ছেলেরা যুগ্মসচিব-বুয়েটের শিক্ষক, নিঃসঙ্গ বাসায় মরে পড়ে ছিলেন বৃদ্ধা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ এএম

রাজধানীর মিরপুরে একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত সাত থেকে আট দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কক্ষের পরিবেশ ও পরিস্থিতি দেখে বৃদ্ধার শেষ জীবন চরম অবহেলা ও অযত্নে কেটেছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 


জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মিরপুর-৬ এর সি ব্লকের ১৩ নম্বর সড়কের একটি বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে রোববার রাতে অভিযান চালায় পল্লবী থানা পুলিশ। সেখান থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।


পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, নুরজাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও আলাদা কক্ষে অবস্থান করতেন। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে রোববার একজন নার্সকে ডেকে আনেন তার মেয়ে। পরে ওই কক্ষে গিয়ে বৃদ্ধাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান নার্স। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।


ওসি বলেন, বৃদ্ধার মেয়ের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর সময় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি মায়ের মৃত্যুর সঠিক সময়ও বলতে পারেননি। এ কারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ জানায়, যে কক্ষে নুরজাহান বেগম বসবাস করতেন সেটি ছিল অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো। কক্ষজুড়ে ছিল আবর্জনা। এমন পরিবেশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত ছিলেন।


জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের সন্তানরা সবাই উচ্চশিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তাদের মধ্যে কেউ সাবেক সচিব, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আবার কেউ বিদেশে বসবাস করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, যে মেয়ের সঙ্গে নুরজাহান বেগম থাকতেন, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া পরিবারটি স্থানীয়দের সঙ্গেও খুব একটা মিশত না। 



স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি মারা যান। পুলিশের ধারণা, অন্তত এক সপ্তাহ আগে নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

আসিফ ও পাটওয়ারী

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০২ পিএম

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। 


অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) প্রার্থী ঘোষণা করেছে গত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে।


আজ রোববার বিকেলে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। সন্ধ্যায় দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এনসিপি জানিয়েছে, দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে আজ সমন্বয় সভা হয়েছে। সভায় সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী অন্বেষণ, ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যুক্ত থাকা এবং আওয়ামী লীগের নাশকতামূলক তৎপরতার প্রতি কড়া নজরদারির নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম। 


সভায় ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ ও মুখ্য সমন্বয়ক পাটওয়ারী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


কয়েক দিন আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেন তারা। 


এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয়, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। ছয় মাস পর দলটির এই অবস্থান বদলে যায়। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করা হলো।


গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।  


সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়। 


এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। কয়েক দিন আগে দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।


জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। 


আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে। 


জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।

 

উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে। 


জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি। 


নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।


জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ অভিযোগ করেন।


নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পটপরিবর্তন হলেও এর আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তারা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে।


বিএনপি সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের নানা নিদর্শন ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম। 


তিনি বলেন, ‘দখলদারত্ব ও গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। ছাত্রলীগকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে আমরা ভেবেছিলাম-এই লড়াই হয়তো সমাপ্ত হয়েছে, কিন্তু সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’


সম্প্রতি গাজীপুরে সিফাত নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার ও তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বৈধ আইন বা বিধি ছাড়া এভাবে গ্রেপ্তার এবং কলেজ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।


সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগকে দলীয় নেতা-কর্মীদের চাকরি দেওয়ার ‘কূটকৌশল’ বলে অভিযোগ করেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। 


তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সময় ছিল কোটাপ্রথা, আর এখন তারেক রহমানের হাতে এসে তৈরি হয়েছে ‘ভাইভা প্রথা’।


আখতার হোসেন বলেন, বিসিএসসহ সরকারি চাকরি ও পিএসসি সংস্কারের প্রশ্নে সরকার পশ্চাৎপদ ভূমিকা পালন করছে। পিএসসিতে তিনটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব এড়িয়ে এখন মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হচ্ছে, যাতে নিজেদের লোকজনকে চাকরি দেওয়া যায়।


আখতার হোসেন বলেন, ‘কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আমরা নতুন সরকারকে বলব, ভাইভা বিষয়ে পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে নম্বর কমিয়ে আনুন এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করুন।’


অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও কেন্দ্রীয় সংগঠক সারজিস আলম। জাতীয় ছাত্রশক্তির বর্তমান সভাপতি আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। 


এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখা এবং জেলা শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

বিএনপি দেশ পরিচালনায় অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, অসহনীয় লোডশেডিং, গ্যাস সংকট ও দুর্নীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষ আজ চরম ভোগান্তির শিকার। জ্বালানি সংকটে কলকারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও পরিকল্পনাহীনতা প্রমাণিত হচ্ছে।


আজ শনিবার বিকেল ৩টায় সিলেটে জাপার কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই প্রথম সিলেটে প্রকাশ্যে সভা করলো সিলেট জাপা। জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়।


জেলার আহবায়ক ছাব্বির আহমদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলতাফুর রহমান আলতা, যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির। 


এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্যফখরুল ইসলাম, এ টিইউ তাজ রহমান,অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর শিকদার লোটন,আরিফুর রহমান খান,ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, নুরুন নাহার বেগম, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, খলিলুর রহমান,আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, কেন্দ্রীয় নেতা জাতীয় কৃষক পার্টির সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আরিফ আলী। 


এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুস শহীদ লস্কর বশির, সিলেট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমান ডালিম, জাপানেতা জয়নাল আবদীন ও মকবুল হোসেন সহ প্রত্যেক উপজেলা ও পৌর শাখার অর্ধ শতাধিক দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৪ এএম

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কারও অধীনতা আর মেনে নেবো না। এই দেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না। ওই চ্যাপ্টার ক্লোজ। ওইটা আর রিওপেন হবে না। আমাদেরকে সেই জায়গায় শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে এবং সাহসের সঙ্গে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বিষয়গুলো মোকাবেলা করতে হবে। এখানে আলোচনা হবে, লড়াইও হবে, তবে সমানে সমান।


তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের সঙ্গে সৎ সম্পর্ক চায়, আমরাও চাই। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সৎ ও সুসম্পর্ক থাকুক, সেটিও আমরা চাই। তবে সত্যিই যদি আমরা সৎ প্রতিবেশী হতে চাই, তাহলে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করতে হবে।


একাত্তর-পরবর্তী লুটপাট, দুঃশাসন, বাকশাল ও রক্ষীবাহিনী গঠনের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কবর রচনা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল। জনগণের কণ্ঠস্বর দমনে গঠিত রক্ষীবাহিনীর হাতে বহু মানুষ নিহত হলেও কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষের কারণে মানুষ না খেয়ে ফুটপাতে মারা গেছে।


তিনি আরও বলেন, যে বছরে আওয়ামী লীগ দায়িত্ব নিল, সে বছরই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা। সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা ছিল, তা আজ পর্যন্ত অজানা। আজ পর্যন্ত যে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, তা আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এর ফলে সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর—দুই বাহিনী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দোষী, অপরাধী, চোর ও লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। অথচ পালিয়ে গিয়েও তারা বারবার এই জাতিকে বিরক্ত করছে—‘এই আসি, ওই আসি’ বলে। বলি, এত আসি আসি করেন, গেলেন কেন?


তিনি আরও বলেন, কেউ যদি দেশ ও জাতিকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে দেশে থাকতেন। অপরাধ করলে শাস্তি নিতেন, আর অপরাধ না করলে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতেন। তিনি বলেন, সৎ মানুষ দেশ ছেড়ে পালায় না, ফাঁসি হলেও ফাঁসির মুখোমুখি হবে, জেলে নিলেও জেলে যাবে, কিন্তু দেশ ছেড়ে পালাবে না।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২০২৪ সালের গণহত্যার বিচার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যেভাবে এগিয়েছিল, নির্বাচিত সরকারের সময়ে সেই বিচারকাজের গতি আর দেখা যাচ্ছে না।


তিনি আরও বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে গার্মেন্টস খাতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে দেশে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে রক্ষায় সরকারকে বিশেষ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


সংসদের তিনটি বিলে বিরোধীদল আপত্তি তুলেছেন উল্লেখ করেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। এসব আইন জনগণকে নয়, বরং সরকারকে সুবিধা দেবে।


সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি সরাসরি কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করবেন না।

সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। এসব লোকের সঙ্গে কোনো বিএনপির নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।



দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে নিয়মিত সব নেতাকর্মীকে নিয়ে এক টেবিলে বসব এবং দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করব।’




প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন, বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক এবং দখলের বিরুদ্ধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন। 



সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশকারী ও দলের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হবে। 




ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের যে চাওয়া-পাওয়া, সেই বিষয়গুলোকে কীভাবে ধারণ করে একটি সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হয়—সেই বিষয়গুলো আমরা ধারণ করব। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এ এলাকার ১১টি ওয়ার্ডের সব দায়-দায়িত্ব আমার। এখানে ভালো কিছু হলে যেমন আমার সুনাম হয়, ঠিক তেমনি ব্যর্থতার গ্লানিও আমাকেই বহন করতে হয়।



তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করিনি। বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিগত ১৭ বছরে যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে স্বাধীন, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।



তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সদরঘাটে হত্যাকাণ্ডের মতো গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে, এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, যারা জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।



সভায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ফরহাদ রানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরাইয়া বেগমসহ কোতোয়ালী থানার ওসি এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ সব খবর

ইসলামপন্থি সাত দল ও হেফাজতে ইসলামের লোগো

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৭ পিএম

কওমি ধারার সাত ইসলামী দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব সমন্বয়ের একটি ধাপ শেষ হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের পৃথক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করেছে। এখন সেই ‘রূপরেখা’ সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা। 


তবে ঐক্যটি কী ধরনের হবে, কী কাঠামোয় এগোবে এবং রাজনৈতিকভাবে দলগুলো কতটা সমন্বিত থাকবে-এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।


সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, তা জানতে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহর সঙ্গে কথা বলা হয়। 


এ সময় তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ‘রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে।


মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, ‘হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে বৈঠক করেছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটা সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।’


পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে সাত দলের নেতাদের ডাকা হবে। এরপর তাদের দেওয়া পৃথক প্রস্তাবনাগুলো থেকে তৈরি সমন্বিত রূপরেখাটি তাদের সামনে পেশ করা হবে। সব দল একসঙ্গে বসে নিজেদের ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’


দলগুলোর অবস্থান কী?


হেফাজতের পক্ষ থেকে সাত দলের প্রস্তাব সমন্বয় করে সমন্বিত রূপরেখা তৈরির কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দলের নেতারা বলছেন, তারা উপকমিটির সর্বশেষ বৈঠক ও এর ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। 


তবে ঐক্যের বিষয়ে তাদের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। মূল পার্থক্য ঐক্যটি কী ধরনের হবে এবং দলগুলো কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে, তা নিয়ে।


খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘হেফাজতের সর্বশেষ যে উপকমিটির বৈঠকের কথা আপনি বলছেন, সেটার রেজাল্ট আমরা জানি না। আশা করি, ওনারা সুন্দরভাবে সমন্বয় করবেন। প্রয়োজন হলে আমাদের ডাকবেন। খেলাফত মজলিস একটি সুন্দর ঐক্য চায়। স্বতন্ত্র ঐক্যের প্রত্যাশা করে।’


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছি। যারা ঐক্য প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের প্রতি আমাদের ভরসা আছে। আশা করছি, তারা ইসলামী দলগুলোকে কাছাকাছি আনার ব্যাপারে এবং একটি কার্যকর ঐক্য গড়ার ব্যাপারে সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবেন।’


জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবনাগুলো জমা দিয়েছি। এখন পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। আহলু সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ ধারণ করে আমরা সবসময় ঐক্য পক্রিয়ার পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। সবসময় থাকব। আশা করি আমাদের অন্য ভাইয়েরাও এই বিষয়ে দ্বিমত করবেন না।’


ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, ‘উপকমিটির বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা অবগত নই। তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। সুন্দর ঐক্যের অপেক্ষায়। আমরা চাই, মৌলিক বিষয়গুলোতে সবাই ঐকমত্য পোষণ করে একসঙ্গে জোটবদ্ধ হবে।’


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে হেফাজতের সর্বশেষ উপকমিটির বৈঠকের বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে আমরা তো এই ঐক্যের পক্ষে। আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের প্রস্তাবগুলো হেফাজত নেতৃবৃন্দ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রূপরেখা তৈরি করবেন।’


প্রস্তাবনায় পার্থক্য কোথায়?


সাত দলের প্রস্তাবগুলোতে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ না থাকলেও ঐক্যের ধরন, রাজনৈতিক কর্মকৌশল ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে।


হাতে আসা সাত দলের প্রস্তাবনাগুলোর কয়েকটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাত দলের ঐক্য, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়া এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।


জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকা, আদর্শিক মতপার্থক্য এড়িয়ে চলা এবং একটি বিশেষ ফোরামের মাধ্যমে ঐক্যের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সমমনা কওমিপন্থি দলগুলোর ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে প্রতিটি দলের নিজস্ব এখতিয়ার থাকার পক্ষে। দলটি বর্তমান ১১ দলীয় জোটে থাকার বিষয়টিকেও এই ঐক্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছে না। 


মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সমমনা ইসলামী দলগুলো অন্য জোটে থেকেও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।


অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস চাইছে নতুন ঐক্যে যুক্ত দলগুলো অন্য কোনো জোটে একসঙ্গে না থাকুক। একই সঙ্গে দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল নিজেরাই নির্ধারণ করবে-এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি।


বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সমমনা দলগুলোর আদলে ঐক্যের কথা বলেছে। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ দলগুলোকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার বিষয়টি প্রস্তাব করেছে।


বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নতুন ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের সংস্রব ত্যাগ করে নতুন জোটে যুক্ত হওয়া, পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সমন্বয় কমিটি বা মজলিসে শূরার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে।


ইসলামী ঐক্যজোট ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে কেউ এই আকিদা লঙ্ঘন করলে তাকে ঐক্যে রাখা যাবে না-এমন অবস্থানও জানিয়েছে দলটি।


যেভাবে শুরু ঐক্য প্রক্রিয়া


কওমি ধারার সাত ইসলামী দলকে একসঙ্গে পথ চলার উদ্যোগ নেয় হেফাজতে ইসলাম। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সাত দলকে নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাত দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয় দলগুলো।


মূলত সাধারণ জোটের বাইরে ইসলামপন্থিদের স্বতন্ত্র একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে দলগুলোকে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে ৩ আগস্টের মধ্যে জোট গঠনের রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়। প্রায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে।


দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য হেফাজতের উদ্যোগে সাত সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।


সামনে কী?


উপকমিটির বৈঠকে সাত দলের প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে। 


তবে সেটি এখনো সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর সাত দলের নেতাদের ডাকার কথা জানিয়েছেন মুফতি বশিরুল্লাহ।


ওই বৈঠকে ‘সমন্বিত রূপরেখা’ দলগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাত দল নিজেদের প্রস্তাব ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে ঐক্য প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।


ফলে সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া এখন পৃথক প্রস্তাব দেওয়া ও সেগুলো সমন্বয়ের ধাপ পেরিয়ে যৌথ আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঐক্যের ধরন, সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে দলগুলোর প্রস্তাবে যে ভিন্নতা রয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকে কীভাবে সমাধান হয়- সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

সর্বশেষ সব খবর