ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা। 


আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।


তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।


চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’


একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’


গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।


আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’



সর্বশেষ সব খবর

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ এএম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অংশ নেয়নি। তদন্ত কমিটির এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে ‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’ শিরোনামে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যখ্যা দিয়ে পোস্ট করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।



আজ মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ফেসবুকে পোস্টটি করেন আসিফ নজরুল। পাঠকদের সুবিধার্থে সাবেক এ উপদেষ্টার পোস্টটি তুলে ধরা হলো—

‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’

‘ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কি এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।’



‘ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই।’



‘আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মুস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে। বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল।’


তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাব কেন?’


‘আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদেরকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।’



‘আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।’



‘সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানা উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল।’



আসিফ নজরুল আরও লিখছেন, ‘আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’



‘একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নিবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না।’

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছে বিসিবি।


গত মার্চে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় মঙ্গলবার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ. কে. এম ওলি উল্যার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।


তদন্ত প্রতিবেদনে সরকারের সিদ্ধান্ত এবং আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা সরাসরি কারও নাম মুখে আনতে চাইছিলেন না। 


সংবাদমাধ্যমের বারংবার সরাসরি প্রশ্নে তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল এক পর্যায়ে বলেন, "তদন্তে যা উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সবকিছু মিলিয়ে যা বলা যায়, যে মানুষটি দায়ী (বিশ্বকাপে না যাওয়ার জন্য), তিনি হলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপেদষ্টা আসিফ নজরুল। সেই সময়ের সরকার ও তিনি দায়ী।"


ফয়সাল জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় তাদের সিদ্ধান্ত। বিসিবি সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত করেননি। 


তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত ছিল।"


২২ পৃষ্ঠার যে তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়, সেখানে ১২ জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি এবং তাদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সেখানে ক্রিকেটারদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ক্রিকেট আঙিনা থেকে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল খান, বোর্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরি, বিসিবির কোচ ও ওই সময়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং ওই সময়ের বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীনের।


যুব ও ক্রীড়া সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গেও কথা বলে কমিটি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে এই কমিটি সাক্ষাৎকার নেয় বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস এম সুমন এবং বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রেজোয়ান উজ জামান ও সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমেদের।


তবে বিতর্কের কেন্দ্রে যে দুজন, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সেই সময়ের বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তাদের সঙ্গে বারবার নানা মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানায় তদন্ত কমিটি।


যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলমের বক্তব্য এই তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, "যুব ও ক্রীড়া সচিবকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকার পর আসিফ নজরুল নিজেই তার সিদ্ধান্ত জানান। এর আগে ক্রীড়া সচিব পরামর্শ দিয়েছিলেন, বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, যেহেতু বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তবে সাবেক বিসিবি সভাপতি বুলবুল প্রবল চাপে ছিলেন, যেহেতু তিনি আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছিলেন না। বিসিবির সহ-সভাপতি ও সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মতামত দেন, বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া উচিত।"


ওই সময়ের বোর্ড পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন তদন্ত কমিটির কাছে বলেন, "ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল। তবে সরকার যদি এরকম সিদ্ধান্ত নেয়, ক্রিকেট বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।"


আসিফ নজরুলের সাড়া না পেয়ে ওই সময়টায় সংবাদমাধ্যমে তার বিভিন্ন বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমের লেখা, এসবকে তদন্তের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয় তদন্ত কমিটি।


বিশেষজ্ঞদের বরাতে কিছু পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি, যেখানে আছে ক্রিকেটে রাজনীতির প্রবেশ, আইসিসি বনাম বিসিবির 'পাওয়ার ইমব্যালান্স' এবং বিসিবির অব্যবস্থাপনা।


বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই সিদ্ধান্তের প্রভাবের কথা তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমস্যা ফুটে ওঠার কথাও বলা হয়।


চূড়ান্ত মূল্যায়নে বিশ্বকাপে না খেলার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, "রাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধ, আইসিসির গভর্ন্যান্স সংঘাত, প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ব্যর্থ আলোচনা।"


এই অধ্যায়েই 'সম্ভাব্য মূল কারণ' হিসেবে বিভিন্ন কারণগুলোর র‌্যাঙ্কিং করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, ভেন্যু বদলে আইসিসির অপারগতা ও বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ, এসবকে র‌্যাঙ্কিং করা হয়েছে 'অতি উচ্চ' হিসেবে। বিসিবির কূটনৈতিক দক্ষতার ব্যর্থতাকে বলা হয়েছে 'উচ্চ' কারণ আর যোগাযোগ ভেঙে পড়াকে বলা হয়েছে 'মাঝারি' কারণ।


পরিসমাপ্তিতে বলা হয়েছে, "সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল, ক্রিকেটাররা এবং সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন।" তামিম ইকবালের বরাতে সেখানে উল্লেখ করা হয়, "সমাধান বের করার জায়গা ছিল।" 


ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ ও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনগনকে ভাবনায় রেখে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কখনও একজন না নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত বলে সেখানে বলা হয়।


সবশেষে কিছু সুপারিশও করে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে আছে ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রাখা, বিসিবির স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করা, সংকটকালীন যোগাযোগের দক্ষতাকে উন্নত করা, ক্রিকেটারদের কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুরক্ষিত করা এবং বিসিবি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ক্রীড়া কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক গড়া।


এই বছরের শুরুর দিকে দেশের ক্রিকেট তথা গোটা দেশে তোলপাড় ছিল বিশ্বকাপে না খেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে। আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পরই আসিফ নজরুল ফেইসবুকে পোস্টে বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন ওই পোস্টে। এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে নির্দেশ আসে তথ্য মন্ত্রণালায়ের তরফ থেকে।


পরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ । আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি অনুরোধ জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। 


এরপর দফায় দফায় বৈঠক হয় দুই পক্ষের। কিন্তু টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে ভেন্যু বদলানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশও নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৯ পিএম

পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দী দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে তাঁর এই বন্দিজীবন নিয়ে মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দেশটির সাতজন সাবেক অধিনায়ক। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। তাঁরা সবাই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। 


সবাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাঁরা ‘কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন; বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেই এই চিঠি লিখেছেন’।


চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এই (সাবেক অধিনায়কদের) দল জনাব খানের বিরুদ্ধে চলা আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।’ বিষয়টি সম্পূর্ণ পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, কারাবন্দী যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবং ‘রাজনীতি যা–ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়’।


অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো ইমরানের পক্ষে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের তরফ থেকে আসা এটিই সর্বশেষ আবেদন।


গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান চিকিৎসাসেবা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল।


সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়—১. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড—যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন—তাঁকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। ২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করা। ৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, সে অনুযায়ী চিকিৎসকদের প্রস্তাবিত চিকিৎসা অবিলম্বে প্রদান করা।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের স্বাক্ষরে পাঠানো প্রথম চিঠির ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় চিঠি পাঠানোর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর পাকিস্তানের সাবেকদের মধ্যে জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খান ইমরানের সুচিকিৎসা ও মুক্তির আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ও মাইকেল হোল্ডিংও ইমরান খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।


নতুন এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ, আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগসহ কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর প্রতি আচরণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।


অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাতজন অধিনায়কের এই দলের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।


১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।


সর্বশেষ সব খবর

নেইমার জুনিয়র

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ের কাছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার। এবার আনচেলত্তির বক্তব্যে তার বিদায়ের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের অবসরের খবর জানিয়েছিলেন ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো। পরে পরবর্তী ফিফা উইন্ডোর জন্য ব্রাজিলের দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দুটির স্কোয়াডে জায়গা হয়নি নেইমারের।


সিএনএন স্পোর্তেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি নেইমারের নিজের। বিশ্বকাপের দলে তাকে রাখার সিদ্ধান্তও যথার্থ ছিল বলে মনে করেন ব্রাজিলের কোচ।


আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে সে জাতীয় দলে ফিরতে চায় না। তার মানের কারণেই বিশ্বকাপের দলে থাকার যোগ্যতা ছিল। নেইমারের কোনো বিকল্প হয় না, কারণ সে অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা। সে একজন অপরিহার্য খেলোয়াড়।’


ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যায় গত কয়েক বছর নিয়মিত মাঠে থাকতে পারেননি নেইমার। বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পরও আনচেলত্তি তাকে দলে রেখেছিলেন। তবে টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।


২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার। জাতীয় দলের জার্সিতে ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০১২ সালের অলিম্পিকে রৌপ্য জয়ের পর ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক এনে দেন এই তারকা।


নরওয়ের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। সেই ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছিলাম, সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।’

সর্বশেষ সব খবর

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

‎দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আজ ঘোষিত টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে। দ্বিতীয় ম্যাচে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। ‎দুটি ম্যাচই হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরুর সময় রাত ৮টা।


বাংলাদেশ রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একই গ্রুপে। অন্য গ্রুপে ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। 


১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। ১৭ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে টুর্নামেন্টের। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ এখনো চূড়ান্ত নয়। 


নেপালের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উঠে গেলে তারা বাংলাদেশের গ্রুপে যোগ দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সূচিতে পরিবর্তন আসবে।


২০১৮ সালের পর এবার আবারও দেশের মাটিতে সাফ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভালো করার লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিক দলের। 


বাংলাদেশ সাফে একবারই জিতেছে, সেটা ২০০৩ সালে স্বাগতিক হয়ে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২২ পিএম

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে আর্লিং হালান্ডের জয়সূচক গোলটি দেওয়া ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছে ইংল্যান্ডের রেফারিদের সংগঠন প্রফেশনাল গেম ম্যাচ অফিসিয়ালস (প্রো রেফ)। 


সংগঠনটি জানিয়েছে, গোলের সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থান রক্ষণে প্রভাব ফেলেছিল। ফলে সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার জন্য মাঠের রেফারিকে ডাকা উচিত ছিল।


রোববার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারায় ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পর জোসকো জিভার্দিওলের ক্রস থেকে গোল করেন হালান্ড। শুরুতে সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দিয়ে গোলটি বাতিল করেন। পরে দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর হালান্ডকে অনসাইডে বিবেচনা করে গোল বহাল রাখা হয়।


প্রিমিয়ার লিগের প্রাথমিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনায় হালান্ডকে বৈধ অবস্থানে পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে প্রো রেফ জানায়, একই আক্রমণে ফার্নান্দেজের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন ছিল।


প্রো রেফের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ফার্নান্দেজ বল স্পর্শ করেননি। এ কারণে হালান্ডের অফসাইডের বিষয়টি রেফারির বিবেচনার ওপর নির্ভর করছিল। তবে ফার্নান্দেজের অবস্থান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণে কী প্রভাব ফেলেছে, ভিএআর তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।’


তিনি আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে মাঠের রেফারিকে ঘটনাটি পর্যালোচনার সুপারিশ করা উচিত ছিল। আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকার করেছি, এটি আমাদের বিচার-বিবেচনার ভুল ছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’

সর্বশেষ সব খবর