ভারতীয় উপমহাদেশে এক গরু কোরবানির রেওয়াজ ছিল না খুব বেশি
ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদে প্রতি বছর বাংলাদেশে লাখ লাখ গরু কোরবানি হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার মতো পশু কোরবানি দেওয়া হলেও বাংলাদেশে গরু কোরবানি একটা যেন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে হাজারো কোরবানির পশুর হাট বসে। সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এসব হাটে লাখ লাখ গরু বিক্রি হয়। এসব হাটে গরু ছাড়াও ছাগল, ভেড়া পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ মানুষের কাছে হাটের পরিচিতি 'গরুর হাট' নামেই।
বর্তমানে বাংলাদেশে গরু কোরবানি, হাট বসিয়ে বেচাকেনা ঈদুল আযহার সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়ালেও এক সময় বাংলা অঞ্চলে গরু কোরবানি দেয়া এতটা সহজসাধ্য ছিল না। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন তার 'বাংলাদেশের উৎসব' বইয়ে লিখেছেন, "আজকে আমরা যে ধুমধামের সঙ্গে ঈদ-উল আযহা পালন করি, তা চল্লিশ–পঞ্চাশ বছরের ঐতিহ্য মাত্র"।
তার বই অনুযায়ী, তখন হিন্দু জমিদার অধ্যুষিত এই ভূখণ্ডে গরু কোরবানি দেওয়া সহজ ব্যাপার ছিল না। এ জন্য অনেকে গরুর বদলে বকরি কোরবানি দিত, সেই থেকে ঈদুল আজহার আরেক নাম দাঁড়ায় বকরি ঈদ"।
ইসলামি ইতিহাসবিদরা বলছেন, এক সময় আরব বিশ্বে উট, মহিষ ও দুম্বা কোরবানি দেয়ার প্রচলন ছিল। সেখান থেকে পরে বাংলা অঞ্চলেও মহিষ ও ছাগলের সাথে গরুর কোরবানির পশু হিসেবে যুক্ত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, "সেই সময় এই উপমহাদেশ ও আশপাশে গরুকে সবচেয়ে বেশি হাতের কাছে পাওয়া যেতো। তখন উট ও মহিষের সাথে গরুটাও ওই সময়ে যুক্ত হয়ে গেল"।
এক সময় এই উপমহাদেশে গরু কোরবানিতে বিধি নিষেধ থাকলেও পরে সেটি কবে কীভাবে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেলো; বাংলা অঞ্চলের সংস্কৃতিতে সে সব নিয়ে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যায় ইতিহাসের গল্প উপন্যাসে। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের মতে, বাংলা অঞ্চলে গরু কোরবানি দেয়ার রীতি শুরু হতে থাকে মূলত ১৯৪৬ সালের দিকে।
ইসলামের নবী ইবরাহিম তার ছেলে ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। সেই থেকে ইসলাম ধর্মে কোরবানি প্রথার প্রচলন হয়। তবে ওই ঘটনাই ইসলাম ধর্মে প্রথম কোরবানির ঘটনা নয়। কারণ, ইসলামের প্রথম নবী আদমের সময়ও কোরবানির প্রথা প্রচলিত ছিলও জানা যায় বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থে। পরবর্তীতে ইসলামের নবী মুহাম্মদের অনুসারীরাও ধর্মীয় বিধান মেনে কোরবানি করতে শুরু করেন।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পশু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। ধর্মগ্রন্থ কোরআনে চতুষ্পদ জন্তুর কথাই বলা হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ইসলামের নবী ইবরাহিমের সময় তার সন্তান ইসমাঈলের পরিবর্তে দুম্বা কোরবানি হয়েছিল। পরবর্তীতে যদি কোরবানির জন্য একমাত্র দুম্বাকেই নির্ধারণ করা হয় তাহলে সেটা নিশ্চিত করা কষ্টসাধ্য হয়ে যেতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, "মুস্তাহিদ বা কোরআন সুন্নাহ বিশারদরা অনেক গবেষণা করে কোরবানির জন্য ছয়টি পশুর নাম চূড়ান্ত করলেন। সেগুলো ছিল- উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া"। তিনি জানান, ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী উটের বয়স পাঁচ বছর, গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর এবং ছাগল, দুম্বা ও ভেড়ার ক্ষেত্রে এক বছর বয়স। অন্যদিকে, গরু, উট ও মহিষ শুধুমাত্র এ তিনটি পশু সর্বোচ্চ সাতটি ভাগে কোরবানি দেয়া যাবে বলেও বিধান রয়েছে ইসলামে।
'বকরি ঈদ', গরুতে বিধি নিষেধ
বাংলা অঞ্চলে কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আজহা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যায় ইতিহাসবিদদের লেখায়। অনেক সাহিত্যেই বলা আছে, তখন ছাগল বা বকরি কোরবানির প্রথা থেকে তখন মূলত ঈদুল আযহা বকরি ঈদ নামেই পরিচিত ছিল।
লেখক আবুল মনসুর আহমদ তার আত্মজীবনীমূলক বই আত্নকথায় লিখেছেন- "দাদাজীর আমলে মোহররম পর্বে আমাদের বাড়িতে এত ধুম ধড়ক্কি হইলেও দুই ঈদে কিন্তু অমন বিশেষ কিছু হইত না। বকরিদে প্রথম প্রথম দুই-তিনটা ও পরে মাত্র একটা গরু কোরবানি হইত"। তখনকার সময়ে ঈদ পালনের রীতি বা প্রচলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যে নানা ধরনের তথ্য এসেছে। এর বেশিরভাগেই- সুলতানি, মুঘল কিংবা বৃটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলে কোরবানির ঈদের কিছু চিত্র বোঝা যায়।
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর আত্মজীবনী 'কাল নিরবধি'তে লিখেছেন, 'বকরিদের আমরা প্রতিবছর কুরবানি দিতাম না, মাঝে মাঝে তা বাদ পড়ত ভক্তির অভাবে অতটা নয়, যতটা সামর্থ্যের অভাবে। বড়রা চেষ্টা করতেন, পশু জবাই থেকে আমাদের আড়াল করতে। আমরা ছোটরা ততোধিক উৎসাহে ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে জবাই দেখে ফেলতাম। দেখার পরে কিন্তু অনেকক্ষণ বিষাদে মন ছেয়ে যেত। তবে শেষ পর্যন্ত এই বিষণ্নতা পেছনে ফেলে দেখা দিত কুরবানির গোশত খাওয়ার উৎসাহ।'
সেই সময়ে কোরবানির ইতিহাস নিয়ে যে সব তথ্য পাওয়া যায়, তাতে সে সময়ে বাংলা অঞ্চলে গরু কোরবানির প্রচলন না থাকার পেছনে নানা ব্যাখ্যাও পাওয়া যায় ইতিহাসের আলোচনায়।
ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন 'বাংলাদেশের উৎসব' নামক বইয়ে লিখেন- "আজকে আমরা ইদ-উল-আযহায় গরু কোরবানির অনায়াসে গরু কিনে এনে সহজেই কোরবানি দিয়ে ফেলি। আশি একশো দুরে থাকুক পঞ্চশ বছর আগেও তা তেমন সহজসাধ্য ছিল না। আজকের প্রজন্ম হয়ত অবাক হবে যে এ নিয়ে সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর বিতর্ক চলেছে এবং কোরবানি বিশেষ করে গরু কোরবানি দেওয়ার অধিকার আমাদের বাপ দাদাদের লড়াই করে আদায় করতে হয়েছে।"
এই পরিস্থিতি কেন হয়েছিল সে প্রসঙ্গে অধ্যাপক মামুন বলেন, "বিভিন্ন জায়গায় যারা হিন্দু জমিদার ছিলেন, তারা গরু কোরবানি নিষিদ্ধ করা শুরু করলেন"। "অন্যদিকে গরু বেশি প্রচলিত না থাকার আরেকটি কারণ ছিল আর্থিক দৈন্যতা। বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক দৈন্যতা এতটাই প্রবল ছিল যে একটা গরু কিনে কোরবানি দেয়া তাদের পক্ষে খুব দুরুহ ছিল"।
গরু কোরবানি প্রচলন শুরু কবে?
উপমহাদেশের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় মুঘল সাম্রাজ্যের সময়ও এই অঞ্চলে গরু কোরবানি খুব একটা প্রচলিত ছিল না। ইসলামি ইতিহাসবিদরা বলছেন, মুঘল আমলে এই অঞ্চলে অনেক হিন্দু জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। যে কারণে মুঘল সম্রাট আকবরের সময়েও গরু কোরবানিতে নানা বিধি নিষেধের বিষয়গুলো চলে আসে।
অধ্যাপক আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, "মুঘল আমলে আকবর যখন সম্রাট হলেন। দীনে এলাহী যখন প্রচলিত হলো ওই সময়ে ঐতিহাসিক আবুল ফজলসহ অনেকে পরামর্শ দিলেন গরুটা যেন জবেহ করা না হয়।কারণ ওই সময়ে এ অঞ্চলে ৯৫ শতাংশই হিন্দুদের বসবাস ছিল। সঙ্গত কারণে এটা জবাই করা মানে হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়া। এটা কোরবানি করলে তখন সাধারণ হিন্দুদের মনে একটা ধর্মীয় অনুভূতির ক্ষেত্রে বিরূপ চিন্তা আসবে"।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, সে সময় গরু কোরবানি নিষিদ্ধ না হলেও কম কোরবানি দেয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হতো। বাংলা অঞ্চলে গরু কোরবানি কবে থেকে বিস্তর লাভ করলো তার একটা ধারণা পাওয়া যায় ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের লেখায়। তার মতে, উনিশ শতকের শেষ প্রান্তে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গরু কোরবানি দেয়ার প্রচলন শুরু হয়। তবে যেসব জায়গায় যারা হিন্দু জমিদার ছিলেন সেখানে এটা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল।
অধ্যাপক মামুন বলেন, ১৯৪০ এর দিকে গরু কোরবানিটা বেশি শুরু হয়। তখন এ অঞ্চলের পাট চাষিদের হাতে কিছু টাকা আসতে শুরু করলো। তখন কিছু কিছু জায়গায় নিজেদের স্ট্যাটাস দেখানোর জন্যও গরু কোরবানি দেয়া শুরু হলো"।
কোরবানির একাল-সেকাল
এক সময় এই অঞ্চলে কোরবানির ঈদে গরু জবাইয়ে কড়াকড়ি থাকলেও আস্তে আস্তে সে চিত্র পাল্টাতে থাকে বলে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন গল্প প্রবন্ধে উঠে এসেছে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পরই আস্তে আস্তে গরু কোরবানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। তখন কোরবানির আমেজ বেশি ছিল পুরানো ঢাকায়। তখন ঢাকায় কোরবানির ঈদের আগে কিছু কিছু জায়গায় গরু ছাগলের হাট বসতো। তখনকার বিখ্যাত একটি হাট ছিল রহমতগঞ্জের গণি মিয়ার হাট।
এই হাটে মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম থেকে আসা গরু ছিল খুব প্রসিদ্ধ। পুরনো ঢাকার জমিদার বা বনেদি পরিবারের লোকজন এই হাট থেকে গরু কিনতেন বলে ইতিহাসের বিভিন্ন বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। তখন ঢাকার লোকসংখ্যা কম ছিল। ঈদুল আজহার আগে গণি মিয়ার হাট ছাড়াও গাবতলী, সোয়ারীঘাট ও জিঞ্জিরায় গরুর হাট থেকে অনেকে গরু কিনতেন।
শিল্পপতি আনোয়ার হোসেন 'আমার আট দশক' বইয়ে লিখেছেন, "ঈদের তিন চার দিন আগে থেকে দাবড়ে বেড়াতাম পুরো মহল্লায়, কে কত বড় আর সুন্দর গরু কিনল, দেখার জন্য"।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৯৫০ এর দশকে ঢাকায় স্বাভাবিক আকারের একটি গরুর দাম ছিল ৩০ থেকে থেকে ৫০ টাকা।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের দিন থেকে শুরু করে তিনদিন পর্যন্ত পশু জবাই করা যায়। তখন পুরনো ঢাকার অনেক পরিবার ঈদের পরের দিন কিংবা তার পরের দিনও অনেকে গরু কোরবানি করতেন।
ইতিহাসবিদরা বলছেন, তখন ঢাকা ও আশপাশে কিছু হাট থাকলেও এটি গ্রামাঞ্চল ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় তেমন ছিল না।
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, "গ্রামাঞ্চলে দরিদ্র লোকের বসবাস বেশি ছিল। সেখানে গরু কোরবানি খুব কম হতো। তবে শহরাঞ্চলে এটা বেশি ছিল। কারণ মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবীদের স্থান ছিল শহর। ফলে গ্রামের চেয়ে শহরে বেশি ছিল"।
ইতিহাসবিদদের মতে, পরে আস্তে আস্তে ঢাকাসহ সারাদেশে গরু কোরবানি বাড়তে শুরু করে। স্বাধীন বাংলাদেশে একটু একটু করে পরিসর বাড়তে শুরু করেছে।
এখন ঢাকাসহ সারাদেশে অসংখ্য হাট বসছে। এসব হাটে গরুর পাশাপাশি ছাগল, ভেড়া এমনকি উটও পাওয়া যাচ্ছে।
এসব হাটগুলোতে বড় বড় গরু বিক্রি হয়। বিক্রির আগে এসব হাটে গরুর নাম দেয়া হয়- বাহাদুর, সম্রাট, লালু, কালুসহ বিভিন্ন নায়ক নায়িকা কিংবা সেলিব্রেটিদের নামে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক, দুটি অনুদান চুক্তি এবং একটি অভিপ্রায়পত্র সই হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) এসব চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এদিকে বেসরকারি খাতে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এ ছাড়া উপকূল নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ১৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে চুক্তি সই করেছে জাপান সরকার।
বুধবার রাতে জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতে সহায়তা করবে জাপান। এ ছাড়া কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েও আলাদা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি পর্যায়ের চুক্তি ও সমঝোতার পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে দেশটিতে চার দিনের সফরে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়াই এই সফরের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপলক্ষে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর (রোববার) পর্যন্ত এ আবেদন দাখিল ও গ্রহণ করা হবে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন উপলক্ষ্যে আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ৩০ ও ৩১ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পরবর্তী কর্মদিবস ১ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এ কথা জানান তিনি।সংবিধানের বিভিন্ন ধারা সংশোধন ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই বৈঠকে। একইসঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিত করে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ও মতামতও সরাসরি শোনা হয়।
সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বৈঠকের বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ।তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেও কী প্রক্রিয়ায় এই সরকার গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নির্বাচনকালীন এই সরকারের মেয়াদ কত দিনের হবে— সেসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কী প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে, এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কেমন হবে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার কত দিনের মধ্যে এই সরকার গঠন করতে হবে— এসব বিষয় গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্চ বডি গঠন কিংবা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যাতে পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, সমস্ত প্রস্তাব ও পর্যালোচনা শেষে যখন জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হবে, তখন সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে আরও নতুন পরামর্শ ও প্রস্তাব যুক্ত হতে পারে।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’-এর বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বৈঠকে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাব নিয়ে কথা হলেও এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি সার্বিকভাবে সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত হওয়া উচিত। এর বাইরেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য যেকোনো নতুন ভালো প্রস্তাব আসলে তা সহানুভূতির সাথে পরীক্ষা করে দেখা হবে।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে প্রচুর প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো একত্র করে কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে। তবে সব প্রস্তাব পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় থাকায় এখনো কোনো শেষ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত থেকে তাদের জীবনের ট্র্যাজিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতন, দীর্ঘদিনের আইনি সুরক্ষা না পাওয়া এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার মর্মস্পর্শী বর্ণনা দেন। ভবিষ্যতে যাতে স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের মানবতাবিরোধী ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনোই না ঘটে, সে জন্য সংবিধানে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ও শক্তিশালী পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সংসদের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই যৌথ পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশমালা প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো জাতীয় গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সঞ্চালন-২ এর প্রধান প্রকৌশলী (অতিঃ দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এ কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এর আগে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে একযোগে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বড় একটি এলাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে সচল হয় জাতীয় গ্রিড। এখন পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে।
বিকেলে জাতীয় গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির পাঠানো বার্তায় বলা হয়, দুপুর আড়াইটায় জাতীয় গ্রিডের রিস্টোরেশন কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের সব গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো চালু রয়েছে।
পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত লোডশেডিংও কমে আসবে।
অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ।