• প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

তিস্তায় বন্যার পানি টান ধরলেও বেড়েছে জনদুর্ভোগ। নদীপাড়ের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি কমার সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ফের পানি বাড়বে-এমন উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ।

 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ছয়টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এই পয়েন্টে পানি প্রবাহ ১৩ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

 

এরআগে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

 

এদিকে, হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর রক্ষায় নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙনসহ কোলকোন্দ এবং লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বেশকিছু পরিবার পানিবন্দিসহ চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। তলিয়ে গেছে পাট, বাদাম ও আমনের বীজতলা।

 

চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন সর্বপ্রথম বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। যা পরদিনই বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। আবার ২৮ জুন রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে চলতে থাকে, ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 

গঙ্গাচড়ায় পানিবন্দি ৪ হাজার পরিবার

 তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে আবার কমছে। পানি বাড়া-কমার এ পরিস্থিতিতে  গঙ্গাচড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর কোলঘেষা অন্তত ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

 

উপজেলার কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, নোহালী, সদর, লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টির বেশি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে বাগডহরা, মিনারবাজার, আনন্দবাজার, বিনবিনা, চর মটুকপুর, চিলাখাল, বাগেরহাট, চর শংকরদহ, কাশিয়াবাড়ী, ইচলি ও চর ছালাপাকসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।

 

সেতু রক্ষা বাঁধের ১৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

গত বছর ভাঙনের পর স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং (স্পার) নির্মাণ করা হয়। যা কার্যকর না হওয়ায় সরকারের ১৪ লক্ষ টাকা গচ্ছা গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।  তাদের অভিযোগ, বাঁশের পাইলিং বসানোর ছয় মাসও হয়নি, চলতি বর্ষা মৌসুমের প্রথম ধাপেই পানির চাপ ও তীব্র স্রোতের মুখে বাঁশের পাইলিংয়ে ধসে গেছে ।

 

স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু, রংপুর–কাকিনা আঞ্চলিক সড়ক এবং আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়েছে।

 

চর শংকরদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, রাতারাতি পানি বাড়লো, ঘরবাড়ি ডুবে গেল। এখন পানি কিছুটা নামছে, কিন্তু নদী ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, বাড়িতে পানি উঠেছে। শিশু আর গবাদিপশু নিয়ে খুব কষ্টে আছি। এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি।

 

কোলকোন্দ এলাকার কৃষক সালাম উদ্দিন বলেন, দেড় একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও সংকটে আছি। ধান বীজতলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

একই অবস্থা কাউনিয়া উপজেলা তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে। সেখানকার পাঞ্চরভাঙ্গা গ্রামের আরমান বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। পানি বেশি হলে তো সমস্যা। স্ত্রী-সন্তান ও গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।

 

সেতুর সংযোগ সড়কে গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি

গঙ্গাচড়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মহিপুরে নির্মিত দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। কিন্তু বিগত সময়ের মতো এবারো বর্ষা মৌসুমে এই সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে। সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন।

 

জানা যায়, দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটি রংপুর-লালমনিরহাটের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের অন্যতম মাধ্যম। এই সেতুটি রংপুরের বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও তুষভাণ্ডার অতিক্রম করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করেছে। আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর উত্তরপ্রান্তে সংযোগ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস ও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে। এতে ভারি যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্যও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর  মিয়া বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই রাস্তার কয়েক জায়গা দেবে যেতে শুরু করে। এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এত মানুষ চলাচল করে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

 

পথচারী মাহমুদ মিয়া বলেন, সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কয়েক জায়গায় ধসে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ধসের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে । মেরামত কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

 

ভেঙে যাচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধ

উপজেলার বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে নদীর ওপারে তাকালেই দেখা যায় মাটির দীর্ঘ বাঁধ। তবে সরকারি কোনো প্রকল্প নয়, ঠিকাদারের নির্মাণও নয়। দিনমজুর, কৃষক, জেলে আর চরবাসীর শ্রমে গড়ে ওঠা এ বাঁধ তিন বছর ধরে পাঁচটি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। কিন্তু উজানের ঢল আর তিস্তার পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে এখন দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে ১২ হাজার পরিবারের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে উৎকণ্ঠা।

 

স্থানীয়রা বলছেন, তিন বছর আগে বন্যায় বাগডোহরা চরের নিচাপাড়ার তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায় তিস্তায়। সে সময় বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলেও নেয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেন বাঁধ নির্মাণের। চাঁদা তোলা হয় গ্রামের মানুষের কাছ থেকে। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ শ্রম। দিনের কাজ শেষে রাতভর মাটি কেটেছেন অনেকে।

 

বৈরাতি থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ। পরে উজানে চরনোহালী এলাকায় গড়ে তোলা হয় আরও প্রায় দুই কিলোমিটার সহায়ক বাঁধ। গত বছরের বন্যায় দুই শতাধিক একর কৃষিজমি নদীতে চলে গেলেও এই বাঁধের কারণে রক্ষা পেয়েছিল ঘরবাড়ি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সহায়ক বাঁধটি টিকতে না পারলে থাকবে না মূল বাঁধও। ইতোমধ্যে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধে ২০০ ব্যাগ জিও ব্যাগ ফেলেছে।

 

 

ভাঙনরোধে সময়মতো ফেলানো হয়নি জিও ব্যাগ

গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের পাশে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা খোঁজখবর রাখছি এবং প্রশাসনকে সবকিছু অবগত করতেছি।

 

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে যখন প্রথম ভাঙন শুরু হয়েছিল, তখন সময়মতো অল্প কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। গত বছর থেকেই বরাদ্দের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কোনো বরাদ্দ আসেনি। পরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হলেও পানির বৃদ্ধির শুরুতেই প্রথম চাপেই সেটি ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার কাজ ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তার ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদীপাড়ের মানুষরা নির্ঘুম রাত কাটায়। অন্যদিকে পানি কমে যাওয়ার পর নদী ভাঙন দেখা দিবে।

 

একই কথা জানান টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দিনের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেলে তীরবর্তী এলাকায় সমস্যা কম হয়। কিন্তু রাতের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেলে নদীপাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। এছাড়া সৃষ্ট  বন্যায় নদী তীরবর্তী আবাদি জমিগুলো তলিয়ে বাদামসহ বিভিন্ন শাক-সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হবে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে প্রশাসন

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, শুধু দ্রুত ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সজিবুল করীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ হেক্টর আমন ধান, ১ হেক্টর মাসকলাই, ২ হেক্টর বীজবাদাম ও আধা হেক্টর সবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।

 

সরকারিভাবে বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, উজানে ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরঢুষমারা গ্রামের কিছু অংশে পানি ঢুকে পড়েছে। ওই গ্রামের নদীর তীরবর্তী কিছু অংশে ভাঙনও দেখা দিয়েছি। পানি বৃদ্ধির ফলে যেন বন্যায় কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেজন্য জনপ্রতিনিধিদের নদীপাড়ের খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে সকল ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয়া আছে।

 

রংপুর অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর বিভাগ ও এর উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে আরও দুদিন ভারী থেকে অতিভারী এবং পরবর্তী তিনদিন মাঝারী ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। 

 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধিসহ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

টাঙ্গাইল জেলা ব্যাপী তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "মূর্খ সংঘ"এর আয়োজনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজ প্রকৃতি ফিরিয়ে আনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ভয়াবহ বজ্রপাত রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় টাঙ্গাইল জেলা ব্যাপী তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। 


 বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে তাল বীজ বপনের মাধ্যমে  কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আশেক পারভেজ।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশের সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই সকলকে যার যার অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বাড়াতে কাজ করতে হবে। 


তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বজ্রপাত রোধে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "মূর্খ সংঘ" এর উদ্যোগে তাল বীজ লাগানোর যে কার্যক্রম শুরু করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।


এ সময় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহমুদ হাসান খান টিটন, মোঃ চঞ্চল চৌধুরী, শামীম আলম মামুন,"মূর্খ সংঘ"এর উদ্যোক্তা মোস্তাক আহমেদ রানা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সব খবর

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৮ পিএম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, বর্তমান সরকার আগের সরকারের গতানুগতিক ধারায় পরিচালিত হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও হবে না। কিছুটা সময় লাগলেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার কাজ করছে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, আগে দেশে অরাজকতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্বাভাবিকভাবে অনেক কাজ করা সম্ভব হতো না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। তবে এখন আর এসব চলতে দেওয়া হবে না। সরকার দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রমাণ করেছে, আগের মতো নির্বাচন আর হচ্ছে না, ভবিষ্যতেও হবে না। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের মধ্য দিয়েও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।


দেশের সার্বিক উন্নয়নে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা খাতকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, আহাজারি ও অভিযোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।


তিনি বলেন, সরকারি অফিস-আদালত, হাসপাতালসহ সব প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সবার সদিচ্ছা থাকলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ জন্য সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডাক্তার আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও -৩ আসনের এমপি জাহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩১ পিএম

গ্রাম পুলিশের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও চাকরির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নাটোরের লালপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।


জানা গেছে, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ প্রধান মুকুল হোসেন এবং বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ প্রধান আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে লালপুরের ৯৪ জন গ্রাম পুলিশ সদস্য এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন।


মুকুল জানান, সমাবেশের নতুন ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ঢাকার তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড। শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে নির্ধারিত পোশাকে সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


এ মহাসমাবেশে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রায় ৪৭ হাজার দফাদার ও মহল্লাদার গ্রাম পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।


গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি, বর্তমান বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং চাকরির যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা ও সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


তাই এবারের মহাসমাবেশ থেকে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসবে—এমন প্রত্যাশা করছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।


লালপুরের অংশগ্রহণকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যরা আশা করছেন, তাঁদের সম্মিলিত দাবিগুলো যথাযথ গুরুত্ব পাবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩০ পিএম

৬২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে পৌঁছেছে সাড়ে ১৩ মিটার গভীরতার ‘এমভি এমবিএস তাইসি’ নামের একটি মাদার ভ্যাসেল। গতকাল রাত ৮টার দিকে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি বন্দরের বহির্নোঙরে (প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে) এসে পৌঁছায়।


১৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩২ মিটার প্রস্থের জাহাজটি গত ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার তারাহান বন্দর থেকে ছেড়ে আসে। জাহাজটিতে আনা কয়লা পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।


পায়রা বন্দররের উপপরিচালক (ট্রাফিক) জনাব আজিজুর রহমান বলেন, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে চ্যানেলের  নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজগুলো সরাসরি  বন্দরে  প্রবেশ করতে পারছে না । গত মার্চ ২০২৬ এর পর  থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া এ্যাংকোরেজে থেকে শিপ টু শিপ পদ্ধতিতে কয়লা খালাস করে  ছোট ছোট লাইটার জাহাজের মাধ্যমে বিসিপিসিএল ও আরএনপিএল জেটিতে কয়লা পরিবহন করা হচ্ছিলো।


বর্তমানে পায়রা আউটার এ্যাংকোরেজ শিপ টু শিপ কার্গো হ্যান্ডলিং এর জন্য  উপযোগী হওয়ায় এখন থেকে বিসিপিসিএল ও আরএনপিএল এর কয়লাবাহী মাদার ভ্যাসেল  সরাসরি পায়রা আউটার এ্যাংকোরেজে আসবে এবং  লাইটারিং এর মাধ্যমে ড্রাফট কমিয়ে ১৮/২০ হাজার মেট্রিকটন কার্গো নিয়ে মাদার ভ্যাসেল পায়রা বন্দরের ইনার এ্যাংকোরেজে প্রবেশ করতে পারবে। ফলে কয়লা পরিবহন খরচ হ্রাস পাবে।পাশাপাশি পায়রা বন্দরের  রাবনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে  চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি করা গেলে কয়লা নিয়ে মাদার ভ্যাসেল সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে ।


পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস. এম. শরিফুর রহমান জানান, গতকাল রাতে মাদার ভ্যাসেলটি নির্বিঘ্নে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে নোঙর করে। আজ থেকেই পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। অর্ধেকের বেশি পণ্য খালাসের পর জাহাজটি টার্মিনালে এসে অবশিষ্ট পণ্য খালাস করবে।


তিনি আরও বলেন, এখন থেকে একের পর এক জাহাজ পায়রা বন্দরে আসতে থাকবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৯ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মসজিদের উন্নয়নের কথা বলে অভিনব কৌশলে ১৫০ বস্তা সিমেন্ট আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। 


ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীনগর ধানহাটা বাজারের আমির এন্টারপ্রাইজ, নামক একটি সিমেন্টের দোকানে সম্প্রতি একটি ফোন কল আসে। ফোন করা ব্যক্তি নিজেকে কাশেম মৃধা ছেলে মনু মৃধা বাড়ি ষোলঘর ইউনিয়ন সমসাবাদ এলাকার পরিচয় দেন, এলাকার একটি মসজিদের নির্মাণকাজের জন্য  ১৫০ বস্তা সিমেন্ট প্রয়োজন।


দোকানদার কামাল হোসেন জানান, সিমেন্টগুলো নসিমন গাড়িতে লোড করার সময় তিনি টাকা পরিশোধের কথা বললে মনু মৃধা জানান যে, তিনি ব্যাংকে লোক পাঠিয়েছেন, সেখান থেকে টাকা তুলে দেওয়া হবে।


কিছুক্ষণ পর মনু মৃধা পুনরায় ফোন করে জানান যে তিনি ভুল লোকেশন দিয়েছেন এবং সিমেন্টের গাড়িটি যেন ‘ইয়াসমিন দেলোয়ার হাসপাতালের পাশে, তার রোড সিমেন্টের দোকানে পাঠানো হয়। কথামতো সিমেন্টের গাড়িটি সেখানে পাঠানোর পর থেকেই  আর টাকা পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন এবং ফোন বন্ধ করে রাখেন।




ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, মনু মৃধা একজন ধুরন্ধর প্রতারক। সে এর আগেও এলাকার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে এমন প্রতারণা করেছে। আমার সাথেও একই কায়দায় বিশ্বাসভঙ্গ করে সে সিমেন্টগুলো আত্মসাৎ করেছে।


এ বিষয়ে  ভুক্তভোগী কামাল হোসেন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে, এ ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই প্রতারককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

পঞ্চগড়ে বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে পা ভাঙার অভিযোগ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ পিএম

দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক মামলা, হামলা, নির্যাতন ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি বলে দাবি করেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ রাজিউর রহমান দীপক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাস থেকে কখনো সরে যাননি বলে জানান এই নেতা।


সম্প্রতি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১০ নম্বর গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৭৬ নম্বর গলেহা কান্তমণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর পায়ের হাড় ফেটে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর বাড়িতে হামলা, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনার অভিযোগও তুলেছেন।


রাজিউর রহমান দীপকের দেওয়া লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বিদ্যালয়টির ১২ সদস্যের সম্মতিক্রমে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলামকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।


তিনি অভিযোগ করেন, কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়ার সময় এনসিপির একজন কর্মী প্রধান শিক্ষকের সরকারি কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। প্রধান শিক্ষক বারবার অনুরোধ করলেও ওই ব্যক্তি কাগজপত্র ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে তিনি কাগজপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি অন্য কর্মীদের খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই একদল লোক এসে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে লোহার রডের আঘাতে তাঁর পায়ের হাড় ফেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু সেখানেও হামলাকারীরা আবার হামলা চালায় এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও লাঞ্ছনা করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলেন বলেও জানান দীপক। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের কোনো খবর পাননি বলে দাবি করেন তিনি।


তবে এ ঘটনার পর দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাজিউর রহমান দীপক। তাঁর বাবা ওই ওয়ার্ড বিএনপির তিনবারের সভাপতি ছিলেন। তিনিও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে জানান তিনি।


এদিকে, দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা পর্দার আড়াল থেকে অভিযুক্তদের সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন দীপক। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এমন পরিস্থিতিতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিশেষ করে পঞ্চগড় জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব হোসেন সেলিম তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর