বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বরাবরই সংবিধান সংশোধনের কথা বলেছি, সংবিধান ‘সংস্কার’ বা পুনর্লিখন নয়। জনগণ আমাদের ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী বিএনপি টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) মেজরিটি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় একথা বলেন তিনি।
জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ফসল ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তা জনগণের রায় ও দলের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী করা হবে।
সনদের কিছু বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘উচ্চকক্ষ গঠন কিংবা আনুপাতিক হারে ভোট ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। এই বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। জনগণের সম্মতি ছাড়া (কনসেন্ট) কিছু বিষয় নিয়ে এসে জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।’
দেশে অতীতে যত বড় বড় গণতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার হয়েছে, তার পেছনে বিএনপির ভূমিকা মনে করিয়ে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘কিছু বিরোধী দল জুলাইকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু এই আন্দোলন কেবল এক মাসের আন্দোলন নয়। দীর্ঘ ১৮-১৯ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছে, এটি তারই চূড়ান্ত ফলশ্রুতি।’ তিনি যোগ করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, ১,৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সহজ-সরল জীবন ও উঁচু দর্শনের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি ক্ষমতার লোভ কিংবা সুযোগ-সুবিধার জন্য বিএনপির সঙ্গে কাজ করেননি। যখন দল ক্ষমতার বাইরে ছিল এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছিল, তখন তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদারপন্থী গণতন্ত্র) বাতিঘর।’
দেশের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উত্তরণে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ক্ষত মুহূর্তের মধ্যে দূর করা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালে যেভাবে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম, ২০২৪ সালেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাই মিলে লড়াই করেছি। এখন বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে ধৈর্য ধরে আমাদের একটি সুন্দর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
সংবিধান পুনর্লিখন নয় সংশোধনের কথা বলেছি: মির্জা ফখরুল
সংবিধান, সংস্কার, বিএনপি
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বরাবরই সংবিধান সংশোধনের কথা বলেছি, সংবিধান ‘সংস্কার’ বা পুনর্লিখন নয়। জনগণ আমাদের ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী বিএনপি টু-থার্ড (দুই-তৃতীয়াংশ) মেজরিটি নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় একথা বলেন তিনি।
জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ফসল ও ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিএনপি জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তা জনগণের রায় ও দলের নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী করা হবে।
সনদের কিছু বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘উচ্চকক্ষ গঠন কিংবা আনুপাতিক হারে ভোট ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। এই বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। জনগণের সম্মতি ছাড়া (কনসেন্ট) কিছু বিষয় নিয়ে এসে জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে।’
দেশে অতীতে যত বড় বড় গণতান্ত্রিক ও পদ্ধতিগত সংস্কার হয়েছে, তার পেছনে বিএনপির ভূমিকা মনে করিয়ে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘কিছু বিরোধী দল জুলাইকে শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু এই আন্দোলন কেবল এক মাসের আন্দোলন নয়। দীর্ঘ ১৮-১৯ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই হয়েছে, এটি তারই চূড়ান্ত ফলশ্রুতি।’ তিনি যোগ করেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, ১,৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রয়াত অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের সহজ-সরল জীবন ও উঁচু দর্শনের কথা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি ক্ষমতার লোভ কিংবা সুযোগ-সুবিধার জন্য বিএনপির সঙ্গে কাজ করেননি। যখন দল ক্ষমতার বাইরে ছিল এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছিল, তখন তিনি আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদারপন্থী গণতন্ত্র) বাতিঘর।’
দেশের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি উত্তরণে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ক্ষত মুহূর্তের মধ্যে দূর করা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালে যেভাবে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলাম, ২০২৪ সালেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাই মিলে লড়াই করেছি। এখন বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে ধৈর্য ধরে আমাদের একটি সুন্দর, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নতুন আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে গাজী নজরুলকে তার সঙ্গে থাকা এক নারীর সঙ্গে হোটেলের করিডোর, লবি এবং বিভিন্ন স্থানে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই নারী তার দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার (বেগম) কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাজী নজরুল ইসলাম এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের অভ্যর্থনা ডেস্কে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তারা ভেতরে চলে যান।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হোটেলের লবিতে গাজী নজরুল ইসলাম ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আচরণ করছেন। এ ছাড়া করিডোর ও সিঁড়ি ঘরের সামনেও তিনি ওই নারীর সঙ্গে আন্তরিক হন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতেও গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওই ঘটনার পর লিখিত এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, হোটেল কক্ষে তার সঙ্গে দেখা যাওয়া নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তার এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
এদিকে বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার নতুন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওতে তার সঙ্গে থাকা নারী মরিয়ম আক্তার কি না, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না মেলায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাজী নজরুল ইসলাম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গতকাল বুধবার দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে অবহিত করেছে দলটি।
চিঠিতে জামায়াত বলেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গতকাল ২২ জুলাই (বুধবার) বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইসিকে বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গতকাল বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ইসি ও স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে অবহিত করতে আজ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এর আগে গতকাল বুধবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় দলের মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছিলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার জন্য আজ নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হবে।
এর আগে গতকাল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে বিকেলেই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়টি সিইসি ও স্পিকারকে অবহিত করার চিন্তা করে জামায়াত। তবে কিছু বিষয়ের আলোচনা সামনে আসলে গতকাল চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে দলটি।
জামায়াত সূত্র জানায়, গতকাল দলের বৈঠকের পর ইসিতে চিঠি পাঠানোর মতো সময় পাওয়া যায়নি। কারণ, এরই মধ্যে অফিসের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যায়। এ ছাড়া বিগত সময়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুটি ঘটনায় সংসদের স্পিকারকে আগে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তাই আগে স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হবে নাকি সিইসিকে— তা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে সকালে সিদ্ধান্ত হয়, একই সময়ে দুই জায়গায় চিঠি দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী বিকেলে সিইসি ও স্পিকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
৭৪ বছর বয়সী গাজী নজরুল এবার তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৯১ সালে প্রথম সাতক্ষীরা–৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমিরের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ছিলেন তিনি।
তদন্তে যা পেয়েছে জামায়াত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরা–২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। ইজ্জত উল্লাহ পাশের সাতক্ষীরা–১ আসনের সংসদ সদস্য।
গত মঙ্গলবার সাতক্ষীরায় তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য দেন গাজী নজরুল। কমিটি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করে। পরে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রে জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন গতকাল দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে আলোচনার পর গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
কী ধরনের নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পেয়ে তাঁকে বহিষ্কার করা হলো—এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে, গাজী নজরুল বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ‘পর্দা লঙ্ঘন’ করেছেন। তা ছাড়া এ ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু রুকনিয়্যত বা রুকন পদ বাতিল করে এত বড় ক্ষতি লাঘব হবে না বলেই তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জামায়াতের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁর আত্মীয়। তিনি ঢাকায় এলে মাঝেমধ্যে ওই আত্মীয়র বাসায় উঠতেন।
গত সোমবার রাতে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। প্রথম দিকে জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করেন।
তবে পরদিন গাজী নজরুল নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম। গত ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াত, গাজী নজরুল ও তাঁর পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো বিয়ের পরের এবং প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই বিয়ে হয়েছে। তবে গাজী নজরুল নৈতিক স্খলনের পাশাপাশি একটি চক্রের ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়েছেন বলেও মনে করেন জামায়াতের কোনো কোনো নেতা।
সংসদে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, তাকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন ঘটনার বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার 'নৈতিক স্খলন' প্রমাণিত হয়েছে। সেজন্য গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
মূলত, একজন তরুণীর সঙ্গে 'ব্যক্তিগত মুহূর্তের' কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।
ভিডিওগুলো সোমবার বিকেল থেকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করলে প্রথম দিকে ফেসবুকে তার সমর্থনে কেউ কেউ এটি 'এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে' উল্লেখ করে পাল্টা প্রচারণা শুরু করেন। পরদিন কয়েকটি ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে ভিডিও এআই দিয়ে বানানো নয়। এসব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তাকে তিনি তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই সম্প্রতি বিয়ে করেছেন।
যদিও তার এই কথিত দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামার বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ কাবিননামায় নাম থাকা কাজী একটি দৈনিক পত্রিকাকে বলেছেন, বিয়ে কোথায় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কাবিননামাটি পুরোনো তারিখ বসিয়ে তৈরি করেছেন। সব মিলিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। তার মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো, তার সংসদ সদস্য পদের কী হবে? 'নৈতিক স্খলনের' অভিযোগে কি তার বিচার সম্ভব?
সংসদ সদস্য পদ হারানোর সম্ভাবনা কতটা?
বহিষ্কারের আজকের এই সিদ্ধান্তের আগে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছিলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি সংগঠনের গঠনতন্ত্রে বর্ণিত বিধি লঙ্ঘন করে ও নৈতিকতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, অথবা তার ভূমিকার মাধ্যমে যদি সংগঠনের সুনাম ও মর্যাদা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তখন তার সদস্য পদ তো বাতিল হবেই। এমনকি তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করারও বিধান আছে। সদস্য পদ বাতিল হলে সংগঠনে সে থেকে যাবে, কাজ করতে পারবে। আর বহিষ্কার মানে সংগঠন থেকেই বহিষ্কার।"
গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী শেষপর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কার করেছে, তাহলে কি তার সংসদ সদস্য পদ হারানোরও সম্ভাবনা আছে? এ বিষয়ে সংসদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার হলেও তার সংসদ সদস্য পদ যাবে না। নৈতিক স্খলনজনিত কোনো বিষয় যদি সংসদের ইনকোয়ারি কমিটিতে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার পদ যেতে পারে। এটার জন্যও সংসদীয় তদন্ত লাগবে।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকও বলেন, ‘দলের নিয়ম কানুন ভঙ্গ করলে সাধারণত দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু সংসদ সদস্য পদ হারাবে তখনই, যখন কেউ দলের বিপক্ষে সংসদে ভোট দেয় অথবা পদত্যাগ করে। এছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ফৌজদারি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারও যদি দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড হয়, তখন। তবে এখানে একটা অস্পষ্টতা আছে। সব অপরাধের জন্য এটা হবে না, শুধু নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে হবে। এখন কোনটা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ, আর কোনটা না, সেটার কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা নাই। কোর্টের রায়েও এ নিয়ে কিছু আসে নাই। বহিষ্কার বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত এবং নৈতিক স্খলনের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক নিয়ে আইন কী বলে?
গাজী নজরুল ইসলাম যদিও দাবি করছেন যে, তিনি ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন যে তিনি আদৌ ওই নারীকে বিয়ে করেননি। এমনিতে 'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের আইন কী বলে?
আইনজীবী শাহদীন মালিক এ প্রসঙ্গে বলেন, "আইনগতভাবে কেউ যদি স্বামী- স্ত্রী না-ও হয়, তাহলে কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্ক আইনের চোখে ফৌজদারী অপরাধ না। এমনকি প্রথম স্ত্রীর পারমিশন না নিয়ে অন্য কোনো নারীকে বিয়ে করলেও সর্বোচ্চ শাস্তি হবে এক বছরের জেল। আইনের চোখে বিয়েটা কিন্তু তখনও বৈধ।
গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, ওই নারী যদি এটা না বলে যে তাকে জোর করে বা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে, তখন এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এই অভিযোগগুলো ওই মেয়ের কাছ থেকে আসতে হবে।
ওই তরুণীকে নিয়ে আরও একটি ধোঁয়াশা রয়েছে যে তার বয়স ১৮ বছরের কম। এ বিষয়ে শাহদীন মালিক বলেন, "১৮ বছরের কম হলেও এটা অপরাধ না। আইনগতভাবে ১৮ বছরের কম হলে বিয়ে হবে না। ছেলের ২১ বছরের কম হলে বিয়ে করতে পারে না। এটা শুধু বিয়ের ব্যাপারে প্রযোজ্য। অন্য কোনো কিছুর জন্য প্রযোজ্য নয়।" তার মতে, এই বিষয়টিতে আইনগতভাবে কোনো সমস্যা নেই। এটি নৈতিকতার ব্যাপার।
একই প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, "আইনে আছে, ১৮ বছরের নিচে হলে বিয়ে করা যায় না, তখন নিকাহ রেজিস্ট্রারও জবাবদিহির আওতায় আসবে। আর বিয়ের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক করা সামাজিক বিষয়। কিন্তু যার সাথে ঘুরছে, সে কখনও অভিযোগ করলে মামলা হয়ে যাবে।"
কোনো স্বামী যদি 'বিবাহবহির্ভূত' সম্পর্ক করে, তাহলে স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে? এর উত্তরে মোরসেদ বলেন, "এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাধারণত স্ত্রীরা তালাক দিয়ে দেয়। কিন্তু স্ত্রী চাইলে অভিযোগ করতে পারবে। তবে স্বামী যে পরকীয়ার সাথে জড়িত, তা তাকে প্রমাণ করতে হবে। অর্থাৎ, এভিডেন্স থাকবে, বা যার সাথে পরকীয়া করছে, তারও অভিযোগও লাগবে।"
গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা প্রসঙ্গে টেনে তিনিও বলেন, "বলছে বিয়ে করেছে। কিন্তু ওই মেয়ের ১৮ বছর হয়েছে কি না, তা বলা যায়। এ সব ক্ষেত্রে ধরা পড়লে সাধারণত স্ত্রী বলা হয়। তবে এই মেয়ে বা তার পরিবার যদি ভবিষ্যতে অভিযোগ করে, তাহলে কোনো আইনি প্রক্রিয়া আগাতে পারে। নইলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নাই।"
অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়া কতটা বৈধ?
এদিকে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে একটি কক্ষে জিম্মি করে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয় যে এটি বিবাহবহির্ভূত ঘটনা।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, আইনের চোখে এই ঘটনা (মি. ইসলামের) ফৌজদারি অপরাধ না। এটি সামাজিকভাবে অনৈতিক কাজ। একটি অনৈতিক কাজের জন্য এভাবে মব করে আক্রমণ করা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, বরং এটা অপরাধ। কারণ বিচার করার ক্ষমতা তো আদালত ছাড়া আর কারও নাই।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধিতেও বেআইনিভাবে কাউকে আটক করা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের (মতো অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। মূলত, সোমবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় গাজী নজরুল ইসলামকে সালোয়ার কামিজ পরিহিত এক তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। পরে আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজনকে তাদের একটি কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তার ভাষ্য, গত ১৭ই জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে এবং ১৩ই জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ব্যবসায়িক অফিসে যান।
তার ওই ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ওই তরুণীর এক মামাকে দায়ী করেন মি. ইসলাম। তিনি এটাও দাবি করেন যে তার বিরুদ্ধে 'প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই'।
তিনি বলেন, “সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। আমরা উক্ত অফিসে অবস্থানকালে যোহরের নামাজ আদায়ের পূর্বে আমার গাড়িচালক ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার কথা বলে বাইরে যায়। পরবর্তীতে সে ৫/৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আমাদের কক্ষে প্রবেশ করে এবং আমাদের জিম্মি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করে। আমি চলাচলের জন্য যে ভাড়াকৃত গাড়িটি ব্যবহার করি, ওবায়দুল্লাহর যোগসাজশে পরবর্তীতে সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় আমাদের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আমি এ সময় জানতে পারি, আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। পরবর্তীতে, হিংসা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ওবায়দুল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিওটিকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
মঙ্গলবার দুপুরের পর পর গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাকসুদা ইসলাম একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে তাকে লিখিত বিবৃতি পড়তে দেখা গেছে। এতে তিনি বলেছেন, আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সহিত মরিয়মের (দ্বিতীয় স্ত্রী) সাথে বিবাহ হয়েছে। যারা এটা নিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এ থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
এরপর নিজেকে গাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় আরেকটি বক্তব্য দেন গাজী নজরুল ইসলামের সাথে দেখা যাওয়া তরুণী। সেখানে ওই তরুণী বলেছেন, "আমার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে সে বিষয়ে আমি দেশবাসীর সামনে প্রকৃত ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই।'' তিনি বলেন, প্রথমত আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ১৭ই জুন সাতক্ষীরার শ্যামনগর আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। ১৩ই জুলাই গাজী নজরুল ইসলাম তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যান।
এদিকে, জামায়াত নেতার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এবার বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজীর একটি অডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছে গতকাল। ভাইরাল অডিওতে কাজীকে বলতে শোনা যায়, ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে ফোনে তাকে মেয়ের নাম, জন্মতারিখ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়েছিলো। গতকাল ২১শে জুলাই সকালে ওই তরুণী ও অভিভাবক গিয়ে সেই কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন। অর্থাৎ, গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন যে তাদের বিয়ে হয়েছে আরও এক মাস আগে, অর্থাৎ ১৭ই জুন। এদিকে, কাবিননামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বিয়ের তারিখ ১৭ জুলাই। অথচ, কাজীর দাবি অনুযায়ী, কাবিননামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয় গতকাল ২১ জুলাই।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের একজন এমপিকে তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা বা তার লোকেরা জিম্মি করে টাকা আদায় করবেন, এ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সেই প্রশ্নের কোনো জবাব আসেনি কোনো পক্ষ থেকে। এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেছেন, কথাটা হয়তো যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। কিন্তু এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি তার স্ত্রীদের নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। তার স্ত্রীরাও সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট। এনসিপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ।
বৈঠকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, এনসিপির রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এনসিপির নেতারা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জনমনে থাকা বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়গুলো মার্কিন প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চুক্তিটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে।
বৈঠকে গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে। এ সময় এনসিপির পক্ষ থেকে গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকারের সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গাজী নজরুল ইসলাম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণ হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামী জানায়,‘আজ ২২ জুলাই (বুধবার) বিকেল ৪টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক হয়। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নতুন করে সামনে আসে মরিয়ম খাতুন নামের এক তরুণীর বায়োডাটা। জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা নারী তার বৈধ দ্বিতীয় স্ত্রী। একই দাবি করেন তার প্রথম স্ত্রী, ওই নারী এবং নারীর বাবাও।
এর আগে, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানান বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে এক বিবৃতিকে জামায়াতে ইসলামী জানায়, ‘অতি সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নজর রাখছে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়ায়ে প্রকাশিত হয়েছে।’
এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও বিবৃতিতে জানায় দলটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, তিনি উপলব্ধি করেছেন, এ বৈঠকের একটি দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন, যুগপৎ আন্দোলনের যারা শরিক দল ছিল, তারা যাতে দূরে চলে না যায়। সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, ‘এখানে প্রধানমন্ত্রীর অ্যাটিটিউডটা এ রকম ছিল...যেহেতু উনি ক্ষমতায় আছেন, যারা ক্ষমতায় নেই বা দূরে আছে, কাছের লোকগুলো তারা যাতে দূরে না চলে যায়।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে যাঁরা যাঁরা যেভাবে চালাচ্ছেন সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিগত কয়েক মাসে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ভালোমন্দের বিষয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান মাহমুদুর রহমান মান্না।
বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন ও ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের নিয়ে সামনের কর্মসূচি বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে...বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাঁদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’
সামনের দিনে বিএনপির শরিকদের নিয়ে আরও ঘন ঘন বৈঠক হবে, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ‘সেটা বলেছেন উনি, দেখা যাক যদি করে তারা আমরা বৈঠকে আসব, নিশ্চয়ই আসব। কিন্তু ঘন ঘন বৈঠক হবে, এটা একটা মুখের কথা যেন না হয়ে থাকে।’