ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ পিএম

টিনে ঘেরা বাড়ির উঠানে ব্যস্ত একদল শিশু-কিশোর। কারও হাতে একতারা, কারও হাতে দোতারা, কেউ বাঁশিতে তুলছে সুর, আবার কেউ তবলার তালে মেলাচ্ছে হাত। কখনও ভেসে আসছে ফকির লালনের গান, কখনও বাউল, মুর্শিদী, মারফতি, ভাওয়াইয়ার সুর। 


শহরের কোলাহল আর প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক আয়োজনের বাইরে গ্রামের মাটিতে এভাবে নতুন প্রজন্মের হাতে বেঁচে উঠছে আবহমান বাংলার লোকসংস্কৃতি।


এই শিশুদের কণ্ঠে গান শুনতে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম আরাজি দেওডোবায় ছুটে গেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। গত সোমবার তিনি গ্রামটিতে যান। সেখানে শিশুদের কণ্ঠে গান শোনার পাশাপাশি দোতারা, একতারা, সারিন্দা, বাঁশি, তবলাসহ বিভিন্ন দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেখেন।


জানা গেছে, শিশু-কিশোরদের নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে এই সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ‘মায়ের তরী’ নামের সংগঠন। দেওডোবায় প্রধান ঠিকানা হলেও এ উদ্যোগ এখন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে দুই জেলায় ‘মায়ের তরী’র ৯টি গুরুগৃহে পাঁচ শতাধিক শিশু লোকগান শিখছে। দুটি লোকবাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ১২৫ জন শিশু শিখছে দোতারা, একতারা, বাঁশি, বেহালা, তবলা, খমক, সারিন্দাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। সব মিলিয়ে ছয় শতাধিক শিশু এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

‘মায়ের তরী’র গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নরওয়ের নাগরিক লেখক, লোকগবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি উয়েরা সেথেরের নাম। 


তিনি ১৯৯৮ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে দক্ষিণ নামাজের চর এলাকায় বন্যা-পরবর্তী মানুষের জীবন দেখতে গিয়ে চরের নারীদের কণ্ঠে মারফতি ও মুর্শিদী গান শুনে মুগ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে বাংলার লোকগানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে স্থানীয় শিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মায়ের তরী’।


গত সোমবার সেই সংগঠনের কার্যক্রম দেখতে দেওডোবা গ্রামে এসে মুগ্ধ হন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন আলেকজান্ডার ফাল্ক-বিল্ডেন, প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম। এ সময় আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাসসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


‘মায়ের তরী’র কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত বলেন, লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু একটি দেশের অতীতকে ধারণ করে না, মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রান্তিক শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় লোকগান ও বাদ্যযন্ত্রের ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।


‘মায়ের তরী’র নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য শুধু শিশুদের গান শেখানো নয়; লোকসংগীতের মধ্য দিয়ে তাদের জীবনবোধ, মানবিকতা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা।


সংগঠনের অন্যতম সংগঠক ইউসুফ আলমগীরের ভাষ্য, এখানে অধিকাংশ শিশুই আসে প্রান্তিক পরিবার থেকে। অনেকের শহরে গিয়ে সংগীত শেখার সুযোগ নেই। কোনো কোনো গুরু প্রায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শিশুদের প্রশিক্ষণ দেন। নিজেদের সময়, শ্রম ও ভালোবাসা দিয়ে তারা ধরে রাখছেন লোকসংগীতের ধারাবাহিকতা। ফলে সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের মধ্যেও কার্যক্রমটি এগিয়ে চলছে।




  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ পিএম

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় জান্নাতুল মাইসা (১৩) নামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।


বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খিলপাড়া গ্রামের আতিক উল্যাহ ফরাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত মাইসা ওই গ্রামের মো. মাসুমের মেয়ে এবং স্থানীয় খিলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মাইসার মা-বাবা মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড করতে বাজারে যান। এ সময় মাইসা বসতঘরে একা ছিল। তখন পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নিজ শয়নকক্ষে গলায় ফাঁস দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।


চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ বলেন, ‘ওই ছাত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। মা-বাবা মোবাইলে ফ্লেক্সিলোড দিতে বাইরে গেলে সে গলায় ফাঁস দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে।’


ওসি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

কাযক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই অভিযোগে তার স্ত্রী আকতার জাহান বকুল ও ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নোয়াখালী দুদকের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। আজ নিউজে দেখেছি, তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনের কাগজপত্র এখনো আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।


দুদক সূত্র জানায়, আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা অনুমোদন করা হয়েছে। তার স্ত্রী আকতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে স্বামীকে সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করে দুদক আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।


এ ছাড়া ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে বাবার সহায়তায় ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে একই ধারায় মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


নোয়াখালী দুদকের উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ আরও বলেন, মামলার অনুমোদনের কাগজপত্র আমাদের হাতে এসে পৌঁছালে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।  



  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৯ পিএম

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সূর্যপাশা এলাকায় টিনশেড  বসতঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আ:রাজ্জাক হাওলাদার ফরহাদকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন,নলছিটি উপজেলা প্রশাসন,নলছিটি পৌরসভার সমন্বয়ে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।


গত  ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে সূর্যপাশা এলাকার আ:রাজ্জাক ফরহাদের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।আগুন নেভাতে নলছিটি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট রওনা হলেও অর্ধেক পথে রাস্তা খারাপ হওয়ায় আটকে যায়।এরফলে তার ঘরটি পুরে ছাই হয়ে গেলেও আগুন নেভানো যায়নি।


এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নগদ অর্থ,স্বর্নালঙ্কার সহ ফরহাদ হোসেনের প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরপরই নলছিটি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু সহ উপজেলা বিএনপি নেতারা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন।


এই আর্থিক সহায়তা ছাড়াও পরবর্তীতে ঘর নির্মানে ক্ষতিগ্রস্ত আ:রাজ্জাক ফরহাদের পরিবারকে যথা সম্ভব সহায়তার আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু।


গ্রেপ্তার ‘হ্যাকার সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ পিএম

গ্রেপ্তার এড়াতে পুলিশের ওপর নজরদারি করার জন্য গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন ওহিদুল মোল্লা (৩২)। হ্যাকিংয়ের কাজের জন্য ৭টি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করতেন ৬৮টি সিম। ঘুমানোর জন্য কবুতরের ঘরের মধ্যে তৈরি করেছিলেন বিছানা। সেখানে ছিল সিসিটিভি মনিটর, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ নানা সুবিধা। তবু শেষরক্ষা হয়নি তাঁর।


গতকাল সোমবার দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে তাঁকে আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।


বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল মোল্লা ইমো হ্যাকিং চক্রের রাজধানীখ্যাত বিলমাড়িয়া গ্রামের হ্যাকার সম্রাট। তাঁর অধীনে এলাকায় হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছে। সবাই তাঁকে গুরু হিসেবে মানেন।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্বিঘ্নে হ্যাকিং কার্যক্রম চালাতে এবং গ্রেপ্তার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন ওহিদুল মোল্লা। প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত স্থাপন করেন অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। যেন পুলিশ প্রধান সড়ক থেকে নামামাত্র তিনি পালাতে পারেন।


পুলিশ জানায়, ওহিদুল প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েক শ কবুতর রাখার বাসা বানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি খাটে তিনি ঘুমান। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না, সেখানে মানুষের থাকার ব্যবস্থা আছে। আরাম–আয়েশের জন্য সেই ঘরে দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসিয়েছেন। এখানে বসে তিনি হ্যাকিং করে অন্যের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতেন। যাতায়াতের জন্য দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন।


ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড। সেগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছক করে ছিল। কোনটা বিকাশ, কোনটা নগদ, হিসাব রাখতে সাংকেতিক চিহ্ন দেওয়া আছে। ওহিদুল ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করতেন।


ওসি শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লা ছাড়াও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



বিউটি রানী পাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানের সঙ্গে রিল তৈরি করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বিউটি রানী পাল সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। আজ বুধবার বিকেলে বিউটি রানী শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ। 


তিনি জানান, জেলার সব কটি উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্যে চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্যে বিউটি পালও আছেন।


বিউটি রানী ছাড়াও আরও যাঁরা সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা হলেন সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদের সই করা এক স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার যাচাই–বাছাই কমিটির সভা শেষে বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের নামও ঘোষণা করা হয়। তবে ওই তালিকায় বিউটি রানী পালের নাম নেই।


এর আগে ২৩ জুলাই বিউটি রানী পাল একটি রিল ভিডিও নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে গান হিসেবে ছিল ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানটি। এই কলি ‘ডিফরেন্ট টাচ’ ব্যান্ডের মেজবাহ রহমানের গাওয়া ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের। বিউটি রানী পালের ভিডিওটি পরে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘নেতিবাচক তথ্য যুক্ত করে’ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে নিয়ে শুরু হয় ট্রল।


এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পাল ভিডিওটি সরিয়ে নেন। সাইবার বুলিংয়ের এমন ঘটনা যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন দেশের অনেক নারী শিক্ষক একই গানের সঙ্গে নিজেদের ছবি ও ভিডিওজুড়ে দিয়ে ফেসবুকে আপলোড করতে থাকেন। শুরু হয় অভিনব এক প্রতিবাদ। এরপর তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে নানা শ্রেণি-পেশার অসংখ্য নারী ও পুরুষ এই গানের ভিডিও নিজেদের ফেসবুকে দিতে থাকেন।


বিউটি রানী পাল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। তিনি ফেসবুকে শিক্ষার্থী-উপযোগী ও প্রয়োজনীয় শিক্ষামূলক ভিডিও নিয়মিত আপলোড করেন।


বিউটি রানী পাল এর আগেও একবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। শিক্ষক হিসেবে এলাকায় তাঁর ব্যাপক সুনাম আছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা করানো, নাচের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্যবইয়ের পড়া শেখানো, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের ভিডিও আপলোড করা আছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৯ পিএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন এসএসিপি (SACP) প্রকল্পের বিশেষ প্রদর্শনী ‘ক্লাইমেট নিউট্রিশন ইন্টেগ্রেটেড ফার্মিং মডেল’ (জলবায়ু ও পুষ্টি সমন্বিত খামার মডেল) কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম।


মঙ্লবার  দিনব্যাপী গাইবান্ধা সফরের অংশ হিসেবে তিনি বোয়ালী ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ এই সমন্বিত খামার মডেলটির বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।


এ সময় তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এই ‘ক্লাইমেট নিউট্রিশন ইন্টেগ্রেটেড ফার্মিং মডেল’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের একখণ্ড জমিতে বৈচিত্র্যময় ফসল, শাকসবজি ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। বোয়ালীর জাহেদা বেগমের এই সফল মডেলটি যেন উপজেলার অন্যান্য প্রান্তিক চাষিদের মাঝেও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি মডেলটির উপকারভোগী কৃষকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন, তাদের নানা সমস্যার কথা শোনেন এবং আধুনিক ও টেকসই বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


উক্ত খামার পরিদর্শনকালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক(ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান,এসএসিপি' রেইনস রিজিওনাল প্রজেক্ট অফিসার রাশেদুল ইসলাম, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ এলাকার সাধারণ কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।