ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপে বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল অনুর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল দল।
গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে প্যারাগুয়ের ভিলেতো শহরের এস্তাদিও আমেলিয়ানো ভিলেতোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা অনুর্ধ্ব-১৭ দলকে কে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা এক ম্যাচ হাতে রেখেই জায়গা করে নিয়েছে অনুর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বিশ্বকাপে।
দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ব্রাজিলের।
আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত পাসিং আর উচ্চ প্রেসিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে তারা। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারণ করে ফেলে ব্রাজিল।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে প্রথম গোল আসে। সেটপিস থেকে ওঠা বলে প্রতিপক্ষের রিবাউন্ড কাজে লাগিয়ে হেডে জাল খুঁজে নেন রিকুয়ের্মে হেনরিক, যা ব্রাজিলকে এগিয়ে দেয় ১-০ ব্যবধানে। এই গোলের পর আর্জেন্টিনা কিছুটা আক্রমণে ফিরতে চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ব্রাজিল। ৩৯ মিনিটে এডুয়ার্ডো পাপে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে শরীরি ভেলকি দিয়ে বিভ্রান্ত করেন এবং নিখুঁতভাবে বল সাজিয়ে দেন রিকুয়ের্মে ফিলিপের জন্য।
সহজ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বল পাঠান জালে, আর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে আর্জেন্টিনা, তবে ব্রাজিলের রক্ষণ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে তারা খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বরং ম্যাচের শেষ ভাগে আবারও আঘাত হানে সেলেসাওরা।
দ্রুত গতির এক আক্রমণে ডেভিড নোগেইরা গোলরক্ষককে কাটিয়ে এগিয়ে যান এবং নিখুঁতভাবে বল বাড়ান এডুয়ার্ডো কনসেইসাওয়ের দিকে। তিনি শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন ৩-০ ব্যবধানের জয়।
পুরো ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরির দিক থেকে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। ম্যাচে জয়ের ফলে তারা ৯ পয়েন্ট নিয়ে শুধু বিশ্বকাপের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, সেমিফাইনালেও জায়গা করে নিয়েছে।
ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-১৭ দল এখন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামবে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে। আগামী রোববার (১২ তারিখ) ভিলেতোর একই ভেন্যুতেই অনুষ্ঠিত হবে সেই ম্যাচ।
বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হওয়ায় এই ম্যাচটি তাদের জন্য এখন মূলত নিয়মরক্ষার হলেও শীর্ষে থেকে পরের পর্বে যাওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে দলটি।
নতুন অধিনায়ক লিটন
মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে বাংলাদেশ দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে লিটন দাসকে। লিটন আগে থেকেই ছিলেন টি–টুয়েন্টি দলের নেতৃত্বে। এখন সাদা বলের দুই সংস্করণেই নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে তাওহিদ হৃদয়কে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেনই।
আজ মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভার পর বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তিন সংস্করণে দুজন অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি সাদা বল ও লাল বলে আলাদা অধিনায়ক থাকা প্রয়োজনও। বোর্ডও এতে একমত হয়েছে।’
২০২৫ সালের জুনে হুট করেই নাজমুলকে সরিয়ে দিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করে আমিনুল ইসলামের বোর্ড। এই সংস্করণে ২৪ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ১০ ম্যাচ জিতেছেন মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জেতে মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে অবশ্য ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ।
তবে মিরাজকে নেতৃত্বে না রাখার পেছনে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কোনো ভূমিকা রাখেনি বলে জানিয়েছেন তামিম। বরং খেলোয়াড় মিরাজকেই দলের বেশি দরকার মনে করে বিসিবি।
এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘মিরাজ অত্যন্ত সফল অধিনায়ক। গত কয়েকটি সিরিজে সে খুব ভালো করেছে। কিন্তু আমি মনে করি মিরাজকে একজন পারফরমার হিসেবে আমাদের বেশি প্রয়োজন। তাঁকে আমরা ব্যাটিং ও বোলিংয়ে যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত, বর্তমানে তাতে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই সে তার পূর্ণ ছন্দে ফিরে আসুক।’
এ নিয়ে মিরাজের সঙ্গে কথা হয়েছে বিসিবি সভাপতির। বিসিবির ভাবনাটা তিনি বুঝতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছেন তামিম।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের দল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মনজ্যোৎ কালরা। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিজের দলের একজন ক্রিকেটারকে টাকা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এই অভিযোগে শ্রীলঙ্কার জেলে বন্দি আছেন তিনি। এবার তার জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে।
কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জামিনের আবেদন করেছিলেন কালরা এবং তার সহকারী যুবরাজ পুষ্প। তাদের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, দুজনেরই শরীর খারাপ। তাই মানবিক কারণে তাদের জামিন দেওয়া উচিত।
তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবি মেনে নিয়ে দুজনকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট।
কালরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার ভানুকা রাজাপক্ষ, আবিষ্কা ফের্নান্দো এবং দুনিথ ওয়েল্লালাগে। এ ছাড়া আরও দুজন ঘরোয়া ক্রিকেটারও কালরার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। পৃথ্বী শ'র নেতৃত্বাধীন সেই দলে ওপেনার ছিলেন কালরা। তিনি পৃথ্বীর সঙ্গে ইনিংস শুরু করতেন। তিন নম্বরে ব্যাট করতেন শুভমান গিল। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রান করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন কালরা।
তবে পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি কালরা। ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ গড়তে না পেরে স্পোর্টস কমিউন নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি। এই সংস্থাই ছিল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক।
তবে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে নাম জড়ানোর পর এই সংস্থার সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। সব মিলিয়ে ক্রমেই বাড়ছে কালরার সমস্যা।
জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের নতুন কোচ
বিশ্বকাপ শেষে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়া নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা-ই এবার সত্য হলো। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক এই বিশ্বজয়ী তারকাকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ২৫ সেপ্টেম্বর নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে পারে জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়।
ফরাসি ফেডারেশনের সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে সই করেছেন জিদান। সেই অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এমবাপ্পে-গ্রিজম্যানদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন এই কিংবদন্তি। দীর্ঘ দিন ধরে কোনো ক্লাবের কোচিংয়ে ছিলেন না জিদান।
সবশেষ ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে কাজ করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও ডাগআউটে প্রত্যাবর্তন ঘটল এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৪ বছর বয়সী জিদান বলেছেন, ‘আমি অনেকবারই বলেছি, ফ্রান্স জাতীয় দলের চেয়ে বড় আর কিছু নেই। তাই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াটা আনন্দের পাশাপাশি অনেক বড় একটা গর্বের ব্যাপার। একই সঙ্গে এটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট, নির্বাহী কমিটি ও ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতীয় দলের হয়ে আমার অনেক উচ্চাকাঙ্খা আছে।’
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি কোচিং ক্যারিয়ারেও গড়েছেন ইতিহাস। ২০১৬ থেকে ২০১৮, টানা তিন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন।
এছাড়া দুই মেয়াদে রিয়ালের হয়ে দুটি করে লা লিগা, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জেতেন তিনি। জিদানের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল দীর্ঘ ১৪ বছরের দিদিয়ের দেশম যুগের। তার হাত ধরেই ২০১৮ বিশ্বকাপ, ইউরো এবং উয়েফা নেশন্স লিগ জেতে ফরাসিরা।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা।
জিদানের সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাস গড়ার অনন্য এক সুযোগ। বিশ্বের চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ, দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়ার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এই দুর্লভ কীর্তি গড়েছেন কেবল ব্রাজিলের মারিও জাগালো, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এবং ফ্রান্সেরই বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশম।
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা, ভিসা জটিলতা, শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্ত ও টিকিটের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ ছিল নিরাপদ এবং সফল। সমালোচকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, টুর্নামেন্টে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন করে ফিফা। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ইরান দলের ভ্রমণ জটিলতা, সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আর্তানের ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনা হয়।
এসব অভিযোগের জবাবে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ইনফান্তিনো লেখেন, ‘যারা ফুটবলের মাধ্যমে শিশু, বাবা-মা ও দাদা-দাদিদের একসঙ্গে হওয়ার এই সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারেননি, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। সমালোচনা ও ঘৃণায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে এই সৌন্দর্য দেখতে পাননি।’
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা যখন পর্দার আড়ালে বসে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছিলেন, তখন আমরা মাঠে ছিলাম। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং বিশ্বের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছি।’
ইনফান্তিনোর দাবি, ফিফার কর্মকর্তারা কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ‘আপনারা যেখানে বিভাজনের কথা বলেছেন, আমরা সেখানে মানুষকে এক করেছি। পরিবার, সমর্থক এবং বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করেছে।’
ইরান দলের ভ্রমণ ও ভিসা জটিলতা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ফিফা সভাপতি। তার দাবি, ইরান কোনো ধরনের সংঘাত বা বড় সমস্যা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা না পাওয়ায় ইরানের কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্য বিশ্বকাপে যেতে পারেননি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের কারণে দলটি মেক্সিকোকে অনুশীলন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এবং শুধু ম্যাচের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায়। ইনফান্তিনোর ভাষ্য, কয়েকজনের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনুমোদন পাওয়া লাখো দর্শনার্থীর তুলনায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ইনফান্তিনো। তার মতে, বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত বা শৃঙ্খলাবিষয়ক রায় পর্যালোচনা করা বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি লেখেন, ‘বিতর্কিত হলুদ বা লাল কার্ড, কিংবা পরে শাস্তি পুনর্বিবেচনার মতো ঘটনা বিশ্বের অনেক বড় লিগেই নিয়মিত ঘটে। তাই এ বিষয় নিয়ে এত সমালোচনা করা বিস্ময়কর।’
পোস্টের শেষ দিকে ইনফান্তিনো বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে সমালোচকদের প্রতি ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ফুটবল ক্যারিয়ারে সাফল্যের কমতি নেই। এবার অভিনয় জগতে পা রাখছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে সেখানেও বিষয় ফুটবল।
এক ফুটবল এজেন্টের জীবন নিয়ে নতুন ওয়েব সিরিজ আসতে চলেছে। তার কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসেবে নাম থাকছে পর্তুগীজ সুপারস্টার রোনালদোর। সেইসঙ্গে বিশেষ অতিথি চরিত্রেও অভিনয় করবেন আল নাসরের এই তারকা ফুটবলার। তার পাশাপাশি এই ওয়েব সিরিজে থাকবেন ফ্রান্সের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার থিয়েরি অঁরিও। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন।
জানা গেছে, ওয়েব সিরিজটির নাম ‘ডে ওয়ানস’। আধুনিক ফুটবল দুনিয়ার আভ্যন্তরীণ কাহিনি তুলে ধরা হবে এখানে।
একজন ফুটবলার, এজেন্ট, বাজারের চাহিদা ও বিভিন্ন ক্লাবের অন্দরমহলের গল্প দিয়ে সাজানো হবে ওয়েব সিরিজটি। যেখানে এক এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘হোমল্যান্ড’ খ্যাত ডামিয়ান লুইস। ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বার্নেট এফসির স্টেডিয়াম ‘দ্য হাইভ’-এ সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে।
রোনালদো নিজেও এই সিরিজটি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী। আল নাসর তারকা বলছেন, ‘এটা আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায় হতে চলেছে। ফুটবলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি।’
এই সিরিজে রোনালদোর সঙ্গে সহ-প্রযোজক হিসেবে থাকছেন হলিউড পরিচালক ম্যাথু ভনের প্রতিষ্ঠিত ইউআর-মার্ভ স্টুডিওস। যারা ‘কিংসম্যান’-এর মতো সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। এই ওয়েব সিরিজে থাকছেন রোনালদোর একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী থিয়েরি অঁরি। যেহেতু রোনালদো আর অঁরি আছেন, তাই সিরিজটির সম্প্রচারস্বত্ব পেতে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
এর আগে আলোচনায় উঠে এসেছিল, রোনালেদোকে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজে দেখা যেতে পারে। ভিন ডিজেলের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে যার আলোচনার শুরু। সেটা নিয়ে অবশ্য এখনও কোন সবুজ সংকেত আসেনি।
তবে এর মধ্যে নতুন অভিযান শুরু করে দিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।
নেইমার
বিশ্বকাপে ব্যর্থ অভিযান শেষে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন নেইমার, করেছেন জোড়া গোলও। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকদের তিনি উচ্ছ্বসিত রাখতে পারলেন অল্প কিছুক্ষণই। ড্রেসিংরুমে সতীর্থের সঙ্গে বিতর্কের খবর, অনুশীলন মাঠে গিয়ে কিছু না করেই কাউকে না জানিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা।
শনিবার রাতে শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচের পরদিনই অনুশীলন ছিল সান্তোসের। রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিতও হন নেইমার। ছবি তোলেন, কফি পানও করেন। তবে মূল দলের অনুশীলন শুরুর আগেই বেরিয়ে যান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম বলছে, কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই নেইমার অনুশীলন মাঠ ছেড়েছেন।
অনুশীলন না করার এ ঘটনা ঘটে শাপেকোয়েন্স ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে হওয়া আরেকটি বিতর্কের রেশ কাটার আগেই। ও’গ্লোবোর প্রতিবেদন বলছে, নেইমার সান্তোসের মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে তিরস্কার করতে গিয়ে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
বন্তেম্পোকে ‘বাজে লোক’ গালি দেওয়ার পাশাপাশি পরের মৌসুমে তাঁকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে আবার খেলতে হবে বলে বিদ্রূপ করেন নেইমার। শাপেকোয়েন্স এখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ২০ দলের মধ্যে সবার শেষে অবস্থান করছে। আগামী মৌসুমে দলটি নিচের লিগে নেমে যাওয়ার পথে। এ ছাড়া ম্যাচের ৬২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করা ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেইমার। এ নিয়ে তর্কাতর্কিও হয় দুজনের মধ্যে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বলছে, ড্রেসিংরুমের ঘটনার পর পুরো পরিস্থিতি বুঝতে ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক রোববার ট্রেনিং সেন্টারে যান। তবে নেইমারই সেখানে অল্প কিছুক্ষণের বেশি ছিলেন না।
অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, এটি আমাদের প্রত্যাশিত দিন ছিল না। তবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি! এমন কিছু খবর দেখছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
আরেকটি ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘যিনি এসব কথা ছড়িয়েছেন, তাঁকে বলছি, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। চাইলে যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা পুরো দলকে নিয়েই কথা বলেছি। আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাও—আমরা সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি কিছু দাবি করেছি। কারণ, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি, আমরা জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণ খেলোয়াড়দের আলাদা করে ধমক দেওয়া বা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা আমি মেনে নেব না।’
সান্তোসে নেইমারের সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক নিয়ে এটি নতুন কোনো বিতর্ক নয়। ক্লাবের ভেতরের সূত্রগুলোর দাবি, ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি নেইমারের মাঠের কিছু আচরণও তাঁর সতীর্থদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আক্রমণ সফল না হলে বা কোনো খেলায় ভুল হলে নেইমার প্রকাশ্যেই বারবার সতীর্থদের সমালোচনা করেন। এতে দলের কিছু খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল হলে নেইমার সমর্থকদের সামনেই তা তুলে ধরবেন।
তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নেইমারের বিরোধের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে এ বছরের জানুয়ারিতে রবসন জুনিয়রকে ঘিরে। অনুশীলনের সময় রবসন তাঁকে কাটিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে অসম্মানিত মনে করে নেইমার তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রবসন বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ ঘটনার পর নেইমার প্রকাশ্যে সতীর্থের কাছে ক্ষমাও চান।