• প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

ঢাকার সাভারে নাকের পলিপাস ও টনসিলের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইলে অবস্থিত ‘আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম আব্রাহাম (১১)। সে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার দুবাইপ্রবাসী আব্দুল আলীমের ছেলে।


নিহত শিশুর মা কনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। কোনো পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই চিকিৎসকের চরম অবহেলায় এই অস্ত্রোপচার করা হয়। আমি আমার সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আব্রাহামের নাকে পলিপাস ও টনসিলের জটিলতা দেখা দিলে কয়েক দিন আগে তাকে আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসক মো. সুমন হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তখন দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে ইসিজি ও ইকো পরীক্ষা করাতে বলেন। মঙ্গলবার ওই হাসপাতালে ইসিজি করা হলেও চিকিৎসক না থাকায় ইকো পরীক্ষা করানো সম্ভব হয়নি। বাইরে থেকে ইকো করিয়ে আনার কথা বললেও ডা. সুমন হোসেন জানান, ইসিজি ভালো থাকায় ইকোর আর প্রয়োজন নেই।


কনা আক্তার জানান, চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে সরাসরি অস্ত্রোপচারকক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর অস্ত্রোপচারকক্ষের সামনে চিকিৎসক ও নার্সদের অস্বাভাবিক দৌড়াদৌড়ি দেখতে পান স্বজনেরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়েছে এবং তাকে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করতে হবে।


পরবর্তীতে হাসপাতালের লোকজনের পরামর্শে দুপুর দুইটার দিকে আব্রাহামকে দ্রুত সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর মেডিকেল অফিসার আব্দুল আহাদ জানান, শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার কোনো হৃদস্পন্দন ছিল না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়। মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে শিশুটিকে অজ্ঞান করার ওষুধ প্রয়োগের পরপরই তার শারীরিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজনেরা আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত চিকিৎসক সুমন হোসেন, হাসপাতালের মালিক মো. আব্বাস উদ্দিনসহ অন্য চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা হাসপাতাল ফেলে পালিয়ে যান। তাদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।


হাসপাতালটি কর্মীশূন্য হয়ে পড়ায় সেখানে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অস্ত্রোপচার হওয়া এক রোগী জানান, দুপুরের ঘটনার পর থেকে কোনো ডাক্তার বা নার্স হাসপাতালে নেই, ফলে তারা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন। দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী জানান, ঘটনার পরপরই রোগী ও স্টাফরা চলে গেছেন, বর্তমানে মাত্র দু-তিনজন রোগী অবস্থান করছেন।


সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ফজলে বারী জানান, আব্বাস স্পেশালাইজড হাসপাতালের ওটিতে এক শিশুর মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী জানান, শিশুটির মরদেহের সুরতহাল করার সময় শরীরে কোনো কাটাছেঁড়ার চিহ্ন মেলেনি, তবে নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অজ্ঞান করার পরপরই শিশুটির মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।





উত্তাল সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ এএম

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের রামু পেঁচারদ্বীপ পয়েন্টে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে ডুবে গিয়ে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সবার পরিচয় পাওয়া গেছে।


এ ঘটনায় আরও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতরা হলেন- ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুকাররম হোসেনের ছেলে রোহান (২৩), শহীদুল ইসলাম (২৩) ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. আকাশ (২১)। নিখোঁজরা হলেন- চট্টগ্রামের বায়েজিদ শার্সা এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০) ও অন্যজন হলেন ঢাকার আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা নাফিসুল হক নিবিড় (২২)।


রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন রেজুখাল পেয়ে খাল ও সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যায়। বিকেল পেরোলে সাগরে জোয়ার শুরু হলে পানি বেড়ে চরটি ডুবতে শুরু করে। কিন্তু পর্যটক দলের সদস্যরা সে বিষয়টি খেয়াল করেননি। এক পর্যায়ে চরটি পানিতে ডুবে গেলে তলিয়ে যান দুই দলের পর্যটকরা।


তিনি আরও বলেন, স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটকদের তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এরপর ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং নিখোঁজ হন দুজন। জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- চট্টগ্রাম বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান, একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী ও বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে কক্সবাজারে পৌঁছে আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপে একটি রিসোর্টে ওঠেন। সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাগরে নামেন এবং রেজুখাল পেরিয়ে ওই চরে চলে যান। একইভাবে অন্য একটি পর্যটক দলের সদস্যরা আমাদের মতো খাল পেরিয়ে চরে চলে যান। পরে এ ঘটনা ঘটে।


রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান রাত সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, মরদেহগুলো হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। অন্যদিকে নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চলছে।


রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ এএম

হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের কালীবাড়ী মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।


রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ যে অন্যায় করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে, তাদের আর বাংলাদেশে ফিরে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নাই। ৫ আগস্ট যে আওয়ামী লীগকে বিদায় জানিয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, সেই আওয়ামী লীগকে আর কখনোই এ দেশের জনগণ স্বাগত জানাতে পারে না।


তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশে ফিরবে না।


এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হামিদুল ইসলাম, ইলিয়াস রহমান মিঠু, ইসরাইল হোসেন জীবনসহ প্রমুখ।


সিলেটে সিএনজি চালক হত্যাঃ বাবা ও চার ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৫

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ পিএম

সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালক শাহাব উদ্দিন হত্যা মামলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কানাইঘাট উপজেলার ২ নম্বর লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মজন আলী ও তার চার ছেলে ইয়াহইয়া, জাকারিয়া, শাহরিয়ার ও কিবরিয়া।


পুলিশ জানায়, বুধবার নিহত শাহাব উদ্দিনের ভাই এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় হত্যা মামলাটি করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।


কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক পাঁচজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে গাড়িতে যাত্রী ওঠানোর সিরিয়াল নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রায় এক মাস আগে একটি বিষয় নিয়ে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ হয়। বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের আগেই তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।


এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে কানাইঘাট উপজেলার সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে শাহাব উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সকাল ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শাহাব উদ্দিন (৩০) ওই গ্রামের মৃত মতরিস আলীর পুত্র।


হিমছড়ি সৈকতে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও দুজন। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ি মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে এ ঘটনা ঘটে। 


ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড ও বিচকর্মীরা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও নিখোঁজ দুজনের সন্ধান পাননি।


পুলিশ ও লাইফগার্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসা ১২ জনের একটি দল হিমছড়ি সৈকতে বেড়াতে যায়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় বড় ঢেউয়ের ধাক্কায় পাঁচজনই পানিতে তলিয়ে যান। পরে লাইফগার্ডকর্মী ও স্থানীয় লোকজন তাঁদের মধ্যে তিনজনকে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তাঁদের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ অপর দুজনকে উদ্ধারে তল্লাশি চলছে।


নিহত তিন পর্যটক হলেন ঢাকা উত্তরার দিয়াবাড়ির মো. বোরহান (২৩), সাইফুল ইসলাম (২৩) ও নাফিসুল হক (২২)। তিনজনের মরদেহ রাতে হিমছড়ি থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে আনা হয়েছে।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে ফজলুল হক। তিনি বলেন, নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।


বেসরকারি লাইফগার্ড প্রতিষ্ঠান সি-সেফের আঞ্চলিক পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ১২ জনের দলটি আজ বিকেল চারটার দিকে শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে হিমছড়ির মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরসংলগ্ন সৈকতে যায়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সাগরে গোসল করতে নামেন। ঢেউয়ের ধাক্কায় তাঁরা পানিতে তলিয়ে গেলে লাইফগার্ড ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। তিনজনকে উদ্ধার করা হলেও তাঁদের মৃত্যু হয়।


ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় গোসলে নেমে কেউ নিখোঁজ হলে উদ্ধারের জন্য সি-সেফের ২৭ জন লাইফগার্ডকর্মী রয়েছেন। কিন্তু কলাতলী থেকে দক্ষিণে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, পাটুয়ারটেক, ইনানী হয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সৈকতে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো পর্যাপ্ত কর্মী নেই।


ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, কক্সবাজারে এখন তিন লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। আজ বিকেলে লাবণী পয়েন্টে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষের ভিড় দেখে অনেকে গোসল করতে দরিয়ানগর ও হিমছড়ি সৈকতের দিকে ছুটছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।


ইমতিয়াজ আহমেদের ভাষ্য, হিমছড়ি-দরিয়ানগরসহ কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে বর্তমানে অন্তত ২০টি গুপ্তখালের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসলে নামতে নিষেধ করে একাধিক স্থানে লাল নিশানা ওড়ানো হলেও অনেকে তা মানছেন না।


কক্সবাজারে বর্তমানে তিন লাখের বেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। পাঁচ শতাধিক হোটেল, গেস্টহাউস, রিসোর্ট ও কটেজের কোনো কক্ষ খালি নেই বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে সাগরে ভেসে গিয়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাউখালীর রেহনুমা কামাল

পাবলিক স্পিকিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয়; টানা দুই বছর SAFA-ICAB প্রতিযোগিতায় সাফল্য


রেহনুমা কামাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

পাবলিক স্পিকিংয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে South Asian Federation of Accountants (SAFA)-ICAB Quiz, Public Speaking & Essay Competition 2026-এর পাবলিক স্পিকিং বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার রেহনুমা কামাল। গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে ১৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে কৃতিত্বপূর্ণ এই অবস্থান অর্জন করেন তিনি। এর ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী প্রতিযোগীদের একজন হিসেবে নেপালে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় Institute of Chartered Accountants of Bangladesh (ICAB)-এর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন রেহনুমা।


এর আগে ২০২৫ সালের একই প্রতিযোগিতায় পাবলিক স্পিকিং বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত SAFA পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও ICAB-এর প্রতিনিধিত্ব করেন রেহনুমা। একই প্রতিযোগিতায় পরপর দুই বছর জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় সাফল্য তাঁর বক্তৃতাদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের পরিচয় বহন করে।


রেহনুমা কামালের শিক্ষাজীবনও সাফল্যে সমৃদ্ধ। PSC ও JSC পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ উভয়টিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিসহ ইজিএস শিক্ষা নিকেতন  থেকে এস এস সি পরিক্ষায় ২০২০খ্রি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তিসহ উপজেলায় প্রথম স্থান এবং এইচ এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুলজীবন থেকেই বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে নিজের বাগ্মিতা, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনা দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।


বর্তমানে রেহনুমা কামাল MMSC Chartered Accountants-এ আর্টিকেলশিপ করছেন। 


২০২৫ DRC Inter-Firm Debate Competition-এ অংশ নেন রেহনুমা। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপন, নিজের মতামত সুসংগঠিতভাবে প্রকাশ এবং অন্যের বক্তব্য বিশ্লেষণের সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়তা করে।


রেহনুমার প্রিন্সিপাল চান, তিনি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দ্রুত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করুন। পেশাগত শিক্ষা ও ব্যক্তিগত দক্ষতা বিকাশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রতি প্রত্যাশা, ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান এবং ২০২৬ সালে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে রেহনুমার সামনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। নেপালে অনুষ্ঠিতব্য SAFA-ICAB প্রতিযোগিতায় ICAB-এর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ তাঁর অর্জনের ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন।


রেহনুমা কামালের সাফল্য পেশাগত শিক্ষার পাশাপাশি বক্তৃতা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরে। শিক্ষাজীবনে বৃত্তি অর্জন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সির পেশাগত প্রস্তুতি- সব মিলিয়ে তাঁর পথচলা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।


কাউখালী উপজেলার এই কৃতী তরুণীর অর্জনে স্থানীয় পর্যায়েও আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন- এমন প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪১ পিএম

রংপুরে চুরি যাওয়া ৮টি মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলো, মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য শাহিন মিয়া, শিমুল মণ্ডল, মিলন মিয়া, হাসান মিয়া, রাশেদ প্রধান ও  রাসেল মিয়া। 


আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান, গত ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় রংপুর নগরীর আলহাজ নগর দর্শনা এলাকার আব্দুল ওহাবের বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম রব্বানী তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 


মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে তাজহাট থানা পুলিশ রংপুর নগরীরসহ পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর উপজেলা ও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৫ জনকে গ্রেফতার করে এবং বাদীর চুরি যাওয়া মোটরসাইকেলসহ মোট পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রেফতারকৃতদের তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 


তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল মিয়া নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও তিনটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।


তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার রাসেল মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।