• প্রকাশ : শনিবার ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:০৮ এএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট, শ্লীলতাহানী, চুরি ও হুমকি প্রদানের ঘটনায় জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে আওড়াখালী বাজারে সার ও বীজ ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির এর বিরুদ্ধে থানায় মামলা।

 

ভূক্তভোগী ও থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নাধীন বেরুয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ দিন যাবৎ সৌদী আরবে চাকুরীরত। তার স্ত্রী তিন সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে বসবাস করেন। 


এই সুবাধে উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে আওড়াখালী বাজারে সার ও বীজ ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরিচিত হন এবং সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সুযোগে মো. হুমায়ুন কবির তার পরিবারের সমস্যার কথা বলে প্রবাসীর স্ত্রীর নিকট হতে বিভিন্ন সময় টাকা ধার নেয়। 


প্রবাসীর স্ত্রী গত ২ জানুয়ারী ২০২৬ইং সন্ধ্যা ৬টার দিকে আওড়াখালী বাজারস্থ মো. হুমায়ুন কবিরের সার ও বীজের দোকানে গিয়ে ধারের টাকা ফেরত চাইলে মো. হুমায়ুন কবির তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। এক পর্যায়ে তার দোকানে থাকা লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন এবং গলা চাপিয়া ধরিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। 


এ সময় তার গলায় থাকা স্বর্নের চেইন নিয়ে যায়। প্রবাসীর স্ত্রী কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এ বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় ২৪(১)২৬ নং মামলা দায়ের করেন।


এ বিষয়ে প্রবাসীর স্ত্রী জানান, উপজেলার জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানি গ্রামের আওড়াখালী বাজারে সার ও বীজ ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির আমার পূর্ব পরিচিত। তার পরিবারের সমস্যার কথা বলে বিভিন্ন সময় আমার নিকট থেকে টাকা ধার নেয়। আমার টাকার বিশেষ প্রয়োজন হলে তার দোকানে গিয়ে টাকা চাই। 


তখন সে আমাকে গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে দোকানে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। আমার গলায় একটি স্বর্ণের চেইন ছিল তা নিয়ে যায়। পরে আমি কালীগঞ্জ সরকারী হাসপাতালে গেলে ডাক্তার আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসা শেষে কালীগঞ্জ থানায় ২৪(১)২৬ নং মামলা দায়ের করি। 


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে সাধারণ জখম করা, শ্লীলতাহানী, চুরি ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামের মৃত সামসুল হকের ছেলে আওড়াখালী বাজারে সার ও বীজ ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন কবির এর বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ২৪(১)২৬ নং মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।


আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’


চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।


২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। এতে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারসহ (এএসপি) অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।   


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টায় টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


এ ঘটনায় এএসপিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


খবর পেয়ে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), সরাইল থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে।


এদিকে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইকযোগে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারাও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।


রাত ১০টার দিকে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেন।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।


সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমাদের সার্কেল স্যার আহত হয়েছেন। তিনি পায়ে ইটের আঘাত পেয়েছেন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ মজিদের সঙ্গে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদ। এ সময় পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এ রহমান মুকুল, সাব্বির হোসেন , সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদসহ জেলায় কর্মরত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।


পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকরা তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেলা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও গতিশীল করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন তারা।


সাংবাদিকদের বক্তব্য ও মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন নবনিযুক্ত প্রশাসক এম এ মজিদ। তিনি পঞ্চগড়ের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।


এ সময় এম এ মজিদ বলেন, “জেলা পরিষদ সবার জন্য উন্মুক্ত। জেলার মানুষের কল্যাণে জেলা পরিষদকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করতে চাই। এ কাজে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”


তিনি আরও বলেন, জেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে জেলার সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে জেলা পরিষদে এসে তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর মো. মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মো. মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


পুলিশের দাবী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। নিহত মফিদুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রী। গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের প্রতিবেশী এবং পূর্বপরিচিত।


পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে মফিদুল ইসলাম বাড়ী থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ী ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির নম্বর ২৬৬। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিল।


এরই মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাসুদ মিয়ার বাড়ীর পূর্ব পাশে একটি সেচ পাম্পের টিনশেড ঘরের কাছে থাকা পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ভেতরে একটি মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।


সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহটি নিখোঁজ মফিদুল ইসলামের বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।


এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. লিটন মিয়া বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ মিয়া জানিয়েছেন—৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মফিদুল ইসলামের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে মফিদুলের মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করা হয় বলে তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।


এরপর মরদেহটি গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি এবং নিহত মফিদুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।


পুলিশের তথ্যমতে, পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার মাসুদ মিয়া বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে নিহতের সঙ্গে মাসুদের বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক যাচাই করা হচ্ছে।


নবাবগঞ্জ থানার এ হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করছে পুলিশ।

সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত

আ'লীগে সক্রিয় তবুও কৌঁসুলি (জি.পি) অসীম বহাল!


সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌঁসুলি (জিপি) এ‍্যাড. অসীম কুমার মন্ডল ও তার বিলাসবহুল অট্টালিকা। ছবিঃ নওরোজ॥

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ এএম

সাতক্ষীরায় সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি.) অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ ক্যাডার এবং পরবর্তীতে নাম লেখান খুলনা মহানগর আ'লীগের সদস্য ফরমেও, তবুও এখনো সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি) হয়ে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কিভাবে সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন তা নিয়ে বর্তমানে আদালত প্রাঙ্গণে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে। 


ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে উপরি মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অনেকেই। এমন একটি অভিযোগের কপি নওরোজ এর হাতে পৌঁছে।


অভিযোগে দেখা যায়, তিনি রাজনৈতিক পদ পদবী গোপন করে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ করে পকেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বর্তমানে তার রাজনৈতিক পরিচয় ফাঁস হওয়ায় তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান অভিযোগে।


লিখিত অভিযোগে আরোও উল্লেখ করা হয়, অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডল অতীতে ছাত্রলীগ এবং গত ০৮ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১১ সালেও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য ফরম পূরণ করেন।


একজন ফ্যাসিস্টের দোসর ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এখনো কিভাবে বহাল রয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় সেই অভিযোগে। 


এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে সরেজমিনে নওরোজ প্রতিনিধি পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় সাতক্ষীরা পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ড মুন্সীপাড়ায় এ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল কৌঁসুলি হওয়ার পর ৪ তলা বিশিষ্ট বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন। 


বাড়ীতে আশ্রয় দিতে দেখা গেছে আশাশুনি উপজেলার আ'লীগ নেতা ও বড়দল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও তার পালাতক পরিবারের সদস্যদেরকেও। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরে এমনকি গ্রামেও তিনি ইতিমধ্যেই ক্রয় করেছেন প্রায় (২৫-৩০) বিঘা জমি। তার এই হঠাৎ উত্থান নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী সহ সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গণে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কিছু হাইব্রিড বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছেন এবং একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে সাতক্ষীরা জেলার সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। 


কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর অসীম কুমার মণ্ডল সরকারের পক্ষে পরিচালিত বিভিন্ন মামলায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি করতে পারেননি বরং রাষ্ট্রকে ঠকিয়ে নিজের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। এমনকি সরকারি মামলায় আপস বা সোলে ডিক্রির কারণে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন একাধিক নিরপেক্ষ আইনজীবীরা।


এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট আকবর আলী জানান, অসীম কুমার মন্ডল একজন ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এবং তার তেমন কোন সহায় সম্পত্তি কিছুই ছিল না বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এই টাকার রহস্য উন্মোচন করা সহ তাকে দ্রুত অপসারণের জন্য উর্দ্ধতন নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান। 


এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নূরুল আমিন মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়টি ১০০% সত্য বলে স্বীকার করেন এবং তাঁর নিয়োগের প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিচয়ের অতীত, সরকারি মামলায় তাঁর ভূমিকা এবং রাষ্ট্রপক্ষের মামলার ফলাফল সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দ্রুত অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান। 


এ সকল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্তব্যরত কৌঁসুলি এ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল কে তার ব্যবহৃত মোবাইল +৮৮০  ১৭১২-৬৪৯১৮২ নাম্বারে ০৬:০৫ মিনিটে কল করলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সকল তথ্য প্রমাণ সহ অডিও এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। আগামী পর্বে তথ্যবহুল প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা হবে।


চলবে....


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ এএম

আটোয়ারী উপজেলা বিএনপি নেতা মতিয়ার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে দেখতে ইবনে সিনা হাসপাতালে ছুটে যান পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।


হাসপাতালে গিয়ে তিনি মতিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অসুস্থ মতিয়ার  দ্রুত সুস্থতা কামনা করে।