যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
গত সপ্তাহের শেষভাগে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, ইরান যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি হাতের নাগালেই।
ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সব কথা বলা ও পোস্ট দেওয়া শুরু করলেন, যেটা করবেন না বলে তাঁর কর্মীরা বারবার নিশ্চিত করেছিলেন।
ট্রাম্পের কথা ও পোস্ট দেখে মনে হয়েছে, সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তিনি দর-কষাকষির চেষ্টা করছেন। চলমান আলোচনা নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে গেছেন এবং গত শুক্রবার সকালে যখন পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা তাঁকে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান আলোচনার হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছিলেন, তখন তিনি ফোনে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ্যে যেসব দাবি করেন, পরে ইরানি কর্মকর্তারা তাঁর অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরান নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—ট্রাম্পের এমন দাবিও তেহরান অস্বীকার করেছে।
ফলে যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য একটি শান্তিচুক্তি নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই কমে আসে। এখন শান্তি আলোচনা কোন দিকে যাবে, তা একেবারেই অনিশ্চিত।
ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে সিএনএনের কাছে স্বীকার করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্য আলোচনার জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, এই আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আলোচনার বিষয়ে অবগত এমন এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আলোচনার চেষ্টা করা, বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যেন তাঁরা (ইরানিরা) এমন বিষয়ের ওপর সম্মতি দিয়েছেন, যেগুলো নিয়ে তাঁরা এখনো একমত হননি এবং যেগুলো তাঁদের দেশের জনগণের মধ্যেও জনপ্রিয় নয়—এসব বিষয় ইরানিরা ভালোভাবে নেননি।
ওই ব্যক্তি আরও বলেন, এভাবে তাঁদের দুর্বল মনে হবে কি না, এটা নিয়ে ইরানিরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প যেসব দাবি করছেন, তার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প ব্লুমবার্গকে বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ‘অনির্দিষ্ট’ সময়ের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তেহরান ‘সবকিছুর সঙ্গে একমত হয়েছে’ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে।
আর অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেছেন, আরেকটি বৈঠক ‘সম্ভবত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হবে’। তিনি যোগ করেন, ‘আমি মনে করি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’
প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এসব দাবির মধ্যে গত রোববার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালায় এবং সেটি জব্দ করে। এ ঘটনা ইরানিদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ট্রাম্পকে এখন আবার একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি একটি চুক্তি করবেন, নাকি এমন একটি সংঘাত আরও তীব্রতর করবেন, যেটি এখনকার মতো শেষ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্প আলোচনার জন্য ইরানকে বেশ কিছু ‘সীমারেখা’ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে—ইরানকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে এবং প্রায় পারমাণবিক বোমা তৈরির মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে।
অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।
ট্রাম্প যেভাবে সবকিছু বিগড়ে দিচ্ছেন
আলোচনার প্রথম দফায়, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।
জবাবে ইরান পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে জানা আছে এমন একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বলেন, সাম্প্রতিক একটি প্রস্তাবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—প্রথমে ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখা হবে, এরপর আরও এক দশক ইরান শুধু অস্ত্র-মানের অনেক নিচের স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বাতিল চান। তিনি এমনকি প্রথম দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তার বিরোধিতাও করেন।
আগের এক প্রতিবেদনে সিএনএন বলেছিল, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশে জব্দ করা ইরানের ২ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে ইরানের পক্ষ থেকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের বিনিময়ে।
শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ নিজেদের শর্তে কতটা নমনীয় হবে, সেটির ওপর নির্ভর করছিল একটি চুক্তি হবে, নাকি হবে না।
ট্রাম্প তাঁর একটি অবস্থানে একদম অনড় রয়েছেন। সেটা হলো, এমন কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়া, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ইরান পারমাণবিক চুক্তির মতো হবে। ট্রাম্প শুরু থেকেই ওই চুক্তিকে দুর্বল বলেছেন এবং ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন।
একটি চুক্তি না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তত একটি প্রাথমিক রূপরেখাভিত্তিক সমঝোতা তৈরি হবে, এমনটা আশা করেছিলেন আলোচকেরা। তাঁরা ভেবেছিলেন, যদি একটি সমঝোতা তৈরি হয়, তবে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে চুক্তির সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে আরও গভীর আলোচনার পথ খুলে যাবে।
আলোচকেরা যখন অন্তত একটি সমঝোতার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, সোমবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে বসেন, তিনি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ অনুভব করছেন না।
অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে এই যুদ্ধ ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
ঘন ঘন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভ্যাসের কারণে আলোচনার ক্ষতিকর হতে পারে—এটা নিয়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ট্রাম্পের কোনো উপদেষ্টা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সেদিন দুপুর থেকে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একাধিক পোস্ট দেন। ওই সব পোস্টে তিনি ৯০০-এর বেশি শব্দ লিখেছেন।
আর ট্রাম্পের এসব প্রকাশ্য মন্তব্য আলোচনা ঘিরে শুধু অনিশ্চয়তাকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
যেমন রোববার সকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নেবেন না। যদিও ঠিক কী ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ, তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেননি।
একই সময়ে তাঁর সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা—জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনার মতো এই দফার আলোচনায়ও নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স।
এক দিন পর ট্রাম্প আরেকটি বিভ্রান্তিকর হালনাগাদ তথ্য দেন, এবার তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে। ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টের এক সাংবাদিককে বলেন, ভ্যান্স আকাশে রয়েছেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলোচনার জন্য পাকিস্তানে অবতরণ করতে যাচ্ছেন।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, ভ্যান্সের গাড়িবহর তাঁকে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রতিনিধিদল শিগগিরই রওনা দেবে।’
বহু বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা বলার ইতিহাস রয়েছে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন, নাকি তিনি বারবার ভুল তথ্যের শিকার হচ্ছেন, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে।
কিন্তু তাঁর মিথ্যার পুনরাবৃত্তি এতটাই বেশি যে নেপথ্যে ইরান আসলে কী বলছে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
হ্যালোইন উৎসব
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর রাত নামলেই শুরু হয় হ্যালোইন উৎসব। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, শপিংমল থেকে শুরু করে পার্টির জায়গা- সবখানেই দেখা যায় ভূত, প্রেত, কঙ্কাল, ডাইনি ও ভ্যাম্পায়ারের সাজ।
কেউ মুখে রক্তের দাগ আঁকেন, কেউ পরেন কঙ্কালের পোশাক। আবার কেউ বাড়ির সামনে সাজিয়ে রাখেন কৃত্রিম কবর, ভূতের মূর্তি ও ভয়ংকর মুখ খোদাই করা কুমড়া।
বর্তমানে হ্যালোইন অনেকের কাছে আনন্দ, সাজসজ্জা, পার্টি ও বিনোদনের উৎসব। তবে এর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মৃত্যু, আত্মা, পরলোক এবং প্রাচীন লোকবিশ্বাস। প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য থেকে কীভাবে এই উৎসবের সূচনা হলো? কেন মৃতদের আত্মার সঙ্গে হ্যালোইনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে?
হ্যালোইনের ইতিহাসের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হয় প্রাচীন কেল্টিক জনগোষ্ঠীর কাছে। ইতিহাসবিদদের মতে, হ্যালোইনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তাদের ‘সাওইন’ উৎসবের।
প্রাচীন কেল্টিক জনগোষ্ঠী বর্তমান আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও উত্তর ফ্রান্সের কিছু অঞ্চলে বসবাস করত। তাদের কাছে ১ নভেম্বর ছিল নতুন বছরের শুরু। দিনটি গ্রীষ্মের সমাপ্তি ও শীতের আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। ফসল কাটার মৌসুম শেষে শুরু হতো দীর্ঘ ও অন্ধকার শীতকাল।
কেল্টিকদের বিশ্বাস ছিল, ৩১ অক্টোবর রাত অর্থাৎ বছরের শেষ রাতে জীবিত মানুষের জগৎ ও মৃতদের জগতের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসে। এ সময় মৃতদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তিও মানুষের জগতে বিচরণ করে বলে তারা মনে করত।
এসব অশুভ শক্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে তারা বড় বড় আগুন জ্বালাতেন। অনেকে পশুর চামড়া ও মুখোশ পরে নিজেদের চেহারা বদলে ফেলতেন, যাতে আত্মারা তাদের চিনতে না পারে। এ সময় খাবার ও পানীয় উৎসর্গ করার রীতিও প্রচলিত ছিল।
পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারের ফলে কেল্টিক অঞ্চলে রোমানদের বিভিন্ন উৎসব ও সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে। এরপর ইউরোপে খ্রিষ্টধর্মের প্রসারের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন ধর্মীয় আচার।
খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারে ১ নভেম্বর পালিত হতে শুরু করে ‘অল সেইন্টস ডে’ বা সব সন্তের স্মরণ দিবস। এর আগের সন্ধ্যাকে বলা হতো ‘অল হ্যালোজ ইভ’। সময়ের সঙ্গে এই নাম সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘হ্যালোইন’ নামে পরিচিতি পায়। এ ছাড়া ২ নভেম্বর পালিত হয় ‘অল সোলস ডে’। এদিন মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হতো।
ফলে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টি ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃতদের স্মরণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। হ্যালোইনের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হলো ভেতরটা ফাঁপা করে কেটে ভয়ংকর মুখ তৈরি করা কুমড়া। এর নাম ‘জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন’।
তবে শুরুতে কুমড়া নয়, শালগম, আলু কিংবা অন্যান্য সবজি কেটে তাতে মুখ তৈরি করা হতো। এর পেছনে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের একটি লোককাহিনি।
কথিত আছে, স্টিঞ্জি জ্যাক নামের এক ব্যক্তি শয়তানকে ধোঁকা দিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর স্বর্গ কিংবা নরক- কোথাও তাঁর ঠাঁই হয়নি। হাতে জ্বলন্ত কয়লা নিয়ে তাঁকে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে হয়। সেই কাহিনি থেকেই জ্বলন্ত আলোসহ খোদাই করা সবজির নাম হয় জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন।
পরবর্তী সময়ে আইরিশ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে এই ঐতিহ্য নিয়ে যান। সেখানে শালগমের পরিবর্তে বড় আকারের কুমড়া ব্যবহার শুরু হয়। কারণ কুমড়া সহজে কাটা যায় এবং এর ভেতরে আলো রাখাও সুবিধাজনক। ধীরে ধীরে কুমড়া হয়ে ওঠে হ্যালোইনের অন্যতম প্রধান প্রতীক।
হ্যালোইনের আরেকটি জনপ্রিয় আয়োজন হলো ‘ট্রিক অর ট্রিট’। এদিন শিশুরা ভূত, ডাইনি, সুপারহিরো কিংবা বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্রের পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যায়। দরজায় কড়া নেড়ে মিষ্টি বা চকলেট চায়। মিষ্টি না দিলে মজা করে দুষ্টুমি করার কথা বলে। এ প্রথাই পরিচিত ‘ট্রিক অর ট্রিট’ নামে।
এই রীতির শিকড়ও ইউরোপের পুরোনো ঐতিহ্যে। মধ্যযুগে অল সোলস ডে উপলক্ষে দরিদ্র মানুষেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘সোল কেক’ নামের বিশেষ খাবার চাইতেন। বিনিময়ে বাড়ির মৃত স্বজনদের আত্মার জন্য প্রার্থনা করতেন।
পরবর্তী সময়ে শিশুদের মধ্যেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার সংগ্রহের রীতি জনপ্রিয় হয়। আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীদের মাধ্যমে এই ঐতিহ্য যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে ট্রিক অর ট্রিট ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় হ্যালোইন সবচেয়ে বেশি জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। বাড়িঘর সাজানো, শিশুদের ট্রিক অর ট্রিট, ভয়ংকর পোশাকের প্রতিযোগিতা, কুমড়া খোদাই এবং বিশেষ পার্টির আয়োজন করা হয়।
আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডেও হ্যালোইনের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে আগুন জ্বালানো, মুখোশ পরা, লোকজ খেলা ও বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাজ্যেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে দিনটি বেশ জনপ্রিয়।
অন্যদিকে, মেক্সিকোতে ১ ও ২ নভেম্বর পালিত হয় ‘ডে অব দ্য ডেড’ বা মৃতদের স্মরণে উৎসব। এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করেন, কবর সাজান, তাঁদের পছন্দের খাবার রাখেন এবং রঙিন কঙ্কালের সাজে উৎসবে অংশ নেন। তবে ডে অব দ্য ডেড ও হ্যালোইন দুটি আলাদা ঐতিহ্যের উৎসব।
একসময় আত্মার ভয়, মৃত্যু ও অশুভ শক্তির বিশ্বাসকে ঘিরে যে ঐতিহ্যের বিকাশ ঘটেছিল, সময়ের সঙ্গে তা অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে হ্যালোইন বিনোদন ও বাণিজ্যিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পোশাক, মুখোশ, কুমড়ার সাজসজ্জা, মিষ্টি, খেলনা ও সিনেমাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার।
তবে হ্যালোইনের ইতিহাসে এখনো জড়িয়ে রয়েছে মৃতদের স্মরণ, আত্মা সম্পর্কে প্রাচীন বিশ্বাস এবং ঋতু পরিবর্তনের ঐতিহ্য। অর্থাৎ আজকের হ্যালোইন কেবল ভূত বা ভয়ংকর সাজের উৎসব নয়; এটি প্রাচীন লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক সংস্কৃতির দীর্ঘ বিবর্তনের ফল।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লেনদেন শেষে ডিসেম্বরের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ১১৮ ডলারে উঠেছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। দিন শেষে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়ায় ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে।
অক্টোবর মাসে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার ঘিরে একাধিক ঘটনার খবর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দিনের মধ্যে সুপারট্যাংকার সংশ্লিষ্ট চারটি ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ ঘোষিত পথে চলাচলের সময় দুটি ট্যাংকার মাইনে আঘাত করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনা তেলের সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সূত্র : আল জাজিরা
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
দিনিপ্রো শহরের ব্যস্ত রেলস্টেশনে রাশিয়ার ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
দিনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনে একটি জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিতসিয়া। হামলার সময় স্টেশনটির একটি প্ল্যাটফর্মে যাত্রীবাহী ট্রেন ছাড়ার প্রস্তুতি চলছিল।
হামলার পর প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল মরদেহ। বিস্ফোরণের আঘাতে মেঝেতে রক্ত জমে যায়। বিমান হামলার সতর্কসংকেতের মধ্যে পুলিশকে কালো ব্যাগে মরদেহ ভরতে দেখা গেছে।
স্টেশনের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া ৬৭ বছর বয়সী স্বিতলানা শেরবাক বলেন, ‘আবার হামলা কেন? রাশিয়ানরা কী লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’
দিনিপ্রোতে আরেকটি হামলায় একটি শিক্ষার্থীদের আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্দর হানজা। তিনি জানান, দিনভর হামলায় শহরটির প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দিনিপ্রোর বাইরে উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ শহরের কেন্দ্রীয় সড়কে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চার শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন।
শহরটির সামরিক প্রশাসনের প্রধান দিমিত্রো ব্রিজিনস্কি বলেন, সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষ হামলার শিকার হয়েছেন।
মধ্যাঞ্চলীয় ক্রেমেনচুক শহরে আবাসিক ভবন ও ব্যক্তিগত বাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন তিনজন। আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়ায় তিনটি পৃথক হামলায় শহরের বাস লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। এতে ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে কাতার ও তুরস্কের মতো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার এই দাবিকে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার চেষ্টা আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী শিবিরের গাদি আইজেনকট। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরব দলগুলোর প্রাপ্ত তহবিলের উৎস খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেইতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে হাস্যকর ও বিপজ্জনক বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দোহার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি।নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে এটা স্পষ্ট-নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী জোট, কোনো পক্ষ পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে সব সমীকরণ পাল্টে গেছে। ১২০ আসনের নেসেটে দুটি আরব দলের জোট জয়েন্ট লিস্ট এবং রাআম রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।
নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। এমন ফলাফলে আরব দল দুটি এখন সরকার গঠনের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে গুরুতর সন্দেহের তদন্ত করতে শিন বেইতকে অনুরোধ জানান কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (সিইসি) প্রধান। এরপর বৃহস্পতিবার লিকুদ পার্টি অভিযোগ তোলে যে আরব দলগুলোকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের ঘুষ দেওয়া হয়েছে।
দুটি আরব দলই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবদের জোট জয়েন্ট লিস্ট এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।
নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা এই পুরো বিতর্ককে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর বৈধতা নষ্ট করতে চাইছেন। যাতে আইজেনকট তাদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করতে না পারেন। কারণ, বর্তমানে আরবদের সমর্থনই বিরোধী জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছে একটি অভিযোগ আসে যে আরব এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কাতার তহবিল জুগিয়েছে। তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে।
নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ এই অভিযোগকে রাজনৈতিক ভূমিকম্প এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দেয়। তাদের দাবি-কট্টর ডানপন্থী সরকারকে হটাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে শিন বেইত পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের এই তদন্ত বৈধভাবে ভোট দেওয়া পুরো আরব সম্প্রদায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে জানান, নির্বাচনের স্বচ্ছতা পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
তদন্তের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর আইজেনকট জানান, ঠিক কী ঘটেছে বা আদৌ কিছু ঘটেছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে অবৈধ প্রমাণ করতে নেতানিয়াহু সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
জয়েন্ট লিস্টের শরিক দল বালাদের চেয়ারম্যান সামি আবু শেহাদেহ এই অভিযোগ উড়িয়ে দেন। পরাজিত পক্ষ বর্ণবাদী মিথ্যা অপবাদ তৈরি করছে এবং নির্বাচনের ফল উল্টে দিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে বলপ্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছে বলে দাবি তার।
নেতানিয়াহু কয়েক দিন ধরে আরব ভোটার ও দলগুলোর ওপর ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করে আসছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আরব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ডানপন্থীদের জন্য চরম জরুরি অবস্থা এবং এটি তাদের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। ডানপন্থী সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি আরব ভোটারদের ছবিও প্রকাশ করেন।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। তাদের অনেকে নিজেদের ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন।
বহুবছর ধরে অনেক আরব ভোটাররা ইসরায়েলের নির্বাচন বর্জন করে আসছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল-ভোট দিলে এমন একটি ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া হয়, যেখানে তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু এবার নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যেই তারা বিপুলসংখ্যক ভোট দিয়েছেন।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত