সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২৭ এএম

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার রোধে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। 


প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন ১৮৬৭’ রহিত করে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ নামে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। 


রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) আইনটি জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আইনটি কার্যকর হয়েছে।


নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।


একইসঙ্গে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।


আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন কিংবা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। 


বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবেও কাজ করা যাবে না। আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে। 


অনলাইন বেটিং, বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা কিংবা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। 


আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অযোগ্যও ঘোষণা করতে পারবেন।


জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জুয়ার প্রসারে অংশ নিলে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।


ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট অথবা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে সংঘবদ্ধভাবে অথবা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।


আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ (পেডিকেট ওফেন্স) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনও বিচার করা হবে।


নতুন আইনে আদালতকে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধলব্ধ ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ডিভাইসসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 


জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার, সার্ভার অবকাঠামো বা অন্য কোনো সম্পত্তিও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা যাবে। কোনো কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে। পাশাপাশি আদালত ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশ দিতে পারবেন।


আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্যান্য অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন, এমন পুলিশ কর্মকর্তা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন। 


আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করতে পারবেন।


আইনে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম, ডেটা অ্যানালিটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। 


একইসঙ্গে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।


আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, সিআইডি, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। 


পাশাপাশি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনারও বিধান রাখা হয়েছে।


সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন ১৮৬৭’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো। তবে পূর্ববর্তী আইনের অধীনে চলমান মামলা ও কার্যক্রম নতুন আইনের বিধান অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।




সর্বশেষ সব খবর

গ্রেপ্তার সাত আসামি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার সাত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- মো. মফিজুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩১), এস এম এমদাদুল রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও নূর মোহাম্মদ (৩০)। তাঁদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহায়ক, আর মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক, রুবেল পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এবং মফিজুল ও হাসিনুর প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্য।

শুনানির সময় ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম। রিমান্ড আবেদনে তিনি বলেন, আসামিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আরও অনেকে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড (প্রবেশপত্র), ব্যাংকের চেক, প্রশ্ন লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।

এ সময় আসামি এস এম এমদাদুল রহমানের পক্ষে শুনানি করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম। আদালতকে তিনি বলেন, এই আসামি এজাহারভুক্ত না। তার কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি নির্দোষ। তাকে হয়রানি করার জন্য এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, তার মক্কেলের দায় কী? কী আলামত পাওয়া গেছে তার কাছে কিছুই মামলায় উল্লেখ নেই। রিমান্ড আবেদনেও তার ব্যাপারে বিশেষ কিছু লেখা হয়নি।

একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তার দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে এই আইনজীবী বলেন, শুধু রিমান্ড আবেদন করলেই রিমান্ড হয়ে যায় না। আদালত এগুলো বুঝে ভালোমতো। মনে করেছে রিমান্ড আবেদন করলেই হয়ে যায়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা বিচারকের দিকে দুইবার তাকান ইতস্ততভাবে।

তখন বিচারক এই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি মেরিটে কথা বলেন। আপনি শুনানির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবেন। অন্য প্রসঙ্গে কথা বলবেন না।’ তখন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘জি, মাননীয় আদালত আমি মেরিটেই কথা বলছি।’ এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে এই আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না। তখন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘জি, বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তিনি এই চক্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন।’

এরপর আসামি আসাদুল ইসলামের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী আলমগীর হোসেন। আদালতকে তিনি বলেন, আসাদুল একেবারেই নির্দোষ। এ ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার সম্পর্কে রিমান্ড আবেদনেও কিছু নেই। এ সময় বিচারক তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর বিষয়ে কিছু পাওয়া গেছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, জি, পাওয়া গেছে।

তখন আদালতে দাখিল করা নথি দেখে বিচারক আসাদুলের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার কাছে ও ফোনে অনেকগুলো স্ট্যাম্প, চেক পাওয়া গেছে। চেকের ৪৫টি পাতা পাওয়া গেছে। এগুলো আপনার কাছে কেন, আপনি এগুলো দিয়ে কী করেন?’

উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চাকরি করি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।’ বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে এতগুলো চেক, স্ট্যাম্প কেন আপনার কাছে?’ উত্তরে এই আসামি বলেন, ‘আমার একটা ছোট ব্যবসা আছে।’ বিচারক বলেন, ‘সরকারি চাকরি করে কি আপনি ব্যবসা করতে পারেন, আইনে আছে?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর নামে ব্যবসা।’ বিচারক বলেন, ‘আপনি কি সেটা করতে পারেন, আপনার কাছে এতগুলো ডকুমেন্টস, প্রবেশপত্র কেন, কী করতেন এগুলো দিয়ে?’ উত্তরে আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শালা-সম্বন্ধীয় পরীক্ষার্থী ছিল।’ বিচারক বলেন, ‘কিন্তু আপনার ফোনে কেন? আর এতগুলো! কী করতেন এগুলো?’

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম করে আসছেন। যার প্রমাণ প্রাথমিকভাবে তদন্ত কর্মকর্তা পেয়েছেন। তারা আরও ১১টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিল। এ পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, তারা সাতজন প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে কানেক্টেড (যুক্ত)। তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। ওই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আসল প্রশ্নের মিল পাওয়া যাওয়ায় কিছুক্ষণ আগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন ও উত্তর পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন এই চক্রের সদস্যরা। তাদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি সনদ, ৪০ জনের ব্যাংক চেকের পাতা ও ব্যাংকের চেক বই জব্দ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

অবকাশকালীন ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস আগামীকাল রোববার আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা সুপ্রিম কোর্টের চলমান অবকাশকালীন ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন।


এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ পিএম

পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য আগামী ৮ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি রেজাউল হক এ দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।


চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার ঘটনার ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এরপর হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। সেইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা।


ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল চারজনকে। অন্যদিকে, বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন থেকে খালাস পান দুইজন।


তবে রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন না করায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাকি ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছিল।


২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

সর্বশেষ সব খবর

সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে পাঁচ করবর্ষের জন্য এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর আদায় করতে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।


হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতির আবেদন) পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৮অক্টোবর) চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। চেম্বার আদালত আপিলের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে।


কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে গত ১০ সেপ্টেম্বর এ রায় দিয়েছিল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ। পরে গত ১২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় লিভ টু আপিল করে গ্রামীণ কল্যাণ।


প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।


গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সরদার জিন্নাত আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান। অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটি স্থগিত করেছেন এবং শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। ফলে আপিল বিভাগে বিষয়টির চ‚ড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।


আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষগুলোর জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি নিয়ে  ২০১৭ সালে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করে। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির পর ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রায় দেয় হাইকোর্ট। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করে আদালত। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইনের বিধি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিলের সুযোগ দিতে বলা হয় রায়ে। 


পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল নিস্পত্তি করে আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের করা রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে বলে আপিল বিভাগ। পুন:শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট দুটি রিট আবেদন খারিজ করে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দিয়েছিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। যদিও ওই বছরের ২৯ আগস্ট রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্ট।


রায় প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে তখন বলা হয়ছিল, রায় দেওয়া দ্বৈত বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শুনানি করেছিলেন। তাই রায়টি ত্রুটিপূর্ণ (ডিফেক্টিভ) হবে। পরে প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলার নথি পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টের এ রায় হয়। 

সর্বশেষ সব খবর

সৈয়দ আবেদ আলী জীবন ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫১ পিএম

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  


তিনি জানান, চার বছরের দণ্ডের সঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিয়ামের অবৈধভাবে অর্জিত ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাসের ঘটনায় আলোচিত সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম। তিনি একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।



২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।



তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। 


এ বছরের ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সুপ্রিম কোর্ট

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০০ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন দিন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।


সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


এতে বলা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর (মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ থাকবে। তবে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর