ড. আব্দুল মঈন খান।

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৪৪ এএম

নরসিংদী-২ পলাশ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলটির  স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সুচিন্তিত সভ্য শ্রেণীর আত্মবিশ্বাসী মানুষ। তারা অন্যের প্রতারণায়, মিথ্যার ছলচাতুরীর কথায় বিশ্বাস করে ভোট দিতে পারে না। অনেক সুন্দর, ভিন্ন ধরনের কথা আজকে অনেকে এসে আপনাদের কানে কানে বলবে। কিন্তু আপনাদের বুঝতে হবে, এসব মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোনদিন দেশ ঘটন করা যায় না। দেশ গঠন করার জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য পরীক্ষিত সৈনিক প্রয়োজন। সেই পরীক্ষিত সৈনিক বিএনপির ভিতরে আছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী  ছিলেন পরীক্ষিত সৈনিক। আমাদের বর্তমান নেতা তারেক রহমান হচ্ছেন পরীক্ষিত সৈনিক। 


তিনি শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি রাত ৯টায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামের নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন।


মঈন খান বলেন, বিএনপি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান চোখে দেখে।  সমান হিসেবে বিবেচনা করে। জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিএনপি কখনো কোন নাগরিকের মধ্যে প্রভেদ করি না। এই আদর্শের কথা মনে রেখে, যেই আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে সৃষ্টি হয়েছিল, যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেই বাংলাদেশকে আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে এদেশের দরিদ্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দেশ হিসেবে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর সেটা করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা গাফিলতি করলে কিন্তু ক্ষমা পাবেন না। এই দেশ এবং জাতি কিন্তু আপনাদের ক্ষমা করবেনা। তাই  আমার বিশ্বাস "১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ঘুম থেকে উঠে সচেতনভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আমরা সুশাসন, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট ও মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার কায়েম করবো। আপনারা যে ভোট বিগত ১৭ বছর দিতে পারেননি। আমরা যখন ভোট দিতে গিয়েছি তখন দিনের ভোট রাতে হয়েছে।  অথবা তারা জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ডাকাতি করে নিয়েছে। এবং মিথ্যাচারের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করে যারা পরাজিত ছিল তাদের তারা বিজয়ী ঘোষণা করে মিথ্যা সংসদ ও সরকার গঠন করে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু যারা এদেশকে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু তাদের ক্ষমা করে নাই। ২০২৪ সালে যখন জাগ্রত জনতা সেই স্বৈরাচার সরকারকে চিহ্নিত করে ফেলেছে তখন তারা কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন এ ধরনের অপকর্ম না হতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে এ দেশে সত্যিকার একটি দেশপ্রেমিক দলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনারা ইনশাআল্লাহ বিজয়ী করবেন। এই বিজয়ের পরে আমাদের দেশ পরিচালনা দায়িত্ব দিলে আমরা সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবো।


মঈন খান বলেন, আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি একদিন কষ্ট করে আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে, আপনাদের দোয়ায় মহান আল্লাহ তায়লা যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন,আমি পরবর্তী ৫ বছর আপনাদের জন্য কষ্ট করবো।


এসময় পলাশ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ইছাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাইফুল ইসলাম  সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, ইজি ফ্যাশনের চেয়ারম্যান আসাদ চৌধুরী, ডাংগা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।




  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একলাশপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৫), রাকিব (১৯), আব্দুল আলিম (১৯), মো. কামরুল ইসলাম (১৯), মো. জিহান (১৮), নিশান (১৮), মো. সিয়াম (১৮) ও জিসান (১৮)।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একলাশপুর ইউনিয়নের টার্ফের পাশের সড়ক দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরে তারা মহাসড়কে ওঠেন। মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিছিল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ান।


বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আসিফ আকবর । ছবি - সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫২ এএম

নিজের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার সময় শিল্পী গাড়িতে ছিলেন না। তিনি ওই ভবনে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় বা স্টুডিওতে অবস্থান করছিলেন। গাড়িটিও ছিল ফাঁকা। ফলে গুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গাড়ির পেছনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় এসে এক ব্যক্তি আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।

পরে একই অটোরিকশায় করে মালিবাগের দিকে চলে যান তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। কী কারণে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে


মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ এএম

সাভারের বিরুলিয়া কালিয়াকৈরের আলোচিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।


রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। পরিদশন শেষে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দাবি জানান সাজিদুর রহমান।


আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালকের বাসস্থানের আসবাবপত্র তছনছ করাসহ প্রতিষ্ঠানটির দরজা, জানালা, লাইট, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ওয়াশরুমের ঝরনা, কল এবং ইলেকট্রিক লাইনের সব তারসহ ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র আমরা দেখেছি। এতে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ।


আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আইনিপন্থা। এসময় বেফাক মহাসচিব ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা কোনো নিয়ম হতে পারে না। এ দেশে ইসলামী আইনের শাস্তি হয় না, আমরা দাবি করব এই ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হোক।’


কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত অথবা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ পরিচালক দম্পতির ব্যক্তিগত অর্থকড়ি ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের নিরপরাধ স্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক ‘মব কালচার’ ও মাদ্রাসার ওপর আঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে এক ধরনের ‘মব’ সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই মব কালচারের বিরুদ্ধে দেশের সব নাগরিককে সচেতন হতে হবে। মানুষের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষায় সরকারকেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’


তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে মানুষকে বিমুখ করার জন্য এটি কিছু চক্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভক্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। দেশি-বিদেশি খোদাদ্রোহী ও নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।


পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নাজমুল হাসান, ঢাকা জেলা উত্তরের উপদেষ্টা মাওলানা আশিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আলী আকবার কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম, মুফতী মাহফুজুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা আহমাদ আল হাবিব, মাওলানা আলী আকরাম প্রমুখ।


আটক তরুণী ও জামায়াত নেতার ছেলে। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ এএম

খুলনায় মেস থেকে তরুণীসহ মমতাজির বিল্লাহ (২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খালিশপুরের মুজগুন্নি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তাদের আটক করা হয়।

মমতাজির বিল্লাহ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম ফারুকের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার সুদর্শন রায় জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মেস থেকে দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কেএমপির উপকমিশনার। 


আটক নারী উদ্যাক্তা সাথী আক্তার।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ এএম

ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার ও দলটির নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে মন্তব্য করার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।


সাথী আক্তার ওই এলাকার ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক।


জানা গেছে, রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লাইভে সাথী জানান, তার দুটি শোরুম ও আশপাশের কয়েকটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক তার, এসির তার এবং বাসা থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। চুরির ঘটনায় ব্যবসার নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সাথী।


এ সময় ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা করে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার লাইভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাতে রাজনৈতিক কর্মী ও এলাকাবাসী তার পার্লারে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দিলে এবং পার্লারে ভাঙচুরের আশঙ্কায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায় পুলিশ।


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, পার্লারে হামলার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফেসবুক লাইভে সমালোচনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার থাকলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আইনজীবী শরিফুল আলম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম।


তিনি বলেছেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত।’


রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামির জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিন গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।


আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। মাদ্রাসায় প্রবেশ করে সেখানে অতর্কিত হামলা এবং মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হয়েছে।’ এই শিক্ষকের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে বসে কথা বলা যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু তা না করে সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে, বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। আমার আসামি যদি কোনো অন্যায়ও করে থাকেন, তাহলে তো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন লোক নিয়ে গিয়ে মব সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারেন না।’


শিশুকে চুম্বন দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিভাবকের কথা হচ্ছে, আমার বাচ্চাকে চুম্বন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চার বাবা-মা বলছেন, বিষয়টি তাদের বাচ্চা খারাপভাবে নিয়েছে।’


আইনজীবী শরিফুলের দাবি, ‘ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি, সেখানে চুমু দিতে চাওয়ার কথা এসেছে।’


অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘দেড়-দুই বছর আগেও এই বাচ্চা শিক্ষকের ঘাড়ে উঠে বসেছে, দাড়ি টেনেছে। ছোট বাচ্চা তো। মানে স্যারের সঙ্গে সে খুব ফ্রি। স্যার হয়তো বলেছেন, তুমি ভালো রেজাল্ট করেছ, তোমাকে আমি একটা চুমু দেব। অথবা তোমাদের প্রত্যেককে একটা সারপ্রাইজ দেব, তোমাদের আরও বেশি স্নেহ করব।’


মামলার বাদীপক্ষের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাদীপক্ষ আজকে অনেক দুর্বল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের পিটিশন দেওয়া হলেও তিনি দাঁড়াতে পারেননি। কাজেই সত্য-মিথ্যা আমরা বিজ্ঞ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করব। আমি মনে করি, আমার আসামি নির্দোষ। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং সেটা প্রমাণ করব।’


জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়ে শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি জামিন প্রার্থনা করেছি। আদালত স্বাভাবিকভাবেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং সেখানে জামিন প্রার্থনা করব।’