মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতা শফিকুর রহমান
গণভোটসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে ক্ষমতাসীন বিএনপি ‘ভুল পথে এগোচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দলটির শীর্ষ নেতা এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানাব, আসুন, ভুল মানুষই করে, আমরাও করতে পারি। জাতি মনে করে স্পষ্টত আপনারা এগুলা ভুলের মধ্যে লিপ্ত আছেন। আপনারা ভুল থেকে বের হয়ে আসেন। প্রথমে গণভোটের গণনায়কে মেনে নিন। তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন।
“আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব এটা বাস্তবায়নের জন্য। এরপরে যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল ফ্যাসিজম থেকে দেশের শাসন ব্যবস্থাকে মুক্ত করার জন্য, সেইগুলো আপনারা কথা দিয়েছেন বিল আকারে আনবেন। সেসব বিল জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে আনেন।”
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বলব, যেভাবে ওই অধ্যাদেশে ছিল, তার চাইতে চুল পরিমাণ পিছনে যেন না যায়। সামনে আগানোর যদি কিছু থাকে, সেটাকে আমাদের সাধুবাদ।
“কিন্তু জনগণের পরে ফ্যাসিজম কায়েম করার জন্য সামান্য কোনো ময়লা আবর্জনা যদি থাকে, সেটা আমরা মানব না।”
সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “মাননীয় স্পিকারকে ধন্যবাদ, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে একজন বলেছিলেন যে সমাজে অনেক ময়লা আছে, এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। তিনি (স্পিকার) বলেছিলেন, সমাজ পরিচ্ছন্ন আছে, ময়লা ‘এখানে’ আছে। এই জায়গা পরিষ্কার হয়ে গেলে সমাজও পরিষ্কার হয়ে যায়।”
“উই ডু বিলিভ; আমরা এটা সাপোর্ট করি। এই সংসদের তিনশ জন মানুষের মন যদি দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়, দায়িত্বশীল হয়ে যায়, বাংলাদেশ বদলে যাবে ইনশাল্লাহ।”
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর এই জেলা আমির সম্মেলন হয়।
‘জনগণের সাথে প্রতারণা’
শফিকুর রহমান বলেন, “বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সুস্থ রাজনীতির ধারা অব্যাহত রাখতেই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি। জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে।”
তার দাবি, গত নির্বাচনে কীভাবে ‘কারচুপি’ করা হয়েছে, তা সাবেক একজন উপদেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের একজন মন্ত্রীর বক্তব্যেই ‘স্পষ্ট’ হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবিধানে ইচ্ছামত সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায় বিএনপি সরকার। সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য।
“গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানে অগণতান্ত্রিক দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।”
জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও রাজপথে ‘জনগণের এজেন্ডা নিয়ে’ সরব থাকবে জানিয়ে দলটির আমির বলেন, “দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণকে গর্জে উঠতে হবে৷ আমরা জনগণের পাশে থাকব।”
‘রাজনীতির সংস্কৃতি পাল্টাতে হবে’
শফিকুর রহমান বলেন, “রাজনীতির সেই স্লোগান কে মানে, কে মানে না–ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আর আমরা কার্যত দেখতে পাই, দেশের চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। এই চরিত্রকে পাল্টাতে হবে।
“রাজনীতির এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে ইনশাল্লাহ আর চলতে দেওয়া হবে না। যেখানে এই সংস্কৃতির চর্চা চলবে, সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করব। জনগণের সাথে হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করব ইনশাল্লাহ।”
সংসদে সংকট নিয়ে আলোচনা চাই’
ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “আসুন, সংকটকালে লুকোচুরি নয়। আমরা বারবার নোটিস দিয়েছি এই নোটিসগুলো আলোচনায় আসে না। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সংকট, সার সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি–এগুলো নিয়ে আলোচনা করি। সরকারি দলের এগুলো আলোচনা করা পছন্দ না। শুধু লোকচুরি।
“ভাই, এগুলা তো সব আপনাদের সৃষ্টি না। এটা গ্লোবাল প্রবলেমের কারণে তৈরি হয়েছে। আমরা বুঝি না এগুলা? আমরা তো মানুষ। আমরা খোলা মনেই তো… সবাই চাই সমাধান বের হয়ে আসুক। আমরা এখনো আহ্বান জানাব, সংসদে, সংসদের বাইরে, আসুন খোলামনে আলোচনা করে জাতীয় সংকট উত্তোরণে আমরা একসাথে কাজ করি।”
‘মাগুরা থেকে বগুড়া’
সম্প্রতি বগুড়ার উপ নির্বাচন এবং শেরপুরের সাধারণ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
তিনি বলেন, “এ দেশ তো আমাদের দেশ। এর মাঝে আরো দুই বিপত্তি ঘটে গেছে–বগুড়া এবং শেরপুর। এখন লোকরা বলে ছিয়ানব্বইতে মাগুরা, আর ছাব্বিশে এসে বগুড়া।
“কেন রে ভাই, দরকার আর কী ছিল? ফেয়ার ইলেকশন করে আপনারাই জিতেন, না হয় আমরাই জিতি। গণরায়টাকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু সেখানে দেখেছেন কী ঘটনা ঘটেছে? আমি ভাই লজ্জিত।”
কিছু গণমাধ্যম প্রসঙ্গে
নির্বাচনের খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে নাম না নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেছেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “কিছু মিডিয়া, আমি সবার কথা বলছি না, ‘অমুক ভাই তিনগুণ ভোটে বিজয়ী হয়েছে’। ভাই আপনিও তো সেখানে ছিলেন, মানে আপনার একজন বন্ধু সেখানে ছিল। খোলা চোখে আপনি দেখেন নাই সেখানে কি হয়েছে? সবই দেখেছে। একদম সিলমারা ব্যালট এবং এজেন্টকে ধরে আপনাদের সামনেই তো আপনাদের মাধ্যমে তো জাতির সামনে নিয়ে এসেছি।
“তারপরে আপনারা (কিছু গণমাধ্যম) কেমনে বলেন রে ভাই। সবাই না, যারা এরকম করেছেন, তাদের ব্যাপারে আমি লজ্জিত, তারা লজ্জিত কিনা আমি জানিনা। লজ্জিত হওয়া উচিত ।”
শফিকুর রহমান বলেন, “এই অঙ্গনের আলহামদুলিল্লাহ সুনাম অক্ষুণ্ন থাকুক আমরা চাই। আমরা বরাবর বলেছি, সাদাকে সাদা বলুন, কালোকে কালো বলুন। আমি কালো হলে আমাকে বলে দেন, অসুবিধা নেই। কিন্তু আমার সাদাটাকে মেহেরবানী করে বাদামী এবং কালো বানাতে যাইয়েন না। এটা ভালো জিনিস না।
“টুকরা টুকরা কাট-পিস এখান থেকে ওখানে… আজকেও কী করবেন আপনার আল্লাহই জানে। আশা করি আজকে ইনসাফ করবেন। কেউ এই কাজ করবেন না। দিলে পুরাটা দিবেন। না দিলে পুরাটা ফেলে দিয়েন–এটা আপনাদের ব্যাপার। কিন্তু আপনাদের মত করে আমাদের বক্তব্যটাকে ভাই বৈজ্ঞানিক আকারে উপস্থাপন করবেন না। আমরা সাদাসিধা মানুষ ভাই, সাদাসিধা বক্তব্য এগুলো, সাদাসিধা ভাবেই, স্পষ্টভাবে আপনারা তুলে ধরবেন, এটা আপনাদের কাছে আমাদের বিনয়ী আহ্বান।”
‘কালো রাতের অবসান হবে’
শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব। দেশবাসী, অধিকার কেউ আপনাকে ঘরে এনে দেবে না। বলবেন–‘আর কত ত্যাগ’? হ্যাঁ ত্যাগের রাস্তায় বোধহয় আরো কিছুদূর আমাদের চলতে হবে এবং কালো রাতের অবসান ঘটবে ইনশাল্লাহ।
“কে বাঁচব, কে মরব জানি না, কোন দল ক্ষমতায় আসবে কোন দল ক্ষমতা থেকে যাবে তাও জানি না। কিন্তু এটা জানি যে মহান আল্লাহ, তিনি কখনো তার সৃষ্টির প্রতি অবিচার করেন না। সুতরাং সুবিচার পাব, সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাল্লাহ।”
‘আগামী ফ্যাসিজম আরও ভয়াবহ হবে’
বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আবার কেন সেই পুরানা সংস্কৃতিতে ফিরে যাব?... এগুলো যখন বিদ্যমান থাকবে, আমরা আশঙ্কা করছি, অতীতের ফ্যাসিজমের চাইতে আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরো ভয়াবহ।
“এইজন্য আমরা বলতে বাধ্য হয়েছি, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন ফ্যাসিজমের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল্যবোধ হচ্ছে, মানুষের অধিকাংশের রায়কে সম্মান করা; আর এখানে অধিকাংশের রায়কে করা হল অপমান।”
তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পে লাইনের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের ‘ব্যর্থতার’ কঠোর সমালোচনা করেন জামায়াত প্রধান।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ যেসব উদ্যোগ বিএনপি সরকার নিয়েছে, সে প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, “ভালো সেটা দেন। সেটা যদি রাষ্ট্রের পর্যাপ্ত রেভিনিউ থাকে, দেবেন না কেন? কল্যাণে ব্যয় করেন। কারণ টাকা তো নিজের না।
“সেখানে দলীয়করণ, আবার সেখানে গিয়ে অনেক ঘটনা ইতোমধ্যে ঘটে গেছে, আপনারা দেখেছেন। এক বিধবা, তাকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার জীবনটাই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। একটা কেইস এসেছে, বাকিটা হয়ত লজ্জায় মুখ বুঝে আছে। জানি না এরকম হয়েছে কিনা আল্লাহ ভালো জানে।”
তিনি বলেন, “চাঁদাবাজির রেট আগের চাইতে এখন দিন দিন সব সেক্টরে বাড়তেছে। অতিষ্ঠ জনগণ, দ্রব্যমূল্যের যাতাকলে পিষ্ট দুই কারণে। একটা জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ, আরেকটা হচ্ছে বাড়তি চাঁদার চাপ। এই সবটুকু এসে সাধারণ জনগণের, খেটে খাওয়া মানুষের ঘাড়ে চাপতেছে।
“একটা সরকার, জনগণের জন্য তার একটু দুঃখ, দরদ, দায় থাকবে না, এরকম চলে? কি করলেন আপনারা? অথচ আপনারা বলেছিলেন যে, আপনারা দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবেন। আমরা বুঝতে পারছি না কার টুটি চেপে ধরা হয়েছে। হ্যাঁ, আমরা দুইটা জায়গায় টুঁটি চেপে ধরা দেখতে পাচ্ছি। একটা মিডিয়া; মিডিয়াকে সত্য প্রকাশে বারণ করা হচ্ছে, স্পষ্টত আমরা দেখতে পাচ্ছি। আরেকটা সমাজের বিভিন্ন জায়গায় ভালো মানুষগুলো, তাদের টুটি এখন সেলাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, এইভাবে কারো টুটি দীর্ঘদিন বা চিরদিন বন্ধ করে রাখা যায় না।”
জেলা আমির সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামসহ নায়েবে আমির ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন
বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। এসব লোকের সঙ্গে কোনো বিএনপির নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর কোতোয়ালী থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করতে নিয়মিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন থেকে নিয়মিত সব নেতাকর্মীকে নিয়ে এক টেবিলে বসব এবং দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করব।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন, বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজি, মাদক এবং দখলের বিরুদ্ধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে তা বাস্তবায়ন কঠিন।
সরকার ও বিএনপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে দলের প্রকৃত নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশকারী ও দলের নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করা ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণের যে চাওয়া-পাওয়া, সেই বিষয়গুলোকে কীভাবে ধারণ করে একটি সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হয়—সেই বিষয়গুলো আমরা ধারণ করব। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এ এলাকার ১১টি ওয়ার্ডের সব দায়-দায়িত্ব আমার। এখানে ভালো কিছু হলে যেমন আমার সুনাম হয়, ঠিক তেমনি ব্যর্থতার গ্লানিও আমাকেই বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করিনি। বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিগত ১৭ বছরে যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে স্বাধীন, উন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে সদরঘাটে হত্যাকাণ্ডের মতো গর্হিত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে, এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, যারা জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
সভায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ফরহাদ রানার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, যুগ্ম আহ্বায়ক সুরাইয়া বেগমসহ কোতোয়ালী থানার ওসি এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ইসলামপন্থি সাত দল ও হেফাজতে ইসলামের লোগো
কওমি ধারার সাত ইসলামী দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব সমন্বয়ের একটি ধাপ শেষ হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের পৃথক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করেছে। এখন সেই ‘রূপরেখা’ সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষা।
তবে ঐক্যটি কী ধরনের হবে, কী কাঠামোয় এগোবে এবং রাজনৈতিকভাবে দলগুলো কতটা সমন্বিত থাকবে-এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, তা জানতে আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহর সঙ্গে কথা বলা হয়।
এ সময় তিনি জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি সমন্বিত ‘রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে।
মুফতি বশিরুল্লাহ বলেন, ‘হেফাজতের উদ্যোগে গঠিত উপকমিটি সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে বৈঠক করেছে। হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সাত দলের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটা সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।’
পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে সাত দলের নেতাদের ডাকা হবে। এরপর তাদের দেওয়া পৃথক প্রস্তাবনাগুলো থেকে তৈরি সমন্বিত রূপরেখাটি তাদের সামনে পেশ করা হবে। সব দল একসঙ্গে বসে নিজেদের ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
দলগুলোর অবস্থান কী?
হেফাজতের পক্ষ থেকে সাত দলের প্রস্তাব সমন্বয় করে সমন্বিত রূপরেখা তৈরির কথা জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দলের নেতারা বলছেন, তারা উপকমিটির সর্বশেষ বৈঠক ও এর ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন।
তবে ঐক্যের বিষয়ে তাদের ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। মূল পার্থক্য ঐক্যটি কী ধরনের হবে এবং দলগুলো কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখবে, তা নিয়ে।
খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, ‘হেফাজতের সর্বশেষ যে উপকমিটির বৈঠকের কথা আপনি বলছেন, সেটার রেজাল্ট আমরা জানি না। আশা করি, ওনারা সুন্দরভাবে সমন্বয় করবেন। প্রয়োজন হলে আমাদের ডাকবেন। খেলাফত মজলিস একটি সুন্দর ঐক্য চায়। স্বতন্ত্র ঐক্যের প্রত্যাশা করে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছি। যারা ঐক্য প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের প্রতি আমাদের ভরসা আছে। আশা করছি, তারা ইসলামী দলগুলোকে কাছাকাছি আনার ব্যাপারে এবং একটি কার্যকর ঐক্য গড়ার ব্যাপারে সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবেন।’
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রস্তাবনাগুলো জমা দিয়েছি। এখন পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। আহলু সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শ ধারণ করে আমরা সবসময় ঐক্য পক্রিয়ার পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি। সবসময় থাকব। আশা করি আমাদের অন্য ভাইয়েরাও এই বিষয়ে দ্বিমত করবেন না।’
ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী বলেন, ‘উপকমিটির বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা অবগত নই। তবে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায়। সুন্দর ঐক্যের অপেক্ষায়। আমরা চাই, মৌলিক বিষয়গুলোতে সবাই ঐকমত্য পোষণ করে একসঙ্গে জোটবদ্ধ হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘সাত দলের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে হেফাজতের সর্বশেষ উপকমিটির বৈঠকের বিষয়টি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না। তবে আমরা তো এই ঐক্যের পক্ষে। আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের প্রস্তাবগুলো হেফাজত নেতৃবৃন্দ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রূপরেখা তৈরি করবেন।’
প্রস্তাবনায় পার্থক্য কোথায়?
সাত দলের প্রস্তাবগুলোতে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের বিরোধ না থাকলেও ঐক্যের ধরন, রাজনৈতিক কর্মকৌশল ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে।
হাতে আসা সাত দলের প্রস্তাবনাগুলোর কয়েকটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সাত দলের ঐক্য, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বিতভাবে অংশ নেওয়া এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নীতি ও আদর্শের ওপর অবিচল থাকা, আদর্শিক মতপার্থক্য এড়িয়ে চলা এবং একটি বিশেষ ফোরামের মাধ্যমে ঐক্যের কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সমমনা কওমিপন্থি দলগুলোর ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে প্রতিটি দলের নিজস্ব এখতিয়ার থাকার পক্ষে। দলটি বর্তমান ১১ দলীয় জোটে থাকার বিষয়টিকেও এই ঐক্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করছে না।
মাওলানা আতাউল্লাহ আমিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সমমনা ইসলামী দলগুলো অন্য জোটে থেকেও একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে, খেলাফত মজলিস চাইছে নতুন ঐক্যে যুক্ত দলগুলো অন্য কোনো জোটে একসঙ্গে না থাকুক। একই সঙ্গে দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশল নিজেরাই নির্ধারণ করবে-এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সমমনা দলগুলোর আদলে ঐক্যের কথা বলেছে। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ দলগুলোকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার বিষয়টি প্রস্তাব করেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে নতুন ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য বড় রাজনৈতিক দল বা জোটের সংস্রব ত্যাগ করে নতুন জোটে যুক্ত হওয়া, পর্যায়ক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া এবং সমন্বয় কমিটি বা মজলিসে শূরার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে।
ইসলামী ঐক্যজোট ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে কেউ এই আকিদা লঙ্ঘন করলে তাকে ঐক্যে রাখা যাবে না-এমন অবস্থানও জানিয়েছে দলটি।
যেভাবে শুরু ঐক্য প্রক্রিয়া
কওমি ধারার সাত ইসলামী দলকে একসঙ্গে পথ চলার উদ্যোগ নেয় হেফাজতে ইসলাম। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সাত দলকে নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাত দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয় দলগুলো।
মূলত সাধারণ জোটের বাইরে ইসলামপন্থিদের স্বতন্ত্র একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে দলগুলোকে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে ৩ আগস্টের মধ্যে জোট গঠনের রূপরেখা জমা দিতে বলা হয়। প্রায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাত দলই তাদের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে।
দলগুলোর দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য হেফাজতের উদ্যোগে সাত সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয়।
সামনে কী?
উপকমিটির বৈঠকে সাত দলের প্রস্তাবগুলো সমন্বয় করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করা হয়েছে।
তবে সেটি এখনো সাত দলের নেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরার পর সাত দলের নেতাদের ডাকার কথা জানিয়েছেন মুফতি বশিরুল্লাহ।
ওই বৈঠকে ‘সমন্বিত রূপরেখা’ দলগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাত দল নিজেদের প্রস্তাব ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে ঐক্য প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
ফলে সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া এখন পৃথক প্রস্তাব দেওয়া ও সেগুলো সমন্বয়ের ধাপ পেরিয়ে যৌথ আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে ঐক্যের ধরন, সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে দলগুলোর প্রস্তাবে যে ভিন্নতা রয়েছে, তা পরবর্তী বৈঠকে কীভাবে সমাধান হয়- সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও এনসিপির লোগো।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বর্বর হামলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং তার সঙ্গে থাকা নিরপরাধ নারী ও শিশুকে আঘাত করার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ, ধিক্কার ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুম চালিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দেশ থেকে পালিয়ে এখন বিদেশের মাটিতে বসে দেশের জুলাই যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ভেনিসে একজন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার মতো জঘন্য অপরাধ প্রমাণ করে যে, তাদের হিংস্র খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেনিসে উপস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসীরাই এই হামলা চালিয়েছে। তার সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্যাডাররাই মূলত ভেনিসের মাটিতে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিদেশে অবস্থানরত পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদ ও উস্কানিতেই এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের এই অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আবার প্রমাণ করে দিল যে, এই রক্তচোষা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয়। যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাই যোদ্ধাদের রক্তাক্ত করতে দ্বিধা করে না, তাদের স্থান কেবল আইনের কাঠগড়ায়। স্বৈরাচার পতন ঘটানো জুলাই যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় সম্পদ; বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাসী এই সংগঠনের ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা চালানোর যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।
বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে বলেন, ইতালিয়ান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই হামলায় জড়িত চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থানরত সকল জুলাই যোদ্ধা, প্রবাসী বিপ্লবী কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসের এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের কূটনৈতিক ও আইনি মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে কঠিন জবাব দিতে হবে। এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব মঞ্চে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
প্রসঙ্গত, ইতালির মেস্ত্রে শহরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা লাইভে তিনি এ অভিযোগ করেন।
যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রবাসী কর্মীদের জড়িয়ে এই হামলার অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ‘ফিজিক্যালি হ্যারাস’ করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর লোগো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মু. আবু বকর সিদ্দিকী শিপলুকে আহ্বায়ক ও মো. আল-আমীন মিয়াকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সাতজনকে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. কে. এম. আই. মন্টি এই কমিটির অনুমোদন দেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাকিবুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য: কমিটিতে উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন সাতজন। তারা হলেন-
মো. ওবায়দুল হক (নিবাহী পরিচালক অব.)
মো. মোকসুদুজ্জামান (নিবাহী পরিচালক)
মো. শহীদ রেজা (পরিচালক)
স্বপন কুমার গোস্বামী (পরিচালক)
মো. সালাউদ্দিন তপাদার (অতিরিক্ত পরিচালক)
মোহাম্মদ জাকির হোসেন (অতিরিক্ত পরিচালক)
মো. মনজুর মোর্শেদ (অতিরিক্ত পরিচালক অব.)
আহ্বায়ক কমিটি
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা হলেন-
মু. আবু বকর সিদ্দিকী (শিপলু) (আহ্বায়ক)
এম. মাহবুবুর রহমান (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. মোশাররফ হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. শামস তিবরীজ ভুইয়া (যুগ্ম আহ্বায়ক)
শফিউল আযম ফাহিম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. হাবিবুর রহমান (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আশরাফুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
আসমা বেগম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আলী হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আল-আমীন মিয়া (সদস্য সচিব)
এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন-
মো. রাজু আহমেদ
নূরে আলম জিকু
মো. গোলাম রাব্বী তানভীর
আবদুল্লাহ আল মামুন
জি এম আপেল মাহমুদ
মাহবুব মোর্শেদ
ওয়াসি আহমেদ ইভান
ইসমাইল হাসান
শাহ মো. নেওয়াজ শরীফ
মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার
মো. আলী আসগর
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মুন্না
মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন যান
মো. হানিফুল ইসলাম
মো. তানজীল হোসেন পলক
শাকিলা সুলতানা
শারমীন সুলতানা তুষা
সাহেলী নার্গিস
মো. শাহীন আলম
মো. এনামুল হক
ড. তানজিমা বেগম মণি
মো. আব্দুল হালিম
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
মো. শাহজালাল খান
মো. রেজোয়ানুর রহমান
মো. ওমর ফারুক
শায়মা সিদ্দিকী শর্মী
কেশব চন্দ্র শীল
মো. মামুন-উর-রশিদ
আনাস আরাবী
মাহাতীর মো. আবু রায়হান
মো. মাসুম রানা
মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ
মো. এনায়েতউল্লাহ
মো. আলাউদ্দিন
মো. আক্তার হোসেন খান
মো. বাকির ভূঁইয়া
মো. রাজীবুল হাসান
আলফাজ হোসেন
মো. আমীর হোসেন
কাজী নাসিফ মোহাম্মদ
মো. শিফাত-ই- মনজুর
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও সারজিস আলম
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়া, তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান। আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টটি দিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালে। আর গতকাল দিবাগত রাতে পোস্ট দেন সারজিস আলম।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গতকাল রাতে ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি ইতালির একটি পার্কে গেলে হামলা-হেনস্তার শিকার হন।
পরে বাঁধন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোদ্ধা ও অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিকব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পলাতক নেতা-কর্মীরা এখনো হামলা-সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে বাঁধন সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে বাঁধন তাঁর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁর ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসীশক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি।
হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র তাঁর পোস্টে লিখেছেন, জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাঁর পোস্টে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাঁধনকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি এই দেশের জন্য লড়াই করেছেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।’
যারা বাঁধনের ওপর হামলা করেছে, তাদের খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া এক একটা নরপশু হিসেবে অভিহিত করেছেন সারজিস আলম। এদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু বাঁধনকে আশা না করতে বলেন তিনি।
বাঁধনের উদ্দেশে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। পুরো বাংলাদেশ আপনার সাথে।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন তারা।
এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয় এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। দলটির সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস পর এই অবস্থান বদলেছে। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করার চিন্তা করা হচ্ছে। তাই সোমবার তারা ভোট স্থানান্তর করেছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।
সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়। এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। তবে সোমবার দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রার্থী হচ্ছেন কিনা-প্রশ্নে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ বলেছেন, এটা দল ঠিক করবে। এনসিপি সর্বাত্মক এবং এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের যারা পরিচিত মুখ, তাদের ভোট এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন বলেন, নির্বাচন করবেন কিনা নিশ্চিত নয়। তবে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে, তিনি যাতে দক্ষিণে প্রার্থী হন। আবার যেহেতু ঢাকা-৮ আসনে ইতোমধ্যে নির্বাচন করেছেন, তাই ভবিষ্যত চিন্তায় এই এলাকায় ভোটার হয়েছেন।
জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।
উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে। জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তিনি আগেভাগে প্রচার শুরু করলেও, কোনো কারণে সিটি নির্বাচন না করলে তাঁকে সংসদীয় রাজনীতিতে রাখা যাবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।
জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।