• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৩ এএম

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের দুধ খেয়ে অর্ধশত শিক্ষার্থী হাসপাতালে ।


জানা যায় যে,দুপুরের টিফিনে মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল প্যাকেটজাত দুধ। দুধ খাওয়ার পরপরই একে একে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। কেউ কেউ বিদ্যালয়েই বমি করে। পরে অভিভাবকদের খবর দেওয়া হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সোমবার এদিন দুপুরের এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


বিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুরে শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের খাবারের সঙ্গে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের সরবরাহ করা প্যাকেটজাত দুধ দেওয়া হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ওই দুধ পান করার পর কয়েকজনের পেটব্যথা শুরু হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বমি করতে শুরু করে।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানায়, দুধের স্বাদ তিতা ছিল। দুধ খাওয়ার পরই তাদের পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হয়।


পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, দুধ খাওয়ার পর থেকেই আমাদের পেটব্যথা শুরু হয়। অনেকেই স্কুলেই বমি করেছে। দুধটি তিতা লাগছিল এবং নষ্ট হয়ে গেছে মনে হচ্ছিল।


আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দুধের স্বাদ ভালো না লাগার কথা স্যার ও ম্যামকে বলেছিলাম। এরপরও দুধ খেতে বলা হয়। দুধ খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে।


পরে বিদ্যালয় থেকে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়। অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে এসে তাদের সন্তানদের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চাদের নষ্ট দুধ দেওয়া হয়েছে, যে কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় বলেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত অর্ধশত শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই বমি করেছে, অনেকের পেটের পীড়া হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সেবা দিচ্ছেন।


মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন বলেন, বাচ্চারা দুধ খাওয়ার সময় জানায় যে স্বাদ টক লাগছে। পরে প্যাকেট খুলে দেখি দুধ নষ্ট হয়ে দইয়ের মতো হয়ে গেছে। তবে নিষেধ করার আগেই অনেকে দুধ খেয়ে ফেলে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে মোট ১২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছুটি হয়ে যাওয়ায় তারা রক্ষা পেয়েছে। দুপুরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই দুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরাও এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।


​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফি চৌধুরী বলেন, প্যাকেটের গায়ে দুধের মেয়াদ ঠিকই ছিল, তবে ভেতরের দুধ যে নষ্ট হয়ে গেছে, তা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। দুধ খেয়ে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।


তবে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় খাবার বিতরণের দায়িত্বে থাকা আবু হেলাল বলেন, ওই বিদ্যালয়ে আমরা ১২২টি প্যাকেট দুধ সরবরাহ করেছি। পরে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছি। কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সরবরাহ করা দুধ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে স্থানীয় প্রশাসনসহ আমরা সার্বিক তদারকি করছি। 





কাউখালী থানা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিচয়ে সরকারি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৪২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। ঘর মেরামতের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কথা বলে ফাইল প্রস্তুত ও আনুষঙ্গিক খরচের নামে বিকাশে টাকা নেয় চক্রটি। একই কায়দায় আরেক মুক্তিযোদ্ধার কাছেও টাকা দাবি করা হয়েছে।


শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বিড়ালজুরি ও কচুয়াকাঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজ (৭৫) জানান, শুক্রবার সকালে বিড়ালজুরি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজম আলী খান তাকে ফোন করে জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর মেরামতের জন্য সরকারি অনুদানের টাকা এসেছে। এ বিষয়ে ইউএনওর একটি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।


পরে ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তিনি জানান, ঘর মেরামতের জন্য ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে বরাদ্দের টাকা পেতে ফাইল প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে একটি নম্বরে ৪২ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। খাইরুল আলম ফিরোজ বলেন, কোনো কিছু যাচাই না করেই তিনি ওই নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে ৪২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে খোঁজখবর নিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।


এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আজম আলী খান বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে তার কাছে ফোন আসে। ফোনে এক ব্যক্তি নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে এলাকায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা থাকলে তাকে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের জন্য বরাদ্দ বা ভাতা রয়েছে বলেও জানান। পরে তিনি নিজের ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল আলম ফিরোজকে বিষয়টি জানিয়ে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে জানতে পারেন, এটি প্রতারণা।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু খাইরুল আলম ফিরোজ নন, একই ইউনিয়নের কচুয়াকাঠি এলাকার আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকেও একই কায়দায় ফোন করে ঘর মেরামতের বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে ৪২ হাজার টাকা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।


কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার বলেন, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। এটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তার কোনো দাপ্তরিক নির্দেশনা নেই। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে কাউখালী থানার ওসিকে বলা হয়েছে।


পাহাড়ি এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৯ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তিন ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।


শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পূর্ব পাশের পাহাড়ে মরদেহগুলোর সন্ধান পাওয়ার তথ্য পায় পুলিশ।


এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে একই এলাকার পাহাড়ে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের সঙ্গে গোলাগুলিতে এক সেনাসদস্য আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।  এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, এসআরবি ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।


কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ এন এম সাজেদুর রহমান তিন ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তিনজনের মরদেহ পড়ে থাকার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল সেখানে রওনা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার দুর্গমতার কারণে সেখানে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকার সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।


অভিযানসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানের কারণে পাহাড়ে সক্রিয় সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা চাপে রয়েছে। তবে তিন ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নয়াপাড়া ও লেদা আশ্রয়শিবিরের পূর্ব পাশের পাহাড়গুলো ঘন জঙ্গলবেষ্টিত ও দুর্গম। দীর্ঘদিন ধরে এসব পাহাড়ে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। 


খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি কালি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

খুলনা রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি সবার নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনায় আগমন উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে রেলস্টেশনের দেয়ালে জুলাই অভ্যুত্থান, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্পের গ্রাফিতির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ খুলনা অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা গুণীজনদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়। 


দৃষ্টিনন্দন এসব গ্রাফিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে কালি দেয়ার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পুরাতন যশোর রোডের পাশে দেয়ালে ফকির লালন সাঁই, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মাইকেল মধূসুদন দত্তের প্রতিকৃতি ছিল। এর মধ্যে শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়া হয়েছে। এর পাশে দুটি লিফলেট লাগিয়ে দিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।


‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে ওই পোস্টারে বিভিন্ন উক্তির সঙ্গে লেখা ছিল ‘তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই’।


শুক্রবার সড়কের বিপরীত পাশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এজন্য কারা, কখন এটি করেছে জানা যায়নি। 


খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করি। এখনও বলার মতো কোনো তথ্য পাইনি।’


প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে খুলনায় বেড়াতে আসা মানুষকে পরিচিত করাতেই গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালগুলোতে গ্রাফিতি ও প্রতিকৃতিগুলো আঁকা হয়েছে। এগুলো আমাদের শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটাবে। কালি দিয়ে তারা তাদের সংকীর্ণ মনন ও অসুস্থতার পরিচয় দিয়েছে।’


সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরাম খুলনার আহ্বায়ক কাজল ইসলাম বলেন, ‘ইদানীং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাঁর কাব্য ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কেউ নেই। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়ে আসছে। কিছু তরুণ-যুবককে ভুল বুঝিয়ে নোংরামিগুলো করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সবপক্ষের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’


এর আগে ১০ অক্টোবর ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতির মুখমণ্ডলে কালি দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।


পুলিশ সদস্য আবুল কালামের পুরোনো ছবি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় আবুল কালাম (৩৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের হাত-পা ভেঙে পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার মাসাবো এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য (এপিবিএন) আবুল কালাম গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে এসে এই হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।


পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। গত মাসে মাসাবো এলাকার  দুজন মাদক কারবারিকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। এরপর থেকে তারা আবুল কালামকে হুমকি দিতে থাকে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে আবুল কালাম বাড়িতে গেলে তাকে শাহজালাল নামে এক ব্যক্তি ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর শাহজালালসহ ১০ থেকে ১৫ জন তার ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তার হাত-পা ভেঙে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।


এসময় আবুল কালামের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে  আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে আবুল কালামকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আবুল কালামের বাবা আব্দুল মালেক বলেন, দুর্বৃত্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবুল কালামের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা  আবুল কালামের ডান হাত ও বাম পা ভেঙে দেয়। আহত হয়ে আবুল কালাম মাটিতে লুটে পড়লে তার ডান পায়ের রগ কেটে দেয়।


রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, পুলিশ সদস্য আবুল কালাম তার গ্রামের বাড়িতে ছুটিতে এসে মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হয়েছেন। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


মো.সামির (৭) শিশুর মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে রাস্তা পারাপারের সময় অটোরিকশার ধাক্কায় মো.সামির (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘিরপাড় পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সামির ওই এলাকার উত্তরপাড়ার বাহাদুরের বাড়ির মো.সোহাগের ছেলে।  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে সামির বাড়ির পাশের দিঘিরপাড় পাকা সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। শিশুটির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শাহজাহান কামাল বলেন, ঘটনার পরপরই অটোরিকশা পালিয়ে যায়। কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৪৬০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য ৯২ হাজার টাকা।


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ নভেম্বর রাতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ দিহানগর বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশী চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৬০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।


বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারী ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তির জীবনকেই বিপন্ন করে না, বরং সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বদা সজাগ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবির অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও আরও জোরদার থাকবে।


সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক পাচারকারী চক্রের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।