নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে প্রাইভেটকারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে নিজ বাড়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর যাবার পথে ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্নালংকার, নগদটাকা ও মোবাইল লুট করে নিয়ে যায় ৷ এসময় বাধা দেয়ায় প্রবাস ফেরত এক নারীসহ ২ জনকে আহত করে ডাকাতরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাওঘাট এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী হিমু আক্তার জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ারর নবীনগর থানাধীন পেয়ারাকান্দি এলাকার হিমু আক্তার ৬ মাস পূর্বে তার স্বামী কাছে সৌদী আরবে যায়। সেখান থেকে ফিরে আজ ভোররাতে শাহাজাহালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে একটি প্রাইভেটকার যোগে পরিবারের লোকজনের সাথে নিজ বাড়ী ফিরছিলেন। গাড়ী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গোলাকান্দাইল সাওঘাট এলাকায় পৌছেলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি হাইয়েছ গাড়ী তাদের গাড়ীর গতিরোধ করে। এসময় ৫ জন ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এসময় ডাকাতরা গাড়ীতে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ন স্বর্নালংকার,সৌদী আরবের ৪ হাজার রিয়াল, ৩ টি মোবাইল সেট ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুটে নেয়। এসময় বাধা দেয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী হিমু আক্তার ও তার ভাই মাইনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে সরকারী পরিষেবা ৯৯৯ এর কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আহতের উপজেলা স্বাস্খ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ
দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে খেয়ার মাহমুদপুর সীমান্ত দিয়ে ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের প্রতিহত করে বিজিবি। পরে বিএসএফ ওই ৯ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে, পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁয় মানববন্ধন
ভারতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন নওগাঁর শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টায় নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গেটে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘উই স্ট্যান্ড উইথ ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস’, ‘পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভারতের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি’ প্রভৃতি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ‘শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, নিশ্চিত করো, করতে হবে’, ‘শিক্ষার্থীর ওপর সহিংসতা, বন্ধ করো, করতে হবে’, ‘জাস্টিস ফর ইন্ডিয়ান স্টুডেন্টস’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী রাহাদ হাসান আকাশ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হায়ালিল, হাসিন আলমাস সমিত, মোঃ রাফিউল, মোঃ সোলেমান, সাগর হোসেন, তৌফিজুজ্জামান প্রমুখ।
রাহাদ হাসান আকাশ বলেন, ‘আমরা কোনো দেশের বিরুদ্ধে নই; শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকারের প্রতি সংহতি জানাতেই আজ একত্রিত হয়েছি। ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলনে যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বলপ্রয়োগের আমরা নিন্দা জানাই এবং আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান দুর্নীতি ও অনিয়ম দ্রুত সংস্কার করতে হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে মেধা, পরিশ্রম ও সততার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপমহাদেশে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বসন্ত শুরু হয়েছে। চলমান আন্দোলন তারই একটি ধারাবাহিকতা। আমরা আমাদের ভারতীয় শিক্ষার্থী বন্ধুদের যৌক্তিক আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করছি।’
শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য আনা বাইসাইকেল মানসম্মত কিনা তা চালিয়ে পরীক্ষা করেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য দেশের বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা ক্ষেত্রে বহুমুখী সংস্কার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের লেখাপড়া সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা এবং উচ্চশিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধে ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই প্রথম দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেলা ১১টায় এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এমপি তার নির্বাচনী এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বাইসাইকেল আর দু:স্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে এসব কথা বলেন।
শুক্রবার সকালে এমপি “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতিত)” শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৮২ শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল ও ৫৫ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে এডিপির অর্থায়নে বকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৪ শিশুশিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ উদ্বোধন করেন। এমপি বিতরণের জন্য আনা বাইসাইকেল চালিয়ে সেগুলো মানসম্মত কিনা তা পরীক্ষা করে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমপির সাইকেল চালানোর ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এসব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। এসময় অন্যদের মধ্যে সহকারি কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ, মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, এমপির প্রতিনিধি সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, মহাদেবপুরে এমপির রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতি আরা, সাবেক ছাত্রনেতা অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সফাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম বাচ্চু, বকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জয়িতা পুরস্কারপ্রাপ্ত লায়লা নাজনিন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হান্নান, উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস সাজু, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু, সাংবাদিক বরুণ মজুমদার, সাংবাদিক আমিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।#
আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে জাবেদ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা, মাদকদ্রব্য বেচাকেনা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে জাবেদকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) ভোরে উপজেলার চরজুবলি ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজুবলি গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জাবেদ ওই বাড়ির আবুল মিয়া ও ছালেয়া খাতুন দম্পতির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ২৪ জুলাই জাবেদের মা ছালেয়া খাতুন (৬৮) স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের কাছে ছেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, জাবেদ ও তার সহযোগী পিচ্চি মাসুদ (৩৭) ও সুমন (৩৪) তাদের বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা ও আইনবিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৭ মে রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে দরজা-জানালা ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এ সময় প্রতিবাদ করলে ছালেয়া খাতুন ও তার স্বামীকে মারধর করে আহত এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, জাবেদের বিরুদ্ধে তার মায়ের একটি অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরক ও মারামারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।
সালাহউদ্দিন সরকার
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকার বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-২) পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে গত ২৩ জুলাই জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তার এ নিয়োগ কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন সরকারকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। এছাড়া চুক্তির অন্যান্য শর্ত সরকার নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে সালাহউদ্দিন সরকার জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক রাজনীতি ও বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে সুপরিচিত।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি দেশব্যাপী অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল। দলীয়ভাবে দাবি করা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন সরকারও একই ধরনের অনিয়মের শিকার হন।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও গাজীপুর-২ আসনে তাকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি হয়। প্রথমে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং বৈধ প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দলীয় প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করীম রনির বিজয় নিশ্চিত করা এবং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি তার আনুগত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন, কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সংগ্রামে সালাহউদ্দিন সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হওয়া, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং শ্রমিক সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্রের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, শ্রমিক রাজনীতিতে নেতৃত্ব, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এ নিয়োগকে শুধু একটি প্রশাসনিক পদায়ন হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শিক্ষার্থী আরিফুল হক নাহিদ
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আরিফুল হক নাহিদ বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয়েছে।
অপহরণকারীরা তার দুটি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে একটি আইফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে।
সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নাহিদ ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় পরে পথিমধ্যে নরসিংদী এলাকায় তিনি অপহরণের শিকার হন। এরপর অপহরণকারীরা তার সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয় এবং তার ওপর মারাত্মকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে।
এব্যাপারে ২৩ জুলাই রাতে ডুয়েটের ছাত্র আরিফুল হক নাহিদের বড় ভাই বাদী হয়ে নরসিংদী জেলা শিবপুর থানায় অভিযাগ দায়ের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে অপহরণকারীরা নাহিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পরিবার এক ১লাখ ২০ হাজার মুক্তিপণের টাকা বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ ও নগদ নাম্বার প্রেরন করে ঐদিন রাত আনুমানিক সারে ৯টা তাকে নাহিদ তাদের হাত থেকে মুক্তি পায়।
বর্তমানে নাহিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক নির্যাতনের কারণে তিনি সারা শরীরে ব্যথা অনুভব করছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আরিফুল হক নাহিদ ডুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।