ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। ফিফার অফিশিয়াল রিসেল (পুনর্বিক্রয়) সাইটে ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা)।


আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হবে বিশ্বকাপ। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানকার গ্যালারির নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার।


ফিফা তাদের এই রিসেল বা বিনিময় প্ল্যাটফর্মে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, অর্থাৎ বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন। 


তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পায় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকে ফিফা। 


সে হিসাবে, এ চারটি টিকিট যদি নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়, তবে শুধু কমিশন বাবদই ফিফার পকেটে যাবে প্রায় ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার বা ৩৩ কোটি টাকার বেশি।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে টিকিটের বাজারে অস্থিরতা গত শুক্রবার সকালেও দেখা গেছে। এদিন গ্যালারির অন্যান্য আসনের টিকিটও বিক্রি হয়েছে কয়েক লাখ পাউন্ডে। এমনকি সবচেয়ে কম দামি টিকিটের জন্য গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার ৯২৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩ লাখ টাকা।


ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ থেকে আসা আয় তারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য ২১১টি সদস্যদেশের পেছনে ব্যয় করে। 


গত বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সরাসরি বিক্রির জন্য নতুন ব্লকের কিছু টিকিট ছেড়েছে ফিফা, যেখানে ফাইনাল ম্যাচে টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা)।


এ ছাড়া আগামী ১৪ জুলাই টেক্সাসের আর্লিংটনে সেমিফাইনালের টিকিট ১১ হাজার ১৩০ ডলারে এবং ১৫ জুলাই আটলান্টার সেমিফাইনাল ম্যাচের টিকিট ৯ হাজার ৬৬০ ও ৪ হাজার ৩৬০ ডলারে বিক্রি করছে ফিফা।


বিশ্বকাপ দেখার এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে গত শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা, ‘আমার মনে আছে, কয়েক বছর আগেও বিশ্বকাপ মানেই ছিল ফুটবল নিয়ে এক আনন্দ উৎসব। নিজের দেশকে সমর্থন দিতে সারা বিশ্ব থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে যেত এবং সেটা তাদের নাগালের মধ্যেই ছিল। কিন্তু আধুনিক যুগে এটি ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।’


গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমি যেহেতু সেখানে (ফিফায়) নেই, তাই সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে আশা করব, তারা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাববে। ফুটবল মূলত দর্শকদের জন্যই। অবশ্যই স্পনসর বা অন্যান্য বাণিজ্যিক দিকের কথা ভাবতে হবে, নয়তো এটি টিকিয়ে রাখা যাবে না, সবাই সেটা জানে। কিন্তু এই ব্যবসা সচল রাখার মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা।’


টেলিগ্রাফের মতে, ফাইনালে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে চলমান বিশাল এক ‘লুটতরাজ’-এর খণ্ডচিত্র। ফুটবলপ্রেমীদের পকেট কাটার এ মহোৎসবে আরও কী কী ঘটছে, সেসব নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানে নেমেছে ‘টেলিগ্রাফ স্পোর্টস’।


বড় সংকটে ইনফান্তিনো


ফিফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্ভবত এটাই সবচেয়ে সংকট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য। বিশ্বকাপে টিকিটের দাম ৮ হাজার ৬৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশের পর জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।


টিকিটের এমন অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বিভিন্ন ফুটবল-সমর্থক গোষ্ঠী। ব্যাপারটা আরও গুরুতর হয়ে ওঠার আগেই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। 


তারা ঘোষণা করে, জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে অতি সীমিতসংখ্যক টিকিট মাত্র ৬০ ডলারে বণ্টন করা হবে, যা কেবল দলগুলোর সবচেয়ে অনুগত বা নিয়মিত সমর্থকেরাই পাবেন।


টিকিটের এই মাত্রাতিরিক্ত দামের পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফিফার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতিকে। মূলত এই পদ্ধতির কারণেই চলতি মাসে ফাইনাল ম্যাচের সবচেয়ে দামি টিকিটগুলোর মূল্য আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।


ফিফার অনুমোদনেই টিকিটের কালোবাজারি


নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির সুযোগ করে দিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ফিফা। মূলত সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের নিজস্ব ‘রিসেল’ বা পুনর্বিক্রয় সাইটে বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র চারটি টিকিটের দাম (একেকটি ২৩ লাখ ডলার) এত বেড়েছে।


বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে ফিফার কমিশন-বাণিজ্য। 


তবে নিজস্ব টিকিটের উচ্চ মূল্য, ডায়নামিক প্রাইসিং এবং এই পুনর্বিক্রয় পদ্ধতি নিয়ে ফিফার আত্মপক্ষ সমর্থনও বেশ জোরালো। তাদের দাবি, এখান থেকে অর্জিত নিট মুনাফা বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নেই পুনর্নিয়োগ করা হবে।


হোটেল ভাড়া বেড়েছে চার গুণ


বিশ্বকাপের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর হোটেলগুলোতে কক্ষভাড়া কয়েক শ ডলার বেড়েছে। দেখা গেছে, আয়োজক ১৬টি শহরে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর দিন আবাসন খরচ গড়ে চার গুণ বেড়েছে। মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা উদ্বোধনী ম্যাচের সময় একটি হোটেলের কক্ষভাড়া যেখানে গত মে মাসের শেষে ছিল মাত্র ১৫৭ ডলার, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮২ ডলারে (প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা)।


ট্রেনভাড়া ১৩ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০ ডলার


পেন স্টেশন থেকে মেটলাইফ স্টেডিয়াম- উড়োজাহাজে নয়, মাত্র ৩০ মিনিটের এই ট্রেনভ্রমণের টিকিটের দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫০ ডলারের বেশি। যেখানে যাতায়াতের স্বাভাবিক খরচ ১২ ডলার ৯০ সেন্ট, সেখানে বিশ্বকাপের সময় তা প্রায় ১২ গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় খোদ ফিফাই নিউ জার্সি ট্রানজিটের বিরুদ্ধে ‘লুটতরাজের’ অভিযোগ তুলেছে। যদিও ফিফার এমন অবস্থানকে ‘স্পর্ধা’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।


নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক চুক্তি পেয়েছি, যেখানে ফিফা বিশ্বকাপের পরিবহন খাতে এক পয়সাও দিচ্ছে না। সমর্থকদের নিরাপদে আনা-নেওয়ার জন্য নিউ জার্সি ট্রানজিটকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিশাল বিল মেটাতে হচ্ছে, সেখানে ফিফা আয় করছে ১১০০ কোটি ডলার। আমাদের সাধারণ যাত্রীদের ওপর আমি এই ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারি না। ফিফার উচিত যাতায়াত খরচ বহন করা।’


পরিবহন খরচের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে অন্য শহরগুলোতেও। বোস্টনের উপকণ্ঠে জিলেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে ট্রেনের টিকিটের দাম পড়বে ৮০ ডলার এবং কোচের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ ডলার।


স্টেডিয়ামে পার্কিং খরচ ২২৫ ডলার


যাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে খেলা দেখতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের পকেটও ভালোই কাটা পড়বে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গুনতে হবে ২২৫ ডলার (প্রায় ২৭ হাজার টাকা)। পিছিয়ে নেই বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামও, সেখানে একটি গাড়ির পার্কিং খরচ ধরা হয়েছে ১৭৫ ডলার।


ফ্যান জোনে ঢুকতেও খরচ করতে হবে


টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ও যাতায়াত খরচের পর যুক্ত হয়েছে ফ্যান জোনে প্রবেশমূল্য। সাধারণত বিশ্বকাপের ফ্যান জোনগুলো উন্মুক্ত থাকলেও এবার নিউ জার্সিতে তা হচ্ছে না। গত ডিসেম্বরেই এ নিয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। 


জানা গেছে, সেখানকার ফ্যান জোনে ঢুকতে সাধারণ মানুষকে টিকিট কাটতে হবে। টিকিটমাস্টার ওয়েবসাইটে এ টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট।



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ পিএম

এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে কোনো বল মাঠে না গড়িয়েই সেমিফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার জাপানের নাগোয়ায় কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের। কিন্তু সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। 



জানা যায়, টস করতেও নামেননি দুই দলের অধিনায়ক। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় সরাসরি শেষ ৪ জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। টি–টুয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১০ম, চীন ৩৬তম।



নাগোয়ার বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ার কারণে ম্যাচের আগের দিনগুলোতেও পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন করতে পারেনি বাংলাদেশ নারী দল। টুর্নামেন্টের প্রথম দিন স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় নিশিনের কোরিগি অ্যাথলেটিক পার্কে ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে মাঠ খেলার উপযোগী করা সম্ভব হয়নি।

নিয়ম অনুযায়ী, ২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন করা না গেলে সুপার ওভারের মাধ্যমে ফল নির্ধারণের সুযোগ ছিল। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সেটিও আয়োজন করা যায়নি। পরে দুই দলের আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় নেওয়া হয়।



বর্তমানে বাংলাদেশ নারী দলের অবস্থান র‍্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বরে। বিপরীতে চীনের অবস্থান ৩৭। র‍্যাঙ্কিংয়ের বড় ব্যবধানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কোনো বল না খেলেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।



আগামীকাল বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায় জাপানের মুখোমুখি হবে ভারত। এ ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেট দল এর আগে দুবার রুপা এবং একবার ব্রোঞ্জ জিতেছে।



বাংলাদেশ দলের ব্যাটার সোবহানা মুশতারি চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে পদক নিয়ে দেশে ফেরার আশাবাদ রাখেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো ভিডিও বার্তায়, ‘আমরা প্রথম অনুশীলন করলাম। এর আগে আমরা এশিয়ান গেমসে একটা পদক পেয়েছি (আসলে তিনটি)। আশা করছি, এবারও একটা পদক নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।’



চীনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই সবচেয়ে বড় ম্যাচ ছিল। ২০১০ এশিয়ান গেমস সেমিতে চীনকে ৩৪ রানে অলআউট করে ৭ ওভারে ৯ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু সেই ম্যাচের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। যার অর্থ আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে চীনের বিপক্ষে আজই প্রথম ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টিতে খেলাটা আর হলো না।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৯ পিএম

আলোচনা হয়েছিল আগেই। বিসিবিও জানিয়েছিল, তারা নেপাল সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক। এবার এল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আগামী মার্চে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলতে নেপালে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগামী বছর ২৬, ২৮ ও ৩০ মার্চ কাঠমান্ডুতে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজ সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হবে।


যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারির মধ্যকার এক বৈঠকে এই সিরিজের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়।


রাষ্ট্রদূত ভান্ডারি আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে দেখা করেন। টি-টুয়েন্টি সিরিজ আয়োজন ও দুই দেশের মধ্যে সার্বিক ক্রিকেটীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁদের।


এই তিন ম্যাচ বাংলাদেশ ও নেপালকে ক্রিকেটের মাধ্যমে একত্র হওয়ার উপলক্ষ হিসেবে দেখছে বিসিবি। বন্যায় বড় ক্ষতি ও শোকের মুহূর্তে বন্ধুত্ব ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে তারা।


এ ছাড়া বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নেপালে ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালকে। সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে থাকবে পুরুষ ও নারী দলের সফর বিনিময়, হাই পারফরম্যান্স প্রোগ্রাম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ।


এখন পর্যন্ত নেপালের বিপক্ষে দুটি টি-টুয়েন্টি খেলেছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের এই দুটি ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


জেমস রুদ্রিগেজ

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

২০১৪ বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া কলম্বিয়ান তারকা জেমস রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ বছরের দীর্ঘ জাতীয় দল ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা নিশ্চিত করেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।


সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন বার্তায় ৩৪ বছর বয়সী রদ্রিগেজ লেখেন, ‘আজ আমি মন থেকে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। অনেক বছর, অনেক ম্যাচ এবং আনন্দ আর কঠিন মুহূর্তগুলোর পর আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করার সময় এসেছে: কলম্বিয়ান জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যাত্রা।’


২০১১ সালের অক্টোবরে বলিভিয়ার বিপক্ষে কলম্বিয়ার জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল রদ্রিগেজের। ওই ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেন তিনি। এরপর থেকেই কলম্বিয়ান দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন। দেশের হয়ে ১৩১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৩১টি গোলের পাশাপাশি ৪৩টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর নামে। 


২০১৪ বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৬ গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের পাশাপাশি শেষ ষোলোতে মহাদেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় ভলি গোলটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ওই আসর মাতানো তরুণ রদ্রিগেজের দিকে নজর পড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদের, চুক্তিও সেরে ফেলে টুর্নামেন্টের পর।


কলম্বিয়ার হয়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা রদ্রিগেজ বলেছেন, ‘এই জার্সি পরা ছিল একটি স্বপ্ন, পাশাপাশি বিশাল দায়িত্বও ছিল। প্রত্যেকবার যখন আমি মাঠে ঢুকতাম, বুঝতে পারতাম আমি শুধু আমার জন্য খেলছি না। আমার পরিবার, সতীর্থ, হাজারো কলম্বিয়ানের জন্য খেলছিলাম, যারা স্বপ্ন দেখত।’


তিনি আরও বলেন, ‘১০ নম্বর জার্সি পরার সম্মান পেয়েছিলাম আমি এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও পরেছিলাম। সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কলম্বিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার তাৎপর্য অনুধাবন করে আমি সবসময় এটি করার চেষ্টা করেছি। ভালো দিন যেমন ছিল, খুব কঠিন দিনও ছিল। কিন্তু এই রঙয়ের গর্ববোধ করা কখনও থামাইনি।’


অবসর ঘোষণার কারণে গত ৭ জুলাই সুইজারল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া শেষ ষোলোর ম্যাচটি হয়ে থাকল রদ্রিগেজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় তার অধিনায়কত্বে ফাইনাল খেলেছিল কলম্বিয়া, কিন্তু আর্জেন্টিনা তাদের হারিয়ে ২৩ বছরে প্রথম শিরোপা জেতে।


সম্প্রতি কলম্বিয়ান দল অ্যাতলেটিকো নাসিওনালের সঙ্গে চুক্তি করেছেন রদ্রিগেজ। ক্লাব ক্যারিয়ার আরেকটু লম্বা করতে চান তিনি, ‘আমি শান্ত হৃদয় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। কারণ আমি সবকিছু উজার করে দিয়েছি। প্রত্যেকটি মুহূর্তের জন্য ধন্যবাদ, ধন্যবাদ কলম্বিয়া।’

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ এএম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অংশ নেয়নি। তদন্ত কমিটির এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে ‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’ শিরোনামে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যখ্যা দিয়ে পোস্ট করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।



আজ মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফেসবুকে পোস্টটি করেন আসিফ নজরুল। পাঠকদের সুবিধার্থে সাবেক এ উপদেষ্টার পোস্টটি তুলে ধরা হলো—

‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’

‘ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।’



‘ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই।’



‘আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মুস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল।’


তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন?’


‘আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।’



‘আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।’



‘সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল।’



আসিফ নজরুল আরও লিখছেন, ‘আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’



‘একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নিবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না।’

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বিসিবি।


গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।


তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরাসরি কারও নাম মুখে আনতে চাইছিলেন না। 


সংবাদমাধ্যমের বারংবার সরাসরি প্রশ্নে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল এক পর্যায়ে বলেন, "তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।"


ফয়সাল জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় তাদের সিদ্ধান্ত। বিসিবি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত করেননি। 


তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।"


২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।


যুব ও ক্রীড়া সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজোয়ান উজ জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।


তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।


যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমের বক্তব্য এই তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, "যুব ও ক্রীড়া সচিবকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকার পর আসিফ নজরুল নিজেই তার সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে ক্রীড়া সচিব পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যেহেতু বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে সাবেক বিসিবি সভাপতি বুলবুল প্রবল চাপে ছিলেন, যেহেতু তিনি আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছিলেন না। বিসিবির সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত।"


ওই সময়ের বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন তদন্ত কমিটির কাছে বলেন, "ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে সরকার যদি এরকম সিদ্ধান্ত নেয়, ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।"


আসিফ নজরুলের সাড়া না পেয়ে ওই সময়টায় সংবাদমাধ্যমে তার বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমের লেখা, এসবকে তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয় তদন্ত কমিটি।


বিশেষজ্ঞদের বরাতে কিছু পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি, যেখানে আছে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রবেশ, আইসিসি বনাম বিসিবির 'পাওয়ার ইমব্যালান্স' এবং বিসিবির অব্যবস্থাপনা।


বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমস্যা ফুটে ওঠার কথাও বলা হয়।


চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিশ্বকাপে না খেলার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, "রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ, আইসিসির গভর্ন্যান্স সংঘাত, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থ আলোচনা।"


এই অধ্যায়েই 'সম্ভাব্য মূল কারণ' হিসেবে বিভিন্ন কারণগুলোর র‌্যাঙ্কিং করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভেন্যু বদলে আইসিসির অপারগতা ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ, এসবকে র‌্যাঙ্কিং করা হয়েছে 'অতি উচ্চ' হিসেবে। বিসিবির কূটনৈতিক দক্ষতার ব্যর্থতাকে বলা হয়েছে 'উচ্চ' কারণ আর যোগাযোগ ভেঙে পড়াকে বলা হয়েছে 'মাঝারি' কারণ।


পরিসমাপ্তিতে বলা হয়েছে, "সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল, ক্রিকেটাররা এবং সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন।" তামিম ইকবালের বরাতে সেখানে উল্লেখ করা হয়, "সমাধান বের করার জায়গা ছিল।" 


ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনগনকে ভাবনায় রেখে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কখনও একজন না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত বলে সেখানে বলা হয়।


সবশেষে কিছু সুপারিশও করে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে আছে ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা, বিসিবির স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করা, সংকটকালীন যোগাযোগের দক্ষতাকে উন্নত করা, ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুরক্ষিত করা এবং বিসিবি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ক্রীড়া কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক গড়া।


এই বছরের শুরুর দিকে দেশের ক্রিকেট তথা গোটা দেশে তোলপাড় ছিল বিশ্বকাপে না খেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পরই আসিফ নজরুল ফেইসবুকে পোস্টে বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন ওই পোস্টে। এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে নির্দেশ আসে তথ্য মন্ত্রণালায়ের তরফ থেকে।


পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ । আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি অনুরোধ জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। 


এরপর দফায় দফায় বৈঠক হয় দুই পক্ষের। কিন্তু টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে ভেন্যু বদলানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৯ পিএম

পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দী দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে তাঁর এই বন্দিজীবন নিয়ে মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দেশটির সাতজন সাবেক অধিনায়ক। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। তাঁরা সবাই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। 


সবাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাঁরা ‘কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন; বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেই এই চিঠি লিখেছেন’।


চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এই (সাবেক অধিনায়কদের) দল জনাব খানের বিরুদ্ধে চলা আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।’ বিষয়টি সম্পূর্ণ পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, কারাবন্দী যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবং ‘রাজনীতি যা–ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়’।


অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো ইমরানের পক্ষে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের তরফ থেকে আসা এটিই সর্বশেষ আবেদন।


গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান চিকিৎসাসেবা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল।


সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়—১. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড—যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন—তাঁকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। ২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করা। ৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, সে অনুযায়ী চিকিৎসকদের প্রস্তাবিত চিকিৎসা অবিলম্বে প্রদান করা।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের স্বাক্ষরে পাঠানো প্রথম চিঠির ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় চিঠি পাঠানোর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর পাকিস্তানের সাবেকদের মধ্যে জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খান ইমরানের সুচিকিৎসা ও মুক্তির আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ও মাইকেল হোল্ডিংও ইমরান খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।


নতুন এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ, আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগসহ কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর প্রতি আচরণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।


অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাতজন অধিনায়কের এই দলের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।


১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।


সর্বশেষ সব খবর