বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দেশ আমাদের প্রিয় দেশ। আল্লাহ তায়ালা এমন একটি সুবজ শ্যামল দেশে আমাদেরকে জন্ম দিয়েছেন, যেখানে মাটি আমাদের উর্বর, মানুষ আমাদের পরিশ্রমী, পানিতে আছে সম্পদ, মাটির নিচে সম্পদ। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দুই দুইবার স্বাধীনতা ১৯৪৭ এবং ১৯৭১।
কিন্তু এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, দীর্ঘ ৭৭ বছরে বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারলো না। দুনিয়ার বুকে সম্মানিত একটা জায়গা করে নেয়ার কথা ছিলো এটা এখন আর নেই। আমাদের দেশের পাসপোর্টের ভ্যালু খুব দুর্বল। অনেক জায়গায় দেশের পরিচয় দিতে অনেকে লজ্জাবোধ করেন। এর জন্য দায়ী আমাদের অসৎ নেতৃত্ব।
যারা জনগণকে ধোকা দিয়ে তাদের ধারণা অনুযায়ী বোকা বানিয়ে জনগণের কপাল খামছে খায়। এরাই বাংলাদেশকে ৫৪ বছরে এগুতে দেয়নি। ময়মনসিংহ একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার সাক্ষী আপনারা। এই রকম একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে চেহারা পাল্টে যাওয়ার কথা।
আমি জানি এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বাজেট ও পার্যান্ত জনবল সরবরাহ করা দরকার তা করা হয় না। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে কাছাকাছিও কিছু দিতে পারে নাই।
আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ আগামী ১৩ তারিখ থেকে যদি নতুন বাংলাদেশ আল্লাহর ইচ্ছা এবং আপনাদের মায়াবী হাতের ভোটের মাধ্যমে ইনসাফের পক্ষে যদি রায় আসে, আল্লাহ যদি ১১ দলকে দেশবাসীর সেবা করার তৌফিক দেন তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে ইনশাআল্লাহ।’
আজ মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে মহানগর সেক্রেটারী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা আমাদের লাগবে। সেই শিক্ষাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমত বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়। দ্বিতীয়ত দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে অসৎ লোকদের হাতে যা বাজেট আছে তা তুলে দেয়া হয়। একদিকে বাজে অপর্যাপ্ত অন্যদিকে যা বাজেট থাকে সেটা খেয়েদেয়ে শেষ করে ফেলে।
সারা বাংলাদেশের একই চেহারা। এখানকার যারা আছেন তারা হয়তো দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, আর আসছেন বলেইতো আমরা পাচ্ছি। অপর্যাপ্ত বাজেট থাকা সত্ত্বেও আমরা পাচ্ছি। এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহে কৃষি বিপ্লব ঘটবে ইনশাআল্লাহ। কৃষিকে ওই পুরানা ধাচেঁ আর আমরা দেখতে চাই না। কৃষি এবং কৃষক এই দুটোকে শিল্প এবং শিল্পীতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোন মামু খালুকে ছাড় দিবো না। দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করতে দিবো না। আমরা ঘুম হারাম করে দিবো। ওদের শুধু সম্পদ নয় এই চোরদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে ইনশাআল্লাহ। এনে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
আশ্চর্যের বিষয় এই জাতি একটি মুরগির চুরির অপরাধে একজনকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে এগুলো আমরা সমর্থন করি না। এই ছোট চোরদের না ধরে বড় চোরদেরকে ধরেন। এদেরকে এই যে মানুষগুলো পেটের ক্ষুধার তারণায় অপরাধ করে ফেলে তাদের অপরাধ করার দরকার হবে না।
আগের ২৩ বছর পরের ৫৪ বছর এই ৭৭ বছর আমরা দেখেছি। আমাদের যুবক-যুবতীরা, তরুণ-তরুণীরা সেই পুরোনো রাজনীতি আর চায় না। এমনকি শিশুরাও চায় না, আমাদের মা-বোনেরাও চায় না। এবারের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। এবারে নির্বাচন জাতির কিসমত উপযুক্ত রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে দেয়ার নির্বাচন।
এই নির্বাচনে দুটি মূল্যবান ভোট। প্রথম ভোট হবে গণভোটে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দিবো আর সারা ময়মনসিংহবাসীকে হ্যাঁ ভোটে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। কেউ কেউ প্রথম দিকে না ভোটের দিকে ক্যাম্পেইন করেছেন।
জনগণের উত্তাল তরঙ্গ দেখতে পেয়েছে। জনগণ পুরানা পঁচা রাজনীতি আর চায় না, পরিবার ব্যক্তিগোষ্ঠীতান্ত্রিক রাজনীতি চায় না। দলীয় সরকার দেখতে চায় না। জনগণ জনগণের সরকার দেখতে চায়। অনেকেই এখন আস্তে আস্তে বলতে শুরু করেছে আমরাও হ্যাঁ। ঠ্যালার নাম বাবাজি। জনগণের ঠ্যালা এটি ভীষণ শক্তিশালী ঠ্যালা। এটা সাগরের উত্তাল ঢেউকে থামিয়ে দেয়।
যাদেরকে ভোট দিলে বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা ৫ আগস্টের পর থেকে জনগণের জানমাল খাওয়ার জন্য চাঁদা বাণিজ্য শুরু করেছে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা মামলা বাণিজ্য করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে তাদেরকে দিবেন?
যারা ঋণ খেলাপীদেরকে নিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলছে ওদেরকে দিবেন? এদেশে পরিক্ষিত পরিচিত যারা ন্যায়ের পক্ষে মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের পক্ষে যারা থাকবেন এবার বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা তাদের পক্ষে থাকবেন ইনশাআল্লাহ। তাই গণজোয়ার শুধু ময়মনসিংহে না সারা বাংলাদেশের একই চিত্র।
যুবকরা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে আমরা আর ধান্দাবাজি ধাপ্পাবাজির রাজনীতির সাথে নাই। আমরা কোন কার্ড এবং বেকার ভাতার সাথেও নাই। আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি ও মুক্তাগাছা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিশের ময়মনসিংহ জেলা শাখার আমীর মাওলানা নজরুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ঈশ্বরগঞ্জ-৮ আসনের প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল, ১১ দলীয় জোটের ভালুকা-১১ আসনের প্রার্থী ডাঃ জাহিদুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ফুলপুর-তারাকান্দ-২ আসনের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ,
১১ দলীয় জোটের নেজামে ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মাওলানা আজিজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের নান্দাইল-৯ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, ১১ দলীয় জোটের নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ী) আসনের প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ফুলবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রশিবিবের সভাপতি ডাঃ ফাউজান আব্দুর রহমান,
১১ দলীয় জোটের গফরগাঁও-১০ আসনের প্রার্থী ইসমাইল হোসেন সোহেল, ১১ দলীয় জোটের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ত্রিশাল-৭ আসনের প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য মোঃ আবদুল করিম,
সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুর রশীদ ফরাজী, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান, কর্মপরিষদ সদস্য হায়দার করিম, আব্দুল আজিজ, খন্দকার আবু হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারী সহ মহানগর ও জেলা জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পানি বৃদ্ধিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেত
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিনের টানা পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীতে বিলীন হয়েছে অর্ধশত ঘরবাড়ি, তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। এছাড়া অনেক বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিফাত করিম জানান আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১৩ দশমিক ০৬ মিটার সে অনুযায়ী বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপদ সীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান নতুন করে পানি বৃদ্ধির সম্ভবনা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ও সাপের উপদ্রব বেড়ে গেছে। ফলে চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।এছাড়াও গো খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছে গরু মহিষের খামারিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত। এর মধ্যে রয়েছে, আখ ৪৩৫ হেক্টর, সবজি ৭ হেক্টর, ফল ৬০ হেক্টর। এতে প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল শনিবার সরজমিনে উপজেলার পদ্মার চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফসলি জমিগুলো পুরোপুরি পানিতে ডুবে আছে। বাঁশের মাচা বা খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা সবজি ক্ষেতগুলোর শুধু উপরের অংশ পানির উপরে জেগে আছে। অনেক জায়গায় নতুন রোপণ করা মুলা, বেগুন গাছও পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকরা নৌকা বা ভেলায় করে তাদের ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানির তীব্রতায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফলানো ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক নাসিরুল বলেন, "হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে আমার ২ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরো ৪ বিঘা মুলা ও বেগুন ক্ষেত তলিয়ে যাবে।"
২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কুলচরা লক্ষীপুর চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপদে আছি বন্যার পানিতে চারাঞ্চল ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই মহিষকে এখন শুধু ধানের শুকনো পোয়াল আর পানি খাওয়াচ্ছি।
এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান হঠাৎ এ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। রসুলপুর, দিয়াড়শংকরপুর, নওসারা সুলতানপুর, আরাজি বাকনার প্রায় সাড়ে ৪শপরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু জানান, ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আমরা চর এলাকা পরিদর্শন করেছি, পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।
এবিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবীর হোসেন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, ইতিমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০কেজি করে জিআর চাউন বিতরণ করা হয়েছে।
ট্রলারের মাঝি নিখোঁজ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় চলন্ত ফেরি থেকে কঁচা নদীতে পড়ে বাবুল মাঝি নামে এক ফিশিং ট্রলারের মাঝি নিখোঁজ হয়েছেন। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরখালী-টগড়া ফেরিঘাটের চরখালী প্লাটুনের কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ বাবুল মাঝি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বঙ্গোপসাগরগামী একটি ফিশিং ট্রলারের মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার দিকে চরখালী প্লাটুনের কাছাকাছি এলাকায় চলন্ত ফেরি থেকে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান বাবুল মাঝি। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তবে নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও নিখোঁজ মাঝির সন্ধানে নদীর আশপাশে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।
এদিকে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাবুল মাঝির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁকে উদ্ধারে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
স্লিপার বাসে আগুন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় আবারও স্লিপার বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুন লাগার সময় যাত্রাবিরতি থাকায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাসটির যাত্রীরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ‘শাহ ফাতিহা স্লিপার কোচ’ নামে বাসটিতে আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে নওগাঁগামী বাসটি রাত আড়াইটার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকায় হোটেল নুরজাহানের সামনে যাত্রাবিরতি দেয়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বাসটিতে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই আগুন বাসের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন দেখতে পেয়ে কয়েকজন যাত্রী ও আশপাশের লোকজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, বাসটিতে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যাত্রাবিরতির কারণে অধিকাংশ যাত্রী তখন হোটেলে ছিলেন। কেউ কেউ বাস থেকে নিচে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট ভোরে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী রয়েল কোচ পরিবহনের একটি স্লিপার বাস মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে আগুন লাগে। পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি বাসটিকে ধাক্কা দেওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যাওয়ায় সেবারও কোনো প্রাণহানি হয়নি।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর একদিনের সফরে সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হযরত শাহজালাল (রাহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রাহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারত উপলক্ষে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল (রাহ.) ও শাহপরান (রহঃ) দরগাহ শরিফ পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি দরগাহ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে দরগাহ এলাকায় সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারত নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দরগাহ এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল শাখা থেকে পাঠানো এক পত্রে সফরসূচি জানানো হয়েছে।
পত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বঙ্গভবন থেকে যাত্রা করে রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে ১০টা ৫০ মিনিটে বিমানযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়ে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। এরপর ১১টা ২০ মিনিটে সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা হবেন।
সার্কিট হাউজে পৌঁছানোর পর সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর সেখান থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে জিয়ারত করবেন। মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১টায় হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে ১টা ২৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছাবেন। উভয় মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সার্কিট হাউজে ফিরে সাময়িক বিশ্রাম নেবেন তিনি।
বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে সার্কিট হাউজ থেকে সংবর্ধনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি। সংবর্ধনা শেষে বিকেল ৫টা ১ মিনিটে সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা হয়ে ৫টা ৫ মিনিটে সেখানে ফিরে পুনরায় বিশ্রাম নেবেন। রাতে সাড়ে ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে সার্কিট হাউজ থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে ৭টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন রাষ্ট্রপতি। রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং রাত ৯টা ৫০ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রত্যাবর্তন করবেন।
ময়মনসিংহের ভালুকায় চোর সন্দেহে সুজন মিয়া (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় নিয়ে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে জানতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও ওই রাতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কেউ বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন-এমন কয়েকজন ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
নিহত সুজন মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া বাজারসংলগ্ন এলাকার আমিনুল হক কালুর ছেলে। তাঁর মা মৃত ফিরোজা বেগম। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার পাড়ায় তাসলিমা নামের এক নারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় ‘মুরাদ ইলেকট্রনিকস’ নামের একটি দোকানে চুরি হয়। চুরির পর দোকানের পেছনের ভাড়া বাসার বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর সুজনকে চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর সুজনকে বেঁধে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপের কাছে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
জৈনা বাজার এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন সুজনকে উদ্ধার করেন। তাঁকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীপুর থানা-পুলিশ। তবে সুজন আসলে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। চুরির অভিযোগ এবং সুজনকে আটক করে মারধরের ঘটনা-দুটিই তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।
ঘটনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। ভিডিওতে এক যুবককে বেঁধে মারধর করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তবে ভিডিওটি সুজন মিয়াকে মারধরের ঘটনারই কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ভিডিওটির স্থান, সময় এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ‘মুরাদ ইলেকট্রনিকস’ দোকানে গিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাঁরা জানান, ঘটনার রাতে দোকানে চুরি হয়েছিল।
তবে সুজনকে আটক করা, তাঁকে মারধর করা কিংবা পরে তাঁকে শ্রীপুরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
দোকানের মালিকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে সুজনকে আটকের সঙ্গে দোকানের মালিক বা কর্মচারীদের কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ওই রাতের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয়দের অধিকাংশই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন-এমন কয়েকজন ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেই। তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কারও আত্মগোপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়িতে চুরির ঘটনায় সুজনকে চোর সন্দেহে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে জৈনা বাজারে ফেলে দেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর ভালুকা থানা পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুজন চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তাঁকে কারা আটক করেছিলেন, তাঁর ওপর কারা মারধর করেছিলেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কারা শ্রীপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
ছবি : সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও শ্রী উদা রায় (৩৪) নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আসাদল হক পীরগঞ্জের বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের উদ্দীনের ছেলে। আহতদের বাড়িও একই এলাকায়। মোস্তাকিম সেখানকার আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা মুনষা নারায়ণের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সীমান্ত পিলার এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল গুলি চালায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত ও আহতরা বৈরচুনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আমরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। আহত দু’জনের অবস্থাও ভালো নেই।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিস্তারিত তথ্য জানতে ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আজ পতাকা বৈঠক হলে বিস্তারিত জানা যাবে।