ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের বিভিন্ন স্থানে সাদা কাপড়ে কালো আরবি হরফে ‘কালিমা’ লেখা পতাকা ঝুলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে নানা মহলে চলছে নানা আলোচনা। শনিবার লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কালিমা খচিত পতাকা দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি এলাকায় ট্যাক্সি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার ডিভাইডারের অংশে বাঁশ দিয়ে কালিমা লেখা পতাকা ওড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া শিবু মার্কেট এলাকায় ওভারপাসে বৈদ্যুতিক পিলারে উড়ছে সাদা পতাকা। এসব পতাকায় কালো কালিতে আরবি হরফে ইসলাম ধর্মের কালিমা লেখা রয়েছে। তাছাড়া সড়কের পাশে বিভিন্ন বাড়ির ছাদেও একই ধরনের পতাকা উড়তে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রাতের বেলা কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্ররা এসব পতাকা সড়কে স্থাপন করেছে। তবে, কী উদ্দেশে এসব পতাকা সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে তা বলতে পারেননি কেউ। সড়কের পাশের দোকানি আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে এই পতাকা সড়কে দেখছি। আগে কখনো এসব পতাকা দেখিনি। শুনেছি মাদ্রাসার ছাত্ররা রাতের বেলা এই পতাকা লাগিয়েছে।
অটোরিকশাচালক জালাল মিয়া বলেন, আগে কখনো আরবি লেখার পতাকা দেখিনি। কিছুদিন ধরে এই ধরনের পতাকা সড়কে দেখছি। তবে কারা এই পতাকা স্থাপন করেছে তা জানা নেই।
এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে এসব পতাকা লাগানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলতে শোনা যায়, এই সড়কটির শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভূঁইগড় এলাকায় আমরা এ ধরনের পতাকা লাগিয়েছি। ওই মাদ্রাসা ছাত্র আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও কালিমা খচিত কিছু পতাকা লাগানো হয়েছিল।
কিন্তু সেগুলো সরিয়ে ফেলায় প্রতিবাদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সড়কে আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১৫০০ পতাকা লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভিডিওতে কথা বলা ওই ছাত্রের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, এটা কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের পতাকা নয়। কোনও নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর লোকজন করেনি। মূলত আবেগ থেকে কিছু মুসলমান ছেলে এটা করছে। এতে দোষের কিছু নেই।
আগে কখনও এ ধরনের পতাকা উড়তে দেখা যায়নি, তাহলে হঠাৎ কেন কালিমা খচিত পতাকা উড়ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ানো হয়েছে। এতে করে অনেক মুসলিম আবেগতাড়িত হয়ে কালিমা খচিত পতাকা উড়িয়েছে। আমার জানামতে, এর বাইরে কোনও ধরনের উদ্দেশ্য বা কারণ নেই।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কী বলছেন মুফতি হারুন ইজহার এদিকে ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মুফতি হারুন ইজহার। ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে শনিবার (২৭ জুন) রাতে ভিডিও বক্তব্যে তিনি পরিচিত উগ্রবাদী সংগঠনের পতাকার নকশার বাইরে ভিন্ন ধাঁচে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তরুণদের সমালোচনা করে ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘আমরা বলছিলাম– যেখানে যেখানে বিদেশি কুফফারদের পতাকা আছে, বিকল্প হিসেবে সেখানে আপনারা কালেমা খচিত পতাকার মাধ্যমে কাউন্টার করবেন। পরে দেখলাম, হোন্ডা নিয়ে শোডাউন, মিছিল শুরু হয়েছে। তো এই ফ্যান্টাসির ব্যাপারে আমার বক্তব্য- ভাই, এত যে আপনারা অতি উৎসাহ দেখাচ্ছেন, আপনারা কি ওই রকম আমলদার? পতাকা ও হোন্ডা নিয়ে শোডাউনে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, সেই উৎসাহ-উদ্দীপনায় আপনি কি কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) পড়েছেন? মাওলানা সাহেব, উত্তরগুলো খারাপ লাগবে আপনাদের।’
কখন এ ধরনের কাজ করা যায়, তাও তুলে ধরেন তিনি, ‘এগুলো মাঝে মাঝে করা যায়, কোনো বিশেষ উপলক্ষে। কোনো মেহমান আসতেছে, ইসলামের বিজয়ের কোনো বিষয় বা প্রতিবাদস্বরূপ– রাসুলুল্লাহকে (সা.) গালি দিয়েছে অথবা কোনো অন্যায়-জুলুম করেছে কোনো কর্তৃপক্ষ, তখন। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বড় বিষয়ে, সাময়িকভাবে একদিন কোনো এক সময় এদের প্রতিবাদস্বরূপ শোডাউন করতে পারেন তাওহীদের পক্ষে। কিন্তু একেবারে যদি অতিউৎসাহী হয়ে যান, অতি ফ্যান্টাসি এবং ব্যবসা করেন, এটা ঠিক না।’
হারুন ইজহার বলেন, ‘এটিকে সীমিত পর্যায়ে রাখুন। পতাকা দিয়ে একটি অপসংস্কৃতিকে মোকাবেলা করার জন্য যতটুকু দরকার, অতটুকু। দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা কিচ্ছু নেই। কিন্তু হাজার হাজার কালেমা পতাকা লাগায় রাখছেন আপনি। এই যে শূন্যস্থানে আপনি কালেমা পতাকা লাগায় রাখলেন, কী হবে? পতাকা উড়তেছে পতপত করে, কিন্তু এলাকার লোক জোহরের নামাজ পড়তেছে না। তো লাভ কী হইছে? সাহাবায়ে কেরাম কি ফ্যান্টাসি করেছেন? সাহাবায়ে কেরাম এলাকার লোকদের মুসল্লি বানিয়েছেন। এজন্য অতি আবেগ এখানে ঠিক না।’
এর আগে গত ১৩ জুন ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকার পরিবর্তে কালেমার পতাকা টানানোর আহ্বান’ ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেছিলেন, ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে। এগুলো যেখানে থাকবে, কালেমার পতাকাও থাকবে আমাদের।’
ওই ভিডিওতে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এই যে আর্জেন্টিনা, তারপরে... এই যে আপনার বদমায়েশি শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের তরুণরা কালেমার পতাকা শুরু করেছে।’
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে হারুন ইজহারের এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন স্থানে সাদা এবং কালো পতাকা লাগানো শুরু হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, স্থাপনা, অলিগলি ছেয়ে যায়। এমনকি পতাকা হাতে শোডাউন ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হতে থাকে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এসব পতাকার সঙ্গে আল কায়েদা, আইএসআইএস, তালেবান, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকার নকশার মিল রয়েছে বলে জানান। তাঁরা সংগঠিত এই পতাকা কর্মসূচিকে নিজেদের অবস্থান পোক্ত এবং দেশের সরকারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও বর্ণনা করেন। এর পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে নড়েচড়ে বসে সরকার। ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন।
শুক্রবার পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এরপর শনিবার বিকেলে ডিএমপি কার্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়।
এ ব্যাপারে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সাদা-কালো পতাকার বিষয়ে পলিসি মেকিং লেভেল থেকে শুরু করে সবাই সজাগ। বৃহস্পতিবার আলাপের পর শুক্রবার থেকে মাঠে কাজ হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জড়িতদের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেককে নজরদারিতেও রাখা হয়েছে।
ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের আবেগ ব্যবহার করে কাজগুলো হচ্ছে। তারা সফল হলে সরকার বিপদে পড়বে। আর সুবিধা নেবে আওয়ামী লীগ। এজন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।
শনিবারের ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘পতাকা হচ্ছে খেলাধুলার প্রতীক। আপনি বলবেন– না, আমি আর্জেন্টিনিয়ান, ব্রাজিলিয়ান, জার্মান, ফরাসি– এসব রাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে সম্মান করতেছি না। এদের জাতীয়তাকেও সম্মান করছি না। আমি জাস্ট বিনোদন করতেছি। খেলা তো বিনোদন। বিনোদন যদি আর্ট হয়ে যায়, বিনোদন যদি শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি) হয়ে যায়, আমি গত সপ্তাহে বলছিলাম– তখন সেটা জায়েজ থাকবে না। তো সব দিক থেকে বিদেশি পতাকা তোলা নাজায়েজ।’
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘চলমান পতাকা নিয়ে আমার দুই সপ্তাহের তিক্ত অভিজ্ঞতা। আমি হজ থেকে আসা দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে। আমি প্রথম জুমাতে বলছিলাম– আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা আরও বিভিন্ন কুফফার রাষ্ট্রের পতাকা উঠতেছে। পতাকা জিনিসটা কী? পতাকা সম্মানের জিনিস কিনা? এটা একটা সম্মান, ইজ্জত, অহংকার এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক, ঠিক কিনা? প্রত্যেক দেশের পতাকা তার রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় গর্বের প্রতীক। সুতরাং যখন এ রকম একটা পতাকা উঠাব, তখন ওই জাতিকে সম্মান করা হলো, ঠিক কিনা? কোনো কুফফার রাষ্ট্র, তাদের জাতি বা তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করা জায়েজ আছে কি?’
এ ছাড়া গত শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে আল কুরআনের দারস পেজে দেওয়া পোস্টে হারুন ইজহার বলেন, ‘তরুণদের উদ্দেশে বলতে চাই– তাদের মধ্যে কাজের চেয়ে ফ্যান্টাসিটা বেশি। কৌশলগত কিছু স্ট্র্যাটেজিক কনসার্নের বিষয় আছে। এটা একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। কালেমার পতাকা বললেই তালেবান, আল কায়েদা, আইএস চলে আসে সামনে। তো কালেমা মানে কি আইএস নাকি, কালেমা মানে কি আল কায়েদা, কালেমা মানে কি তালেবান?’
তিনি বলেন, ‘তো এইটা আবার হওয়ার কারণ আছে, আমাদের যুবকরা যে পতাকার ডিজাইনটা ব্যবহার করে, যেহেতু তালেবান একটা বিশাল শক্তি এখন বিশ্বের, অনলাইনের কারণে আরও বিভিন্ন জিহাদি সংগঠনগুলোর পতাকা পরিচিত হয়ে গেছে, ডিজাইন করতে গেলেই ওই ডিজাইনগুলো চলে আসে।’
‘কালিমার পতাকা সম্পর্কে শায়েখ হারুন ইজহার হাফিযাহুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা’ ক্যাপশনে এই ভিডিওর সময়কাল সম্পর্কে জুমাবার ১৯ জুন লেখা। এতে হারুন ইজহার তরুণদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এখন বর্তমান পতাকার বিষয় আসছে বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের যে পতাকা উঠছে তা বর্ণাঢ্য, তো আপনে কালেমার বর্ণাঢ্য পতাকা করেন। আপনাকে কেন তালেবানদের ডিজাইনেই পতাকা করতে হবে? একটা পতাকাও তো দেখলাম না, বাংলাদেশে সবুজের উপরে সাদা লেখা, দেখলাম না। সবুজ পতাকা করলে সমস্যা কী?’
ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাতের পর গ্যাসের রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আল মাহমুদ এভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাত হয়। এতে গেটের পাশে থাকা ডাবল চেইন গ্যাসলাইনের রাইজারে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।
আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় পাঁচ মিনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের আঘাতে গ্যাসের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বাসভবন ও আশপাশের প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রতীকী ছবি
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীর শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয় সাইফুল ও তার বোনেরা। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তারা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামে একজনকে যাব্বজ্জীবন দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় প্রদান করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ জানিয়েছেন, '২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পারভেজরা। এসময় সবকিছু লুটে নেয়ার পর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পারভেজকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদন্ড দেন।
সট:- ইফতেখার মাহমুদ এপিপি, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১।
এদিকে, আদালতের রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বাদীর প্রত্যাশা অন্যকোন পরিবারে যেন এমন জুলুম না হয়।
বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং কামারখন্দ উপজেলার বিশেষ প্রতিনিধির সমন্বয়ে 'ক' সার্কেলের একটি দল এই অভিযানটি পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার (০৯/০৯/২০২৬) কামারখন্দের ভদ্রঘাট পশ্চিম খান পাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় মোঃ শাকিল শেখ (৩২), পিতা: মোঃ মকবুল হোসেন শেখ নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৮০০ (দুই হাজার আটশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১১,৩০০ (এগারো হাজার তিনশত) টাকা।
কামারখন্দ উপজেলায় এটি ছিল ডিএনসির চতুর্থ অভিযান। এই ঘটনায় সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামারখন্দ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মিয়ানমারে যাচ্ছে সার আসছে মাদক
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের জল ও স্থলপথে মাদকদ্রব্যের বিনিময়ে এবার শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে সার পাচার। সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের অধিকাংশ সার ডিলার এবং চোরাচালানী সিন্ডিকেট।
ইতিমধ্যে টেকনাফ,উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি ইয়াবা, খ্রীস্ট্রাল মেথ আসছে মিয়ানমার থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন বাহিনীর কাছে গত একমাসে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পাচারকারী। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ৯৩ জন ও এপিবিএন সদস্য ১ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী আছেন ২১ জন, আর অন্যরা হচ্ছে সাধারণ পরিবহন শ্রমিক, মহিলা আছেন ১৮ জন। মামলা হয়েছে ৭২ টি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পাচারের পাশাপাশি আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে সার পাচার।
মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বেশ কয়েক দফায় সার আটক করেছেন। নতুন করে সার পাচার হওয়ার খবরে সীমান্তের কৃষকসহ সচেতন মহলের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে মিয়ানমারে সার পাচার অনেকটা বন্ধ ছিল। এমনকি ওই সময়ে সার পাচার ও আটকের ঘটনা ছিল বিরল। তবে সাম্প্রতিককালে নতুন করে সার পাচারের ঘটনায় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় সার পাচারে জড়িত চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের দাবী জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সরকার ও বিদ্রোহীদের মাঝে চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যে এক ধরণের সংকট চলছে। আরাকান আর্মি শাসিত ওই রাজ্যের কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে পাচারে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারে ইউরিয়া সারের বেশ কদর রয়েছে। সেখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার দ্বি-গুণ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩হাজার টাকা ধরে প্রতি বস্তা সার মিয়ানমারের চোরাকারবারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন এখানকার চোরাকারবারীরা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সে দেশে (মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে) সারের বস্তা দ্বি-গুণ বেশী দামে বিক্রির সুযোগে এ দেশীয় চোরকারবারীরা সার পাচারে তৎপর রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহর, পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী কেন্দ্রীক বড় বড় চোরাকারবারীরা বিভিন্ন সার ডিলারদের সাথে আতাঁত করে সাগরপথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মিয়ানমারে সার পাচার করছেন। আবার স্থল পথের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে সারসহ অন্যান্য পণ্য।
সমুদ্রপথে সার পাচার করতে গিয়ে কোষ্টগার্ডের হাতে একাধিক চালান আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাগরপথে জাহাজে করে সার পাচারের ঘটনার পরপরই টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি সারসহ ইতিমেধ্য বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮সেপ্টেম্বর ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৫বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছেন বিজিবি। এর আগে ২সেপ্টেম্বর একই সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ বস্তা সারসহ একটি হস্তচালিত নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। গত ২০ আগষ্ট সাবরাং বিওপির জওয়ানেরা নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ বস্তা সারসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটক করেন। এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে পরিবহনের সময় ৩০০ বস্তা সারের একটি বড় চালান জব্দ করেন মরিচ্যা বিজিবি। ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩৪ বিজিবির জওয়ানেরা ৮৮ বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করেন। ১৫ জুলাই রাতে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পচারকালে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৪ রোহিঙ্গাকে হাতে নাতে আটক করেন পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা। ১৩ জুলাই পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ১৩০ বস্তা সার আটক করেন। ৮ জুলাই পালংখালীর বিওপির জওয়ানেরা আনজুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজিবাইকসহ ২২ বস্তা ইউরিয়া সার আটক করেন। ১ জুলাই পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ফারিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের হালিশহর, ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সীমান্ত দিয়ে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাচারের সময় সারের বেশ কয়েকটি চালান আটক করেন কোস্টগার্ড।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, গত মাসে (আগষ্টে) উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্টিত হয়েছে। ওই সভায় সার পাচাররোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি, ডিলার পর্যায়ে মনিটরিং বাড়ানো, সারের বস্তার মুখ খোলা দেওয়া, ৫টার পরে সার বিক্রি না করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিনি আরো জানান,সার পাচার শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে আমাদের প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠা ও মনিটিরিংয়ের মাধ্যমে সার পাচার ঠেকানো সম্ভব জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে: কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, সার পাচারসহ যাবতীয় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই মিডিয়া কর্মকর্তা।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ডিডি) ডক্টর বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সার পাচার ঠেকাতে বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। কোন ডিলার সার পাচারে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ৬৪বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল জহিরুল ইসলাম জানান, সার এমন একটা জিনিষ যা পকেটে করে নেওয়া যায়না। কার কার সার প্রয়োজন সেটাও স্থানীয় লোকজন ভাল করেই জানেন। এছাড়া কৃষকসহ স্থানীয়রা সার পাচাররোধে বিজিবিসহ আইন শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে পারেন জানিয়ে তিনি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনার উপর গুরুত্বারোপন করেন।
প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির
টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।
প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।
পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।