সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ২১ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:০৮ এএম

পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে মাস দেড়েক আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জামালপুর সদর উপজেলার মো. আরমান আলী (৩০)। ধারদেনা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে একটি এজেন্সির মাধ্যমে তিনি রাশিয়া যান। কথা ছিল কোনো কোম্পানির কিংবা নির্মাণশ্রমিকের কাজ পাবেন। কিন্তু দালাল তাঁকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রাণহানির শঙ্কা নিয়ে যুদ্ধশিবিরে দিন পার করছেন আরমান। ইতিমধ্যে যুদ্ধে আহতও হয়েছেন তিনি। এখন যুদ্ধশিবির থেকে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।


আরমান আলী জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের গোদাশিমলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। বাড়িতে পাঁচ মাস বয়সী এক সন্তান ও স্ত্রী আছে। গত ৭ মে আরমান রাশিয়ায় যান। এর পর থেকে তিনি রুশ সেনাবাহিনীর হেফাজতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করছেন।


গতকাল শুক্রবার বিকেলে আরমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। তাঁদের মুখে হাসি নেই। এখন শুধুই দুশ্চিন্তা। আরমানের যুদ্ধশিবিরে আটকা পড়ার খবরে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে ভিড় করছেন। সবার মধ্যে দীর্ঘশ্বাস। আরমানের পাঁচ মাস বয়সী শিশুটি দোলনায় দোল খাচ্ছিল। যুদ্ধশিবির থেকে তার বাবা ফিরতে পারবেন কি না, সে জানেও না।


টিনশেড ঘরের দরজায় বসে কাঁদছিলেন আরমানের মা রেখা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বিদেশে গিয়ে সংসারের অভাব দূর করতে চেয়েছিল আরমান। কিন্তু এখন প্রতিদিনই আমরা অপেক্ষা করি, ছেলের একটি ফোনকলের জন্য। কই আমার বাবার ফোন তো আসে না। আমার বাবাকে ফেরত চাই।’


পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রাশিয়ায় যাওয়ার পর আরমানের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ ছিল না। ২৬ মে হঠাৎ আরমান ফোন করে জানান, তাঁকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তের মাঝামাঝি কোনো একটা যুদ্ধশিবিরে আছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি বাঁচার আকুতি জানিয়ে দেশে ফিরতে সহযোগিতা চান। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা আর কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না।


কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পোশাক পরা অবস্থায় আরমানের কান্নাজড়িত একটি ভিডিও দেখতে পান স্বজনেরা। ভিডিওতে আরমানকে বলতে দেখা যায়, তিনিসহ ৩০ জন একসঙ্গে রাশিয়ায় যান। এজেন্সির লোকজন তাঁদের কোম্পানি অথবা কনস্ট্রাকশন সাইটে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু রাশিয়ায় নেওয়ার দুই দিনের মধ্যে তাঁদের রাশিয়ার দুই নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের যুদ্ধের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়।


ভিডিওতে আরমানকে বলতে শোনা যায়, ‘রুশ ক্যাম্পে আমাদের তিন থেকে চার দিনের ট্রেনিং দেয়। এরপর ৩০ জনের মধ্যে ১৪ জনকে একটি ক্যাম্পে এবং আমিসহ ১৬ জনকে অন্য একটি ক্যাম্পে পাঠায়। আমাদের মধ্য থেকে পাঁচ থেকে ছয়জনকে ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হয়। ফ্রন্টলাইনে মাটির নিচে গ্রেনেড থাকে, মাইন পোঁতা থাকে ও ওপরে ড্রোন থাকে। আমাদের ড্রোন দিয়ে কন্ট্রোল করা হয়। মাছের টোপের মতো আমাদের ব্যবহার করা হয়। ডাইনে যাইতে বললে ডাইনে যাইতে হয়, বামে যাইতে বললে বামে যাইতে হয়। এভাবে আমাদের ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছে। এখন চারজন জীবিত আছি। তবে ড্রোন হামলায় আমরা আহত। আমি বাম হাতে আহত হইছি। আমাদের দুজন এখনো হাসপাতালে আছে।’


ভিডিওর আরেকটি অংশে আরমান বলেন, ‘আমাদের এখন ক্যাম্পে রাখা হইছে। যেকোনো সময় ফ্রন্টলাইনে পাঠায় দিতে পারে। কখন পাঠাবে আমরা জানি না। আল্লাহ ভরসা, আল্লাহই ভালো জানে। আমরা তো ভাষা বুঝি না, কোনো কিছু বুঝি না, বুঝাইয়া বলতেও পারি না। আমাদের যখন যা বলে, তা–ই করতে হয়। ফ্রন্টলাইনে না যেতে চাইলেই আমাদের মারধর করা হয়। মাটির নিচে বাংকারে আটকায়া রাখে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার বাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চা আছে। আমরা তো এই জীবন চাই নাই। আমরা আসছিলাম শুধু ডাল-ভাত খাইয়া বাঁচার জন্য। আমাদের এভাবে বিক্রি করে দিছে। এখন কী করব বুঝতে পারতেছি না। আমাদের রক্ষা করুন, প্লিজ।’


আরমানের বাবা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, উন্নত জীবনের জন্য ছেলেটা প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিল। তাঁকে ভালো চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়ায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তিনি তাঁর ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চান।


আরমানের ছোট ভাই মো. সালমান বলেন, ‘আমার ভাই আগে কাজের জন্য ইরাকে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রায় চার বছর ছিলেন। তিন বছর আগে দেশে ফিরে আসেন। দুই বছর আগে বিয়ে করেন। ইরাক থেকে ফেরার পর দীর্ঘদিন কোনো কাজকর্ম ছিল না। সংসারের অভাব দূর করে ভালোভাবে বাঁচার আশায় আবার বিদেশে যান। গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়েছেন। এখন তাঁদের দিয়ে যুদ্ধ করানো হচ্ছে। আমরা জানি না ভাই এখন কোথায় আছে, কেমন আছে, আদৌ বেঁচে আছে কি না। কী করব, কার কাছে যাব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। আমরা শুধু চাই, আমার ভাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসুক।’




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর