• প্রকাশ : শনিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৫০ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিরুদ্ধে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে আরও সোচ্চার ও কার্যকর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় ‘আন-এডিটেড’ বা অসম্পাদিত ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। 


তিনি শনিবার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের কোনো জবাবদিহিতা থাকে না। 


তাই সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। মানুষ যাতে ব্রেকিং নিউজ দেখে মূলধারার পোর্টালে গিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে, সেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে হবে।”


ক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ূন কবীর, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন, যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার।


সিলেটের সাথে আত্মিক সম্পর্ক সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সিলেট প্রেসক্লাবের দৃঢ়তার প্রশংসা করে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, তখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) হলগুলোর নামকরণ নিয়ে অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। হরতাল-বিক্ষোভের কারণে তিনি অনেকটা হতাশও হয়ে পড়েছিলেন। 


সেই অচলাস্থা নিরসনে সিলেট প্রেসক্লাব অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিল। প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি মুকতাবিস উন নূর ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ নূরের নিরলস প্রচেষ্টায়-সেই সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছিল। 


তাদের কারণে কালেক্টরেটে বসেই বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সুরাহা করা সম্ভব হয়েছিল। ‘নিজে অন্তর্মুখী মানুষ হওয়া স্বত্বেও’  মূলত সেই কৃতজ্ঞতাবোধের কারণেই তিনি প্রেসক্লাবের অভিষেকে আসতে সম্মত হয়েছেন। 


সিলেট প্রেসক্লাব অতীতে যেভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছে; আগামীতেও সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন-সাবেক মন্ত্রিপরিষদ ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব। সাংবাদিকতার নীতি ও আদর্শ সাংবাদিকতার মান ও নৈতিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, অন্যান্য খাতের মতো সাংবাদিকতাতেও কিছুটা অধঃপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। 


তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পেশাদার সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠবেন। তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ থেকে দেশ ও জনস্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেন।


হুমায়ুন কবিরঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, সুস্থ সমাজ গঠনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম খুবই জরুরি। কিন্তু, বর্তমানে ভুয়া ও অপতথ্যের কারণে মানুষজন নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এসব মোকাবেলায় সিলেট প্রেসক্লাবের মতো সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। 


সিলেট প্রেসক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাব এই মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রেসক্লাব মজবুত হলে সুস্থ ও স্বাভাবিক সাংবাদিকতা মজবুত থাকবে, উন্নয়নের দাবিও মজবুত হবে। তিনি সিলেট প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


এহসানুল মাহবুব জুবায়েরঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকতাকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে বলেন, সাংবাদিকরা সঠিকভাবে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে এজন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। তাই, নির্বাচনে সঠিকভাবে নেতৃত¦ নির্বাচন করতে হবে। ‘হ্যা’ ভোট দিয়ে দেশের সংস্কার কাজে সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।


অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারঃ সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকরা অনেকক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মীও। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব সাংবাদিকের নৈতিকতা নেই, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। তবেই, ভালো-মন্দের পার্থক্য নিরূপন করা সম্ভব হবে।


পাশা খন্দকারঃ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এনআরবি (নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি)-দের মূল্যায়ণ করার পরামর্শ দেন।  বর্তমানে এ দেশের পঞ্চম প্রজন্ম বিলেতে অবস্থান করছে-এই তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রজন্মকে হারাতে বসেছি। এজন্য তাদেরকে দেশমুখী করতে হবে। চায়না যেভাবে তাদের প্রজন্মকে দেশে ফিরিয়ে আনছে-বাংলাদেশেরও অনুরুপ ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সিলেট প্রেসক্লাবকে ভূমিকা রাখতে হবে।


মুকতাবিন উন নূরঃ সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। পবিত্র আল কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রণ করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।’ সিলেট প্রেসক্লাব এই ধরনের সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নিতে চায়-উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এই পেশাকে সম্মানিত করতে চাই। অভিষেক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় তিনি প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ অন্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  

বক্তব্য দিলেন যারাঃ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী, ইকবাল সিদ্দিকী ও আহমেদ নূর, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার নজির আহমদ, দৈনিক সিলেট সংলাপ সম্পাদক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান, দৈনিক সিলেটের ডাক-এর অতিথি সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, দৈনিক নয়াদিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধাান আব্দুল কাদের তাপাদার, দৈনিক আমার দেশের সিলেট ব্যুরো প্রধান খালেদ আহমদ। 


স্বাগত বক্তব্যে রাখেন অভিষেক কমিটির আহব্বায়কও সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির। অনষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলায়ত করেন ক্লাব সদস্য মুন্সী ইকবাল ও গীতা পাঠ করেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমরেন্দ্র বিশ্বাস সমর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন-সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে সিলেট প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠানে সিলেট প্রেসক্লাব, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন(এসএমইউহজে), বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় পত্রিকা-দৈনিক সিলেটের ডাক, দৈনিক জালালাবাদ, দৈনিক সিলেট মিরর, দৈনিক সিলেট বাণী, দৈনিক কাজিরবাজার, দৈনিক জৈন্তাবার্তা, দৈনিক প্রভাতবেলা ও দৈনিক শুভ প্রতিদিন-এর পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।


পরে প্রধান অতিথি সিলেট প্রেসক্লাবের মকবুল হোসেন চৌধুরী পাঠাগার পরিদর্শন করেন।এসময় তাকে ফুল দিয়ে বরন করেন সিলেট প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান। এসময় তিনি পাঠাগারের উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন।অভিষেক অনুষ্টানে পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুর রহমানের সম্পাদনায় অভিষেক স্মারক ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে।


অনুষ্ঠানে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও মানবসম্পদ) মো. মাসুদ রানা, সিলেট প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কর্মককর্তাবৃন্দ ও ক্লাব সদস্যসহ সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।




১০৪ বছর বয়সে আসামির আত্মসমর্পণ, পেলেন না জামিন।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির সময় দুইজনকে হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া নুর মোহাম্মদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে তার বয়স ১০৪ বছর। আত্মসমর্পণের পর আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।


আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুর মোহাম্মদ অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদনও নাকচ করেন। তার আইনজীবী আদালতে জানান, তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয় এবং জটিল রোগে ভুগছেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুইজনকে হত্যা করা হয়। পরে দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এ ঘটনায় দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।


তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।


২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে উচ্চ আদালত বিভিন্ন আসামির সাজা বহাল ও পরিবর্তন করেন। নুর মোহাম্মদের ক্ষেত্রে ১০ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারিত হয়।


দীর্ঘ সময় পর এবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের সুযোগ চেয়েছেন। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ আদালতে বলেন, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর এবং তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন জানিয়ে আপিলের শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।


ফলে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি হত্যা-ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলের আইনি সুযোগ গ্রহণ করবেন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ এএম

চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই বাবলু জমাদ্দার দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য কাউখালী থানা-পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। একপর্যায়ে তাঁর অবস্থান ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে র‍্যাবের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।এদিকে, ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কাউখালী থানায় দায়ের করা একটি নাশকতা মামলাতেও মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় তাঁকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে ওই মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকা বাবলু জমাদ্দারের অবস্থান প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। এরপর র‍্যাবের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দার কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।


কাউখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ এএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ এএম


ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর সাদ্দামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ এএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৩ নম্বর ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর সাদ্দাম।


বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় নামেন তিনি। এ সময় দফাদারপাড়া,সাদিপুর বাজার, বাহিরমাদি, সদরঘাট থেকে গোয়ালবাড়ি,চরসাদীপুর,ইসলামপুর,কেরানীপাড়া,


সিরাজনগর টোলপাড়া,কামারপাড়া,দারোগার মোড়,আবেদের ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ভোট প্রার্থনা ও লিফলেট বিতরণ করেন।


প্রচারণাকালে আব্দুস সবুর সাদ্দাম বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ,ফিলিপ নগর ইউনিয়নের জনগনের জননিরাপত্তা প্রদান করা,ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবেন।একই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দ ও জনগণের জন্য নির্ধারিত সব সুযোগ-সুবিধা স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।


গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম

ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি এবং সারের পরিমাণের সঙ্গে বিক্রিত সারের অসঙ্গতির অভিযোগে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।


গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম না মানার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুই ডিলারের কাছ থেকে মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।


জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- মেসার্স আতাউর রহমান, যাকে ৩০ হাজার টাকা, এবং মেসার্স সাইদার রহমান ট্রেডার্স, যাকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে সার বিক্রির সময় যথাযথভাবে ক্যাশমেমো প্রদান না করা এবং ক্যাশমেমোতে উল্লেখিত সারের পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রয়কৃত সারের পরিমাণের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সার বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কৃত্রিম সংকট বা অনিয়ম প্রতিরোধে সার ব্যবসায়ীদের সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এক বিশেষ বিবৃতিতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। দিনের একটি সময় উপজেলার প্রায় সব খানেই সার মনিটরিং করছি। কৃষকরা যাতে হয়রানি না হয় এবং সময়মতো সার পায় সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।


চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।


আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’


চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।


২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। এতে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারসহ (এএসপি) অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।   


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টায় টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


এ ঘটনায় এএসপিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), সরাইল থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে।


এদিকে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইকযোগে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারাও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।


রাত ১০টার দিকে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।


সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমাদের সার্কেল স্যার আহত হয়েছেন। তিনি পায়ে ইটের আঘাত পেয়েছেন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।