৫ মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত
নোয়াখালীর সদর উপজেলার ৫ মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার (২ মার্চ) উপজেলার দত্তের হাট, মহাব্বতপুর, সোনাপুর ও বাল্ডিংটন মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম বেপারী বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে মো. সুমন (৪৪), নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তেরহাট এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো.রাজু (৩২), একই ওয়ার্ডের ছিদ্দিক মিয়ার বাড়ির মৃত বোরহান মিয়ার ছেলে মো.ইয়াছিন (৪০), নোয়াখালী পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ডের মশু চৌধুরী বাড়ির মকবুল হোসেনের ছেলে মো.রাব্বী (২৮), অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল হকের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৯)।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আজ সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাস্কফোর্স অভিযান চালায়। অভিযানে ৫ মাদকসেবীকে আটক করা হয়। ওই সময় ঘটনাস্থল থেকে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বলেন, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.শাহাদত হোসেন, মোছা. কাউসারী আক্তার, এস এম জাহিদা আক্তার মৌসুমি ও মুকসুদুস সালেহীন ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত আসামিদের ৩দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রমজান মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হবিগঞ্জে বিএনপি ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ জানায়, এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ছাড়া দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম এবং চলমান উত্তেজনার কারণে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে পুরো হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এর আগে এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
এনসিপি নেতাদের দাবি, সন্ধ্যায় শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়ি বহরে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন।
অপরদিকে ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, দুপুরে আজমিরীগঞ্জে শহীদ মিনারে সমাবেশে এনসিপি নেতারা বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে ‘গুণ্ডাবাহিনী’ বলে বক্তব্য দেন। এতে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় জেলা শহরের টাউন হলে পদযাত্রা শেষে এনসিপি নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় বলে জানান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের সিলেটে পাঠানো হয়।
নওগাঁর বদলগাছীতে অঙ্ক সমাধান করতে না পারায় পঞ্চম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অপরাধ স্বীকার করলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অবশেষে ওই শিশু শিক্ষার্থীর বাবা বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে প্রকাশ, জেলার বদলগাছী উপজেলার পাঁড়োরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রবিউল ইসলাম ১১ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে গত কয়েকদিন ধরে তুচ্ছ অজুহাতে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানায়নি শিশুটি। গত ২০ জুলাই রাতে মা পায়ে তেল মালিশ করতে গিয়ে শরীরে আঘাতের কালচে চিহ্ন দেখতে পান। পরে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। শিশুটির অভিযোগ, একটি অঙ্ক না পারলেই শিক্ষক তাকে একই স্থানে বারবার বেঁত দিয়ে আঘাত করতেন।
শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়েকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে। আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে বিচার চেয়েও গুরুত্ব পাইনি। পরে দাতা সদস্য ও স্থানীয় এক নেতা চিকিৎসার খরচ দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি কোনো আপস চাই না, সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযুক্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলেও একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়ে গেছে। একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটি উসকে দিচ্ছে।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুদর্শন কুমারও দাবি করেন যে ম্যানেজিং কমিটি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যুগোপযোগী, আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষাকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী চার বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক কারিকুলাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ, লেখা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা নিশ্চিত করতে নতুন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালা ও মানদণ্ডের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন (কেপিআই) এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে দেশের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি সিলেট বিভাগে ছয় ঘণ্টাব্যাপী কর্মশালায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক তদারকি বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা সম্পন্ন করা হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কোনো সুযোগ থাকবে না। নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিতভাবে প্রস্তাব বা তথ্য পেলে মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। পরিকল্পিত সংস্কার, দক্ষ প্রশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নূর আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন,একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছে- এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের ভিডিও নিয়ে আলোচনা-সমেলোচনা প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটি বলেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ববি হাজ্জাজ।
এসময় এক সাংবাদিক বিউটি রানী পালের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, এইটা নিয়ে কোন কথা হবে না। একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছে- এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে? আজকে আমি দাঁড়িয়েছি- আপনাদের সাথে কথা বলছি। আপনারা যদি বলেন, এ্যাই- কথা বলল কেন? আলোচনা করি, চলো সমালোচনা করি তাহলে?সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আপনারা করেছেন ভাই, আপনারাই করছেন- এটা জনগণ বা অন্য কেউ করছে না।
এরআগে সকালে এ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। স্ট্যটাসে তিনি লিখেন- ‘আমার পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপকগণ এবং সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’তিনি লিখেন, ‘আপনারা গান, কবিতা, লেখা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমের মাধ্যমে যে প্রতিবাদ, সংহতি ও নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন, তা আমাকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব।’
শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বিউটি রানী পাল লিখেন- ‘দ্রুত শিক্ষক সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকই সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং শিক্ষক সমাজ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সাথে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে একটি গোষ্ঠীর তোপের মুখে পড়েন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-হেনস্তা করছেন কেউ কেউ।
এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।তবে এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। অভিনব পন্থায় বিউটি পালকে নিয়ে ট্রলের প্রতিবাদ জানান সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করন তারা। বিউটি রানী পাল ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বিউটি রানী পালের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি প্রায়ই নিজের ফেসবুক একাউন্টে তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, বাচ্চাদের শরীর চর্চা করানো, শিশুদের নাচ গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন পড়া শেখানো, শিক্ষাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করার ভিডিও আপ দিতেন। এ ঘটনায় সোমবার ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন বিউটি রানী পাল।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শান্তা রানী দাস (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নয়, স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট এলাকার জেলে বাড়ির বাসিন্দা ও নিহতের বাবা অনন্ত জলদাস জানান, চার বছর আগে পারিবারিক ভাবে শান্তার সঙ্গে সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ির নিমাই দেব নাথের ছেলে বাপ্পী দেব নাথের (২৯) বিয়ে হয়। তাদের ১৮ মাস বয়সী বর্ষা দেব নাথ নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বাপ্পী আগে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে গার্মেন্টসের এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকরি ছেড়ে এলেও ওই নারীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এ নিয়ে সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এবং বাপ্পী শান্তাকে মারধর করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝগড়ার পরে রাতে শান্তা স্বামীর জেঠা গণেশের ঘরে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে তাকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে বেলা ১১টার বাপ্পী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাপ্পী দেব নাথের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), দিনাজপুরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান-কে বিদায় সংবর্ধনা এবং নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলী হোসেন-কে বরণ উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, এলজিইডি, দিনাজপুর। অনুষ্ঠানে নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলী হোসেন-কে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান-কে ফুলের শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করে তাঁর কর্মজীবনের অবদানের স্বীকৃতি জানানো হয়।
এ সময় এলজিইডি, দিনাজপুরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীর কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে তাঁর ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর নেতৃত্বে এলজিইডি, দিনাজপুরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে স্থাপিত একটি ব্যানারে লেখা ছিল— “একজন ভালো লিডার চলে যান, কিন্তু তার রেখে যাওয়া পথ থেকে যায়।” আয়োজকদের মতে, এই বার্তাটি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, দায়িত্ববোধ এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়কে ধারণ করে। অনুষ্ঠানটি বিদায়ী কর্মকর্তার প্রতি সহকর্মীদের সম্মান ও শুভকামনা এবং নবাগত কর্মকর্তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
হাসপাতালে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি ইসিজি মেশিন প্রদান
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি আধুনিক ইসিজি (ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম) মেশিন প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চিকিৎসা সরঞ্জামটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মমতাজ আলো বলেন, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। মেশিন হস্তান্তর পর্ব শেষে হাসপাতালের নতুন ভবন চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধান অতিথি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।