ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ এএম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের বিভিন্ন স্থানে সাদা কাপড়ে কালো আরবি হরফে ‘কালিমা’ লেখা পতাকা ঝুলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে নানা মহলে চলছে নানা আলোচনা। শনিবার লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কালিমা খচিত পতাকা দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি এলাকায় ট্যাক্সি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার ডিভাইডারের অংশে বাঁশ দিয়ে কালিমা লেখা পতাকা ওড়ানো হয়েছে। 


এ ছাড়া শিবু মার্কেট এলাকায় ওভারপাসে বৈদ্যুতিক পিলারে উড়ছে সাদা পতাকা। এসব পতাকায় কালো কালিতে আরবি হরফে ইসলাম ধর্মের কালিমা লেখা রয়েছে। তাছাড়া সড়কের পাশে বিভিন্ন বাড়ির ছাদেও একই ধরনের পতাকা উড়তে দেখা গেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রাতের বেলা কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্ররা এসব পতাকা সড়কে স্থাপন করেছে। তবে, কী উদ্দেশে এসব পতাকা সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে তা বলতে পারেননি কেউ। সড়কের পাশের দোকানি আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে এই পতাকা সড়কে দেখছি। আগে কখনো এসব পতাকা দেখিনি। শুনেছি মাদ্রাসার ছাত্ররা রাতের বেলা এই পতাকা লাগিয়েছে। 


অটোরিকশাচালক জালাল মিয়া বলেন, আগে কখনো আরবি লেখার পতাকা দেখিনি। কিছুদিন ধরে এই ধরনের পতাকা সড়কে দেখছি। তবে কারা এই পতাকা স্থাপন করেছে তা জানা নেই।


এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে এসব পতাকা লাগানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলতে শোনা যায়, এই সড়কটির শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভূঁইগড় এলাকায় আমরা এ ধরনের পতাকা লাগিয়েছি। ওই মাদ্রাসা ছাত্র আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও কালিমা খচিত কিছু পতাকা লাগানো হয়েছিল। 


কিন্তু সেগুলো সরিয়ে ফেলায় প্রতিবাদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সড়কে আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১৫০০ পতাকা লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভিডিওতে কথা বলা ওই ছাত্রের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।


এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, এটা কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের পতাকা নয়। কোনও নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর লোকজন করেনি। মূলত আবেগ থেকে কিছু মুসলমান ছেলে এটা করছে। এতে দোষের কিছু নেই।


আগে কখনও এ ধরনের পতাকা উড়তে দেখা যায়নি, তাহলে হঠাৎ কেন কালিমা খচিত পতাকা উড়ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ানো হয়েছে। এতে করে অনেক মুসলিম আবেগতাড়িত হয়ে কালিমা খচিত পতাকা উড়িয়েছে। আমার জানামতে, এর বাইরে কোনও ধরনের উদ্দেশ্য বা কারণ নেই।


নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কী বলছেন মুফতি হারুন ইজহার এদিকে ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মুফতি হারুন ইজহার। ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে শনিবার (২৭ জুন) রাতে ভিডিও বক্তব্যে তিনি পরিচিত উগ্রবাদী সংগঠনের পতাকার নকশার বাইরে ভিন্ন ধাঁচে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


তরুণদের সমালোচনা করে ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘আমরা বলছিলাম– যেখানে যেখানে বিদেশি কুফফারদের পতাকা আছে, বিকল্প হিসেবে সেখানে আপনারা কালেমা খচিত পতাকার মাধ্যমে কাউন্টার করবেন। পরে দেখলাম, হোন্ডা নিয়ে শোডাউন, মিছিল শুরু হয়েছে। তো এই ফ্যান্টাসির ব্যাপারে আমার বক্তব্য- ভাই, এত যে আপনারা অতি উৎসাহ দেখাচ্ছেন, আপনারা কি ওই রকম আমলদার? পতাকা ও হোন্ডা নিয়ে শোডাউনে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, সেই উৎসাহ-উদ্দীপনায় আপনি কি কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) পড়েছেন? মাওলানা সাহেব, উত্তরগুলো খারাপ লাগবে আপনাদের।’


কখন এ ধরনের কাজ করা যায়, তাও তুলে ধরেন তিনি, ‘এগুলো মাঝে মাঝে করা যায়, কোনো বিশেষ উপলক্ষে। কোনো মেহমান আসতেছে, ইসলামের বিজয়ের কোনো বিষয় বা প্রতিবাদস্বরূপ– রাসুলুল্লাহকে (সা.) গালি দিয়েছে অথবা কোনো অন্যায়-জুলুম করেছে কোনো কর্তৃপক্ষ, তখন। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বড় বিষয়ে, সাময়িকভাবে একদিন কোনো এক সময় এদের প্রতিবাদস্বরূপ শোডাউন করতে পারেন তাওহীদের পক্ষে। কিন্তু একেবারে যদি অতিউৎসাহী হয়ে যান, অতি ফ্যান্টাসি এবং ব্যবসা করেন, এটা ঠিক না।’


হারুন ইজহার বলেন, ‘এটিকে সীমিত পর্যায়ে রাখুন। পতাকা দিয়ে একটি অপসংস্কৃতিকে মোকাবেলা করার জন্য যতটুকু দরকার, অতটুকু। দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা কিচ্ছু নেই। কিন্তু হাজার হাজার কালেমা পতাকা লাগায় রাখছেন আপনি। এই যে শূন্যস্থানে আপনি কালেমা পতাকা লাগায় রাখলেন, কী হবে? পতাকা উড়তেছে পতপত করে, কিন্তু এলাকার লোক জোহরের নামাজ পড়তেছে না। তো লাভ কী হইছে? সাহাবায়ে কেরাম কি ফ্যান্টাসি করেছেন? সাহাবায়ে কেরাম এলাকার লোকদের মুসল্লি বানিয়েছেন। এজন্য অতি আবেগ এখানে ঠিক না।’


এর আগে গত ১৩ জুন ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকার পরিবর্তে কালেমার পতাকা টানানোর আহ্বান’ ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেছিলেন, ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে। এগুলো যেখানে থাকবে, কালেমার পতাকাও থাকবে আমাদের।’


ওই ভিডিওতে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এই যে আর্জেন্টিনা, তারপরে... এই যে আপনার বদমায়েশি শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের তরুণরা কালেমার পতাকা শুরু করেছে।’


ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে হারুন ইজহারের এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন স্থানে সাদা এবং কালো পতাকা লাগানো শুরু হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, স্থাপনা, অলিগলি ছেয়ে যায়। এমনকি পতাকা হাতে শোডাউন ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হতে থাকে।


নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এসব পতাকার সঙ্গে আল কায়েদা, আইএসআইএস, তালেবান, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকার নকশার মিল রয়েছে বলে জানান। তাঁরা সংগঠিত এই পতাকা কর্মসূচিকে নিজেদের অবস্থান পোক্ত এবং দেশের সরকারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও বর্ণনা করেন। এর পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।


বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে নড়েচড়ে বসে সরকার। ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন।


শুক্রবার পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এরপর শনিবার বিকেলে ডিএমপি কার্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়।


এ ব্যাপারে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সাদা-কালো পতাকার বিষয়ে পলিসি মেকিং লেভেল থেকে শুরু করে সবাই সজাগ। বৃহস্পতিবার আলাপের পর শুক্রবার থেকে মাঠে কাজ হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জড়িতদের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেককে নজরদারিতেও রাখা হয়েছে।


ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের আবেগ ব্যবহার করে কাজগুলো হচ্ছে। তারা সফল হলে সরকার বিপদে পড়বে। আর সুবিধা নেবে আওয়ামী লীগ। এজন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।


শনিবারের ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘পতাকা হচ্ছে খেলাধুলার প্রতীক। আপনি বলবেন– না, আমি আর্জেন্টিনিয়ান, ব্রাজিলিয়ান, জার্মান, ফরাসি– এসব রাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে সম্মান করতেছি না। এদের জাতীয়তাকেও সম্মান করছি না। আমি জাস্ট বিনোদন করতেছি। খেলা তো বিনোদন। বিনোদন যদি আর্ট হয়ে যায়, বিনোদন যদি শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি) হয়ে যায়, আমি গত সপ্তাহে বলছিলাম– তখন সেটা জায়েজ থাকবে না। তো সব দিক থেকে বিদেশি পতাকা তোলা নাজায়েজ।’


প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘চলমান পতাকা নিয়ে আমার দুই সপ্তাহের তিক্ত অভিজ্ঞতা। আমি হজ থেকে আসা দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে। আমি প্রথম জুমাতে বলছিলাম– আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা আরও বিভিন্ন কুফফার রাষ্ট্রের পতাকা উঠতেছে। পতাকা জিনিসটা কী? পতাকা সম্মানের জিনিস কিনা? এটা একটা সম্মান, ইজ্জত, অহংকার এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক, ঠিক কিনা? প্রত্যেক দেশের পতাকা তার রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় গর্বের প্রতীক। সুতরাং যখন এ রকম একটা পতাকা উঠাব, তখন ওই জাতিকে সম্মান করা হলো, ঠিক কিনা? কোনো কুফফার রাষ্ট্র, তাদের জাতি বা তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করা জায়েজ আছে কি?’


এ ছাড়া গত শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে আল কুরআনের দারস পেজে দেওয়া পোস্টে হারুন ইজহার বলেন, ‘তরুণদের উদ্দেশে বলতে চাই– তাদের মধ্যে কাজের চেয়ে ফ্যান্টাসিটা বেশি। কৌশলগত কিছু স্ট্র্যাটেজিক কনসার্নের বিষয় আছে। এটা একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। কালেমার পতাকা বললেই তালেবান, আল কায়েদা, আইএস চলে আসে সামনে। তো কালেমা মানে কি আইএস নাকি, কালেমা মানে কি আল কায়েদা, কালেমা মানে কি তালেবান?’


তিনি বলেন, ‘তো এইটা আবার হওয়ার কারণ আছে, আমাদের যুবকরা যে পতাকার ডিজাইনটা ব্যবহার করে, যেহেতু তালেবান একটা বিশাল শক্তি এখন বিশ্বের, অনলাইনের কারণে আরও বিভিন্ন জিহাদি সংগঠনগুলোর পতাকা পরিচিত হয়ে গেছে, ডিজাইন করতে গেলেই ওই ডিজাইনগুলো চলে আসে।’


‘কালিমার পতাকা সম্পর্কে শায়েখ হারুন ইজহার হাফিযাহুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা’ ক্যাপশনে এই ভিডিওর সময়কাল সম্পর্কে জুমাবার ১৯ জুন লেখা। এতে হারুন ইজহার তরুণদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এখন বর্তমান পতাকার বিষয় আসছে বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের যে পতাকা উঠছে তা বর্ণাঢ্য, তো আপনে কালেমার বর্ণাঢ্য পতাকা করেন। আপনাকে কেন তালেবানদের ডিজাইনেই পতাকা করতে হবে? একটা পতাকাও তো দেখলাম না, বাংলাদেশে সবুজের উপরে সাদা লেখা, দেখলাম না। সবুজ পতাকা করলে সমস্যা কী?’



সর্বশেষ সব খবর

টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৮ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রিন্সিপাল ও প্রতিষ্ঠাতা আলমাস হোসাইন। টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় শিশুটির পরিবারের আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন তিনি। এটিকে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার একটি ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখছেন তিনি। 


শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেছেন, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ১৫-১৬ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাটি সাজিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেউদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে অন্যান্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।


প্রিন্সিপাল আরও অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা মাদ্রাসার তহবিল থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

ওই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত মুসলেউদ্দিন মাদ্রাসাটির একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক যাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 


সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রিন্সিপাল আলমাস হোসাইন দাবি করেন, মব সৃষ্টি করে সেদিন মাদ্রাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দুঢ়কণ্ঠে বলছি, আমি কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি এই মাদ্রাসায় কোরআন পড়াচ্ছি ২০০৭ সাল থেকে।  


তিনি বলেন, সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। এরপর একটা স্টাপলার নিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এতে অনেক রক্ত ঝরেছে। যৌন হয়রানির বিষয়ে যে শিশুটিকে নিয়ে কথা হচ্ছে সেই শিশুটি ক্লাস ওয়ানে পড়ে। সে দুই-আড়াই বছর ধরে এখানে পড়ে। আমাদের এখানে তার বাবা কোনোদিন আসেনি। এই প্রতিষ্ঠানে শিশুটি ওই ওস্তাদের কাছে ছোট থেকে পড়ছে। ওর মতো এ রকম ২০-২৫ জন শিশুটি এখানে পড়ে। 


ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে তিনি বলেন, শিশুটির ওই অভিভাবক ফোন দিয়েছিলেন ভাইস প্রিন্সিপালকে। তিনি অসুস্থ, ঢাকার বাইরে আছেন। 

সব বাচ্চা নাকি ভালো রেজাল্ট করেছে। এজন্য বাচ্চাটাকে ওই শিক্ষক বলেছেন, তোমাকে পাপ্পি দেব। সব বাচ্চাদের বলেছে, চকলেটও দিয়েছে। বলেছেন, ‘তোমাদের পাপ্পি দেব, তোমরা ভালো রেজাল্ট করবা। আমি তোমাদের অনেক বেশি আদর করবো।’ কথাটা ছিল এ রকম। 


পরে শিশুটির মা ভাইস প্রিন্সিপালকে ফোন দিয়ে বলেছেন, ‘স্যার পাপ্পি দেওয়ার দরকার নাই। এমনি আদর করুক, ঠিক আছে।’ 


ওই ফোনের পর ভাইস প্রিন্সিপাল অভিযুক্ত শিক্ষককে ফোন দিয়ে বলেছেন যে, ‘আপনি কি এ রকম কথা বলেছেন?’ তখন ওই শিক্ষক বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি তো সবাইকে বলেছি। আমি তো দিইনি কাউকে। বলেছি, তোমাদের আমি পাপ্পি দেব।’ 


তখন ভাইস প্রিন্সিপাল শিক্ষককে বলেছেন, ‘যেহেতু একজন অভিভাবক বলেছেন এটা নিয়ে। আপনি ২৫ জনকে বলেছেন। তার মধ্যে একজন যেহেতু এটাকে অন্যভাবে দেখেছেন, আপনি এটা করবেন না।’ 


আমাকে না জানিয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল বিষয়টি এভাবে সমাধান করেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ওই অভিভাবক পরবর্তীতে কি করেছেন? এখন প্রশ্ন হলো- ‘শিশুটি যদি এখানে কোনোভাবে হেজিটেশনে পড়তো অথবা যদি কোনো কারণে সে এটাকে ব্যাড-টাচ মনে করতো তাহলে অভিভাবক তো বাচ্চাকে পরদিন মাদ্রাসায় পাঠাতেন না। পরের দিন ওনার মেয়েকে তো পাঠিয়েছেন মাদ্রাসায়। এখন আমার প্রশ্ন জাতির কাছে, আমার শিক্ষক যদি খারাপ হয় তাহলে অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাকে আর পাঠাতেন না, যে এই মাদ্রাসায় আমি দেব না আমার বাচ্চাকে ব্যাট-টাচ করেছে বা চুমু দিয়েছি। কিন্তু উনি পরের দিন পাঠিয়েছেন। এটা আমাদের সিসিটিভি ফুটেজে আছে।’


তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যেহেতু শিশুটি এসেছে তাহলে এখানে কোনো সমস্যা নেই। যেদিন ঘটনা ঘটেছে তার পরের দিন সেই শিশু আসছে। তার পরের দিনও এসেছে। সিসিটিভিতে শিশুটি খেলতেছে, ওস্তাদ পড়াচ্ছে, খুব আনন্দ করতেছে এখানে সিসিটিভিতে দেখাচ্ছে।’


প্রিন্সিপাল বলেন, ‘তিন-দিন, চার দিনের মাথায় ওই লোকটা (শিশুর বাবা) হঠাৎ করে গাড়ি নিয়ে কিছু লোকসহ যারা এই এলাকার না, আমরা চিনি না তাদের। আর উনাকেও আমরা চিনি না ঠিক। উনি কখনো আসেননি মাদ্রাসায়। ভর্তির সময় তার নানা আসতো, আর তার মেয়ে আসতো। উনি এসেই এখানে সবাইকে জিম্মি করে ফেলেছে। আমাদের কিছু টিচার এখানে ছিল, তাদেরকেও জিম্মি করে ফেললো।’ 


আলমাস হোসাইনের দাবি, ‘লোকজন হঠাৎ করে ঢুকে মানে একটা মব সৃষ্টি করে তারা আমার রুমে ঢুকে গেল। আমাকে খুব অকথ্য ভাষায় বলে, ওই শিক্ষককে নিয়ে আসো। আমি বলছি, ভাই আপনি কে? আমি তো আপনাকে চিনি না। বলে, আমাকে চিনবি তুই এখন। এইটা বলে এখানে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেললো।’ 


তিনি বলেন, ‘একটা ম্যাডাম এখানে ছিল তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এখানে টাকা-পয়সা ছিল। আমাদের জমি কেনার টাকা ছিল। মাদ্রাসার নামে একটা জমি কেনার কথা হচ্ছিল। এজন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছি। সেটার আমাদের স্টেটমেন্ট আছে। সেই টাকা-পয়সা এখানে ছিল। এগুলো সবকিছু তছনছ করে ১৭ লাখ টাকা নিয়েছে।’ 


তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘পরবর্তীতে ওই শিক্ষক আসার পরে তাকে শুধু জিজ্ঞেস করেছে। শিক্ষক বলেছেন যে, হ্যাঁ, আমি চুমু দিতে চেয়েছিলাম। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে মারধর করেছে। এলাকার মানুষ যেই এসেছে তাদেরকে ধমক দিয়ে স্টপ করে দিয়েছে। কাউকে কথা বলতে দেয়নি। পরে আমরা কোনো রকমে ওই শিক্ষককে মেডিকেলে পাঠিয়েছি।’ 



তিনি আরও দাবি করে বলেন, ‘এর মধ্যে আমরা একটা খবর পেয়েছি, এখানে চার-পাঁচ জন ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। তাদের ফেসবুক আইডিতে ঢুকে আমাকে অনেকে ছবি পাঠিয়েছে। 




বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব করতে নয়: শিশুটির বাবা

যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।


শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শিশুটির বাবা। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।


সংবাদ সম্মেলনে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’


মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব।’


১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানান এই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’


ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।


শিশুটির বাবা বলেন, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বীনি শিক্ষার জন্যই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেখানে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’


এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ওই অভিভাবক। তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তাঁর কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’


নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’


টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে উল্লেখ করে এই অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’


এদিকে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দিয়েছে।


এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৭ পিএম

কুমিল্লার চান্দিনায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ইউছুফ (৬০) নামে স্থানীয় এক চা দোকানির বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ইউছুফ উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে— গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বামনীখোলা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, আমার মেয়ে দুপুরে আমার বাড়ির উঠানে খেলাধুলা করছিল। অভিযুক্ত ইউছুফ আমার প্রতিবেশী।

এ সময় তিনি আমার মেয়েকে ডেকে তার দোকানে নিয়ে যায়। বন্ধ দোকানে আমার মেয়ের সঙ্গে জোর করে অনৈতিক কাজ করার সময় চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা এসে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত ইউছুফ দোকানের দরজা খুলে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী শারমিন আক্তার বলেন, আমি আমার ভাতিজিকে খুঁজতে খুঁজতে দোকানের দিকে গেলে সেখানে শিশুটির চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। এ সময় অভিযুক্ত ইউছুফকে দোকান থেকে পালিয়ে যেতে দেখি। পরে বাড়ির সবাইকে ঘটনা জানাই। স্থানীয় নিলুফা বেগম বলেন, ইউছুফ এর আগে আরও ২/৩ জন শিশুর সঙ্গেও এমন করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

স্থানীয় রেজাউল আলম সোহেল বলেন, আমরা ঘটনার দিন বিকালে দোকানের কাছে এসে ঘটনাটি জেনেছি। পরে অভিযুক্ত ইউছুফের বাড়িতে গিয়ে শুনি তিনি অসুস্থ। কিছুক্ষণ পর তার ছেলে-মেয়েরা অসুস্থ দাবি করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত ইউছুফের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রাও তাকে খুঁজে পায়নি।

এ ঘটনায় চান্দিনা থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় ২২ অক্টোবর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সি শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিবাদ চলছে। ঘটনার দিন মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা বাড়ি ফিরে মাকে জানিয়েছিল শিশুটি। এবার সেই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন শিশুটির মা মালিহা।


একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ওই সময় দর্শকের অনুরোধে সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে স্ত্রীকে ফোন করেন তিনি। ফোনে মালিহা মেয়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।


মালিহা জানান, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ৮টায় মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠান তিনি। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সাধারণ ক্লাসের পর সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশেষ আরবি ক্লাস হয়। ওই ক্লাস নিতেন অভিযুক্ত শিক্ষক। ছুটির পর মেয়ে বাড়িতে ফিরলে তার মন খারাপ ও ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থা দেখে বিষয়টি জানতে চান তিনি।


ফোনে মালিহা বলেন, ‘১৯ তারিখ সোমবার আমার মেয়েকে সকাল ৮টায় মাদ্রাসায় পাঠাই। ওদের ক্লাস সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হয়। সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত স্পেশাল আরবি ক্লাস হয়, যেটা ওই স্যার নেন। ছুটি হওয়ার পর মেয়ে যখন বাসায় আসে, আমি খেয়াল করি তার মনটা খারাপ। একটু কান্না কান্না ভাব আর একটু ভয় নিয়ে আছে।


আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম, মা, তুমি এরকম ভয় পেয়ে আছো কেন? কী হয়েছে, আমাকে খুলে বলো। আমাকে বলতে চাচ্ছিল না। শুধু ভয় পেয়ে বলছিল, আম্মু, আমি বললে স্যার আমাকে মারবে। স্যার আমাকে মেরে ফেলবে।’


মালিহা জানান, পরে মেয়েকে বুঝিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ জানায়।


তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আবার বলি, আমাকে একটু খুলে বলো। পরে বলছে, স্যার আমাকে আদর করছে। কী আদর করছে, মানে কেমন আদর—সে আমাকে বলছে, ব্যাড টাচ।


আম্মু, আমাকে স্যার ব্যাড টাচ করেছে। ব্যাড টাচ মানে কোথায় কোথায় তোমাকে ব্যাড টাচ করেছে? তো সে আমাকে বলল, আম্মু, আমাকে এই যে গালে, কপালে, ঠোঁটে—মানে বিভিন্ন জায়গায় পুরোটাই ব্যাড টাচ।’


ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, তা জানতে চাইলে মেয়ে মাদ্রাসার সিঁড়ির কথা জানায় বলে দাবি করেন মালিহা। তিনি বলেন, ‘আমি বললাম, এটা কোথায় হয়েছে? ওই মাদ্রাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, রুমের ভেতরে। এটা তো করা সম্ভব ছিল না।’


শিশুটি তাকে জানিয়েছিল, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। মালিহার ভাষ্য, ‘আম্মু, স্যার আমাকে বলছে, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নাই। আমার যখন ক্লাস শেষে সবাই বের হয়ে যাচ্ছিলাম, ছুটির পর যখন তারা ওপর থেকে নেমে আসে, তখন স্যার ওর হাতটা টেনে ধরে সিঁড়ির মধ্যে এগুলো করে।’


শিশুটি আরও জানিয়েছিল, বিষয়টি কাউকে না বলতে তাকে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে মালিহা বলেন, ‘স্যার তাকে নিজেই বলে, দেখো, তুমি যদি এই কথাটা বাসায় গিয়ে বললেও কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ সিঁড়িতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নাই। তোমার গার্ডিয়ানদের জানালে আমি কিন্তু তোমাকে মেরে ফেলব। তুমি এই কথা কাউকে বলতে পারবা না।’


মালিহা জানান, মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর মাদ্রাসার লুনা নামের এক শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানান তিনি। তার অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা ঘটনাটি প্রথমবার ঘটেছে উল্লেখ করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। তবে মা হিসেবে তিনি এতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।


এ বিষয়ে মালিহা বলেন, ‘মেয়ে থেকে এই ঘটনা জানার পর আমি মাদ্রাসারই একজন ম্যাডামকে জানাই এই বিষয়টা। উনার নাম হচ্ছে লুনা ম্যাডাম। ওনাকে জানানোর পর উনি আমাকে বললেন, দেখেন, এটা তো প্রথমবার ছিল, আমরা স্যারকে আরেকটা সুযোগ দিই। আমি মা হিসেবে ওনার এই কথায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি।’


এরপর মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকে ফোন করে অভিযোগের কথা জানান বলে দাবি করেন মালিহা। তিনি বলেন, ‘পরে আমি সাথে সাথে ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকে ফোন দিই। তখন কিন্তু তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না। তিনি নাকি ছুটিতে ছিলেন। তো ওনাকে আমি জানাই যে আমার মেয়ের সঙ্গে এরকম এরকম হয়েছে। স্যার এরকম ব্যাড টাচ করেছে। তো উনি বললেন, আমরা তাৎক্ষণিক পরের দিনই, ২০ তারিখেই, সিঁড়িতেও সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে দেব এবং সর্বক্ষণই একজন মহিলা শিক্ষক নিয়োজিত থাকবে। যখন একজন পুরুষ শিক্ষক ক্লাস নেবে, তখন পাশাপাশি একজন মহিলা শিক্ষকও থাকবে। ওনার কথায় আমি আশ্বস্ত হয়ে ২০ তারিখে আমার মেয়েকে মাদ্রাসায় পাঠাই।’


তবে পরদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাস নেন এবং মেয়ের কাছ থেকে বাসার নম্বর জানতে চান বলে অভিযোগ করেন মালিহা।


তিনি বলেন, ‘পাঠানোর পরে সেই দিনও ওই স্যার ক্লাস করে এবং আমার মেয়েকে বলে যে, তোমাকে আমার পছন্দ। তোমাদের বাসার নম্বর কত? মানে আমার মেয়ের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে বাসার নম্বর জেনে নিয়েছে।’


মালিহার অভিযোগ, সেদিন মেয়ে বাড়িতে ফেরার পরপরই ওই শিক্ষক তাদের বাসায় যান। তখন তিনি সন্তানদের নিয়ে একা ছিলেন।


তিনি বলেন, ‘মেয়ে বাসায় আসার পরপরই উনি আমাদের বাসায় চলে এসেছেন। আর তখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে বাসায় একা ছিলাম। কোনো পুরুষ মানুষ বাসায় নাই। উনি আমার বাসার সামনে এসে বারবার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন। বলছেন—আপনার বাসার দরজা খুলেন, আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে।’


ওই সময় শিক্ষককে শিশুটির বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন বলে জানান মালিহা। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু বলেছি, আপনার সঙ্গে আমি কোনো কথা বলতে পারব না। বাচ্চার বাবা কথা বলবে এই বিষয়ে আপনার সঙ্গে। তারপরেই আমি বাচ্চার বাবাকে জানাই ঘটনাটা।’


ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে মালিহা বলেন, ‘উনারা সবাই আমার বাচ্চার সঙ্গে অন্যায় করেছে, এখন উনারা অস্বীকার করেছে। আমি আমার ছোট বাচ্চা মেয়েটার প্রতি হওয়া অন্যায়ের জন্য বিচার চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই।’


গত ২১ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।


শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি তাকে চড় মারেন। পরে উপস্থিত জনতাও ওই শিক্ষককে মারধর করেন।


খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।


অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


 টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১১ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালতে শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। 


শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে নিপীড়নের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।


ঘটনায় গ্রেফতার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ ঘিরে শিশুটির পরিবার এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পালটাপালটি অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।


পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলতে চায়নি। পরে মা-বাবাকে ঘটনার কথা জানায়।


শিশুটির বাবার করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠায় পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালতের পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, বিচারক শিশুটির বক্তব্য শুনে তা জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।


শিশুটির মা মালিহা আক্তারের দাবি, মাদ্রাসা থেকে ফেরার পর মেয়েকে ভীত ও মনমরা দেখাচ্ছিল। কী হয়েছে জানতে চাইলে সে প্রথমে বলতে ভয় পায়। শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে মারধর করা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও শিশুটি মাকে বলেছিল বলে জানান তিনি।


সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সরাসরি সম্প্রচারের সময় স্ত্রীকে ফোন করেন। তখন মালিহা মেয়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিবরণ দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি শিক্ষকের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ জানায় এবং ঘটনাস্থল হিসেবে মাদ্রাসার সিঁড়ির কথা বলে।


মালিহার অভিযোগ, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই জানিয়ে শিক্ষক শিশুটিকে বিষয়টি কাউকে না বলতে ভয় দেখিয়েছিলেন। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর তিনি মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা লুনাকে বিষয়টি জানান। ওই শিক্ষিকা ‘অভিযুক্ত’ শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকেও বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন মালিহা।


তার ভাষ্য, পরদিন সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুরুষ শিক্ষকের ক্লাশের সময় একজন নারী শিক্ষককে উপস্থিত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে মেয়েকে আবার মাদ্রাসায় পাঠান তিনি। কিন্তু সেদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাশ নেন এবং শিশুটির কাছে বাসার ঠিকানা জানতে চান বলে অভিযোগ করেন মালিহা। তার দাবি, সেদিন বাড়ি ফেরার পর ওই শিক্ষক তাদের বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন এবং কথা বলতে চান। পরে তিনি বিষয়টি স্বামীকে জানান।


গত বুধবার শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।


মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জন মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্য শিক্ষক, শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন অধ্যক্ষ। এসব ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।


তবে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তাও দাবি করেছেন তিনি।


  মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন শিশুটির মা

সর্বশেষ সব খবর

সেনবাগ থানা।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে নিজ বসতঘর থেকে মো.হানিফ ওরফে সুমন (৪০) নামে এক মুদি দোকানির অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের আলাবক্স বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা জানাজানি হয়।


নিহত সুমন ওই এলাকার আলাবক্স বেপারী বাড়ির মৃত তফাজ্জল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় ফকিরহাট বাজারে মুদি দোকানদার ছিলেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে সুমনের দোকান বন্ধ ছিল। পরে দোকানের কর্মচারী জাহিদুল হক শাহীন মালিকের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান। সেখানে বসতঘরের ভেতরে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। সুমনের স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে গত সাত থেকে আট মাস আগে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে সুমন বাজারের হোটেলে খাবার খেতেন।


সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রউফ বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে দুদিন আগে ওই ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যায়নি।  

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন  ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কতৃক পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ী ভাংচুরের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা কর্মিরা। 


আজ শনিবার বিকাল ৩ টার দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন  ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মিরা সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ী ভাংচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশের এস আই ফুল মিয়াসহ দুই সদস্য আহত হয়।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ  ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা কর্মিরা ১ ঘন্টার মধ্যে বিকেল ৪ টার দিকে  ঘটনা স্থলে গিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।




ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা কর্মিরা বিক্ষোভ মিছিলে বলেন, আপা,আপা, করিসনা, তোদের আপা আসবেনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে সর্তক করা হয়। 


উল্লেখ জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছেন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাট এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে চালানো এ হামলায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) দুজন আহত হয়। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। 


বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর খেয়াঘাটের চরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে পুলিশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন একদল লোক। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। 


ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, রঘুনাথপুর খেয়াঘাটের চরপাড়া এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় হঠাৎ মিছিল নিয়ে এসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে পুলিশের উপপরিদর্শক মো. ফুল মিয়াসহ দুজন আহত হন। 


তিনি আরও জানান, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর