• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১২ মে, ২০২৬, সময় : ২:১৯ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের জোংড়া ইউনিয়ন সীমান্তে ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশী ও ভারতীয়দের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে ভারতের শূন্যরেখাস্থলে বিএসএফ এসে ভারতীয়দের সরিয়ে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।


মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর ১২টা ৫০মিনিটের দিকে লালমনিরহাটের ধবলগুড়ি সীমান্তে সাময়িক উত্তেজনার এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় বাসিন্দা, সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি গ্রামের উত্তর বর্ডার সীমান্ত এলাকা। অন্যদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার নলনিবাড়ী সীমান্ত এলাকা। এসব এলাকার সীমান্ত পিলার ৮৭৩ ও ৮৭৪ নম্বর সংলগ্ন শূন্যরেখা সীমান্তের ভারতীয় অংশের জমি থেকে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান ১০-১২ জন বাংলাদেশী। এ সময় এলাকার স্থানীয় ভারতীয়রা ঘাস কাটতে বাংলাদেশীদের নিষেধ করেন এবং সীমান্ত এলাকা থেকে চলে যেতে বলেন। বাংলাদেশীরা ঘাস কেটে নিয়ে যেতে চাইলে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ভারতীয়রা মোবাইল ফোনে কল করে তাঁদের গ্রাম এলাকার লোকজনদের ডাকেন। মুহূর্তেই অন্তত ১০০জন ভারতীয় ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকেন। বাংলাদেশীরাও কাছাকাছি এলাকার বাসিন্দাদের খবর দিলে প্রায় ৫০জন ঘটনাস্থলে যান। এই সময় উভয় দেশের বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারমুখী অবস্থান নেন। ঘটনার খবর জানতে পেরে বিএসএফের ফালাকাটা সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের নাঙ্গলবাড়ী ক্যাম্পের টহল দলের বিএসএফ সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা ভারতীয় বাসিন্দাদের দ্রুত দেশের ভেতরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ভারতীয় নাগরিকেরা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভারতের ভেতরে চলে যান। অপরদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর ধরলা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসছে জানতে পেরে বাংলাদেশী লোকজনও দেশের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।


ধবলগুড়ি গ্রামের উত্তর বর্ডার এলাকার বাসিন্দা আল জিসান সাকিব বলেন, ভারতীয় সীমান্তের চাষাবাদ না করা জমি থেকে বাংলাদেশীরা পালিত গরুর জন্য প্রায়ই ঘাস কেটে আনেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঘাস কাটতে গেলে ভারতীয় লোকজন তর্ক করে এবং বাধা দেয়। এ সময় দুই দেশের লোকজনদের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে বহু ভারতীয় লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করার জন্য আসে। বিএসএফ আসায় ভারতীয়রা চলে যায়। না হলে আহত বা নিহতের ঘটনা ঘটত। তবে এর আগে ভারতীয় বিএসএফ ও স্থানীয় লোকজন আমাদের এলাকায় ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিল। আমরা সীমান্তে সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় থাকি।


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়ন (তিস্তা-২)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। লিখিতভাবে প্রোটেস্ট নোট (প্রতিবাদ লিপি) দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


এছাড়াও লালমনিরহাটের ধবলগুড়ি সীমান্তে সাময়িক উত্তেজনা হয়েছে।


মঙ্গলবার (১২ মে) তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে, তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এর অধীনস্থ ধরলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৮৭৩/১৫-এস বরাবর শূন্য লাইনের নিকট কয়েকজন নারী ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাংলাদেশী ও ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা ও বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর নালংগিবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল।


ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তি সাথে সাথেই বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব, ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষের স্থানীয় নাগরিকদের শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


সীমান্ত এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা সীমান্তবর্তী জনগণের সাথে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে আসছে। স্থানীয় জনগণও বিজিবির প্রতি আস্থা রেখে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহযোগিতা প্রদান করছে, যা সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।



সর্বশেষ সব খবর

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু তুহিনের বাবা পুলিশ কনস্টেবল শামসুল হক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ পিএম

একটি ফোনকল—সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র নিহত। প্রতিদিনের মতোই দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে যায় পুলিশের টহলদল। সেই দলে ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও। কিন্তু তিনি জানতেন না, কয়েক মিনিট পর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সত্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত নিথর শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়েন তিনি। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পড়ে থাকা শিশুটি আর কেউ নয়—তারই আদরের ছেলে, দশ বছরের তুহিন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।


তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ওসি স্যার ফোন দিয়ে বলেন, “সার্কিট হাউসের দিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, টহল পুলিশ নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছাও।”’ নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সেখানে ছুটে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের চোখকেই যেন নিজে বিশ্বাস করতে পারছি না। কে জানত নিথর শিশু আমার নিজেরই আদরের সন্তান। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের এমন করুণ মৃত্যু দেখতে হবে, সেটা কখনো কল্পনা করিনি। এই কষ্ট কাউকে বলে বোঝাতে পারব না, কলিজা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর তো কারও হাত নেই। কী আর করব?’



অতিকষ্টে কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু মোহাম্মদ তুহিনের (১০) বাবা পুলিশ সদস্য শামসুল হক। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মারা যায় তাঁর ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা–পুলিশের একটি টহল দল। ওই দলে গাড়িচালক ছিলেন শামসুল হক।


নিহত তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের পাশেই ভাড়া বাসায় বাবা–মা ও আরও দুই ভাইয়ের সঙ্গে থাকত সে। ভাইদের মধ্যে তুহিন ছিল মেজ। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদরে।


পুলিশের ওই টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপপরিদর্শক ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। দুর্ঘটনার খবর পেলেই বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যাই আমরা। চালক শামসুল হকই নিয়ে যান আমাদের নিয়ে। তবে এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। ঘটনাস্থলে গিয়ে যখন দেখলাম সড়ক দুর্ঘটনার শিকার শিশুটি আমাদের সঙ্গে যাওয়া গাড়ি চালক শামসুল হকের ছেলে। তখন তাঁকে কী বলে যে সান্ত্বনা দেব, ভাষা আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু আমরা না, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনও এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়ে শামসুল হককে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, জুমার নামাজের পর কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে তুহিনের প্রথম জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নেত্রকোনায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

রূপগঞ্জে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

রূপগঞ্জে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী


রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি


নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাবেক এমপি, জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জামিয়া মনির উদ্দিন বেপারী কওমি মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে। 


শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের দখলে রয়েছে। পাঁচ গ্রামের মানুষের অবিলম্বে ওই জমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট 

প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, মহসিন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।


এ সময় বক্তব্য রাখেন, মো. সিরাজুল ইসলাম প্রধান, মো. ওবায়দুল হক ভূঁইয়া, আব্দুল হালিম ভূঁইয়া, মো. কামরুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান এবং হাজী মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।


বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর দখল করে রেখেছেন। মামলা হামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কথা বলতে পারে নাই।  এসব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত এবং মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার ও আলাল খন্দকার। মানববন্ধন শেষে ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ সব খবর

পঞ্চগড়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

নদী ও দেশ রক্ষায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য গাছ লাগানোর বিকল্প নেই


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ পিএম

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বৃক্ষরোপন সংরক্ষনের যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মসুচি নিয়েছিলেন তারই ধারা বাহিকতায় পঞ্চগড় জেলায় আজকে বৃক্ষরোপন অভিযান ও ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। 


আজ শুক্রবার(২৪জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় বনবিভাগ এর আয়োজনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পঞ্চগড় সড়কারী অডিটোরিয়ামে এসে বেলুন উড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বৃক্ষমেলা পরিদর্শন করেন। 


তিনি আরও বলেন, গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের সাথে নদীর সম্পর্ক আছে। পঞ্চগড়ে করতোয়া, মহানন্দা, তালমাসহ বিভিন্ন নদী রয়েছে। এসব রক্ষায় গাছ লাগানো আবশ্যক। 


তিনি আরও বলেন,  আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। পাশাপাশি একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের। 


এসময় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম, দিনাজপুরের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সদস্য সচিব ফাহিম ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম চাচ্চু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১০ এএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা  হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 


বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল  আলী হাওলাদারের ছেলে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। 


এজাহারে বলা হয়,  ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।


ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ এএম

"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।


এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ। 


শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।


বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।



সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ এএম

নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।


অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।


শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’


আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’


স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’


জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’


জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’



সর্বশেষ সব খবর