রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১১:৩৯ এএম

সামনের দিনগুলো ভালো নয়, অনেক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে এমন মন্তব্য করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শোনা যায়, ক্ষমতায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলকে দেখা হয়েছে- এবার অমুককে (জামায়াতে ইসলামী) দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন- তাদের তো দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে।

রোববার (০৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিএনপি।

এতে ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা অংশ নেন। সকালে দিনব্যাপি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তারেক রহমান বলেন, আমি গত ৫ আগস্টের পর থেকে বলে আসছি, আমাদের সামনের সময়গুলো কিন্তু খুব ভালো নয়, সামনে অনেক কঠিন সময়ে অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে এই দেশের জনগণ এবং এই ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দিতে পারে বিএনপি। এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে- গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র। আমরা যদি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, যে কোনো মূল্যে জনগণের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে অবশ্যই অনেক ষড়যন্ত্রকে আমরা রুখে দিতে পারব। কিন্তু ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে পারলেও তারপরেও কিন্তু সামনে অনেক কঠিন সময় বলে শঙ্কার কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা- এই দুটি বিষয় আমাদের এড্রেস করতে হবে। যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেজন্য সরকার গঠনের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে সর্বপ্রথমে আমাদেরকে নজর দিতে হবে, সর্বপ্রথমে আমাদের ব্যবস্থা করতে হবে- দুর্নীতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম কীভাবে আমরা টেনে ধরব?

তিনি বলেন, আমরা যদি দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ সন্তানদের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে, নারী সমাজকে ক্ষমতায়ন করা নিয়ে, দেশের কৃষি ব্যবস্থা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা আমাদের বাধাগ্রস্ত হবে, স্লো হয়ে যাবে। যদি আমরা এই দুটি বিষয়ে এড্রেস করতে না পারি, পুরো জাতি এবং দেশ সংকটের মধ্যে পড়বে। আমরা মনে করি, একমাত্র বিএনপিই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে পারবে। কারণ- আমরা অতীতে করেছি, ভবিষ্যতে আমরা সুযোগ পেলে এই কাজটি করে দেখাতে পারব ইনশাআল্লাহ। এ সময় বেকার সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনাসমূহে তুলে ধরেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার যেভাবে বিএনপি সম্পর্কে যেসব মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতো, আমরা ইদানিং লক্ষ্য করছি- কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে গান গাইছে বা একই সুরে কতগুলো কথা বলার চেষ্টা করছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাদেরও তো দুইজন ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে সেই সময় সরকারে ছিলেন। এই দুজন ব্যক্তি পৃথিবীতে আর নেই, দুজনই সিনিয়র মানুষ, দুজনই সিনিয়র রাজনীতিবিদ ছিলেন, তারা গত হয়েছেন। কাজেই যে মানুষ নেই, তাদের সম্পর্কে অবশ্যই খারাপ কথা বলা উচিত নয়। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান রেখেই বলতে চাই- সেই দুইজন ব্যক্তির বিএনপি সরকারে শেষদিন পর্যন্ত থাকা যৌক্তিকভাবে দুইটি জিনিস প্রমাণ করে দেয়- এক. তাদের অবশ্যই পূর্ণ কনফিডেন্স ছিল খালেদা জিয়ার উপরে যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে- সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন। এখন তাদের দলের অন্য যে যত বড় বড় কথা বলুক না কেন, খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং দুর্নীতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে-এই আত্মবিশ্বাস তাদের মধ্যে ছিল। সেজন্যই তারা শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সাথে ছিলেন। আমরা অন্য কিছু বলতে চাই না।

তিনি বলেন, তাদের দলের (জামায়াত) কেউ কেউ বলে থাকে যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু অভিযোগ পাওয়া যায় না। স্বৈরাচারের সময় আমরা দেখেছি- কীভাবে আদালতকে ইনফ্লুয়েন্স করা হতো। কিন্তু স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পরে মোটামুটি আমরা বলতে পারি যে, আদালত এখন নিরপেক্ষ- নিরপেক্ষতা আমরা আশা করি। এই সেই নিরপেক্ষ আদালত থেকে আমরা দেখেছি, কারো বিরুদ্ধেই কোনো জিনিস প্রমাণিত হয়নি। এটি ছিল প্রোভাগান্ডা। আমাদেরকে আজকে এই উপসংহারে আসতে হবে যে, একমাত্র বিএনপি পেরেছিল দেশকে দুর্নীতি থেকে বের করে নিয়ে আসতে। ইনশাল্লাহ আগামী দিনেও বিএনপি পারবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানীং বলতে শুনি বা বিভিন্ন জায়গায় কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে- অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন, তাদেরকে তো দেশের মানুষ একাত্তর সালে দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লাখো মানুষকে হত্যা করেছে, ঠিক যেভাবে পতিত স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে হাজারো হাজারো মানুষকে হত্যা করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি, তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুট করেছিল- এই কথাটি আমাদেরক মনে রাখতে হবে।

ধর্মভিত্তিক একটি দলের জান্নাতের গ্যারেন্টি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি একটি রাজনৈতিক দলের কিছু ব্যক্তি বা বেশ কিছু বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জিনিসের কনফার্মেশন দিয়ে বেড়াচ্ছে। এখন আমি যতটুকু বুঝি, অনেক মুরুব্বি ব্যক্তি আছেন, বুজুর্গ ব্যক্তি আছেন ধর্মীয় বিষয়ে- আমি একজন সাধারণ নরমাল মুসলমান হিসেবে যতটুকু বুঝি- যা আমার না, আমি যদি তা দেবার কথা বলি অর্থাৎ যেটি আমার না, সেটির কমিটমেন্ট যদি করি- তাহলে আমি তার সাথে পাল্লা দিচ্ছি। দোজক-বেহেশত দুনিয়ার সবকিছুর মালিক আল্লাহ। যেটার মালিক আল্লাহ, যেটার কথা একমাত্র আল্লাহ তালাই বলতে পারে, সেখানে যদি আমি কিছু বলতে চাই- আমার নরমাল দৃষ্টিকোণ থেকে আমি বুঝি, সেটি হচ্ছে শিরিক। এটি হচ্ছে শিরিকের পর্যায়ে পড়ে।

ছাত্রদলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমাদের ঘরে ঘরে যেতে হবে এবং বলতে হবে- যারা এসব কথা বলে, তারা শিরিক করছে। আপনি যদি তাদের কথা শুনেন, আপনিও শিরিকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। যার অধিকার একমাত্র আল্লাহতালার, সেটি একমাত্র আল্লাহর অধিকার। কে কোথায় যাবে? কার ইহকালে কী হবে, পরকালে কী হবে- সেটির ডিসাইড করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। কাজেই যারা এসব কথা বলে, তারা ইনেমে শিরিক করছে। একজন মুসলমান হিসেবে আমি সেটাই বুঝি। এই কথাগুলো তোমাদের পৌঁছে দিতে হবে।

দেশকে গড়তে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য একটাই, কীভাবে দেশকে আমাদের গড়তে হবে। এই দেশকে শহীদ জিয়া গড়েছেন, ঠিক একইভাবে পরবর্তীতে নব্বইয়ে স্বৈরাচারের পতনের পরে এই দেশকে আবারো বেগম খালেদা জিয়া গড়েছিলেন। ২০০১ সালের পরে আবারও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে, দুর্নীতি নিমজ্জিত একটি দেশকে খালেদা জিয়া আবার উপরে উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আজ সারা দিন আমরা যেগুলো আলোচনা করেছি, সেগুলো যদি আমরা করতে পারি, তাহলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা সম্ভব। আগামীতে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা দেশ গড়ব।

তিনি বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না; আমরা চাই একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশের মানুষের দেশের ভেতরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে, শান্তিতে থাকবে। যেখানে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, দুর্নীতির লাগাম ধরতে আমরা সক্ষম হবো- সে রকম একটি বাংলাদেশ চাই।

এ সময় দেশ গড়ার এই পরিকল্পনা সফল করতে ছাত্রদলকে মানুষের ঘরে ঘরে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অনেক সময় লাগবে, কষ্ট হবে; অনেক কঠিন, অনেক শত্রু আছে- যারা আমাদের বাধা দিবে, কিন্তু এই দেশের মানুষকে কেউ বাধা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইনশআল্লাহ দেশ গড়ার পরিকল্পনার কাজ যখন আমরা শুরু করব বাংলাদেশের মানুষের রায় নিয়ে, তখনও ইনশআল্লাহ কেউ আমাদেরকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তোমাদের সকলকে যেতে হবে মানুষের দৌড়গোড়ায়, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির জিয়া উদ্দিন হায়দার, আবদুল মজিদ, আমিনুল হক, মীর শাহে আলম, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব, নাছির উদ্দীন নাছির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন আলোচকরা।




‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

সরকারকে সংবিধান সংশোধনের পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। 


তিনি বলেছেন, ‘আরেকটা সংশোধন করবেন? একটা আদালত এইটাকে একদম হোয়াইটওয়াশ করে দেবে।...এই পণ্ডশ্রমে এবং অতীতের ভুল ধারায় চলতে আমরা অভ্যস্ত নই, আমরা রাজি নই। এই জন্যই আমরা সংস্কার চাই।’


জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।


সরকারি দলের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আপনারা এখন সংবিধান খোঁজেন কেন? সংবিধান খুঁজতে তো সাড়ে ১৫ বছর সরকারের সদয় অনুমতি নিয়ে কিছু মিটিং আর মিছিল করেছেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদকে তো তাড়াতে পারেননি। আমরাও পারি নাই, আপনারাও পারেন নাই। এটা রিয়েলিটি।’


ক্ষমতায় গিয়ে বিএনপি অতীত ভুলে গেছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। সংবিধান সংশোধনের মনোভাব থেকে সরকারকে বের হয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই সংবিধান ফ্যাসিবাদের জন্মই শুধু দেয়নি, ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী রূপ দিতে চেয়েছিল।


জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে আপত্তি জানিয়ে বিএনপি অনেক বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল। যেসব বিষয়ে আপত্তি নেই, সেগুলোও এখন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।


জামায়াতের আমিরের দাবি, বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। বরং দেশে-বিদেশে দলটির লোকজনকে ‘না’ ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে জনগণের রায়ে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।


সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটিতে বিরোধী দলকে আলোচনার আহ্বান জানানোর সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তারা (সরকারি দল) ৭০ ভাগ জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করেছে। বিরোধী দল সেটি করবে না। সরকার এই গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য হবে।


বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার অভিযোগও করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি ইনিয়ে-বিনিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের এক গডফাদার এ কথা বলেছে। বিএনপির নাটোরের এক এমপি নির্বাচনে তাঁদের সফলতার জন্য আওয়ামী লীগের লোকজনকে ধন্যবাদও দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ ঠেকাতে না পারলে সরকারের দেশ পরিচালনার যোগ্যতা নেই।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একদিকে সরকার বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে, অন্যদিকে করের বোঝা ও দুর্নীতির কারণে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রবাস থেকে ফিরে আসা মানুষদের পুনর্বাসন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোর কার্যকর পরিকল্পনা সরকারের নেই।


চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, পঞ্চগড়ে কৃষকেরা চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি করে। কিন্তু ঢাকায় সেই লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।


রাজধানীর মিরপুরের বেসরকারি মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদত্যাগই যথেষ্ট নয়, তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে।


সরকার পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর ইনিয়ে-বিনিয়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান।


বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের উদ্বেগের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, লংমার্চে জনসমর্থন নেই বলে দাবি করা হলেও এ কর্মসূচি নিয়ে সরকার এত উদ্বিগ্ন কেন, সেই প্রশ্ন রয়েছে। বিরোধী দলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া বা তাদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করার আহ্বান জানান তিনি।


জামায়াতের আমির বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খেলে তাঁর আপত্তি নেই। তবে সাধারণ মানুষ যাতে স্বস্তিতে দুই বেলা খেতে পারে, শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সরকারকে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, তারেক রহমানকে অতীত থেকে সবক নিতে হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজনের কারণেই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। চারদিকে যুদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী জয়লাভ করতে পারবেন না। জনগণের স্বার্থে অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও গণভোটের রায়ের পরও সরকার সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো অস্বীকার করতে চায় বলে অভিযোগ করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, যেসব প্রস্তাবে তারা (বিএনপি) একমত ছিল, সেগুলোও এখন মানতে চায় না। বিএনপি সংস্কারের কোনো এজেন্ডাকেই বাস্তবায়ন করতে চায় না। এখন তারা পেছনে ফিরে যাওয়ার বাহানা খুঁজছে। একপেশে, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান করতে হবে।


জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। এ জন্য তারা আবোলতাবোল বলে, জাতিকে ভুল বুঝিয়ে কোনো রকম টিকে থাকার অপচেষ্টা করছে। বিশেষ কমিটির নামে সংবিধান সংশোধনের অপচেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই সনদের সঙ্গে যায় না, এমন নতুন নতুন ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।


আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিন, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, এবি পার্টির সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. হাসান নাসির, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, আইনজীবী এএসএম শাহরিয়ার কবির, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম প্রমুখ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

আত্মপ্রকাশের সাড়ে সাত মাসের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।


এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে মনিরা শারমিনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আহ্বায়কের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতুকে। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন সদস্যসচিব। আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন মুখ্য সংগঠক (তৃতীয় শীর্ষ পদ)।


আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পর এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নারীশক্তির তিন সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য মাহমুদা ও নুসরাতের সঙ্গে সংগঠনটির (নারীশক্তি) মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনজিলা ঝুমাকে।


গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ করে। প্রথমে সংগঠনের আহ্বায়ক পদে মনিরা, সদস্যসচিব পদে মাহমুদা ও মুখ্য সংগঠক পদে নুসরাতের নাম ঘোষণা করা হয়।


এরপর গত ১৮ এপ্রিল সংগঠনের ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আজ সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ জাতীয় নারীশক্তির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদন করা হলো। এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।


গত এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রথমে মনিরা ও মাহমুদার নাম দলীয়ভাবে চূড়ান্ত করেছিল এনসিপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে মনিরার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নুসরাতও সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। 


তবে নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দিতে যাওয়ায় প্রথমে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ইসি। শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হন।


‘এটি দলের সিদ্ধান্ত’


মনিরা নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেও তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। মাহমুদা ও নুসরাতও এনসিপিতে একই পদে রয়েছেন। আর মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পাওয়া মনজিলা এনসিপির স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক।


নারীশক্তির দায়িত্ব ছাড়তে মনিরা নিজ থেকেই এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। 


সূত্রের ভাষ্য, মনিরার সঙ্গে মাহমুদা ও নুসরাতের সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছিল না। এর কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরা বলেন, ‘এটি দলের সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে আমাকে হয়তো অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের দুজন নারী সংসদ সদস্য নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন। তাঁদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

আত্মপ্রকাশের সাড়ে সাত মাসের মাথায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।


এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে মনিরা শারমিনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আহ্বায়কের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতুকে। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন সদস্যসচিব। আর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম। তিনি আগের কমিটিতে ছিলেন মুখ্য সংগঠক (তৃতীয় শীর্ষ পদ)।


আজ রোববার দুপুর সোয়া ১২টার পর এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নারীশক্তির তিন সদস্যের নতুন আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে এনসিপির সংরক্ষিত নারী আসনের দুই সংসদ সদস্য মাহমুদা ও নুসরাতের সঙ্গে সংগঠনটির (নারীশক্তি) মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনজিলা ঝুমাকে।


গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ করে। প্রথমে সংগঠনের আহ্বায়ক পদে মনিরা, সদস্যসচিব পদে মাহমুদা ও মুখ্য সংগঠক পদে নুসরাতের নাম ঘোষণা করা হয়।


এরপর গত ১৮ এপ্রিল সংগঠনের ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। আজ সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হলো। এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ জাতীয় নারীশক্তির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদন করা হলো। এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।


গত এপ্রিলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রথমে মনিরা ও মাহমুদার নাম দলীয়ভাবে চূড়ান্ত করেছিল এনসিপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বাছাইয়ে মনিরার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নুসরাতও সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। 


তবে নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দিতে যাওয়ায় প্রথমে তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ইসি। শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হন।


‘এটি দলের সিদ্ধান্ত’


মনিরা নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেও তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। মাহমুদা ও নুসরাতও এনসিপিতে একই পদে রয়েছেন। আর মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পাওয়া মনজিলা এনসিপির স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক।


নারীশক্তির দায়িত্ব ছাড়তে মনিরা নিজ থেকেই এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। 


সূত্রের ভাষ্য, মনিরার সঙ্গে মাহমুদা ও নুসরাতের সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছিল না। এর কারণে সংগঠনের কার্যক্রমে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরা বলেন, ‘এটি দলের সিদ্ধান্ত। দলের পক্ষ থেকে আমাকে হয়তো অন্য কোনো দায়িত্বের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের দুজন নারী সংসদ সদস্য নারীশক্তির শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন। তাঁদের প্রতি আমার শুভকামনা থাকবে।’


জামায়াতে ইসলামী লোগো

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৭ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার রবিবার (২৫ অক্টোবর) প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে লগি-বৈঠার নজিরবিহীন তাণ্ডব ও নৃসংশতা ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও কালো অধ্যায়। 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেদিনের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়েই দেশে দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদ, গণতন্ত্র হত্যা ও নাগরিক অধিকার হরণের বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিল।


তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই ঘটনার দুই দশক পূর্তি হতে চলছে। আজও হত্যাকারীদের বিচার হয়নি যা খুবই দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এই পৈশাচিক ও বর্বর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।


মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সংগঠন এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভা। এতে সম্মানিত আমীরে জামায়াত প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এবং ২৮ অক্টোবর সারাদেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া।


জামায়াতের সকল শাখাকে এ দিবস উপলক্ষে উক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের জন্য আহবান জানানো হয়েছে এবং ঘোষিত কর্মসূচি সার্বিকভাবে সফল করতে আমরা দেশের কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।


জাইমা জারনাজ রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ এএম

ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান (জাইমা রহমান) একজন আইনজীবী এবং জাতিসংঘের একজন আইন কর্মকর্তা (লিগ্যাল অফিসার)। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।


আজ ২৫ অক্টোবর, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন। ১৯৯৫ সালের এই দিনে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়া এই তরুণী আজ কেবল একটি বর্ণাঢ্য পরিবারের উত্তরসূরি নন; বরং নিজস্ব মেধা, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে চলেছেন। জন্মদিন মানেই জীবনের আরেকটি বসন্ত পেরিয়ে নতুন দিগন্তে পদার্পণ।


জীবনের নতুন এই বছরে পদার্পণ মুহূর্তে শুভানুধ্যায়ীদের প্রত্যাশা- মেধা, আত্মপ্রত্যয় ও মানবিক মূল্যবোধের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান আগামী দিনে আইন, সমাজ ও বিশ্বমঞ্চে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন। শুভ জন্মদিন, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান!


বর্ণাঢ্য পারিবারিক ঐতিহ্য:


জাইমা রহমানের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত প্রভাবশালী এক পরিবারে । তিনি বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র কন্যা। তার দাদা ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান এবং দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমান বেগম খালেদা জিয়া। তার নানা মরহুম রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান। যিনি পরবর্তীতে তৎকালীন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও ছিলেন। পারিবারিক এই ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক আবহের মধ্যে বড় হলেও জাইমা রহমান নিজের পথটি বেছে নিয়েছেন আইন ও জনসেবার অঙ্গনে।


শিক্ষা ও আইনি সাফল্যের সিঁড়ি:


ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের ৬ নম্বর বাড়িতে এক ভিন্ন আবহে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা তারেক রহমান গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাবার সাথে ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান। সেই থেকেই তিনি পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে অবস্থান করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি তার বাবা-মায়ের সাথে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।


জাইমা যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় পড়াশোনা করেন। শৈশব থেকেই শিক্ষার প্রতি জাইমা রহমানের ছিল গভীর অনুরাগ। তিনি যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত ‘কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে আইনে স্নাতক (এলএলবি) সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান ‘ইনার টেম্পল’ থেকে ২০১৯ সালে অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত ‘বার-অ্যাট-ল’ (ব্যারিস্টার) ডিগ্রি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশীয় আইনি ব্যবস্থার সাথে নিজেকে যুক্ত করতে ২০২৬ সালের জুন মাসে তিনি সফলতার সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।


বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে জাতিসংঘের অলিন্দে: 


জানা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ৭৩তম ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন জাইমা রহমান। তিন সদস্যের এই বিএনপি প্রতিনিধিদলে তার সঙ্গে দলের তৎকালিন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন। ওই সফরের সময় জাইমা রহমান দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রাক্তন গভর্নর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রো এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান রেবেকা ওয়াগনারের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে জাইমা রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ।


২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সভায় প্রথমবারের মতো যোগ দেন, সেখানে দলীয় নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং রুহুল কবির রিজভী, ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের একটি দলও উপস্থিত ছিলেন। পেশাগত জীবনের সূচনায় জাইমা রহমান দেশের অন্যতম সেরা ল’ ফার্ম 'সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস'-এ কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞার সাথে সাংবিধানিক আইন, করপোরেট ও বাণিজ্যিক বিষয়াবলি এবং কর সংক্রান্ত জটিল সব আইনি ইস্যু পরিচালনা করেন। আইনপেশায় এই দক্ষতা তাঁকে পৌঁছে দেয় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আইনি কাঠামোর সর্বোচ্চ চূড়ায়।


২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে 'লিগ্যাল অফিসার' (আইন কর্মকর্তা) হিসেবে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি সভাপতির এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয়াবলি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তদারকি করছেন।


মানবিক সত্তা ও নতুন দিনের স্বপ্ন: 


পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি জাইমা রহমানের হৃদয়জুড়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমতা। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিয়োজিত বাংলাদেশের স্বনামধন্য সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা 'সুরভী'-র পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি তৈরি, বিচারপ্রার্থী মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ সমতা এবং আধুনিক ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো দূরদর্শী বিষয়ে কাজ করার প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।


হেফাজতে ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

পাবনা সদরের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে আটক করে।


এই পরিস্থিতির পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নিপীড়ন বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, ঠিক তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।


শনিবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমকে এই বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও নীতিভ্রষ্টতার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই অবস্থান ব্যক্ত করল। উল্লেখ্য, বেশ কিছু কওমি ও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে।


বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা সুস্পষ্টভাবে জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশু নির্যাতনের বিষয়টিকে একটি ‘পুরোনো সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা সমাজের অন্যান্য স্থানেও কম-বেশি এই সমস্যাটি বিদ্যমান রয়েছে।


নিজস্ব কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ দেশের ৬টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড এবং তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশাবলী জারি করেছে।


উক্ত নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্যাতন বা অনৈতিক আচরণের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডগুলোতে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সেল এবং সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে এই সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাওয়া গেলে কিংবা অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেই মাদ্রাসার অধিভুক্তি বা সনদ স্থগিত অথবা বাতিল করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


পরিশেষে হেফাজত নেতারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্কুল-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নিরাপত্তা নীতি অনুসরণের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ধরনের নৈতিক পদস্খলনের জন্য দোষীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি—উভয় ধরনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শিথিলতা বা আপস করা হবে না।