রাজশাহীতে কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
কারাগার কেবল অপরাধীদের বন্দি করে রাখার স্থান নয় বরং একজন বিপথগামীর জন্য এটি হবে প্রকৃত সংশোধনাগার— এমন মন্তব্য করেছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। তিনি বলেন, কারা বিভাগ একটি সুপ্রাচীন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। এ বিভাগের মূল লক্ষ্য হলো বন্দিদের সংশোধনের মাধ্যমে আলোর পথে ফিরিয়ে আনা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘৬৩তম ব্যাচ কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স’ -এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে জেলের যাত্রা শুরু হয়। সময়ের ধারাবাহিকতায় এ প্রতিষ্ঠানকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনসেবামুখী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
‘কারারক্ষীর জীবন শুধু একটি চাকরি নয়, এটি একটি সুবিন্যস্ত জীবনব্যবস্থা’— এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে মোতাহের হোসেন নবীন কারারক্ষীদের বলেন, তোমরা এ পর্যন্ত যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছ, তা ছিল কারারক্ষী জীবনে পদার্পণ করার জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণমাত্র। এ প্রশিক্ষণের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তোমরা যেভাবে নিষ্ঠা, একাগ্রতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে আত্মনিয়োগ করেছ, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও উৎসাহব্যঞ্জক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমাপনী কুচকাওয়াজে মোট ৬৮৭ জন নবীন কারারক্ষী অংশ নেন। সার্বিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন কারারক্ষী নির্বাচিত হন মো. তানভীন আহমেদ। এ ছাড়াও ড্রিলে মো. রাকিব মিয়া, পিটিতে মো. বাপ্পি হোসেন, ফায়ারিংয়ে দ্বিপংকর দাস, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধে মো. রনি হোসেন এবং অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে মো. রিয়ন ইসলাম রোকন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. জিল্লুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. তানভীর হোসেন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাজশাহী সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, নবীন কারারক্ষীদের অভিভাবক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যুগোপযোগী, আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষাকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিক্ষা বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী চার বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। তিনি মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক কারিকুলাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠ, লেখা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা নিশ্চিত করতে নতুন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালা ও মানদণ্ডের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন (কেপিআই) এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে দেশের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি সিলেট বিভাগে ছয় ঘণ্টাব্যাপী কর্মশালায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক তদারকি বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা সম্পন্ন করা হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কোনো সুযোগ থাকবে না। নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিতভাবে প্রস্তাব বা তথ্য পেলে মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। পরিকল্পিত সংস্কার, দক্ষ প্রশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী, সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নূর আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে,প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন,একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছে- এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে- এমন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সিলেটের ফেঞ্জুগঞ্জের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের ভিডিও নিয়ে আলোচনা-সমেলোচনা প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এমনটি বলেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাটে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ববি হাজ্জাজ।
এসময় এক সাংবাদিক বিউটি রানী পালের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, এইটা নিয়ে কোন কথা হবে না। একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছে- এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে? আজকে আমি দাঁড়িয়েছি- আপনাদের সাথে কথা বলছি। আপনারা যদি বলেন, এ্যাই- কথা বলল কেন? আলোচনা করি, চলো সমালোচনা করি তাহলে?সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আপনারা করেছেন ভাই, আপনারাই করছেন- এটা জনগণ বা অন্য কেউ করছে না।
এরআগে সকালে এ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। স্ট্যটাসে তিনি লিখেন- ‘আমার পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপকগণ এবং সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’তিনি লিখেন, ‘আপনারা গান, কবিতা, লেখা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমের মাধ্যমে যে প্রতিবাদ, সংহতি ও নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন, তা আমাকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব।’
শিক্ষক সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে স্ট্যাটাসে বিউটি রানী পাল লিখেন- ‘দ্রুত শিক্ষক সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকই সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং শিক্ষক সমাজ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সাথে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে একটি গোষ্ঠীর তোপের মুখে পড়েন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-হেনস্তা করছেন কেউ কেউ।
এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।তবে এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়ান তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। অভিনব পন্থায় বিউটি পালকে নিয়ে ট্রলের প্রতিবাদ জানান সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করন তারা। বিউটি রানী পাল ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বিউটি রানী পালের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি প্রায়ই নিজের ফেসবুক একাউন্টে তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, বাচ্চাদের শরীর চর্চা করানো, শিশুদের নাচ গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন পড়া শেখানো, শিক্ষাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করার ভিডিও আপ দিতেন। এ ঘটনায় সোমবার ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন বিউটি রানী পাল।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শান্তা রানী দাস (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নয়, স্বামী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ফাজিলের ঘাট এলাকার জেলে বাড়ির বাসিন্দা ও নিহতের বাবা অনন্ত জলদাস জানান, চার বছর আগে পারিবারিক ভাবে শান্তার সঙ্গে সুবর্ণচর উপজেলার পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের নাথ পাড়ার গণেশের বাড়ির নিমাই দেব নাথের ছেলে বাপ্পী দেব নাথের (২৯) বিয়ে হয়। তাদের ১৮ মাস বয়সী বর্ষা দেব নাথ নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বাপ্পী আগে চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখানে গার্মেন্টসের এক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চাকরি ছেড়ে এলেও ওই নারীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। এ নিয়ে সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এবং বাপ্পী শান্তাকে মারধর করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঝগড়ার পরে রাতে শান্তা স্বামীর জেঠা গণেশের ঘরে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে তাকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে বেলা ১১টার বাপ্পী শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাপ্পী দেব নাথের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), দিনাজপুরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান-কে বিদায় সংবর্ধনা এবং নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলী হোসেন-কে বরণ উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়, এলজিইডি, দিনাজপুর। অনুষ্ঠানে নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আলী হোসেন-কে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান-কে ফুলের শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করে তাঁর কর্মজীবনের অবদানের স্বীকৃতি জানানো হয়।
এ সময় এলজিইডি, দিনাজপুরের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীর কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে তাঁর ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নবাগত নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর নেতৃত্বে এলজিইডি, দিনাজপুরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে স্থাপিত একটি ব্যানারে লেখা ছিল— “একজন ভালো লিডার চলে যান, কিন্তু তার রেখে যাওয়া পথ থেকে যায়।” আয়োজকদের মতে, এই বার্তাটি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, দায়িত্ববোধ এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্কৃতি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়কে ধারণ করে। অনুষ্ঠানটি বিদায়ী কর্মকর্তার প্রতি সহকর্মীদের সম্মান ও শুভকামনা এবং নবাগত কর্মকর্তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
হাসপাতালে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি ইসিজি মেশিন প্রদান
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি আধুনিক ইসিজি (ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম) মেশিন প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চিকিৎসা সরঞ্জামটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মমতাজ আলো বলেন, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় হাসপাতালের বিদ্যমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। মেশিন হস্তান্তর পর্ব শেষে হাসপাতালের নতুন ভবন চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধান অতিথি।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালান। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। তখন প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।
পরে পুলিশ গিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে। এখনো তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বাইরে বিক্ষোভ করছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আর নাসীরউদ্দিন পাটোয়ারী ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার মুখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে আসেন। এক পর্যায়ে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
দুই নেতার গাড়িতে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে যাওয়া এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটে। তাতে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে এনসিপি সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী একটি জিপ গাড়িতে চড়ে সমাবেশস্থল থেকে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের দিকে রওনা হন। তাঁর গাড়িটি শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। গাড়িটি দ্রুত বেগে চালিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সার্কিট হাউসে এসে আশ্রয় নেয়।
এরপর নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়ির পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া করেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। তখন সারজিসের গাড়ি দ্রুত গতিতে এসে হবিগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেয়। এ সময় এনসিপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকে অবস্থান করছেন খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে ব্যাংকটি ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে রাত আটটার দিকে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যান।
এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করেছেন এনসিপি নেতারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেছেন, এনসিপি নেতারা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে এই পরিবেশ তৈরি করেছেন। তাঁদের ওই বক্তব্যের কারণে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
ছবি : সংগৃহীত
‘সকালে মোবাইলে কল আইছে। মনে করছি পোলায় ফোন দিছে, কথা কইবো। কিয়ের কথা..দেহি আগুন আর আগুন। ভালোর লেইগা পাঠাইছিলাম বিদেশ। এমুন জানলে কহনও পাঠাইতাম না’- কথাগুলো বলতে বলতে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন আলী আহমদ।
দক্ষিণ আফ্রিকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছেলে আপন আহমেদকে হারিয়েছেন তিনি। ছেলের একটি ছবি বুকে জড়িয়ে আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেহেন আমার পোলাডা কত সুন্দর আছিলো। কত লম্বা। নায়কগো মতন। এহন আর নাইগো নাই।’
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কোমানি (সাবেক কুইন্সটাউন) শহরের কাছে একটি দোকানে আগুন লেগে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, একজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তবে দুই জেলার এই চরাঞ্চলের গ্রামগুলো পাশাপাশি হওয়ায় শোক যেন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জনপদে।
মঙ্গলবার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি উঠোনেই স্বজন আর প্রতিবেশীদের ভিড়। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ নীরবে বসে আছেন। কিন্তু স্বজন হারানোর বেদনার সামনে কোনো কথাই যেন কাজে আসছে না।
আলীরটেক ইউনিয়নের মধ্য ক্রোকের চরের আপন আহমেদ চার বছর আগে সংসারের অভাব ঘোচাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে একটি দোকানে কাজ করতেন।
বাবা আলী আহমদ বলেন, ‘ছেলেটা খুব কষ্ট করে সংসার চালাইত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, রোজা রাখত। এখন আমার ঘরটাই অন্ধকার হয়ে গেল।’
একই আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন একই এলাকার ফাহিম, নুর মোহাম্মদ, তৈলখিরার চরের ফয়সাল, বক্তাবলী ইউনিয়নের শাহীন এবং মুন্সিগঞ্জের রাজ্জাক।
শাহিনের চাচা মোক্তার হোসেন বলেন, ‘নয় বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিল। কয়েক দিন ধরেই বলত, ওখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না। দেশে ফিরতে চাচ্ছিল। কিন্তু আর ফেরা হলো না।’
পুড়ে যাওয়া দোকানটির অন্যতম মালিক এবং আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী বলেন, দোকানের আবাসিক কক্ষে সাতজন ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ছয়জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বার্তা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ ছোট দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অনেকেই কর্মস্থলেই রাত কাটান।
স্বজনদের ভাষ্য, জীবিকার তাগিদে হাজারো মাইল দূরে গিয়ে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এসব তরুণ ও মধ্যবয়সী মানুষ। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল একটি আগুনে।