বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)
দেশে প্রথম ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো চালু হয়ে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠাটির মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) সিম।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে।
ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আজ ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে।
এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।
এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।
এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।
এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কী এই এমভিএনও
নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।
যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়।
এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে।
২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।
এমভিএনওর ধরন
এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে।
দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।
গ্রাহকের লাভ
এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে।
পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। এর আগে গত ৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।
ধর্ম-বর্ণ কিংবা ঐতিহাসিক ভূমিকা বিবেচনা না করে প্রয়োজনের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, চলতি বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে এ কার্ড দেওয়া হবে। একেবারে হতদরিদ্রদের দিয়ে শুরু করে ওপরের স্তর পর্যন্ত যাওয়া হবে। যাদের প্রয়োজন, তারা যে ধর্মেরই হোক, ফ্যামিলি কার্ড পাবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজা মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে এই শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে আমরা কিছু ভিন্নতা লক্ষ্য করছি। আমি অনেক পূজায় এসেছি, অনেক উৎসবে এসেছি। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও এখানে পূজা কমিটির সবাইকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলাম। তখন থেকেই উৎসব শুরু হয়েছে। পূজার এত আগে এরকম উৎসবমুখর অবস্থা আমি দেখিনি।’
তিনি বলেন, ‘অনেকের অংশগ্রহণ আমি লক্ষ্য করছি। এখানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজকর্মী, পেশাজীবী ও স্থানীয়রা-সবাই এবার এই উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটা খুবই লক্ষণীয় বিষয়। সবার অংশগ্রহণ ও এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের মধ্য দিয়ে আমরা জাতীয়ভাবে একটি মিলনমেলা লক্ষ্য করছি। এই মিলনমেলায় সবাই যার যার মতো করে অংশগ্রহণ করেছেন।’
সমাজ ও রাজনীতিতে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এই জাতীয় মিলনমেলা, এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের পেছনে কারণ হলো সমাজে ও রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। বিগত নির্বাচনের পর আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষণীয়। সেটা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয়, তা হলো সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সেই কাজ করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো জাতি বা রাষ্ট্র পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়ে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারলে সেটি আধুনিক রাষ্ট্র হতে পারে না। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে দেখেছি, আধুনিক রাষ্ট্র তো দূরের কথা, মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বিপন্ন হয়েছে, জীবনের সুরক্ষা ছিল না, ভিন্নমতের কোনো সুযোগ ছিল না। সেখানে জাতীয় ঐক্য আসতে পারে না।’
এবারের দুর্গোৎসবে ভিন্নতা দেখার কথা উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এসেছি। এই প্রথমবারের মতো সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে এসেছি। এই ঐক্যের পেছনে আপনারা আস্থা রেখেছেন।’
ফ্যামিলি কার্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বছর ৪১ লাখ গৃহকর্ত্রীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কারা পাবে, এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিষয় নেই। একেবারে যারা হতদরিদ্র, তাদের থেকে শুরু করে আমরা ওপরের দিকে যাচ্ছি। কে কোন ধর্মের, কোন বর্ণের, তার ঐতিহাসিক ভূমিকা কী এসব কিছুই বিবেচ্য নয়। যাদের প্রয়োজন, তারা পাবে, সে যে ধর্মেরই হোক।’
ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলছে ১৪ বছর ধরে। ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। অথচ যে বিশেষ বাস চালানোর জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, সেই বাসই চালু হয়নি। এমন অবস্থায় বাতিল করা হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বহুল আলোচিত ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। পুরো অবকাঠামোকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি করিডরের নির্মিত স্টেশন ও লেন বিভাজক ভেঙে ফেলে সড়কটিকে তিন থেকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে উন্নীত করা হবে।
গাজীপুর থেকে রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের অবকাঠামো অপসারণ করে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে ফেলা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করা হবে। বন্ধ করে দেওয়া হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি কোম্পানি। এর কার্যক্রম নেওয়া হবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন সোমবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটি শাখার উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলির সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে দুই দিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা সমীচীন। এ ছাড়া দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে। এতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সওজের আওতায় আনতে হবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। তবে রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি মন্ত্রিসভার বৈঠকের নানা সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানান। তবে বিআরটি প্রজেক্টের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি।
প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি
গাজীপুরের শিববাড়ি থেকে রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল রাজধানী ও গাজীপুরের মধ্যে দ্রুত বাস চলাচল নিশ্চিত করতে। ২০১২ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করে বিআরটি চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।
এই প্রকল্পের আওতায় বিআরটি লেন, স্টেশন, উড়ালসড়ক, টঙ্গী সেতু ও বাস ডিপোসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন, বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরসহ নানা জটিলতায় কাজের গতি ব্যাহত হয়।
২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় পরিসরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘসূত্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রকল্পের ব্যয়ও। একপর্যায়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকায়, যা প্রাথমিক ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। ২০২৫ সালে প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার বেশি এবং মেয়াদ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ওই বছরের ২৭ জুলাই একনেক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি।
নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর, টঙ্গী ও বিমানবন্দর এলাকার সড়কে দীর্ঘদিন যানজট ও জনভোগান্তি ছিল। যে দ্রুত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল, তা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিআরটি অবকাঠামো সরিয়ে সাধারণ মহাসড়ক করার সিদ্ধান্ত নিল সরকার। এখন প্রকল্পের অবকাঠামো অপসারণ, ওভারপাস সম্প্রসারণ, আইনি জটিলতা নিরসন এবং প্রকল্প বন্ধের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৮৪ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী রয়েছেন। এ ঘটনার পর আবদুল্লাহ আল জহিরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, রাজধানীর ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী রয়েছেন।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার পিওএইচএস-১ হাউজিংয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পাশে সংলগ্ন আড়াইতলা ভবনে গতকাল সোমবার রাতে শুরু হওয়া এ অভিযান আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত চলে।এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জহির বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক গ্রহণ ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ কারণে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, সিনথেটিক মাদক, সিসা ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ইলিয়াস কবির জানান, অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাড়িটির কক্ষ ভাড়া দেওয়া হতো। সেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে ভাড়া বুকিং করে এসব পার্টিতে অংশ নিতেন। পার্টি থেকে আয়ের বড় একটি অংশ পান অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির তার স্টাফরা।
ইলিয়াস কবির আরও জানান, ওখানে একজন কোহোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলম আটক আছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তার বাসায় অভিযানের বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে দেশে ফেরার পথে আটক হওয়া ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তারা।
জানা যায়, এই ৩০ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মুক্ত করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সই করা সেই চিঠিতে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তি ও দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের বিমানবন্দরে গেলে ৩২ বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন মুক্তি পেলেও দেশটির ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন বাকি ৩০ জন।আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের অনেককে জোর করে সাইবার স্ক্যামিং বা অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো। এসব কেন্দ্র থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বাজেটের বড় একটি অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও তা দ্রুত চালু করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার পাশাপাশি এসব যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত 'জাতীয় ক্যান্সার সম্মেলন ২০২৬'-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য ছিল-'সবার জন্য ক্যান্সার সেবা: প্রতিরোধ, নির্ভুল চিকিৎসা, উপশমমূলক পরিচর্যা ও নীতিনির্ধারণের সমন্বয়'।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ক্যানসার রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের প্রতিটি ক্যানসার হাসপাতালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেন রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে পাড়ি দিতে না হয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এসব আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও টেকনোলজিস্ট রয়েছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল রোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করতে আগামী তিন মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হবে।স্বাস্থ্য খাতে বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরের অপশাসন ও চরম অব্যবস্থাপনা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করবে না। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফারহাদ হালিম ডালিম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ বিশিষ্ট চিকিৎসক ও নীতি নির্ধারক বৃন্দ।