আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী প্রশিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী প্রশিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। উপপরিচালকের প্রত্যাহার ও ঘটনার বিচার দাবিতে আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নির্যাতিত নারী সমাজ এবং জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার পাঁচ উপজেলার অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশিক্ষণার্থী এবং ভুক্তভোগী প্রশিক্ষক লুনা বেগম অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী লুনা বেগম, হিসাবরক্ষক সিলভিয়া নাসরিন, উপজেলা কর্মকর্তা ও কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচির দিন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান প্রশিক্ষক লুনা বেগমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন। তাঁরা বলেন, উপপরিচালকের এমন আচরণ শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, এটি সরকারি চাকরিবিধিরও পরিপন্থী। দ্রুত তাঁকে প্রত্যাহার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন বক্তারা। দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতির কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে একই ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রশিক্ষক লুনা বেগম। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় একশ প্রশিক্ষণার্থী ও সহকর্মীদের নিয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নির্দেশনা দেওয়ার সময় উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান হঠাৎ তাঁর ওপর চড়াও হন এবং চুলের মুঠি ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
লুনা বেগম বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে অপমানিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। পরে অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি বিষয়টি উপস্থিত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানো হলে উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিক, পুলিশ ও এনএসআই কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লুনা বেগমের দাবি, উপপরিচালকের এমন আচরণ নতুন নয়। তিনি এর আগেও কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মচারীর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। এসব কারণে অফিসের কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন নো কমেন্ট।
রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা
আগামীকাল মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সফর ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মাজার জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে মাঠে থাকছে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিপুলসংখ্যক সদস্যসহ র্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সফরকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আজ সোমবার দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এসএসএফের সঙ্গে এসএমপি, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয় সভার নির্দেশনা অনুযায়ী নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও।রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে এসএমপির প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে থাকবেন প্রায় দুই হাজার ট্রাফিক পুলিশ।হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসহ সিটি করপোরেশন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন সাদা পোশাকের সদস্যরাও।নিরাপত্তার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নগরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে থাকবে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা।
সবকিছু মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির সফরকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এসএমপি কমিশনার।আগামীকাল সকালে সিলেট আসবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। এদিকে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামীকাল তিনি একদিনের সফরে সিলেট আসবেন।
সফর কালে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেবে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ ও সংবর্ধনা দেওয়ার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত সফরসূচীতে জানানো হয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। এরপর তিনি চলে যাবেন সার্কিট হাউসে। সেখান থেকে বের হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও বেলা ১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি নগরভবনের সামনে সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিবেন এবং ওইদিন রাত ৮টায় ওসমানী বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।
প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, নগর ভবনের সামনে সংবর্ধনাস্থলে ১ হাজার ২শ’ আমন্ত্রিত অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সিলেটের মন্ত্রী ও হুইপ ছাড়া বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর আধাঘন্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন রাখা হয়েছে।
কাইয়ূম চৌধুরী আরও জানান, অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে পুরো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি রাখা হয়েছে অরাজনৈতিক।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজারে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাৎক্ষণিক তাদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ঝাঁজালো গন্ধে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর অন্যান্য শ্রেণিকক্ষের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যায়। পরেরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত সেখানে ২১ শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে সুমাইয়া (১৪), রিহান (১২), সাকিব (১২), ছায়েম (১৩), আরক দেবী (১৪), আরাফাত হোসেন (১৪), লাইজু (১৩), ঐশী (১৩) ও ফরিদা আক্তার (১৩) রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী মেডিকেল অফিসার বিমান চন্দ্র আশ্চার্য বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত ২১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আসা একজন অভিভাবক ও হাসপাতালের এক স্টাফও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বলেন, প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আরও কয়েকজন অসুস্থ হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বর্তমানে সব শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে ঝাঁজালো গন্ধ থাকার বিষয়টি জানা গেছে। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ বা অজ্ঞান হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
নীলফামারী জেলা পরিষদ
স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দ বাস্তবায়নের অন্যতম মাধ্যম জেলা পরিষদ। তবে নীলফামারীতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মালামাল না কিনে ভুয়া ভাউচারে বিল তোলা এবং ১০ শতাংশ কমিশন ছাড়া ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে।
নিয়ম মেনে কাজ শেষ হলেও বিল পেতে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। মূল কারণ ১০ শতাংশ 'কমিশন'। ঠিকাদারদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দেওয়া পর্যন্ত ফাইল সই করেন না জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ।
অনিয়মের চিত্র কতটা প্রকট, তার বড় প্রমাণ জলঢাকার গোপালঝাড়ের বুড়িতিস্তা নদীর 'চেয়ারম্যানের ঘাট' ব্রিজ। নির্মাণাধীন এই ব্রিজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ না করেই তুলে নেওয়া হয়েছে পুরো অর্থ। প্রকল্প সভাপতি বলছেন, এই বিল পেতে মামুন উর রশিদকে দিতে হয়েছে টাকা।
একই চিত্র জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংস্কারেও। বাইরে থেকে মাটি আনার কথা থাকলেও ব্যবহার করা হয়েছে মাঠের ময়লা-বর্জ্য। আর নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে একটু বৃষ্টিতেই জমে থাকছে পানি। শুধু তা-ই নয়, ৪টি গাছ কাটার অনুমতি থাকলেও সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজশে ঠিকাদার কেটেছে দ্বিগুণেরও বেশী মূল্যবান গাছ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীরাও।
অনিয়মের জাল পুরো জেলাজুড়েই। ডোমার সড়কের সীমানা তোরণ নির্মাণের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে রংপুর-দিনাজপুর সড়কের ওয়াপদা মোড়ে ২১ লাখ টাকার যাত্রী ছাউনি নিয়েও। অভিযোগ-নিম্নমানের ও নামমাত্র কাজ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বরাদ্দের অর্থ। ব্যবহারের আগেই ভেঙে পড়েছে শৌচাগারের দরজা ও কল। অথচ কোনো তদারকি ছাড়াই এই বিল ছাড় করেছেন প্রকৌশলী মামুন।
জালিয়াতি কেবল প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়, মিলেছে ভুয়া বিল ভাউচারে সরকারি টাকা আত্মসাতের প্রমাণও। নীলফামারীর 'সরকার মটরস'-এর মেমো বানিয়ে হেলমেট, রেইনকোট,স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন কেনাকাটার নামে জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন মামুন উর রশিদ। অথচ অফিসে মেলেনি এসব সামগ্রীর হদিস। আর শোরুম কর্তৃপক্ষের দাবি,মেমোর লেখা ও স্বাক্ষর দুটিই ভুয়া, বিক্রিও হয়নি কোনো মালামাল।
তবে নিজের দায় এড়াতে সব দোষ হিসাব শাখার ওপর চাপাতে চান মামুন উর রশিদ। যদিও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও, হিসাব শাখা নিশ্চিত করেছে, মেমো জমা দিয়ে টাকাটা ইন্জিনিয়ার (মামুন) নিজেই তুলেছেন।
এছাড়া নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের সব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ। তার দাবি, নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে সব কাজ। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা পরিষদ প্রশাসন।
উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ আর কমিশন বাণিজ্যের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রুত প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি নীলফামারীর সাধারণ মানুষের।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসরে গেলেন লালপুর উপজেলার ৩৩ নং বিলমাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা ইয়াসমিন। বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও দিনটি যেন ছিল স্মৃতি, ভালোবাসা আর আবেগে ভরা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চোখে-মুখে ছিল বিষণ্নতার ছাপ।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত হয় তাঁর বিদায় সংবর্ধনা। অনুষ্ঠানে কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষক কখনো শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন; তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখান, মানুষ হওয়ার পথ দেখান। দীর্ঘদিন ধরে ঝর্ণা ইয়াসমিনও সেই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক মনজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোছাম্মৎ নার্গিস সুলতানা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান, বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন, গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই নান্নু এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আনেজ উদ্দিন, লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান শিক্ষক আক্কাস আলী লালপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার তাইয়েজুল ইসলাম সফল বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ সাইফী প্রমুখ।
বক্তারা ঝর্ণা ইয়াসমিনের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তাঁর নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি মমত্ববোধ বিদ্যালয়ের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। একজন শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য তাঁর পদ-পদবিতে নয়, বরং কতগুলো হৃদয়ে তিনি নিজের জন্য একটি স্থায়ী আসন তৈরি করতে পেরেছেন- ঝর্ণা ইয়াসমিনের বিদায় যেন তারই প্রতিচ্ছবি।
শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ পথচলায় বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তৈরি হয়েছে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের শাসন, স্নেহ ও উৎসাহ দেওয়ার অসংখ্য স্মৃতি আজও সহকর্মী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মনে জাগরুক। তাই অবসরের বিদায় ছিল কেবল একজন শিক্ষকের কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়া নয়; এটি ছিল প্রিয় একজন অভিভাবকতুল্য মানুষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেওয়ার মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর অবসর-পরবর্তী জীবনের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও শান্তি কামনা করেন। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ঝর্ণা ইয়াসমিনও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
একজন শিক্ষক অবসরে যান, কিন্তু তাঁর হাতে গড়া মানুষগুলো থেকে যায়। থেকে যায় তাঁর শেখানো মূল্যবোধ, স্নেহের স্মৃতি আর অসংখ্য গল্প। বিলমাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তেমনি ঝর্ণা ইয়াসমিনের কর্মময় দিনের স্মৃতিগুলো থেকে যাবে দীর্ঘদিন।
বিদায় তাই এখানে শেষ নয়-এ এক নতুন জীবনের পথে যাত্রা। আর প্রিয় শিক্ষকের জন্য বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে উচ্চারিত হলো একটাই শুভকামনা-ভালো থাকুন ঝর্ণা ইয়াসমিন, আপনার আগামীর দিনগুলো হোক আরও সুন্দর ও আনন্দময়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ছয় ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তালা ভাঙার কাটার ও কয়েকটি গামছা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বহনকারী একটি প্রোবক্স গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে পাঠানো হবে। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চরকলমী বাজারের চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার সোনাইছড়ি এলাকার রফিকুল ইসলাম (৫৭), কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার রাজগঞ্জ এলাকার মইনুল ইসলাম (২৮), সীতাকুণ্ডের জাহানাবাদ এলাকার মিজানুর রহমান (২৫), কোম্পানীগঞ্জের চর এলাহী ইউনিয়নের চরকলমী এলাকার নুর নবী (৩৯), একই এলাকার নুর মোহাম্মদ (৩২) এবং গাড়িচালক সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকার আজিজুল মোস্তফা (৩৫)।
পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চর কলমী বাজার চৌরাস্তা এলাকায় রাত্রিকালীন টহল দিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় এসআই সুমন চন্দ্র দাসের সন্দেহ হলে একটি সিলভার রঙের প্রোবক্স গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িটিতে চালকসহ ছয়জন ছিলেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে তালা ভাঙার কাটার ও কয়েকটি গামছা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ ও আজিজুল মোস্তফার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা হয়েছে। জব্দ করা সিলভার রঙের প্রোবক্স গাড়িটি থানায় রাখা হয়েছে। ওই মামলায় আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক আসাদুজ্জামানের মরদেহ বিজিবির কাছে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। গতকাল রোববার রাত ৯টার সময় পীরগঞ্জ উপজেলার দানাজপুর বিওপির আওতাধীন এলাকায় মরদেহটি হস্তাস্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ও ভারতের রায়গঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন।
এর আগে শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে বিএসএফের গুলিতে আসাদুজ্জামান নিহত হন। তিনি উপজেলার ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনায় মোস্তাকিম ও শ্রী উদা রায় নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবক বিএসএফের হাতে আটক রয়েছেন। মোস্তাকিম একই গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা রায় মুনষা নারায়ণের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল গুলি চালায়। এতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রোববার রাতে তার মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরে মরদেহটি দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি ও পুলিশ। তবে এখনো মোস্তাকিম ও শ্রী উদা রায় ভারতে আটক আছেন।