রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমন উপলক্ষে ২০ বছর পর সচল হয়েছিল সিলেট নগরের সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারা। তবে চালুর প্রায় ২০ ঘন্টা পরই আবার তা বন্ধ হয়ে গেছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুরমা পাড়ে ঘুরতে যাওয়া নগরের বাসিন্দারা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফোয়ারটি আগের মতো অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
জানা যায়, রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পরদিনই ফোয়ারায় লাগানো জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়। এরপর এটি বন্ধ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রতির আগমনে সিলেটজুড়ে কয়েকদিন ধরেই চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সেই কাজের অংশ হিসেবে সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে একদম ঝকঝকে করা হয়। এরই সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পর সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারায় পানি আসে। সিলেট সিটিকেরপোরেশন ফোয়ারাটি সচল করে। শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে আছে। ফোয়ারার পাশে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন তরুণ।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াক ওয়ে থেকে অপসারণ করা ভ্রাম্যমান টং দোকানগুলো আবার ওই এলাকা দখল করে বসেছে। পুরো ওয়াকওয়ে চটপটি ও ফুচকার দোকান এবং তাদের বসানো চেয়ারের দখলে।
একইসঙ্গে চাঁদনীঘাট ও কিনব্রিজ দখল করে যত্রতত্র গাড়িও পার্কিং করে রাখা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় ঘুরতে আসা সরকারি চাকরিজীবী রোকশানা বেগম খাদিজা জানান, রাষ্ট্রপতি আসায় এই ফোয়ারাটি চালু করা হয়েছিল। আমি এর আগে কোনদিন এই ফোয়ারাটি চালু অবস্থায় দেখিনি। ফোয়ারা চালু হওয়ায় দেখতে ভালো লাগছিলো। কিন্তু পরদিন থেকেই ফোয়ারাটি অচল হয়ে যায়।
ঘুরতে আসা আরেক তরুণ কাওছর আহমদ জানান, টং দোকান আর গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এই এলকায় হাঁটাচলার কোন সুযোগ নেই। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই জায়গাটি নির্বিঘ্নে হাঁটাাাহাটি ও পর্যটকদের জন্য একটি আর্ষনীয় স্থান হতে পারতো। এখন এটি ঘিঞ্জি বাজারে পরিণত হয়েছে।
সংশ্নিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে (চাঁদনীঘাট এলাকায়) সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রকল্পের কাজ শেষে ২০০৫ সালে তিনি সুরমা নদীর পাড় এলাকার উদ্বোধন করেন।
মূলত সিলেটের সুরমা নদীর পাড়কে নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল এটি। এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় আধুনিক নকশার পাকা ওয়াকওয়ে এবং নদী ঘেঁষে সুরক্ষামূলক দৃষ্টিনন্দন স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে সুরমার তীরের এই উন্মুক্ত স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা সুরমা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর দেখে যান। তবে উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেটি চালু হতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি আসায় গত মঙ্গলবার এটি কয়েকন্টার জন্য সচল করেছিল সিটি করপোরেশন।
সিসিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আসায় জেনারেটর দিয়ে এটি অস্থায়ী ভাবে চালু করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পরদিন জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ (ডিএস) ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমের ওপর ভ্যালিডেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০৪ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন অফিসের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
তিনি বলেন, কারিকুলাম পরিমার্জন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য বিএনকিউএফের গাইডলাইন অনুসরণ করে কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। কারিকুলামে নতুন কিছু সংযোজন করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসডিজির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডটার্ম পরীক্ষা চালুর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় কারিকুলাম পরিমার্জনের বিভিন্ন দিক নিয়েও পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করেন।
ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের প্রধান ড. মোঃ হাসান হাওলাদারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন। রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ নুরুজ্জামান হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক তাসনুভা ইয়াসমিন।
কর্মশালায় ডিসিপ্লিনের পরিমার্জিত পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন দিক পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন সহযোগী অধ্যাপক মোঃ জোবায়ের হোসাইন। তাঁর উপস্থাপনার ভিত্তিতে পাঠ্যক্রমের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পরে রিসোর্স পারসনরা পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে মতামত দেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাই ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক ও প্রভাষক আব্দুল ইলাহ্ আল-মাহ্দী। কর্মশালায় সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রধান, আইকিউএসির পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালক, ডিএস ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন।
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পর সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল মাউন্ট এডোরার একটি মাতৃত্বকালীন (মেন্টারনিটি) সেবা ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। তদন্তে ইউনিটটিতে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দক্ষ জনবল ও জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত। তিনি জানান, হাসপাতালের সম্প্রতি চালু হওয়া ‘অল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্ট নেই। এ ছাড়া দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তদন্তে পাওয়া গেছে।
ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, এসব অসংগতির কারণে ইউনিটটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করে পুনরায় চালুর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ওই ইউনিটে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্দেশনা অমান্য করা হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন নবজাতকের স্বজনেরা।
স্বজনদের অভিযোগ, সময়মতো অস্ত্রোপচার না করে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য ঘটনার দুই দিন আগে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নবজাতকের স্বজনরা জনান, আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার প্রতিবেদনে শিশুর ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি উল্লেখ ছিল। এ কারণে তাঁরা শুরু থেকেই চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর অনুরোধ জানান। তবে চিকিৎসকেরা মা ও শিশু দুজনই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। স্বজনদের অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করার পরও সময়মতো অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তারা জানান, প্রসবের একপর্যায়ে নবজাতকের মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে যায়। এ সময় টানাটানিতে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হলেও ততক্ষণে নবজাতকটি মারা যায় বলে স্বজনদের দাবি। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন নাজমা বেগমের স্বজনেরা। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটির তদন্তে মাউন্ট এডোরার মাতৃত্বকালীন সেবা ইউনিটে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়ার পর রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়।
মতিউর রহমান মিল্টনের নেতৃত্বে
সারাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদ এবং নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি উপজেলার মেঘার মাঠ থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন যুবদলের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে উপজেলা ও পৌর যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রতি তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তবে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কোনো পক্ষ যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।
তাঁরা বলেন, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় তাঁরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
পায়রা বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক ও মিডিয়া উইং কর্মকর্তা আজিজুর রহমানের সাথে কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাব সদস্যদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের হলরুমে ক্লাবের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো : আসলাম সিকদারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বন্দরের ফার্স্ট ক্লাস মেরিনার মো. রাজিব হোসেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসকে রঞ্জন, সিনিয়র সাংবাদিক এইচ এম আকবর, রাসেল মোল্লা, মোয়াজ্জেম হোসেন, রেহান উদ্দিন রেহান, আরিফ সিকদার, তাজুল ইসলাম আজাদ, এসএম আলমগীর হোসেন, ইমন আল আহসান, নয়ন অভীরাম গাইন নয়নসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার মাধ্যমে পায়রা বন্দর আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একসময় পায়রা বন্দর দেশের আলো ছড়াবে। সভায় পায়রা বন্দরের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অতিথিদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন প্রেসক্লাবের সকল সদস্যরা।
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর পৃথক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
একই রাতে পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ এবং ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বিজিবি। উদ্ধার করা মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ কিশোরীগঞ্জ বিওপির টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী পঁচাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তির মাদক সেবনের প্রস্তুতির তথ্য পেয়ে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।
একপর্যায়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—মোঃ লাইচু (২৭), মোঃ সাখাওয়াত (২৮), মোঃ ওমর ফারুক (৩৫), মোঃ মাজেদুর রহমান (৩২) ও মোঃ জাফরুল ইসলাম (২৩)। তাদের সবার বাড়ী দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
পরে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশী করে ১৯ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার করা মালামালসহ আটক পাঁচজনকে বিরল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে ৪২ বিজিবির অধীনস্থ এনায়েতপুর, চাপসার ও চান্দেরহাট বিওপির সদস্যরা পৃথক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে দিনাজপুর জেলার বিরল এবং ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৮ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৮ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ ও ৯৪০ পিস নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ টাকা। এসব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া এবং এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে। তাই সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে বিজিবির অবস্থান আপসহীন।
অপরাধের ধরন ও কৌশল বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অভিযান আরও কার্যকর করা হচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘পরেশ সাধুর দহ’র ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার নান্দুরিয়া চকবাজার ও পাথরাইলের টেঘুরি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এই দহটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো হওয়ায় প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। উপজেলার গাদতলা-টেগুরি সড়কের আতিয়া, দেলদুয়ার ও পাথরাইল- এই তিন ইউনিয়নের সংযোগস্থলে অবস্থিত পরেশ সাধুর দহ’র দুপাশেই রয়েছে চমৎকার পাকা সড়ক। কিন্তু মাঝখানে দহের ওপর কোনো সেতু না থাকায় এই পাকা সড়ক দিয়ে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুপাশের পাকা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না। যানবাহন না চলায় সড়কটি তার কার্যকারিতা হারিয়েছে এবং ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, এই অঞ্চলে প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সেতুর অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে বা জেলা সদরে নিয়ে যেতে পারেন না। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া এলাকায় কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসাসেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় ভুক্তভোগীদের প্রায়ই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।
এলাকাবাসীর বড় অভিযোগ, বর্তমানে এই অঞ্চলের মানুষকে টাঙ্গাইল জেলা সদরে যেতে হলে বিকল্প সড়কে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে যাতায়াত ও পরিবহন খরচও বাড়ছে কয়েক গুণ। অথচ পরেশ সাধুর দহের ওপর মাত্র একটি সেতু নির্মাণ করা হলে জেলা সদরের দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় দুই-ই এক ধাক্কায় অর্ধেকে নেমে আসত। বাঁচত মানুষের শ্রম, সময় ও অর্থ।
নান্দুরিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন আগে গাদতলা-টেগুরি সড়কটি পাকা করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের দুঃখ ঘুচবে। কিন্তু পরেশ সাধুর দহে কোনো সেতু না থাকায় এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। একান্ত প্রয়োজনে আমাদের মতো কিছু মানুষ শুধু পায়ে হেঁটে এই রাস্তায় চলাচল করে। পণ্য আনা-নেওয়া বা জরুরি যাতায়াতের কোনো সুযোগ এখানে নেই। এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে আমরা দ্রুত এখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
জাঙ্গালিয়া গ্রামের সাগর মিয়া, মুকুল হোসেন, আবেদ আলী সহ অনেকেই জানান, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে এই জায়গায় সেতু নির্মাণের বড় বড় গালভরা আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট চলে গেলে কাজের কাজ কিছুই হয় না- সবাই সব ভুলে যান। তাদেরকে অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। তাদের এই কষ্ট ও কান্না দেখার মতো যেন কেউ নেই। এসব এলাকার অবহেলিত জনগণের ভোগান্তি লাঘবে আর কোনো ফাঁকা আশ্বাস নয়, তারা অবিলম্বে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ ও সেতু নির্মাণ দেখতে চান।
তিন ইউনিয়নের হাজারো ভুক্তভোগী মানুষের এখন একটাই দাবি- জনস্বার্থে, এলাকার অর্থনৈতিক স্বার্থে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরেশ সাধুর দহের ওপর আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী জানান, তিনি বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে অবগত হয়েছেন এবং এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ওইস্থানে সেতু নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগ্রহণ ও বাস্তবায়নে এবং একটি সেতু অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।