অভিনেত্রী জয়া আহসান
অভিনেত্রী জয়া আহসান শুধু অভিনয় দক্ষতার জন্যই নয়, তার তারুণ্য ধরে রাখা, ফিটনেস আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্যও ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণা। বয়স বাড়লেও তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং সুস্থ শরীর অনেকেরই কৌতূহলের বিষয়। অনেকেই ভাবেন, নিশ্চয়ই তিনি নিয়মিত ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে সময় কাটান। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জয়ার ফিটনেসের বড় রহস্য লুকিয়ে আছে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, চাষাবাদ করা এবং নিজের হাতে ফলানো সবজি খাওয়ার অভ্যাসে।
শুটিংয়ের আগে জিম, সারা বছর প্রকৃতির সঙ্গে
ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া জানিয়েছেন, কোনো সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি জিমে যান এবং পিলাটিস মানে মন-শরীরের ব্যায়াম করেন। এতে শরীর নমনীয় থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরাতে সুবিধা হয়। তবে সারা বছর জিম করেন না তিনি।
তার বিশ্বাস, সুস্থ থাকার একটাই নির্দিষ্ট পথ নেই। প্রত্যেকে নিজের জীবনধারা অনুযায়ী এমন কিছু বেছে নিতে পারেন, যা শরীর ও মন-দুইটাকেই ভালো রাখে। আর জয়ার জন্য সেই পথটি হলো চাষাবাদ।
মাটি কুপিয়েই হয় শরীরচর্চা
নিজের বাড়িতে সুযোগ পেলেই সবজি চাষ করেন জয়া। শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না, বরং মাটি তৈরি করা, কোদাল দিয়ে মাটি কুপানো, গাছের পরিচর্যা করার মতো কাজে নিজে অংশ নেন। এই কাজগুলো তার কাছে শুধু শখ নয়, এক ধরনের প্রাকৃতিক ব্যায়ামও। দীর্ঘ সময় ধরে শরীর নড়াচড়া করার ফলে আলাদা করে জিমে না গেলেও শরীর সক্রিয় থাকে।
নিজের ফলানো সবজিই বেশি পছন্দ
জয়ার রান্নাঘরে প্রায়ই জায়গা করে নেয় নিজের বাগানের সবজি। তার মতে, নিজের হাতে চাষ করা সবজির সুবিধা হলো এতে রাসায়নিক সার বা অতিরিক্ত কীটনাশকের ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। তাই যতটা সম্ভব নিজের উৎপাদিত সবজি খেতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি এই সচেতনতা তার জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পিৎজা ভালোবাসেন জয়া
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মানেই যে সব প্রিয় খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, তা মনে করেন না জয়া। তিনি স্বীকার করেছেন, পিৎজা তার খুব পছন্দের খাবার। তবে নিয়মিত নয়, মাঝেমধ্যে ইচ্ছা হলে খেয়ে নেন। মজার বিষয় হলো, এ জন্য তিনি নিজেকে দোষীও ভাবেন না। জয়ার ভাষায়, মাঝে মাঝে মনকেও আনন্দ দেওয়া প্রয়োজন। সারাক্ষণ কঠোর নিয়ম মেনে চললে খাবার উপভোগ করার আনন্দটাই নষ্ট হয়ে যায়।
চাষাবাদও হতে পারে দারুণ ব্যায়াম
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত চাষাবাদ বা বাগানের কাজ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাটি কোপানো, কোদাল চালানো, গাছে পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করা কিংবা চারা রোপণের মতো কাজে শরীরের প্রায় সব বড় পেশিই একসঙ্গে সক্রিয় থাকে। এসব কাজের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্যালোরি খরচ হয়, পেশি শক্তিশালী হয় এবং শরীরের নমনীয়তা বাড়ে। একই সঙ্গে হাত, কাঁধ, পিঠ, কোমর ও পায়েরও ভালো ব্যায়াম হয়ে যায়।
সূর্যের আলো থেকেও মিলছে উপকার
খোলা জায়গায় কাজ করার আরেকটি সুবিধা হলো শরীর সূর্যের আলো পাওয়া যায়। এতে স্বাভাবিকভাবে ভিটামিন ডি তৈরি হয়, যা হাড়, পেশি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু শরীর নয়, মনও এতে সতেজ থাকে।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী
প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতেও কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, গাছপালার পরিচর্যা বা বাগানের কাজ করলে শরীরে সুখানুভূতির হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে এবং স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমতে পারে। ফলে মন ভালো থাকে, উদ্বেগ কমে এবং মানসিক প্রশান্তি বাড়ে।
যাদের চাষের সুযোগ নেই, তারা যা করবেন
সবাই যে বড় জায়গা নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন, এমন নয়। তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, সুযোগ থাকলে বাড়ির আঙিনা বা ছাদে ছোট সবজিবাগান করা যেতে পারে। আর যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তাহলে খোলা জায়গায় নিয়মিত হাঁটা, গাছের পরিচর্যা করা বা সক্রিয়ভাবে বাগানের কাজ করাও উপকারী। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শরীরকে নিয়মিত নড়াচড়া করানো।
জয়া আহসানের জীবনধারা মনে করিয়ে দেয়, সুস্থ থাকার জন্য সব সময় ব্যয়বহুল জিম বা কঠিন ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, কায়িক পরিশ্রম করা, নিজের উৎপাদিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করাও হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সহজ সূত্র।
ছবি : সংগৃহীত
আজকাল দেখা যাচ্ছে একই বাড়িতে থাকেন, প্রতিদিন দেখা হয়, সংসারের সব দায়িত্বও একসঙ্গে সামলান -তারপরও দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক দূরত্ব। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখালেও ভিতরে ভিতরে তারা অনুভব করছেন একাকীত্ব।
মনোবিদদের ভাষায়, একে বলা হয় ‘ইমোশনাল লোনলিনেস’-যেখানে একসঙ্গে থেকেও মানুষ নিজেকে একা অনুভব করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার এবং যোগাযোগের অভাবের কারণে এই সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী কী কারণে স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব।
কথোপকথন কমে যাওয়া
সম্পর্কে মানসিক দূরত্বের অন্যতম বড় কারণ হলো যোগাযোগের অভাব।দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিস, সংসার, সন্তান কিংবা আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আবেগও কমতে থাকে।
অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া
অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিজের মনের কথা বলতে চান, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। বারবার এমন হলে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আর আগ্রহ পায় না। বরং ভিতরে জমতে থাকে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি।
কথোপকথন কমে যাওয়া
সম্পর্কে মানসিক দূরত্বের অন্যতম বড় কারণ হলো যোগাযোগের অভাব।দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অফিস, সংসার, সন্তান কিংবা আর্থিক দায়িত্ব সামলাতে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাবার্তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্কের আবেগও কমতে থাকে।
অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়া
অনেক সময় দেখা যায় একজন হয়তো নিজের মনের কথা বলতে চান, কিন্তু অন্যজন তা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না। বারবার এমন হলে মানুষ ধীরে ধীরে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার আর আগ্রহ পায় না। বরং ভিতরে জমতে থাকে অভিমান ও অপূর্ণতার অনুভূতি।
ভাত বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে একটি ধারণা বেশ প্রচলিত যে, ভাত মানেই কার্বোহাইড্রেট, আর কার্বোহাইড্রেট মানেই ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া। তাই অনেকে সাদা ভাত ছেড়ে ব্রাউন রাইস বা অন্য চালের দিকে ঝুঁকেন। কিন্তু সত্যি হলো, সব ধরনের চালের পুষ্টিগুণ এক নয়। চালের ধরন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পলিশ করার মাত্রার ওপরই নির্ভর করে কোন ভাত কতটা স্বাস্থ্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাতে শুধু কার্বোহাইড্রেটই থাকে না। এতে ফাইবার, বি-ভিটামিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজও থাকতে পারে। তবে চাল যত বেশি পলিশ করা হয়, ততই এর বাইরের আবরণ বা ব্র্যান স্তর নষ্ট হয়ে যায়। আর এই স্তরেই থাকে অধিকাংশ পুষ্টি উপাদান। তাই সঠিক চাল বেছে নেওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াও সমান জরুরি।
পুষ্টির শীর্ষে ব্ল্যাক রাইস
পুষ্টিগুণের দিক থেকে ব্ল্যাক রাইসকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ চালগুলোর একটি ধরা হয়। এটি সাধারণত আনপলিশড অবস্থায় বাজারে আসে, ফলে এর প্রাকৃতিক পুষ্টি অক্ষুণ্ন থাকে।
গাঢ় কালো বা বেগুনি রঙের এই চালে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এতে পর্যাপ্ত ফাইবার, আয়রন, ভিটামিন ই এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ব্ল্যাক রাইস খেলে শরীরের প্রদাহ কমাতে, কোষের ক্ষয় রোধ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ফাইবার ও মিনারেলে ভরপুর লাল চাল
লাল চালও তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এতে রয়েছে ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন।
যারা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে চান বা ধীরে ধীরে শক্তি পেতে চান, তাদের জন্য লাল চাল একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এটি হজম প্রক্রিয়াকেও তুলনামূলক ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করার ওঠানামাও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে।
স্বাস্থ্যসচেতনদের জনপ্রিয় পছন্দ ব্রাউন রাইস
ব্রাউন রাইসের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে। কারণ এটি পলিশ করা হয় না এবং চালের বাইরের ব্র্যান স্তর অক্ষত থাকে।
এতে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং বিভিন্ন ভিটামিন পাওয়া যায়। ব্রাউন রাইস ধীরে হজম হয় বলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা কম লাগে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে কিংবা সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চাইলে এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
সুগন্ধের সঙ্গে পুষ্টিতে সমৃদ্ধ বাসমতি চাল
বাসমতি চাল শুধু সুগন্ধের জন্যই নয়, তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণেও অনেকের কাছে জনপ্রিয়।
বাসমতির দুটি ধরন রয়েছে-সাদা ও বাদামি। বাদামি বাসমতি রাইসে ফাইবার ও খনিজ উপাদান বেশি থাকে, কারণ এটি কম প্রক্রিয়াজাত। অন্যদিকে সাদা বাসমতি চাল পলিশ করা হলেও এতে অ্যামাইলোজ তুলনামূলক বেশি থাকে, যা সাধারণ সাদা চালের তুলনায় কিছুটা ধীরে হজম হয়।
বিরিয়ানি, পোলাও কিংবা ফ্রায়েড রাইসের জন্য বাসমতি চালের ব্যবহার বেশি হলেও প্রতিদিনের খাবার হিসেবেও এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
বেশি খাওয়া হয় সাদা চাল
আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয় সাদা চালের ভাত। তবে এটি সবচেয়ে বেশি পলিশ করা হয় বলে এর বাইরের পুষ্টিকর স্তর প্রায় পুরোপুরি অপসারণ করা হয়। ফলে ফাইবার, ভিটামিন এবং অনেক খনিজ উপাদান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে এর একটি সুবিধা হলো এটি দ্রুত রান্না হয় এবং সহজে হজম হয়।
তাই সাদা চাল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমিত পরিমাণে সাদা ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসবজি, মাছ, ডিম বা মাংস যোগ করলে সেটিও একটি সুষম খাবারে পরিণত হতে পারে।
কোন চাল খাবেন?
যদি সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ চান, তাহলে ব্ল্যাক রাইস বা লাল চাল খেতে পারেন। প্রতিদিনের জন্য ব্রাউন রাইসও উপকারী। বাসমতি চাল স্বাদ ও তুলনামূলক কম গ্লাইসেমিক সূচকের কারণে ভালো পছন্দ হতে পারে। আর সাদা চাল খেতে চাইলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবশ্যই প্রোটিন ও শাকসবজির সঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শুধু চালের ধরন দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আপনি কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন, কী দিয়ে খাচ্ছেন এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতীকী ছবি
স্টমাক ওয়াশ বা গ্যাস্ট্রিক ল্যাভাজ হলো বিশেষ নল দিয়ে পাকস্থলীর ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ বের করার চেষ্টা। উদ্দেশ্য হলো, বিষ শরীরে আরও শোষিত হওয়ার আগেই পাকস্থলী থেকে তা যতটা সম্ভব সরিয়ে ফেলা।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষ পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে চলে যায় এবং শরীরে শোষিত হতে শুরু করে। তাই সময় এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সময়
সাধারণত বিষ গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে রোগী হাসপাতালে এলে এবং বিষের পরিমাণ সম্ভাব্যভাবে প্রাণঘাতী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্টমাক ওয়াশ বিবেচনা করতে পারেন।
তবে এটিকে কোনো ‘নির্দিষ্ট নিয়ম’ হিসেবে মনে করা যাবে না। রোগীর অবস্থা, কী বিষ খেয়েছেন, কতটা খেয়েছেন এবং কতক্ষণ আগে খেয়েছেন—সবকিছু বিবেচনা করা হয়।
কেন সব সময় করা হয় না
স্টমাক ওয়াশের কিছু গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। এতে—
> খাবার বা পাকস্থলীর তরল ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে।
> শ্বাসনালিতে খিঁচুনি
> অক্সিজেন কমে যাওয়া
> হৃদ্যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা
> এমনকি গলা বা খাদ্যনালির আঘাতও হতে পারে
তাই রোগীর জ্ঞান কমে গেলে বা নিজের শ্বাসনালি সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা না থাকলে, বিশেষ ব্যবস্থা ছাড়া স্টমাক ওয়াশ করা বিপজ্জনক।
কোন ক্ষেত্রে করা যাবে না?
অ্যাসিড বা ক্ষারজাতীয় ক্ষয়কারী পদার্থ পান করলে স্টমাক ওয়াশ করা উচিত নয়। এতে ক্ষত আরও বাড়তে পারে। একইভাবে কেরোসিন বা উচ্চমাত্রায় ফুসফুসে ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকিযুক্ত হাইড্রোকার্বন পান করলেও সাধারণত এটি এড়ানো হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, বাড়িতে কখনো নিজে থেকে বমি করানো বা নল ঢুকিয়ে স্টমাক ওয়াশ করার চেষ্টা করবেন না।
এমন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং কী বিষ, কতটা এবং কখন খাওয়া হয়েছে—এই তথ্য চিকিৎসককে জানান। সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই জীবন বাঁচাতে পারে।
বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথিবীর বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে আগামী ৩০, ৩১ ও ১ লা আগস্ট ৩ দিনব্যাপী এবং ২ রাত ৩ দিনের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমন্ত্রিত অতিথি, অংশীদারবৃন্দ, শুভানুধ্যায়ী, উদ্যোক্তা ও সম্মানিত সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে কক্সবাজারের হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে থাকবে কেক কাটা, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন, মতবিনিময় সভা এবং অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিভিন্ন আনন্দঘন আয়োজন।
বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠার এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি কৃষিভিত্তিক পর্যটন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে। আগামী দিনগুলোতে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্ট পরিবারের পক্ষ থেকে সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, সদস্য ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বর্ষাকালে অনেকেই নানারকম পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ সময় পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই জরুরি। এমন কিছু পানীয় আছে যা এ সময়ে অন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যেমন-
ঘোল : ঘোলে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া থাকায় অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে হজমে সাহায্য করে।
বিটের রস : বিটে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
ধনে ভেজানো পানি :প্রতিদিন ধনে ভেজানো পানি পান করলে হজমশক্তি উন্নত হয়। এই পানি পানে পেট ফাঁপার সমস্যা কমে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত হয়।
আদা চা : প্রতিদিন আদা চা খেলে হজমশক্তি বাড়ে। নিয়মিত এই চা খেলে পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমে। এই চা অন্ত্র সুস্থ রাখে।
হলুদ মেশানো দুধ : হলুদে থাকা কারকিউমিনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ খেলে হজমশক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
খুলনায় গরুর মাংস রান্নার সময় হঠাৎ রঙ লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড়।
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভায় গরুর মাংস রান্নার সময় হঠাৎ রঙ লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পৌরসভার মডার্ন বেকারির কয়েকজন কর্মী পিকনিকের জন্য কেনা মাংস রান্না করতে গিয়ে এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখতে পান। হতবাক ও শঙ্কিত হয়ে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে সরাসরি থানায় গিয়ে হাজির হন। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. এম এস মিনারা খাতুন বলেন, ‘মাংস আগের দিনের হওয়াই সবুজ রঙ ধারণ করেছে- এটি কারণ হিসেবে যথেষ্ট নয়।’
তার মতে, সামাজিক মাধ্যমে ছবি দেখে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি বিষয়টিকে অবহেলাও করা উচিত নয়। কারণ খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে একমাত্র বৈজ্ঞানিক প্রমাণই নির্ভরযোগ্য। মাংসে অস্বাভাবিক সবুজ রঙ, দুর্গন্ধ বা পিচ্ছিল ভাব দেখা দিলে তা না খেয়ে পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগেও মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান অধ্যাপক মিনারা খাতুন। তার মতে, এর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণ থাকতে পারে- মাংসের রঞ্জক পদার্থ মায়োগ্লোবিনের রাসায়নিক পরিবর্তন, অনুপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ, হাইড্রোজেন সালফাইড উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে সালফমায়োগ্লোবিন তৈরি হওয়া, কপার বা অন্য ধাতব যৌগের সংস্পর্শ যা তুলনামূলকভাবে বিরল, সিউডোমোনাসের মতো পিগমেন্ট উৎপাদনকারী জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও জবাই-পরবর্তী সংরক্ষণ-পরিবহনে ত্রুটি, এমনকি মাংসের পেশিতন্তুর গঠন ও আলোর প্রতিফলনের কারণেও কখনও কখনও সবুজ, নীল বা রংধনুর মতো আভা দেখা দিতে পারে।
শুধু একদিন ফ্রিজে সংরক্ষণের কারণে মাংস সবুজ হওয়ার কথা নয় বলে জানান অধ্যাপক মিনারা খাতুন। তার ভাষ্যে, শূন্য থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে মাংসের রঙ কিছুটা গাঢ় বা বাদামি হতে পারে, কিন্তু স্পষ্ট সবুজ আভা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। রান্না করা মাংস সবুজ হলেও ঝোলের রঙ লাল থাকার বিষয়টিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বলে উল্লেখ করেন।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সবুজ পরিবর্তন যদি মাংসের নির্দিষ্ট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে ঝোলের রঙ স্বাভাবিক থাকতে পারে। কারণ ঝোলের রঙ মূলত নির্ধারিত হয় মাংসের রক্তরঞ্জক পদার্থ, মসলা ও রান্নার সময় ঘটা রাসায়নিক বিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাই ঝোল লাল থাকা মানেই মাংস নিরাপদ ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বিজ্ঞানসম্মত নয়।
মাংস বিক্রেতার দাবি, একই গরুর মাংস কিনে অন্যরা কোনও সমস্যায় পড়েননি। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মিনারা খাতুন বলেন, ‘একই পশুর বিভিন্ন অংশের সংরক্ষণ পরিবেশ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও দূষণের মাত্রা ভিন্ন হতে পারে, ফলে সব অংশে একই রকম পরিবর্তন নাও ঘটতে পারে। তাই অন্যদের কিছু হয়নি এই যুক্তি খাদ্য নিরাপত্তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে বেকারির কোনও রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার যে জল্পনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তারও এখন পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কেননা খাদ্যশিল্পে ব্যবহৃত বেশির ভাগ রাসায়নিক সাধারণত তাপের সংস্পর্শে এসে মাংসকে সবুজ করে না।’
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে জবাই থেকে শুরু করে ভোক্তার রান্নাঘর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মিনারা খাতুন। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মত জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, নিরাপদ পানি ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করা, ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং মাংসের উৎস, জবাইয়ের তারিখ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
খাদ্যের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে কোনও পরিবর্তন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়া কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।’