আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ এএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ উপলক্ষে দলটির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতি এড়াতে দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়।


গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়ে পতাকা উত্তোলন এবং ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল বের করার চেষ্টা করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে তাদের সংঘাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে পুলিশের ওপরও তারা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা বা চড়াও হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।


সার্বিক বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজিকে (অপারেশনস) মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সদর দপ্তর।


সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত এই দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও প্রচারপত্র বিলির মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। একই দিন গণভবনের সামনেও দলটির সহযোগী সংগঠন যুবলীগ একটি ঝটিকা মিছিল বের করে।


পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের কারণে জননিরাপত্তা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা বা সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করতে মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২৯ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলি এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রস্তাবিত বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র (ট্রান্সফার স্টেশন) অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পাঞ্চলের উদ্যোক্তারা।


শনিবার (২৫ জুলাই) ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রীন সোসাইটি, টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই মহাসড়কের পাশে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপন করা হলে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাবে, দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। 


তারা আরও বলেন, বর্জ্য থেকে নির্গত দূষিত বাতাসের কারণে কাশি, হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের কর্মপরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যা শিল্পোন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর হবে। 


বক্তারা দাবি করেন, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, সড়ক নিরাপত্তা এবং শিল্পাঞ্চলের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় চেরাগ আলী এলাকায় প্রস্তাবিত বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে জনবসতি ও শিল্পাঞ্চল থেকে নিরাপদ দূরত্বে, পরিবেশসম্মত ও উপযুক্ত কোনো স্থানে কেন্দ্রটি স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। 


মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা এমন স্থানে হতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি এলাকায় স্পিডবোটে তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া দাবিকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সশস্ত্র হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম (৩২) নামে এক যুবক। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মরিচাকান্দি স্পিডবোট ঘাটে এক যাত্রীর সঙ্গে থাকা তিন বছরের এক শিশুর ভাড়া দাবি করেন স্পিডবোট চালক ইমরান। এ সময় ঘাটের ইজারাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এত ছোট শিশুর ভাড়া না নেওয়ার পরামর্শ দিলে ইমরানের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইমরান ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাটের টোল আদায়কারী বাবুলের ওপর হামলা করেন। পরে লঞ্চ টার্মিনালে দায়িত্বরত এক ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ইমরানকে তার বাড়ির দিকে পাঠিয়ে দেন।


অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরে পূর্বপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে কাদিরের দোকানে বৈঠক করে প্রতিপক্ষ হামলার পরিকল্পনা করে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পক্ষের ছোট ভাই আসাদুল্লাহ পূর্বপাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোরস্থান সংলগ্ন মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হলে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং তার কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠান।


ছোট ভাইয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও ঘাটের লোকজন পূর্বপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকায় গেলে সেখানে দ্বিতীয় দফায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় শরীফ নামে এক ব্যক্তি পিস্তল দিয়ে ৪ থেকে ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর মধ্যে একটি গুলি জাহাঙ্গীর আলমের তলপেটে বিদ্ধ হয়।


পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া হামলায় আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলার পর মরিচাকান্দি এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।


এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন বলেন, “দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের মরিচাকান্দি বাজার এলাকায় স্পিডবোটের ভাড়া নিয়ে সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ সব খবর

অভিযুক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলম

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত এক নারী চিকিৎসককে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের তত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলমকে বিভাগীয় মামলাসহ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 


শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি জান যায় । এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 


প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ডাঃ রেজওয়ানুর আলম রায়হান বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। গত জুন মাসে একজন নারী চিকিৎসক একই হাসপাতালে যোগদান করেন। এরপর থেকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুযোগ পেলেই তাকে কারণ ছাড়াই অফিস রুমে ডাকতেন এবং অনৈতিক প্রস্তাবসহ অশালীন ইঙ্গিত করতেন। 


আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯ (১) ধারা অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তার দায়িত্ব হতে বিরত রাখা আবশ্যক। এবং তদন্তের কাজে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বিবেচনায় অভিযুক্ত ডাঃ রেজওয়ানুর আলম রায়হানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা করা হয়। 


হাসপাতালে কর্মরত ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক বলেন, “আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছে। এটা একটি ম্যাসেজ সমাজের জন্য। আমরা যাতে আরও সচেতনভাবে আমাদের আচরণ করি। যে কোনো কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন আর নিম্নতম হোক, সকলেরই সচেতন হওয়া উচিত। কারও কোনো ক্ষতি মানুষ হিসেবে ভালো লাগবে না। বিভাগীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী চলবে, এটা কারো হাতে নেই। আর এখানে আমার আলাদা কোনো বক্তব্যও নেই। তবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী, আমাদের স্বাস্থ্য সেবায় যারা নিয়োজিত আছি, আমাদের সুরক্ষায় অত্যন্ত তৎপর।”


অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ মোঃ রেজওয়ানুর আলম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সম্পুর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যোগদানের পর সঠিক সময়ে ডিউটি পালন এবং নিয়মিত হাসপাতালে না আসায় তাকে শোকজ করেছিলাম। শোকজ করেছি ১৩ তারিখ, আর সে অভিযোগ দিয়েছে ১৪ তারিখ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলাধীন ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম শহিদুল শেখের স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুলাই, ২০২৬ (ইং), রোজ শুক্রবার, ভদ্র ঘাট ইউনিয়নে এই আয়োজন সম্পূর্ণ হয়।


স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই স্মরণ সভায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের ওপর আলোচনা করা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল সামাদ মীর্জা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল আলিম খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা মরহুম শহিদুল শেখের রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করেন এবং তাকে একজন নিষ্ঠাবান ও জনদরদী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, তাঁর শূন্যতা ভদ্র ঘাট ইউনিয়ন বিএনপির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।


আলোচনা সভা শেষে মরহুমের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয় এবং দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু তুহিনের বাবা পুলিশ কনস্টেবল শামসুল হক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ পিএম

একটি ফোনকল—সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র নিহত। প্রতিদিনের মতোই দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে যায় পুলিশের টহলদল। সেই দলে ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও। কিন্তু তিনি জানতেন না, কয়েক মিনিট পর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সত্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত নিথর শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়েন তিনি। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পড়ে থাকা শিশুটি আর কেউ নয়—তারই আদরের ছেলে, দশ বছরের তুহিন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।


তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ওসি স্যার ফোন দিয়ে বলেন, “সার্কিট হাউসের দিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, টহল পুলিশ নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছাও।”’ নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সেখানে ছুটে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের চোখকেই যেন নিজে বিশ্বাস করতে পারছি না। কে জানত নিথর শিশু আমার নিজেরই আদরের সন্তান। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের এমন করুণ মৃত্যু দেখতে হবে, সেটা কখনো কল্পনা করিনি। এই কষ্ট কাউকে বলে বোঝাতে পারব না, কলিজা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর তো কারও হাত নেই। কী আর করব?’



অতিকষ্টে কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু মোহাম্মদ তুহিনের (১০) বাবা পুলিশ সদস্য শামসুল হক। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মারা যায় তাঁর ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা–পুলিশের একটি টহল দল। ওই দলে গাড়িচালক ছিলেন শামসুল হক।


নিহত তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের পাশেই ভাড়া বাসায় বাবা–মা ও আরও দুই ভাইয়ের সঙ্গে থাকত সে। ভাইদের মধ্যে তুহিন ছিল মেজ। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদরে।


পুলিশের ওই টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপপরিদর্শক ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। দুর্ঘটনার খবর পেলেই বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যাই আমরা। চালক শামসুল হকই নিয়ে যান আমাদের নিয়ে। তবে এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। ঘটনাস্থলে গিয়ে যখন দেখলাম সড়ক দুর্ঘটনার শিকার শিশুটি আমাদের সঙ্গে যাওয়া গাড়ি চালক শামসুল হকের ছেলে। তখন তাঁকে কী বলে যে সান্ত্বনা দেব, ভাষা আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু আমরা না, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনও এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়ে শামসুল হককে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।


কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, জুমার নামাজের পর কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে তুহিনের প্রথম জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নেত্রকোনায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

রূপগঞ্জে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

রূপগঞ্জে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী


রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি


নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাবেক এমপি, জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জামিয়া মনির উদ্দিন বেপারী কওমি মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে। 


শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের দখলে রয়েছে। পাঁচ গ্রামের মানুষের অবিলম্বে ওই জমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট 

প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, মহসিন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।


এ সময় বক্তব্য রাখেন, মো. সিরাজুল ইসলাম প্রধান, মো. ওবায়দুল হক ভূঁইয়া, আব্দুল হালিম ভূঁইয়া, মো. কামরুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান এবং হাজী মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।


বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর দখল করে রেখেছেন। মামলা হামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কথা বলতে পারে নাই।  এসব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত এবং মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার ও আলাল খন্দকার। মানববন্ধন শেষে ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ সব খবর