ছবি: সংগৃহীত।
ত্রয়েদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনে ৩৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনই কোটিপতি প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় বিশ্লেষনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সম্পদ সিলেট-৬ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের। তার সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্তত ৫ জনের স্ত্রীও কোটি টাকার উপরে সম্পদের মালিক।
সিলেট-১ আসনে সম্পদের দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭৩০ টাকা। আর তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ৫২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৩ টাকা।
সম্পদের দিক দিয়ে মুক্তাদিরের পরেই রয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন। তার নামে ৩ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ২৫ টাকা ও স্ত্রীর ২ কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৭ টাকার সম্পদ রয়েছে।
ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ টাকা। আর জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ২৩ হাজার ৩০৩ টাকা।
এছাড়া কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাস, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের।
সিলেট-২ আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন কোটিপতি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদ বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর (ইলিয়াসপত্মী)। তার সম্পদ রয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৯ টাকার।
এছাড়া কোটিপতি সম্পদশালীদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের মো. মুনতাসির আলীর ২ কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকা, জামায়াতের আব্দুল হান্নানের ১ কোটি ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৭ টাকা ও জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর রয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার সম্পদ। কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে গণফোরামের মুজিবুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো. আমির উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকীর।
সিলেট-৩ আসরে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুর। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৭৯ লাখ ১ হাজার ৫৩৩ টাকা।
জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমানের ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫২৫ টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিএনপির মো. আবদুল মালিকের চেয়ে তার যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আবদুল মালিকের ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও স্ত্রীর প্রায় ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের দিলওয়ার হোসাইনের ৩ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯২ টাকা ও স্ত্রীর নামে দেড় কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
আর জামায়াতের লোকমান আহমদের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮২ হাজার ১৯২ টাকা। এছাড়া কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে এনসিপির নুরুল হুদা জুনেদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেদওয়ানুল হক চৌধুরীর।
সিলেট-৪ আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই কোটিপতি। এর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর ১৯ কোটি ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৬ টাকা ও তার স্ত্রীর ৮ কোটি ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ টাকার সম্পদ রয়েছে।
এনসিপির মো. রাশেদ উল আলমের ২ কোটি ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৫ টাকা ও জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৬ টাকার সম্পদ রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের মুফতি আলী হাসান উসামার সম্পদ কোটি টাকার নিচে। আর জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলামের হলফনামার সম্পদের হিসাব অংশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি।
সিলেট-৫ আসনের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি দুইজন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) মামুনুর রশিদের ১ কোটি ২২ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৪ টাকা ও জমিয়তের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের ১ কোটি ২২ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
কোটি টাকার নিচে সম্পদ রয়েছে জামায়াতের হাফেজ মাওলানা আনওয়ার হোসেন খান, খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান, মুসলিমলীগের মো. বিল্লাল উদ্দিনের।
সিলেট-৬ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুন নূরের সম্পদ কোটি টাকার নিচে। বাকি ৪ প্রার্থীর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৫ টাকা।
বিএনপির ফয়সল আহমদ চৌধুরীর ১১ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ৯০২ টাকা ও একই দলের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর ১ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৮১০ টাকা ও জামায়াতের মো. সেলিম উদ্দিনের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ১২৪ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একজন মানবাধিকার কর্মী জানান সঠিক ভাবে হলফনামায় হিসাব দেয়া উচিত।কারন ইহা প্রারখীর স্বচ্ছতার প্রতিট্ছবি।তাই স্বচ্চতার জন্য হলফনামায় সঠিক তথ্য দেয়া উচিত।
প্রতীকী ছবি
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তি কমানো, লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়ানো এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার অভিভাবককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
পত্রে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্মারকপত্র, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা এবং গত ২৩ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাজীগঞ্জ উপজেলার সব মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনার অনুলিপি চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে অতিথির বক্তব্যে তিনি এমনটি বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে দুপুরে নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশ শুরু হয়।
এতে রাশেদ প্রধান আরও বলেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে আধিপত্যবাদের স্থান নেই। তিনি বলেন, ঢাকা মহাসমাবেশ থেকে যদি আমরা দেখি জুলাই সনদ গণভোটের আলোকে বাস্তবায়ন হয়নি, তাহলে এক দফা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। যদি তা না হয়, তাহলে ওই বিএনপি সরকার, গাদ্দার সরকারও থাকবে না।
এতে অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই দেশে ফিরবে না৷ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ বদলে গেছে, দিল্লীর আধিপত্যবাদ এখানে ফিরবে না। পুরাতন আওয়ামী লীগ আর ফিরবে না।
এলডিবি মহাসচিব কর্নেল (অব.) ওলি আহমদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে রয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বাংলাদেশের কিংবদন্তী রাজনীতিবীদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক রাস্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনায় পঞ্চগড়ে দোয়া মিলাদ মহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে পঞ্চগড় স্টেডিয়াম মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মরহুমের পরিবার বর্গ। অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারন করে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পঞ্চগড় ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন, পুলিশ সুপার আবু সাঈম, পঞ্চগড় জেলা দায়রা ও জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ¦ায়ক এম মজিদ ও আদম সুফী বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন, পুলিশ সুপার আবু সাঈম সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন| ঢাকার ধানমন্ডির বিখ্যাত মসজিদ-উত-তাকওয়া (ধানমন্ডি লেক সংলগ্ন)-এর খতিব ও সিনিয়র ইমাম মুফতি সাইফুল ইসলাম দোয়া পরিচালনা করেন| দোয়া মাহফিলে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়ি নয়াবাড়ি মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়| গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন |
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে বিদ্যালয়ের বারান্দায় স্ট্যান্ডসহ অযত্নে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের পাঠদান শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় পতাকা নামিয়ে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে বিদ্যালয়ের বারান্দায় স্ট্যান্ডসহ রেখে বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ করে চলে যান। পরদিন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং শনিবার বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পতাকাটি একই অবস্থায় পড়ে ছিল বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা জাতীয় পতাকার অবস্থার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় পতাকা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার প্রতীক। জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী পতাকার যথাযথ সংরক্ষণ ও সম্মান নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব। অথচ বিদ্যালয়ে পতাকাটি অযত্নে ফেলে রাখা হয়েছে, যা বিধিমালার পরিপন্থী বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গুলেনুর বলেন, "আমি সমাজসেবা অফিসে একটি ভাইভা বোর্ডে আছি। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভাইভা শেষে বিষয়টি দেখছি।"
অন্যদিকে, বিষয়টি জানানো হলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বুলবুল "Noted" বলে বিষয়টি আমলে নেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ
ময়মনসিংহ-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহর ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
শুক্রবার রাতে ছড়ানো ভিডিওতে ওই ব্যক্তি সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেন। এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে ১১ জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লার পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারাকান্দা থানার ওসি আবদুর রাশিদ।
হুমকি দেওয়া ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। তিনি তারাকান্দা থানার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামে প্রয়াত জব্বার আলীর ছেলে মো. সোহরাব হোসেন। তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী।
ভিডিওতে মুহাম্মদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে সোহরাব বিভিন্ন আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন।
সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মোতাহার হোসেন তালুকদারকে নিয়ে কথা বললে এমপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন এবং পুনরায় রাস্তায় নামলে তার অবস্থা খারাপ করে দেওয়া হবে। বক্তব্যজুড়ে তিনি রাজনৈতিক উসকানিমূলক মন্তব্য ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় সরকার।
হুমকির বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, “আমি আগে বিষয়টি শুনেছিলাম, তবে এইমাত্র পুরো ভিডিওটি দেখলাম। এখন আইনগতভাবে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যায়, সেটি জানতে উপজেলা থানা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।”
হুমকির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা মূলত চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া। তারা উসকানি দিয়ে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। কেউ তাদের সঙ্গে এসব করতে যাচ্ছে না বলেই তারা এমন আচরণ করছে।
ভিডিওতে মোতাহার হোসেনের নাম বলা নিয়ে মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, “ভিডিওতে তো সরাসরি বলা হয়েছে, তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে ফেলবে। বিষয়টি বোঝার আর কিছু নেই। অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে তালুকদার সাহেবের সঙ্গে একাধিকবার দেখা গেছে।”
হুমকির ভিডিওতে নিজের নাম আনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মোতাহার হোসেন বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জের।
তিনি বলেন, “যে ছেলেটার বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছিল, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, আমারও কোনো বিষয় নয়।”
ভিডিও প্রকাশের পর ওই ব্যক্তিকে তা মুছে ফেলতে বলেছেন বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
তার ভাষ্য, “আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলেছি, এটা তোমার ব্যক্তিগত বিষয়, ব্যক্তিগতভাবেই সমাধান করো। ভিডিওটি ডিলিট করো। পরে সে ভিডিওটি ডিলিট করেছে।”
হুমকি দেওয়া ব্যক্তির দলীয় পরিচয়ের বিষয়ে মোতাহার হোসেন বলেন, বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই। সংগঠনের কোথাও তার সম্পৃক্ততা আছে কি-না, সেটি খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে। তবে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারাকান্দা থানার ওসি আবদুর রাশিদ বলেন, “ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তার প্রতিনিধি থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। প্রয়োজন হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।” এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেন জানান তিনি।
হুমকির বিষয়ে জানতে বিএনপি কর্মী সোহরাব হোসেনকে ফোন করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
নওগাঁর পোরশায় পুকুরের পানিরতে ডুবে মাহিম (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের পূর্ব দিয়াড়াপাড়া গ্রামের মাজেরুল ইসলামের ছেলে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশে উপজেলা মসজিদের পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায়। সেখানে সে এক সময় পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাসিমা সুলতানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।