মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা ফখরুল একসময় অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে যে মানুষটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাঠ দিতেন, সময়ের স্রোতে তিনিই হয়ে উঠেছেন দেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। পৌরসভার চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসেছেন, সংসদে গেছেন, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন, দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব করে সামলেছেন, পেরিয়েছেন আন্দোলন, মামলা ও কারাবাসের কঠিন সময়ও।


ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্র, আর সেখান থেকে এবার বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার জীবনে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়।


ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্র হয়ে বঙ্গভবন- মির্জা ফখরুলের এই পথচলা এক দিনে তৈরি হয়নি। ছাত্রজীবনের বামপন্থি রাজনীতি, সরকারি চাকরি, স্থানীয় সরকার, সংসদীয় রাজনীতি, মন্ত্রিত্ব, বিরোধী দলের আন্দোলন, কারাবাস এবং দলীয় নেতৃত্ব বহু বাঁক পেরিয়ে ৭৮ বছর বয়সে দেশের রাষ্ট্রপতি পদে পৌঁছালেন তিনি।


বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।


১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন, স্থানীয়ভাবে ‘চখা মিয়া’ নামে পরিচিত, ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। রাজনীতির সঙ্গে মির্জা ফখরুলের পারিবারিক সম্পর্ক আরও পুরোনো। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত রাজনীতিক এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার। ফলে রাজনীতি তার কাছে অপরিচিত কোনো জগত ছিল না, বরং পারিবারিক পরিবেশেই রাজনীতির নানা অনুষঙ্গের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। তবে পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তিনি গড়ে তোলেন দীর্ঘ সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।


ঠাকুরগাঁওয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় আসেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের সক্রিয় অধ্যায়ের সূচনা। ষাটের দশকে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৬৯ সালের আইয়ুব-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বও পান। ছাত্ররাজনীতির সেই সময় ছিল পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের উত্তাল অধ্যায়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যেতে হয়েছিল।


ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। তাদের দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে মির্জা ফখরুল সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেননি। তার পেশাগত জীবনের শুরু শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। শিক্ষকতা জীবনের একটি পর্যায়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজেও অর্থনীতি পড়ান তিনি। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকতার পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনের সঙ্গেও তার পরিচয় তৈরি হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারির সচিব হিসেবেও কাজ করেন তিনি। পরে আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনেসকোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন জীবনীমূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।


১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নেন মির্জা ফখরুল। এরপর ১৯৮৮ সালের পৌর নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘সাইকেল’ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হন। স্থানীয় সরকারের এই দায়িত্ব তার রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক তৈরি করে। জাতীয় রাজনীতির বড় পরিসরে যাওয়ার আগে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন তিনি। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। জেলার রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় পরিসরে তার উত্থান শুরু হয়।


১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পাননি। তবে রাজনীতির মাঠে তার অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হতে থাকে। অবশেষে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মির্জা ফখরুল। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে ২০০৫ সালের নভেম্বর থেকে তাকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।


২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও তিনি অংশ নেন। এরপর তার রাজনৈতিক ভূমিকার কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের দিকে চলে আসে।


২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে দলের তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেলে মির্জা ফখরুলকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১৬ সালের মার্চে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির জন্য এই সময়টি ছিল রাজনৈতিকভাবে কঠিন।


আন্দোলন, নির্বাচন, মামলা, গ্রেপ্তার, দলীয় সংকট এবং সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ সবকিছুর মধ্যেই দলের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে সামনে ছিলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে নির্বাচনী ব্যবস্থা, সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে দলটির কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।


২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।


মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় আসে ২০২৩ সালের শেষ দিকে। ওই বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সহিংসতার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তিনি কারাগারে ছিলেন। এমনকি তার ৭৬তম জন্মদিনও কারাগারে কাটে।


২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবারও নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা ফখরুল। এবার তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হন। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের হিসাবে তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পান ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করতে থাকেন।


১৩ আগস্ট বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মনোনয়ন ঘোষণার পরই তিনি বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিন বিএনপি তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়।


 নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ হয়।


বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। এর মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই প্রবীণ রাজনীতিক দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ভোট দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল আবেগাপ্লুত হয়ে বলেছিলেন, অনেক কিছু মিস করবো।’ একই সঙ্গে তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেটি হবে সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী।


শ্রেণিকক্ষ থেকে রাজনীতির মাঠ, পৌরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিসভা থেকে বিএনপির মহাসচিব দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার তার ঠিকানা বঙ্গভবন। আজ (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে তার




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৯ পিএম

সিলেটে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার দুই ছাত্র । এর মধ্যে ভিডিও কলে এক ছাত্রকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে। 


এ ঘটনায় দুজনের অভিভাবক নগরের শাহপরান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্র হলো তামিম আহমেদ ও সাঈদ মাসুদ চৌধুরী (নাঈম)। ১৫ বছর বয়সী দুজনই সিলেটের খাদিম পাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায হিফজ বিভাগে পড়ে। তামিম দক্ষিণসুরমা বড়াইকান্দি এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে এবং সাঈদ জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের মউগ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে। 


ছাত্রদের অভিভাবক, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের ফাঁকে ওই দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাঈদের বাবার মুঠোফোনের ইমো অ্যাপে একটি নম্বরহীন অ্যাকাউন্ট থেকে নাঈমকে মারধরের দৃশ্য দেখিয়ে এবং ভিডিও পাঠিয়ে অর্থ দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় জিডি করেছে দুই ছাত্রের অভিভাবক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। 


এ বিষয়ে জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘গত মঙ্গলবার ফজরের নামাজের সময় ওই ছাত্র দুজন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। এর আগে তামিম আরও দুবার মাদ্রাসা থেকে না বলেই বাসায় চলে গিয়েছিল। পরে তার বাবা এসে দিয়ে গিয়েছিলেন। এবার সাঈদ ও তামিম দুজনই একসঙ্গে ফজরের নামাজের ফাঁকে বের হয়ে যায় বলে জেনেছি। বিষয়টি তাদের মা-বাবাকে জানাই।


’সাঈদের বাবা বেবুল আহমদ জানান, ‘মাদ্রাসা থেকে বাসায় গেছে কি না, এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার হুজুর কল দিয়েছিলেন। আমরা জানাই যে সে (নাঈম) আসেনি। সিলেটের বিভিন্ন জায়গায়ও খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে আমার ইমোতে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। ইমোর অ্যাকাউন্টে কোনো নম্বর দেখা যাচ্ছিল না। তখন একের পর এক কল দিচ্ছিলাম, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রিসিভ করা হয়নি।’


বেবলু আহমদ জানান, ‘পরে সন্ধ্যার পর ভিডিও কলে আমার ছেলেকে হাত-পা বেঁধে রাখা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়; ভিডিও পাঠিয়েছে। পরে একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে এক লাখ টাকা পাঠাতে বলে । নয়তো আমার ছেলেকে তারা মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’ তবে কে বা কারা অর্থ দাবি করছে, তা তিনি জানেন না।


আরেক ছাত্র তামিমের বাবা আবদুস সাত্তার জানান, ‘আমার ছেলে মাদ্রাসা থেকে এর আগেও দুবার বের হয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। আবারও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আল্লাহ জানেন, আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’


শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ জানান, ‘ওই ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকেরা জিডি করেছে। আমরা সারা দেশে দুই ছাত্রের ছবি পাঠিয়ে দিয়েছি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’


ইমোতে অর্থ দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ইমোতে যে নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হয়েছে, তা এক বছর ধরে বন্ধ। অনেক সময় নিখোঁজের ঘটনা ঘটলে কিছু প্রতারক চক্র এমন সুযোগ নেয়। আর ইমোতে কয়েক সেকেন্ডের যে ভিডিও পাঠানো হয়েছে, তা অস্পষ্ট। তবে আমরা খোঁজ করছি।’

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

সারা দেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে টেক্সটাইল-রুবি গেট হয়ে দুই নম্বর গেইট প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পলিটেকনিক্যাল মোড়ে এসে শেষ হয়।


চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার কামরুল হাসান আকাশের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদল নেতা রেজাউল, মোহাম্মদ রুবেল, মো.মাহমুদ, আইন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো.রিয়াজ, পাহাড়তলী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান রকি, মো.ইয়াছিন আফ্রিদি,পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ বকুল, মো.আহাদ, মো.সামি, মো.মহসিন,কলেজ ছাত্রদলের সংগঠক মো.তানভীরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

অবৈধভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করার অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোতাহার হোসেন নামে এক সার ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে আটক ২১ বস্তা সার সরকারি মুল্যে বিক্রি করে টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এনএম ইসফাকুল কবীর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ আদেশ দেন।


পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে আব্দুল খালেক এর বাড়িতে ৭ বস্তা টিএসপি ও ১৪ বস্তা এমওপি সার সহ সার ব্যবসায়ী মোতাহার এবং গৃহকর্তা খালেককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক করে স্থানীয়রা। পরে থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ সার সহ ঐ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। সন্ধায় সহকারি কমিশনার (ভুমি) ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সার ব্যবস্থাপনা আইনের ২০০৬ এর ১২(৩) ধারা মোতাবেক সার সাব-ডিলার মোতাহারকে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং আটক করা ২১ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে প্রকাশ্যে জাবরহাট ইউনিয়নের কৃষগনের মাঝে সরকারি দামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।


আটক করা সার রবিবার প্রকাশ্যে বিক্রি করার ব্যবস্থা করবেন কৃষি বিভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝালকাঠির নলছিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।


১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডুর সভাপতিত্বে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার(ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:হাবিবুর রহমান,নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বেলায়েত হোসেন,উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো:ওবায়দুল ইসলাম,উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা:আবু সালেহ মো:ইফাদ ইশতিয়াক,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন আকতার সহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেড ক্রিসেন্ট,বিডি ক্লিন বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা।


আলোচনা সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।ঝোপঝাড় পরিস্কার,ড্রেন,নালা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রেখে সকলে মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্তরে ফেরত আসে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

জলবায়ু ন্যায়বিচার, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যৎ এবং দ্রুত ও ন্যায্য অর্থায়নকৃত জ্বালানি রূপান্তরের দাবিতে কলাপাড়ায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । বৈশ্বিক কর্মসূচি গ্লোবাল উইক অফ অ্যাকশন এর অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্বরে  এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদি সংগঠন  ও নদী রক্ষা আন্দোলন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ ও আমরা কলাপাড়াবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


এতে  বক্তব্য রাখেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা'র কলাপাড়ার সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম মিরাজ, পরিবেশ সংগঠক সাইফুল্লাহ মাহমুদ, পরিবেশ সংগঠক আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সাবেক সভাপতি  নজরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং কপ থার্টি ওয়ান (COP31)-এর প্রাক্কালে আয়োজিত এই বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা দাবি জানাচ্ছি—জীবাশ্ম জ্বালানির অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে, জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।


এছাড়া বক্তারা কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন ১৩২০ মেগাওয়াট আশুগঞ্জ বিদুৎ কেন্দ্র কে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র দু'টির অভ্যন্তরের বিপুল পরিমাণ খালি জায়গা রয়েছে। যেখানে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুসারে সৌরসিষ্টেম চালু করার দাবি জানান। 


কয়লা দূষণ বন্ধে সমাজিক আন্দোলনে সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।  পরিবেশ  দূষণ বন্ধে কয়লা দূষণ বন্ধের কোন বিকল্প নেই। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৬ পিএম

নাটোরের লালপুরে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে আব্দুল্লাহ (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা আরও দুই আরোহী হৃদয় (২০) ও মনি (২২) আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লালপুর-গোপালপুর সড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি ট্রাককে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী গুরুতর আহত হন।


খবর পেয়ে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আব্দুল্লাহ লালপুরের উত্তর লালপুর গ্রামের শহীদুজ্জামান লাকির ছেলে।


আহত হৃদয় ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত হৃদয় চকদৈবকী  গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ও মনি একই গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে।


ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প:প::কর্মকর্তা ডাক্তার মঞ্জুর রহমান।

সর্বশেষ সব খবর