মেয়াদোত্তীর্ণ ফিডল বাজারজাতের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারীরা

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৫ পিএম

মুরগিকে দ্রুত বড় করার আশায় ফিড কিনেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের খামারিরা। কিন্তু সেই ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির প্রত্যাশিত ওজন না বাড়া, অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩২ জন খামারি ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।


খামারিদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা ফিড সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


খামারিদের অভিযোগ, সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দরে রাম বাবুর সারের গুদামের পাশে একটি ভাড়া বাসায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের নামে মুরগির ফিড সংরক্ষণ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ফিড কিনে মুরগি পালন করে আসছিলেন তারা।


তবে সম্প্রতি ওই ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেক মুরগি মারা গেছে বলেও দাবি খামারিদের। এতে একের পর এক খামারি লোকসানের মুখে পড়েছেন।


সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকার খামারি আলী ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুরগির খামার করছেন। ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ফিড খাওয়ানোর পর ৩২ দিন পার হলেও মুরগির আশানুরূপ ওজন হয়নি। এতে তার প্রায় ৮৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তার দাবি, তার মতো আরও ৩০ থেকে ৩২ জন খামারি ওই ফিড ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।


বেগুনবাড়ী রাজাপুকুর বাজার এলাকার খামারি মো. আলী হোসেন বলেন, ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ফিড খাওয়ানোর পর তার খামারের প্রায় ৮০০ মুরগি মারা গেছে। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


নতুন উদ্যোক্তা রফিক রাজা বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেও না পেয়ে তিনি বয়লার মুরগির খামার শুরু করেন। এম.আর. ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্ম থেকে ফিড নিয়ে মুরগিকে খাওয়ানোর পর মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে অনেক মুরগি মারা যায়। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।


তিনি বলেন, “নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে শুরুতেই যদি ফিড কোম্পানির কারণে এভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে টিকে থাকব? তাহলে এই দেশে কি করে খাবো?”


আরেক খামারি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ফিডের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।


খামারিদের আরও অভিযোগ, ফিডের বস্তায় উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ থাকলেও বস্তায় মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।


খামারিরা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানির ম্যানেজার কয়েকটি খামার পরিদর্শন করেন এবং সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ করেন।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম খান। তার দাবি, ফিডের মান নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। 


খামারিদের অভিযোগের পর রোববার বিকেলে দক্ষিণ সালান্দরের ওই গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক অভিযান পরিচালনা করেন।


অভিযানকালে গুদাম থেকে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।


সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক বলেন, জব্দ করা ফিডগুলো সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ফিডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা ক্ষতিপূরণ চাইলে আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।


এদিকে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফিডের উৎপাদন ও মেয়াদ সংক্রান্ত নথি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। ফলে প্রাথমিকভাবে জব্দ করা ফিডের মান ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। 


খামারিদের দাবি, শুধু জরিমানা করেই বিষয়টি শেষ করা যাবে না। নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড বাজারজাতের কারণে যেসব খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত ফিড বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।


একদিকে মুরগির অস্বাভাবিক মৃত্যু ও ওজন না বাড়ার অভিযোগ, অন্যদিকে নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড বাজারজাতের অভিযোগ- সব মিলিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা।




পঞ্চগড়ে লাইসেন্সবিহীন প্যাথলজি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫০ পিএম

পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স না নিয়ে লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে লিভার পরীক্ষা করতে আসা রোগী প্রতারনার শিকার হয়ে জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ক্ষোভে ফুসছেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে আসা রোগীরা সেই সাথে স্থানীয়রা প্যাথলজি বন্ধের দাবী জানিয়েছে। 


এ দিকে স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযোগ পেয়ে প্যাথলজিটির বিরূদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনাটি পঞ্চগড় জেলা শহরের পঞ্চগড়- তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজার মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে সাইদুজ্জামান রেজা নামে রোগীর লিভার পরীক্ষার ভূয়া রিপোর্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত ০৯ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা লিভার পরীক্ষা করেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে সেখানে তার লিভার এসজিপিটি পরীক্ষায় ১২৭ ইউএল সনাক্ত হয়। লিভারের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকৎসকের পরামর্শে আবারও এসজিপিটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। 


ওই দিনই সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে এসজিপিটি পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে আবারও পরীক্ষা করান সেখানে এসজিপিটি রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ ইউএল পাওয়া যায়। এতে সাইদুজ্জামান রেজা ডায়াবেটিক হাসপাতালে এসজিপিটি রিপোর্টের সাথে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয়। 


পরে তার লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন এ সময় চিকিৎসক আবারও এসজিপিটি পরীক্ষার পরামর্শে পরদিন গতকাল ১০ আগস্ট সোমবার সঠিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মত এসজিপিটি পরীক্ষা করান আধুনিক সদর হাসপাতালের এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ ইউএল পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার সাথে প্রতারনা হয়েছে মর্মে সাইদুজ্জামান রেজা আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ দেন।




এ বিষয়ে মুঠোফোনে মেডিকেয়ার সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রথমে সাংবাদিকের কন্ঠ শুনে উত্তেজিত হয়ে যায়। এ সময় বিচারপতি মনসুর এবং স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের আত্নীয় বলে পরিচয় দেন। সেই সাথে সাংবাদিকদের বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন পরে তিনি জানান আমার ডায়াগনেস্টিকের দেওয়া রিপোর্টে কোন ভূল নেই বলে দাবী করেন।


এদিকে সাংবাদিকরা অনুসন্ধান করে দেখা গেছে লিভার প্রদাহ সনাক্তের জন্য ফুল অটোমেটিক এবং সেমি অটো মেশিন ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে মেডিকেয়ার সেন্টারে এখনো পুরোনো সেমি অটো মেশিনে দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই সাথে লিভার রোগী সাইদুজ্জামানের ডায়াবেটিক সমিতি এবং মেডিকেয়ার সেন্টারে কর্মরত টেকনোলজিস্ট একই ব্যাক্তি আবুল বাশার। তিনি একজন ডিপ্লোমাধারী টেকনোলজিস্ট। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে একই টেকনোলজিস্ট কেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে দুই ধরনের রিপোর্ট দিবেন? 


জানা গেছে আবুল বাশারের টেকনোলজিস্ট রিপোর্ট নিয়ে চলতি বছরেই নানা গড়মিলের অভিযোগ উঠেছিল এ নিয়ে পঞ্চগড় মকবুলার ডায়াবেটিক সমিতি থেকে সাময়িক বহিস্কার হয়। বর্তমানে পঞ্চগড়ের ক্লিনিক ডায়াগনেস্টিক জগতে একক আধিপত্য বিস্তার করছে আবুল বাশার।


পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগকারী লিভারের রোগীর পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল সহ তিন প্রতিষ্ঠানে এসজিপিটি পরীক্ষায় মেডিকেয়ার সেন্টারের এসজিপিটি পরীক্ষা রিপোর্টটি অসামঞ্জস্য মনে করছি।


সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন আক্তার এবার এমপির তিন সৎ ভাইসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। 


মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে গলায় দা লাগিয়ে বাড়িসহ সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন সৎ ভাইরা।


পারভিন আক্তারের পক্ষে আদালতে মামলার আবেদন করেন আইনজীবী কাওছার আলম। আমল গ্রহণকারী দিরাই আদালতের বিচারক মো. জসিম এই মামলা গ্রহণ করে আদেশে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


মামলার আরজিতে দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ নাছির চৌধুরীর তিন সৎ ভাইকে বিবাদী করা হয়েছে। বিবাদীরা হলেন- নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎ ভাই মঈন উদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। অন্য বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে আমিরুল ইসলাম, পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামের আব্দুন নুর মিয়ার ছেলে ছয়ফুল চৌধুরী, তল বাউসী গ্রামের দলিল লেখক মুজিবুর রহমান, কলিয়ার কাপনের নাজমুল ইসলামের ছেলে তাজুল ইসলাম ও দিরাইয়ের নুরুল ইসলামের মেয়ে মোহরার মমতাজ বেগম।


মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে বাদী পারভিন আক্তার নাছির উদ্দিন চৌধুরীর দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন। 


এতে আরও বলা হয়, বিবাদীরা নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িসহ সম্পত্তি থেকে তাঁর দুই স্ত্রী ও সন্তানদের বঞ্চিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।


আরজিতে আরও বলা হয়, নাছির উদ্দিন চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী শেলী চৌধুরী অসুস্থ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন তখন। একই সময়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরীও দিরাইয়ের বাড়িতে অসুস্থ ছিলেন। ওই সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দাতা সাজিয়ে বিবাদীরা গ্রহীতা হয়ে বাড়িসহ অন্য ভূমি থেকে বাদীর দুই কন্যা, অন্য স্ত্রী ও নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বোনকে বঞ্চিত করে দলিল তৈরি করার পরিকল্পনা নেয়।


এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই এসআরও অফিসের দুই কর্মচারীকে অফিসার সাজিয়ে অসুস্থ, অক্ষম নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে দলিলে স্বাক্ষর করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। পরে তাঁরা গলায় রামদা ধরে স্বাক্ষর না করলে গলা কেটে খুন করবে বলে ভয় দেখায়। কথাবার্তা শুনে তাঁর অন্য স্ত্রী শেলী চৌধুরী এসে বাধা দিলে আসামি মিজানুর রহমান চৌধুরী তাঁকেও খুন করার হুমকি দেয়। 


এ সময় নাছির উদ্দিন চৌধুরীর টঙ্গর এলাকার সমর্থক ওয়াকিব হাসান তখন ওই বাড়িতে তাঁকে দেখতে আসেন এবং ঘটনাটি দেখেন। মঈন উদ্দিন চৌধুরীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওয়াকিবকে তাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে নাছির উদ্দিনের মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য আসামিরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে থাকে। পরে নাছির উদ্দিন চৌধুরী সুস্থ হয়ে এসব বিষয় জানিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, বিবাদীদের এমন আচরণের কথা জেনে এলাকায় জনরোষ তৈরি হলে তাঁরা ক্ষমা প্রার্থনা করে দলিল বাতিল করার অঙ্গিকার করেন। এ কারণে তাদের আদালতের আশ্রয় নিতে বিলম্ব হয়েছে।


পারভিন আক্তার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা জোর করে কিছু করতে চাই না। আইন হাতেও তুলতে চাই না। এ জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।’


বিবাদী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক সমকালকে বলেন, ‘মামলা কী হয়েছে জানি না। জানার পর আইনিভাবেই জবাব দিব।’


সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০১ পিএম

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যু বার্ষিকী ১১ আগষ্ট। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার উন্নয়নে অবদান লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের কাছে আজও স্মরণীয়। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি শুধু নিজের রাজনৈতিক অবস্থানই সুদৃঢ় করেননি, নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরবও অর্জন করেছিলেন।


আজ ১১ আগস্ট তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৬ সালের এই দিনে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার রবীন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃত্যুর এক দশক পরও রাজনৈতিক সহকর্মী, কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে তিনি অম্লান।


শৈশব ও পারিবারিক জীবন 


ফজলুর রহমান পটল ১৯৪৯ সালের ২৪ এপ্রিল নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আরশাদ আলী, মা ফজিলাতুন নেছা। পাঁচ ভাই ও এক বোনের পরিবারে তিনি ছিলেন সবার বড়। পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন ছিলেন তাঁর চাচা।


১৯৮৪ সালের ১৪ মে কামরুন্নাহার শিরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফজলুর রহমান পটল। কামরুন্নাহার শিরিন পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।


বড় ছেলে ইয়াসির আরশাদ রাজন একজন চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। ছোট ছেলে ইস্তেখার আরশাদ প্রতীক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বড় মেয়ে ফারহানা শারমিন কাকন গৃহিণী। ছোট মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর ১ ( লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।


শিক্ষাজীবন ও ছাত্ররাজনীতি


লালপুর উপজেলার ২ নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে ফজলুর রহমান পটল গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে পাবনার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬৭ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন।


এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।


১৯৭৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। ছাত্রজীবনের এই নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর জাতীয় রাজনীতির পথকে আরও সুগম করে।


বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা


১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে যুক্ত হন ফজলুর রহমান পটল। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।


পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন। দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকা লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের সঙ্গেও তাঁর ছিল নিবিড় যোগাযোগ।


চারবার সংসদ সদস্য, জেলার প্রথম মন্ত্রী


নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চার মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পটল। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি ছিল জাতীয় সংসদে বারবার নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা।


১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি নাটোর জেলার প্রথম মন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।


২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে ফজলুর রহমান পটল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখেন।


উন্নয়নে তাঁর অবদান


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে আজিমনগর রেলস্টেশন ভবন , লালপুরে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, রাস্তাঘাট, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।


স্থানীয় মানুষের কাছে তাঁর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্মৃতির মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থার প্রসারে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথাও এখনও স্মরণ করেন তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীরা।


শেষ অধ্যায়


২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ফজলুর রহমান পটল। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী আবু তালহার কাছে তিনি পরাজিত হন।


এরপর জীবনের শেষ সময়ে তিনি কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট রবীন্দ্র হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে লালপুর-বাগাতিপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।


স্মৃতিতে পটল 


রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু একজন নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে মূল্যায়ন করতে গেলে তাঁর কর্ম, নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং এলাকার মানুষের জন্য রেখে যাওয়া অবদান সামনে আসে। সেই বিচারে ফজলুর রহমান পটলের রাজনৈতিক জীবন ছিল ঘটনাবহুল ও বর্ণাঢ্য।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩৮ পিএম

বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে এবার পরীক্ষা দিয়েছে ২৪ জন শিক্ষার্থী। অথচ তাদের সবাইকেই ফিরতে হয়েছে অকৃতকার্য হয়ে। 


অভিভাবকদের অভিযোগ-নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে না পারা এবং শিক্ষা উপকরণ ও অবকাঠামোর সংকটই এর অন্যতম কারণ। তবে শিক্ষকরা দায় দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবকদের অসচেতনতাকে। ঠাকুরগাঁও থেকে তানভীর হাসান তানুর তথ্য ও জাহিদ হাসান মিলুর ছবিতে প্রতিবেদন।


একটি-দুটি নয়-ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেনি একজনও। ২৪ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পেরোতে পারেনি পাসের গণ্ডি।


বিদ্যালয় গুলো হলো- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করেনি। অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জনই ফেল করেছে। মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের সংখ্যা শূন্য, তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করেনি এছাড়াও হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ জন পরীক্ষার্থী ৩ জনই ফেল করেছে। 


শূন্য পাসের তালিকায় থাকা পাঁচটি বিদ্যালয়ের চারটিই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার, অন্যটি হরিপুর উপজেলার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে দূরত্ব এবং শিক্ষা উপকরণের সংকট দীর্ঘদিনের।


অভিভাবকদের কেউ কেউ আবার স্বীকার করছেন, সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানো হয় না। কৃষিপ্রধান এলাকার অনেক পরিবারে পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানদের খেত-খামারের কাজেও যুক্ত করা হয়। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায়।


তবে দায় শুধু শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবকদের নয়-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাঙাচোরা অবকাঠামো, শিক্ষা উপকরণের সংকট এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে।


শিক্ষকদের ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলের এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের। কৃষিকাজনির্ভর পরিবার হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারেন না। পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ ও অবকাঠামোগত সংকটও রয়েছে। 

পঞ্চগড়

খাল খননের কাজ শেষে প্রায় তেরো লক্ষ টাকা কোষাগারে ফেরৎ

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পেলেন দুই ইউএনও


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী এবং সদর উপজেলায় খাল খনন কাজ শেষে প্রায় তেরো লক্ষ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন দুই উপজেলা নির্বাহী অফিসার। খালখননে সচ্ছতা ও সৌন্দর্যযবর্ধনের জন্য প্রধান মন্ত্রীর শুভেচ্ছা পেয়েছেন তারা।




জানাগেছে জেলার আটোয়ারী উপজেলায়  খাল খননের কাজ শেষে প্রায় সাড়ে নয় লক্ষ টাকা ফেরৎ দিয়েছেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার রীপা মনি দেবী। । আটোয়ারী উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বাকডোকরা খালের খনন কাজ সমাপ্ত করে অবশিষ্ট এই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরৎ পাঠানো হয়।  অন্যদিকে  পঞ্চগড় সদর উপজেলার রজলী টাংগন ব্রিজ থেকে রজলীপাড়া এলাকায় ৬৩০ মিটার খাল পুনঃখনন এবং ৬০ মিটার নতুন সংযোগ খাল খননের কাজ সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও ফাহমিদা সুলতানার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে মোট ৬৯০ মিটার খালের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৩ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছিলো ৩৮ লক্ষ টাকা।


বাকডোকরা খাল খনন কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দ ধরা হয় ৫১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা । এই খাল খনন সম্পাদনের পর বেচে যায় ৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ১৯১ টাকা।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার রীপা মনি দেবী ও ফাহমিদা সুলতানা  এই ভালো কাজের প্রশংসা কুড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শুভেচ্ছা প্রাপ্ত হয়েছেন ।


এ বিষয়ে আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রীপা মনি দেবীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, গত ৮ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারাদেশের ৮৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে একটি মতবিনিময় সভা করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে এই জেলা থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ আমি উপস্থিত ছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আটোয়ারী উপজেলার খাল খনন প্রকল্পের দুই ধারে সবুজ ঘাস লাগানোর বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে পরবর্তী এ ধরনের খাল খনন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য উপস্থিত সকল কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও প্রদান করেন।  


সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা বলেন সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজের জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা পেয়েছি। এটা নি:সন্দেহে অনেক উদ্দিপনার। সামনের দিনে এরকম উৎসাহ ভালো কাজে আরও আগ্রহী করে তুলেছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩০ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়ায় বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন এক শিক্ষার্থী। 


সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফলাফল প্রকাশের পর আত্নহত্যা করে ওই শিক্ষার্থী। নিহত ছাত্রী শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের পুরাতন উনিশবিঘী গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে হালিমা খাতুন তরিকা (১৬) সে চাকপাড়া আদর্শ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো।


নিহত শিক্ষার্থীর স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার এসএসসির ফলাফল প্রকাশ হলে হতাশ হয়ে পড়েন হালিমা খাতুন। সবগুলো বিষয়ে পাশ করলেও অকৃতকার্য হন ইংরেজিতে। আক্ষেপ থেকেই বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের লোকজন খবর পেলে গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।


২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিনা ইসলাম  বলেন, ২টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ওই মেয়েটিকে। তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান ডা. শাহরিনা খাতুন।


শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, এসএসসির ফলাফলে একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় বিষ পানে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।