দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। রাজস্ব আহরণে ধ্বস নেমে এসেছে আয়কর ও শুল্ক-কর আদায়েও। আর্ন্তজাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) রাজস্ব বাড়ানোর চাপের মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা।
আর এই রাজস্ব ঘাটতির অর্ধেক আয়কর খাতে। এছাড়া শুল্ক-করেও রাজস্ব ঘাটতি আট হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। যদিও গত অর্থবছরের রাজস্ব আহরণের তুলনায় রাজস্ব আহরণ কিছুটা বেড়েছে।
এনবিআরের রাজস্ব আহরণের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণে এনবিআরের তিনটি অনুবিভাগের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত। এই খাতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা।
আলোচ্য সময়ে এনবিআরের আয়কর বিভাগ আদায় করেছে ৪৭ হাজা ৮৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়কর খাতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে খাতে ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। যদিও এনবিআরের হিসেবে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।
এছাড়া বেশি পরিমাণে ঘাটতির মুখে দাড়িয়েছে শুল্ক খাত। এই খাতে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে শুল্ক-কর আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের ৫ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাড়িয়েছে কাস্টমস ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। আর শুল্ক খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকার কারণে ভ্যাট আদায় সন্তোষজনক হলেও আয়কর এবং শুল্ক খাতে রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি খুবই নাজুক। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদেশি বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নে ধীরগতি চলছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সমস্যা তো আছেই। সব মিলে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ভ্যাটের মতো নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে হবে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
এনবিআর সূত্র জানায়, ভ্যাটের সিংহভাগ আসে সাধারণত আসে ভোক্তা থেকে। পণ্যে বাড়তি দাম থাকলে ভ্যাট আদায় একটু বাড়বে এটা স্বাভাবিক। তবুও চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভ্যাট আদায়ে রাজস্ব ঘাটতি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা।
এই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভ্যাট আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ দাড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। যদিও আলোচ্য সময়ে ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
রুপার বার। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার মূল্যবান ধাতুর দাম কমেছে। স্পট মার্কেটে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দর নিম্নমুখী হয়েছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমেছে।
অন্যদিকে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫০১ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্যালাডিয়ামের দাম আরও বেশি, ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৯ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে এসেছে।
মূল্যবান ধাতুর বাজারে এই দরপতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করেছে। এদিকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ১০টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার দশমিক ৫২ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর কমেছে ০.৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪ দশমিক ৪০ ডলারে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন ফেডারেল রিজার্ভের দিকে। চলতি সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাসহ পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ফেডের ইঙ্গিত জানতে অপেক্ষা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এদিকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ১০টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার দশমিক ৫২ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর কমেছে ০.৬ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪ দশমিক ৪০ ডলারে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর এখন ফেডারেল রিজার্ভের দিকে। চলতি সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাসহ পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ফেডের ইঙ্গিত জানতে অপেক্ষা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েনসহ নানা ইস্যুতে চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ওঠানামার মধ্যেই তিনবছর পর হতে যাওয়া বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকে অংশ নিতে বুধবার দিল্লি যাচ্ছে ঢাকার ১০ কর্মকর্তা।
দিল্লিতে আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এই সফরের সরকারি অনুমোদন দিয়ে জারি করা আদেশে বলেছে, কর্মকর্তারা ৭ অক্টোবর বা তার কাছাকাছি সম্ভাব্য তারিখে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। ১০ অক্টোবর বা তার কাছাকাছি সম্ভাব্য তারিখে দেশে ফিরবেন।
প্রতিনিধি দলে আরও আছেন রেলপথ মন্ত্রণালযয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, এনবিআর প্রতিনিধি হিসেবে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামীম আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব ফারহানা ইসলাম, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের যুগ্ম প্রধান মামুন-উর-রশিদ আসকারী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) বাকী বিল্লাহ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মেরিনা সুলতানা ও বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক ফিরোজ আহমেদ।
বৈঠকে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করা এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। জেডব্লিউজিটি সাধারণত বছরে একবার বসে। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ নয়াদিল্লিতে।
২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা আসে এবং এই নিয়মিত বৈঠক আর হয়নি।
এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ খোলা রাখা হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসে।
আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।
গত ২৪ অগাস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে বন্ধ সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম এবং ভারতীয় সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে বলে বিজ্ঞপ্তিতে তখন জানায় মন্ত্রণালয়।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর এ প্রচেষ্টা নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত বাণিজ্য এবং কনস্যুলার বিষয়ের মত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলোর বৈঠক আয়োজনের জন্য কাজ করছে। আগামী ৮ ও ৯ অক্টোবর বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার একটি বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের দিল্লি সফরের কথা রয়েছে। এ ছাড়া কনস্যুলার বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের অন্য একটি বৈঠকের তারিখ নির্ধারণে দুই পক্ষ কাজ করছে, যার স্বাগতিক হতে যাচ্ছে ঢাকা।
খবরে আরও বলা হয়, বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের জন্য মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটির রওনা হওয়ার কথা ছিল এবং বৈঠকটিও ৭-৮ অক্টোবর নির্ধারিত ছিল। কিন্তু লজিস্টিক সমস্যার কারণে দলটি মঙ্গলবার রওনা হতে পারেনি। ফলে বৈঠকের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ঢাকা চেয়েছিল বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পর দুই দেশের বাণিজ্য সচিবদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হোক। তবে ভারতীয় পক্ষ ঢাকাকে বলেছে, ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বৈঠক শেষ হওয়ার পরই কেবল সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
কনস্যুলার বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটিও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দুই দেশ। কারণ উভয় পক্ষই ভিসা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি সমস্যার সমাধান করতে চাইছে বলেও খবরে বলা হয়।
সচিবালয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
বাজারে মাল্টা, খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খেজুর আমদানিতে শুল্ক-কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার পরও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম কীভাবে ৫২০ টাকায় পৌঁছায়, ব্যবসায়ীদের কাছে তার ব্যাখ্যা চান তিনি।
অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।
সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, মাল্টার বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহের ঘাটতি। তাদের হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়।
উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান আমদানিকারকেরা। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন।
খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে বললেন মন্ত্রী
আসন্ন চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। বৈঠকে দেশে আমদানি হওয়া বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।
সরকার ও ব্যবসায়ী- উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়।
সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্য আলাদা হলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সেই পার্থক্য সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতার কারণে খেজুর বাংলাদেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রয়োজন।
সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন ও আমদানিপ্রক্রিয়ায় যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার দেশে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার।
আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
অনলাইনভিত্তিক প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশ- বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। বাংলাদেশে ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকার পণ্য বিক্রির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি এ পরিমাণ অর্থের ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর বলছে, রাজধানীর পল্লবীতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে ঢাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম) অভিযান চালায়। ভ্যাট ফাঁকির আলামত পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও অন্যসব নথি জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নথি যাচাই করে দেখা যায়, তারা ‘নিয়মবহির্ভূত’ মোট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। যার বিপরীতে ফাঁকি দেওয়া মুসকের (ভ্যাট) পরিমাণ মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা।
এনবিআর জানিয়েছে, কোরিয়ান মার্টের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে অনলাইনভিত্তিক দোকানগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে এনবিআরের ভ্যাট কমিশনারেট। একাধিক অভিযানে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।
তেলের দাম কমে ১০১ ডলার
আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। গত শনিবার ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, এমন সম্ভাবনা আছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সেদিকেই নজর রাখছেন। ফলে আজ সোমবার তেলের দাম কমে গেছে।
জ্বালানি তেল সাধারণত দুভাবে বিক্রি হয়। একটি হলো স্পট মার্কেটে, যে বাজার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তেল কেনা যায়, ফলে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। আরেকটি হলো আগাম কেনাবেচার বাজার, যাকে বলে ফিউচার।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রডের নভেম্বর মাসের ফিউচার দর ২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমেছে। কয়েক দিন আগে ১৫ সেপ্টম্বর তেলের দাম ১০৯ ডলারে উঠেছিল।
এ ছাড়া অক্টোবর মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ফিউচার দরও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে।
জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বর এক নোটে বলেছেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেশ ভালো পরিমাণে তেল সরবরাহ হচ্ছে। বিষয়টি আশ্চর্যজনক বলে অভিহিত করেছেন তাঁরা। গত ১০ দিনে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় তা দৈনিক ৬১ লাখ ব্যারেল কম।
তবে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ যে পুরোপুরি কেটে গেছে, তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিষয়ে তিনি হয়তো শিগিগরই সিদ্ধান্ত নেবেন। অদূর ভবিষ্যতে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে, এমন কথা বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কখন। আর যদি কাজটা করতেই হয়, তাহলে পুরো দেশটা উড়িয়ে দেব কি না। তাদের ঠিকমতো আচরণ করতে হবে।’
স্কাই লিংকস ক্যাপিটাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল তাকিয়েদ্দিন মনে করেন, মূলত রপ্তানি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতি কতটা হয়, তেলের দাম তার ওপর নির্ভর করবে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে বা জাহাজ চলাচলে নতুন করে ঝামেলা হলে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমবে। এতে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে তেলের দাম ওঠানামা করছে। তবে ১০০ ডলারের নিচে নামেনি এখনো। এর মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১০৯ ডলারে ওঠে। ১৬ সেপ্টেম্বর; অর্থাৎ এক দিনের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৪ ডলারে নেমে আসে। এরপর সোমবার তেলের দাম ১০১ ডলারে নেমে গেল।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১ মার্চ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ৭২ ডলার। ৩০ এপ্রিল তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলার পর্যন্ত ওঠে। যুদ্ধবিরতি শুরু হলে তেলের দাম কমতে কমতে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
এরপর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিলে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম যতটা বাড়তে পারত, ততটা বাড়েনি।
তেলের চাহিদা কমছে
এই যে তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম এখনো অতটা বাড়ল না, তার মূল কারণ হলো তেলের চাহিদা কমে যাওয়া। কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যা অনেক দেশ এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকেছে, বিশেষ করে চীনে এই প্রবণতা স্পষ্ট।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিস্টাডের হিসাবে, পেট্রোকেমিক্যাল ও পরিবহন জ্বালানিতে তেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বে দৈনিক তেলের চাহিদা ৩৫ লাখ ব্যারেল কমেছে। চাহিদা যত কমেছে, তার অর্ধেকের বেশি কমেছে চীনের ক্ষেত্রে। সে দেশে পরিবহন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক রাসায়নিক শিল্পের প্রসার ঘটছে। ফলে তেলনির্ভর জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যালের চাহিদা কমছে।