ছবি: সংগৃহীত।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক নারীকে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু একটি তেঁতুল গাছের মগডাল থেকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (৬ মে) সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই নারী আনন্দবাজারের বাসিন্দা আবু সাইদের স্ত্রী।
জানা গেছে, গতরাত রাত ১০টায় ওই নারী ঘর থেকে নিখোঁজ হন। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে আজ বুধবার সকালে বাড়ির কাছে একটি পুকুর পাড়ের লম্বা তেঁতুল গাছের মগডালে তাকে কখনো বসে বা কখনো শুয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এতে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এসময় এ দৃশ্য দেখতে সেখানে ভিড় করেন এলাকার অনেক মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ১০টার দিকে তাকে গাছের মগডালে বসে কিছু একটা খেতে দেখা যায়। এসময় তার ছেলে গাছে উঠতে চেষ্টা করলে তাকে নিষেধ করে সে। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা গিয়ে তাঁকে নামানোর চেষ্টা করলে তাদেরও তিনি নিষেধ করেন। এক পর্যায়ে ওই নারী গাছ থেকে পানিতে লাফিয়ে পরলে অজ্ঞান অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রায়হান কবির বলেন, ৪০ বছর বয়সী ওই নারী ইতিপুর্বেও বাঁশ গাছসহ বিভিন্ন গাছের মগডালে উঠেছিল। তিনি যে ধরনের গাছের মগডালে আরোহন করতেন, সেটি একজন পুরুষের পক্ষেও সম্ভব নয়। আমার জানামতে, তিনি একজন জ্বিনের আছরের রোগী বলে এলাকায় শ্রুত রয়েছে।
রায়হান কবির আরও দাবি করেন, প্রায় ২৫ ফুট উঁচু গাছের মাথা থেকে পানিতে পড়ার সময় পানিতে সামান্য শব্দও পাওয়া যায়নি। কিন্তু আমরা যখন তাকে পানি থেকে উদ্ধার করি তখন তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার বাড়ীতে পৌঁছে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে কড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মির্জা নাসির উদ্দিন
বলেন, এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে অনেক সময় অলৌকিক বা ‘জ্বীনের আছর” বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের কাছে এগুলো যৌক্তিক। তবে তিনি বলেছেন- এ ধরনের আচরণের প্রধানত দুইটি বৈজ্ঞানিক কারণ হতে পারে:
১. স্লিপওয়াকিং (Sleepwalking) বা ঘুমের মধ্যে হাঁটা
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে Somnambulism বলা হয়। এটি একটি প্যারাসমনিয়া (Parasomnia) ডিসঅর্ডার।
কি ঘটে: ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে (সাধারণত গভীর ঘুমে) মানুষের মস্তিষ্ক আংশিক জেগে ওঠে, কিন্তু শরীর পুরোপুরি সচেতন হয় না। এই অবস্থায় ব্যক্তি হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে, এমনকি জটিল কাজ যেমন-রান্না করা বা উঁচু কোনো জায়গায় উঠে পড়াও সম্ভব।
বিপত্তি:স্লিপওয়াকাররা সাধারণত চোখ খোলা রাখলেও তাদের চেতনার অভাব থাকে। তারা কোথায় যাচ্ছে বা কি করছে সে সম্পর্কে তাদের কোনো স্মৃতি থাকে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তারা সাধারণত কিছু মনে করতে পারে না এবং নিজেকে অদ্ভুত জায়গায় আবিষ্কার করে ভীষণভাবে অবাক বা আতঙ্কিত হয়ে
পড়ে।
২. ডিজোসিয়াটিভ ডিসঅর্ডার (Dissociative Disorder)
মনোবিজ্ঞানে অনেক সময় একে Dissociative Identity Disorder বা সহজ ভাষায় হিস্টেরিয়া বলা হয়ে থাকে। কারণ: যখন একজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপ বা পারিবারিক অবদমন সহ্য করেন, তখন তার মস্তিষ্ক বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি ভিন্ন পর্যায়ে চলে যায়।
আচরণ: এই অবস্থায় ব্যক্তি নিজের অজান্তেই এমন সব কাজ করে ফেলেন যা তার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের বাইরে। উঁচু গাছে ওঠা বা অদ্ভুত শব্দ করা এই মানসিক অসুস্থতার একটি লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় একে "পজেসন" (Possession) বা আছর করা মনে করা হয় কারণ ব্যক্তির আচরণের ওপর তার নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
কেন অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়?
গাছে ওঠার মতো শারীরিক পরিশ্রমের পর যখন ব্যক্তির স্বাভাবিক চেতনা ফিরে আসে, তখন অতিরিক্ত ভয় বা ক্লান্তিতে তার স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, যার ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
এ পরিস্থিতিতে করণীয়:
এই ধরনের পরিস্থিতিতে ওই মহিলার ওপর কোনো কবিরাজি চিকিৎসা বা ভয় দেখানোর মতো কাজ করা একদমই উচিত নয়। তাকে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্ট (Neurologist) বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) দেখানো প্রয়োজন। সঠিক কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
এটি অলৌকিক কিছু নয় বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যা।
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপ (ট্রমা), বা পারিবারিক অবদমনে থাকা যে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারে। এ ধরনের রোগীকে পারিবারিকভাবে কেয়ার নেয়ার পাশাপাশি অতি দ্রুত মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে
অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অনেক জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও
সেটি জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। তাই সরকার উদ্যোগী হয়ে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়ার
চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার
(৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির
সভাপতি হিসেবে আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের আওতায় দেশের প্রতিটি স্তরে অব্যবস্থাপনা,
অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি, অবহেলা ছিল। স্বাস্থ্যখাতও এর বাহিরে নয়। রংপুরের সন্তান
হিসেবে আমাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা
হয়েছে। এ হাসপাতালের উন্নয়নে আমি সাধ্যমত কাজ করে যাব।
তিনি
আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ১০টি আইসিইউ
শয্যা যুক্ত করে ২০টি শয্যায় ইউনিটকে উন্নীত করা হবে। হাসপাতালে রোগীর সাথে একজন এটেনডেন্টের
থাকার সুবিধা নেই, সেটি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। এনেসথেশিয়ার অভাবে অপারেশনে সমস্যা
হচ্ছে। এ কারণে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে রোগী মারাও যাচ্ছে।
অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।
মন্ত্রী
আরও বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তরের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাস্থল হলেও
এ হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে
হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। চুরি, ছিনতাই রোধে এক সপ্তাহের ভেতরে
গোটা মেডিকেল ক্যাম্পাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট জ্বালিয়ে আলোকিত করা হবে। হাসপাতাল
প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা দূরসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সিটি
করপোরেশন।
জনবল
সংকট মোকাবেলা নিয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং
হিসেবে ১২৪ জন জনবল রয়েছে। এদের মাধ্যমে হাসপাতালে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তাই রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন, রংপুর-৩ আসনের
এমপির পক্ষ থেকে ৫ জনসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ৫০ জন আউটসোর্সিং
জনবল নিয়োগ করা হবে। এতে করে হাসপাতালে দালাল চক্র, ট্রলির মাধ্যমে পয়সা নেওয়া বন্ধ
হবে। প্রতিটি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত পোশাক পরানো ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত
করা হবে।
তিনি
বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু
করা হয়েছে। নার্সরা যেন রোগীদের সাথে ভাল আচারণ করেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ডাক্তাররা
যেন সময় মত ডিউটি করেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করতে পারলে
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাক্ষেত্রে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে।
লাশ
পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট
কাজ করে। আগামীতে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হতে হবে। তারা মাইলেজ
অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে। এনিয়ে সিটি করপোরেশন,
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক আলোচনা করবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
১৫ তলা ভবনে ৪৬০ শয্যার একটি ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ বিভাগের ভবন নির্মাণ চলছে। এটির
কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ভবনটি চালু হলে
হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। এছাড়া হাসপাতালে যেসব যন্ত্রপাতি অকেজো রয়েছে এবং মেরামত
যোগ্য নয়, সেটি মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান
সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর
রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ
সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি,
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি রংপুর নগরীর জিয়া খাল ও কেডিএ খাল পরিদর্শন করেন।
মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার
নোয়াখালীর সেনবাগে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একই দিন দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠেনোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৫০) উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে উক্ত্যত করত। এরপর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জেঠাদের জানালে গত মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়। সালিশের বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আব্দুর রহিম সরকার আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম
সন্ত্রাস মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি হবিগঞ্জ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহর ও নেতাদের উপর হামলার সমালোচনা করে বিএনপির উদ্দেশে বলেন, “হবিগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জ। আমরা যা দেখছি, দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যের দিকে আবারও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র আবারও জাতির সামনে উন্মেচিত হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে, জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে।”
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের কিছু আগে গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা গোলাপগঞ্জ যাব, আমরা দাঁড়াব, দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না। আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।’’
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক কোনো শক্তির উত্থান ঘটুক বর্তমান সরকার সেটা চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এনসিপির ওপর হামলা করছে।”
এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।
ছবি : সংগৃহীত
ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কার কাজ পরিপূর্ণভাবে করার তাগিদ দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, “সংবিধানের আঘাতের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে। আমরা একটা অভাগা জাতি, যে অবস্থায় আছি। এই শিকলটা আমাদের ভেঙে দিতে হবে এবং এই শিকল ভাঙ্গার জায়গাটাতে প্রথমেই সংবিধানে আঘাত করতে হবে।
বাংলাদেশের সংস্কারটা কমপ্লিট করা প্রয়োজন। যদি এটা না হয় আপনার, আমার, সন্তানের, বাংলাদেশের কারো ভবিষ্যৎ নাই। কেন নাই? এটা আপনারা একটু গভীরভাবে পড়াশোনা করবেন, কেন সংস্কারটা প্রয়োজন।”
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় এনসিপি নেতা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ। দয়া করে, জুলাইয়ে আমাদের ১৪০০ ভাই চলে গিয়েছে, এই বিচারটা বাংলাদেশে কমপ্লিট করা আমাদের প্রয়োজন। সে জায়গা সাস্ট ভূমিকা পালন করবে।”
সভায় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ঠিক করবেন কোন সমাবেশে যাবেন, কোন সমাবেশে যাবেন না। কার পক্ষে ভোট দিবেন, কার পক্ষে দিবেন না। কিন্তু কথা বলতে গেলে, আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দিবে, প্রশাসন এসে বাধা দিবে নিরাপত্তার নামে- এটা বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া যাবে না।
“এটা বিগত আমলের কৌশল এবং আপনারা পারলে নতুন কৌশল হাজির করেন। শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ শেখ হাসিনাকে কপি করলে, শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরানো হয়েছে এইটা এখানকার বাচ্চা-বাচ্চা পোলাপানরাও জানে। ফলে যদি নতুন কৌশল আনতে পারেন সেটা আপনাদের জন্য সুবিধার হবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নতুন দিনের রাজনীতি নিয়ে হাজির হয়েছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, ছিল, থাকবে। কিন্তু আমরা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাব। যেকোনো গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে, দাবি আদায়ের পক্ষে এনসিপি সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।
আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রনচন্ডী ইউনিয়নের কুটিপাড়া গ্ৰামে আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আয়োজনে ও কিশোরগঞ্জ এরিয়া ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম ওয়ার্ল্ড ভিশনের আয়োজনে উক্ত সাধারণ সভা ও শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
আলোর পথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আইরিন বেগমের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা সমবায় অফিসার জাকিয়া ফারহানা। আরোও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী বেগম, কোষাধক্ষ্য লক্ষ্মী রানী রায়।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ এপির প্রোগ্রাম অফিসার জন কেনেডি ক্রুশ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের কার্যক্রম সংক্ষেপে জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান সমিতির সদস্যের মাঝে নিম গাছের চারা বিতরণ করেন এবং দুইজন সদস্যকে সমিতির ঋণ বাবদ ২টি ছাগল বিতরণ ও একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।
গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের বহুল আলোচিত ফাইজা বাটন অ্যান্ড জিপার কোম্পানি-সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের জামিন লাভের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের বাসিন্দারা তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত এলাকাবাসী মামলার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয়দের বক্তব্য, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। তাদের দাবি, আদালত থেকে জামিন লাভের ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি তাদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি পক্ষপাতহীনভাবে তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মামলায় আসামি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বুলু, কাজী দাউদসহ আরও কয়েকজন। তাদের সমর্থকদের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হলে নির্দোষ ব্যক্তিরা আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পাবেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন যেন কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার না হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তারা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এদিকে, মামলাকে ঘিরে দলীয় পদ নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার বিষয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মতামত দেন। তাদের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা বা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা ন্যায়সংগত নয়। তাদের মতে, অভিযোগ ও অপরাধ প্রমাণ এক বিষয় নয়; একটি মামলায় নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
বক্তারা আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়ে থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি দোষমুক্ত হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার সাংগঠনিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা বা পুনর্বহালের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তবে এ বিষয়ে উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তি বহিষ্কৃত হয়েছেন বা পুনরায় দলীয় পদে বহাল হয়েছেন—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করা যায় না। তাই এ ধরনের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য দলীয় নথি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ভিত্তিতেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে। তাদের মতে, এতে যেমন প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে, তেমনি নির্দোষ ব্যক্তিরাও হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন এবং জনমনে বিদ্যমান বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে।