংঘটিত অপরাধ।
গত বছর হওয়া মামলার মধ্যে ৭ হাজার ৬৮টি ধর্ষণের অভিযোগের। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৫ হাজার ১৭১ জন ও শিশু ১ হাজার ৮৯৭। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৫৭১টি মামলা হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা ছিল ৫ হাজার ৫৬৬টি। তার আগে ২০২৩ সালে ১৮ হাজার ৯৪১টি, ২০২২ সালে ২১ হাজার ৭৬৬টি ও ২০২১ সালে ২২ হাজার ১৩৬টি মামলা হয়েছিল নারী নির্যাতনের অভিযোগে।
উচ্চ আদালতের তথ্যানুসারে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। ট্রাইব্যুনালপ্রতি গড়ে ১৩শর বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। ঢাকার ৯টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১১ হাজার ৫৬৭টি। ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন ৩ হাজার ৯১টি মামলা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন সংশোধন করে তা যদি বাস্তবে প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সে সংশোধনী তো লোকদেখানো। এমন লোকদেখানো কাজ করে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমানো যাবে না। আইনে কঠোর শাস্তির যে বিধান করা হয়েছে, তার প্রয়োগ করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি দৃশ্যমান হতে হবে। এর জন্য বিচারক সংকটসহ যেসব সংকট রয়েছে, যেসব জায়গায় ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। তাহলেই ধর্ষণের মতো অপরাধের লাগাম টানা যাবে। অন্যথায় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে এ অপরাধ ক্যানসারের মতো ছড়াতেই থাকবে।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘দেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনাও বেশি। কিন্তু ঘটনার তুলনায় বিচারক অনেক কম। যে পরিমাণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাতে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে এখনই আরও ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এত বিপুলসংখ্যক বিচারক একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে প্রতি বছর বিচারক নিয়োগ বাড়াতে হবে।’
তিনি মনে করেন, মামলার সংখ্যা অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচশ এবং আপিল বিভাগে একশ বিচারক থাকা উচিত। প্রয়োজনে ভবন ভাড়া করে আদালত বসাতে হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সরকারের যে পরিমাণ রাজস্ব আয় বাড়বে, তা দিয়ে এ ব্যয় সংকুলান করা সম্ভব বলে দাবি করেন সাবেক এ জেলা ও দায়রা জজ।
তিনি বলেন, ‘শুধু আইন সংশোধন করেই ধর্ষণ কমানো যাবে না। আইনের প্রয়োগ দৃশ্যমান হতে হবে। অপরাধীদের সাজা দৃশ্যমান হতে হবে। তাহলেই সমাজে এ অপরাধের ওপর প্রভাব পড়বে। অন্যথায় এ অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সালামা আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারকের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তাদের সমন্বিত চেষ্টাই পারে বিচারে গতি ফেরাতে। পাশাপাশি মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং থাকতে হবে। তাহলেই বিচার দ্রুত সম্ভব। তিন কার্যদিবসেও মামলার বিচার করার নজির আছে, তাহলে মামলা কেন বছরের পর বছর পড়ে থাকবে?’
এ ক্ষেত্রে সংকট তুলে ধরে সালামা আলী বলেন, ‘সারা দেশে একটা অস্থির পরিবেশ। আইন প্রয়োগের কাঠামো নেই। ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগ তদন্তে যোগ্য তদন্ত কর্মকর্তা নেই, যোগ্য আইন কর্মকর্তা নেই। ভালো অবকাঠামো নেই। বিচারকের স্বল্পতাসহ নানা সংকট রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে ব্যাপারে সংসদে আলোচনার দাবি জানাই।’
শুধু বিচার প্রক্রিয়া তদারকি না করে তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকেও নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেন,‘বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করা হচ্ছে কি না, দেখতে হবে। মামলায় পুলিশ ও চিকিৎসকের মতো পেশাদার সাক্ষীরা অনেক সময় আসেন না। অনেকে বদলি হয়ে যান। তাদের আসা-যাওয়ার কোনো খরচও দেওয়া হয় না। এ বিষয়টা সমন্বয় করা দরকার। সাক্ষী সুরক্ষা জরুরি।’
নারী নির্যাতনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন।
একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭- এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় রুল দেন। আজ রুল খারিজ করলেন হাইকোর্টের নতুন এ বেঞ্চ। রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর।
সংগৃহীত ছবি
দেশে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের কোনো রেজিস্ট্রেশন না দেওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গেল-ডেকার বাস কিনে পরবর্তীতে অবৈধভাবে বডি রূপান্তর করে ডাবল-ডেকার স্লিপার হিসেবে রূপান্তর করা হচ্ছে। এরকম রূপান্তর করা ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে বিআরটিএ গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিআরটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি সম্প্রতি প্রতিবেদনটি জমা দেয়।
অননুমোদিত স্লিপার এসি বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে ২০২৫ সালে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। এ রিটের শুনানি নিয়ে একই সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে রিটকারী আরেকটি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছিলেন। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত স্লিপার বাস নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করতে বলেছিলেন। বিআরটিএ আদেশ রিসিভ করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিল। এরপর টেকনিক্যাল কমিটি রিপোর্ট দেন।
বিআরটিএ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে সদস্য হলেন উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) এ. এস. এম কামরুল হাসান। আর সদস্য সচিব হিসেবে ছিলেন সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মঈনুল ইসলাম।
এ কমিটি বিআরটিএ থেকে অনুমোদিত মোট ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের সংখ্যা নির্ধারণ; অননুমোদিত স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা পর্যালোচনা; এবং অনুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস থাকলে আগামী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে কাজ করে।
এরপর কমিটি ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন; বর্তমান অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা; এবং উন্নত দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি জাতীয় গাইডলাইন/নীতিমালা প্রণয়ন, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা করে।
পর্যালোচনা শেষে কমিটির মতামতে বলা হয়, বিআরটিএ থেকে কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয়নি। তবে বিআরটিএর ডাটাবেজ পর্যালোচনা করে ডাবল-ডেকার (স্লিপার নয়) হিসেবে অদ্যাবধি ৮২৯টি বাসের রেজিস্ট্রেশনের তথ্য পাওয়া যায়।
অননুমোদিত স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কে মতামতে বলা হয়, বিআরটিএ থেকে সিঙ্গেল-ডেকার বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক বাসের মালিক মোটরযানের বডির ধরন ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে রূপান্তর করে রাস্তায় চলাচলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা হয়।
পাশাপাশি, বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সড়কে চলাচলরত ৩টি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ অভিযান চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিআরটিএ সময়ে সময়ে সড়কে চলাচলরত অননুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে।
অনুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের নিরাপত্তা নিয়ে মতামতে বলা হয়, বর্তমানে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের কোনো গাইডলাইন/নীতিমালা না থাকায় বিআরটিএ থেকে এরূপ মোটরযানের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় না। অনুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস বিদ্যমান না থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।
সার্বিক পর্যালোচনায় কমিটি বলে, বিআরটিএ থেকে অদ্যাবধি কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। বিআরটিএ থেকে সিঙ্গেল-ডেকার বাস হিসেবে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করে পরবর্তীতে কিছু সংখ্যক বাসের মালিক বাসের বডির ধরন ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে রূপান্তর করে। বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকৃত এরূপ বাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পাশাপাশি, মালিক কর্তৃক যেসব বাসের বডির ধরন ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস হিসেবে রূপান্তর করে বিআরটিএতে ফিটনেস নবায়ন করতে আসে, সেসব ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের ফিটনেস নবায়ন না করে উক্ত মোটরযানসমূহের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সড়কে চলাচলরত এরূপ অননুমোদিত ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের রুট পারমিট প্রদান করা হয় না।
পর্যালোচনায় আরও বলা হয়, বর্তমানে সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ ও সড়ক পরিবহণ বিধিমালা, ২০২২ মোতাবেক শুধুমাত্র সিঙ্গেল-ডেকার বাসের অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হচ্ছে। তাই বর্তমান অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি; এবং উন্নত দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি জাতীয় গাইডলাইন/নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা মেনে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোই কেবল রাস্তায় চলতে পারবে। অনুমোদনহীন বা আইনবহির্ভূত চলা বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই।
বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। রিটকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খানও শুনানিতে ছিলেন।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট মামলা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম খান।
ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ হাই কোর্টে আরেকটি রিট আবেদন করে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান বাস ডাম্পিং, জব্দ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিট আবেদনে মালিক সমিতি বলেছে, ৮৯টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে প্রায় এক হাজার স্লিপার এসি বাস পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের জীবিকা জড়িত।
আবেদনে আরো বলা হয়, বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন বা বিধিমালায় স্লিপার বাসের কাঠামো ও নকশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নেই। বাসগুলোর অনুমোদনের লক্ষ্যে বিআরটিএ একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে এবং বুয়েটের মাধ্যমে বাসগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও এআইএস-১১৯ মানদণ্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
এই নীতি ও কারিগরি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট থাকা বাসগুলোর চলাচল নিশ্চিত করতে বিআরটিএর গত ১১ অগাস্ট জারি করা একটি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়।
তবে শুনানি শেষে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি হাই কোর্ট।
বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, “স্লিপার বাসের কোনো নিবন্ধনই বিআরটিএ দেয়নি। ফলে আদালত স্লিপার বাস চলাচলের বিষয়ে কোনো অনুমতিও দেননি।”
তিনি বলেন, “স্লিপার বাস সম্পর্কে যেহেতু বিআরটিএ কোনো রেজিস্ট্রেশনও প্রদান করেনি, সেহেতু এগুলো চলাচলের সম্পর্কে কোনো আদেশ বিজ্ঞ আদালত প্রদান করেননি।”
রাফিউল ইসলাম বলেন, “সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। আর রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি চললে ওই আইনের ৮৪ ধারায় শাস্তি ও তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।”
অবৈধ স্লিপার বাস বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে কিছু বাস ডাম্পিং ও জব্দ করা হয়েছেএবং কয়েকটি বাসকে জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে রিটকারী আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান বলেন, তথ্য অধিকার আইনে বিআরটিএর কাছে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে বিআরটিএ জানিয়েছে, স্লিপার বাস চলাচলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্লিপার বাসে ভ্রমণের সময় বিভিন্ন অনিয়ম নজরে আসার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে ভাষ্য আইনজীবী হুজ্জাতুলের।
তিনি বলেন, স্লিপার বাস চলাচল বন্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবেন।
হাইকোর্ট
ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত আগে জারি করা রুল খারিজ করে বুধবার এ রায় দেন বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আগে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ থাকছে না।
রিট সূত্রে জানা যায়, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা পালনের কারণে ছবি না তুলে বিকল্প পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিতে ২০২২ সালে রিটটি করা হয়। রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা রিট আবেদনটি করেন। তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে এ বিষয়ে প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন সুমাইয়া। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম নারী। ধর্মীয় বিধান অনুসরণের কারণে তিনি ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন।
এ কারণে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এবং পরিচয়পত্র না থাকায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় এনআইডি দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেন তিনি।
আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরে হাইকোর্টে রিট করেন সুমাইয়া। রিটের শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় বা বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। বুধবার সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন
তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।
শুনানির একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে।
এ মন্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী পাল্টা প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে চলে যান।
প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে সংসদে আলোচনা
পরে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ এজলাস ছেড়ে চলে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনানির একপর্যায়ে আমি প্রধান বিচারপতিকে বলি, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। এ কথা বলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার তর্ক হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুপুরে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।’
কেন এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি, কী ঘটেছিল
বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণার এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিদিশার করা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনের এই আদেশ দেন।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফজলুর রহমান খান ও মাসুদ মিয়া।
পরে আইনজীবী মাসুদ মিয়া জানান, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। তাই হাইকোর্টের আদেশের পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই।
প্রতারণা মামলায় গত ২৬ আগস্ট বিদিশাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে এই মামলায় তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের একজন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।