যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ২:০০ এএম

গত সপ্তাহের শেষভাগে মনে হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, ইরান যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তি হাতের নাগালেই।


ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সব কথা বলা ও পোস্ট দেওয়া শুরু করলেন, যেটা করবেন না বলে তাঁর কর্মীরা বারবার নিশ্চিত করেছিলেন।


ট্রাম্পের কথা ও পোস্ট দেখে মনে হয়েছে, সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তিনি দর-কষাকষির চেষ্টা করছেন। চলমান আলোচনা নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে গেছেন এবং গত শুক্রবার সকালে যখন পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা তাঁকে তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান আলোচনার হালনাগাদ তথ্য দিচ্ছিলেন, তখন তিনি ফোনে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন।


কিন্তু ট্রাম্প প্রকাশ্যে যেসব দাবি করেন, পরে ইরানি কর্মকর্তারা তাঁর অনেকগুলোই প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইরান নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—ট্রাম্পের এমন দাবিও তেহরান অস্বীকার করেছে।


ফলে যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য একটি শান্তিচুক্তি নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুতই কমে আসে। এখন শান্তি আলোচনা কোন দিকে যাবে, তা একেবারেই অনিশ্চিত।


ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে সিএনএনের কাছে স্বীকার করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্য আলোচনার জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, এই আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


আলোচনার বিষয়ে অবগত এমন এক ব্যক্তি সিএনএনকে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আলোচনার চেষ্টা করা, বিষয়গুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যেন তাঁরা (ইরানিরা) এমন বিষয়ের ওপর সম্মতি দিয়েছেন, যেগুলো নিয়ে তাঁরা এখনো একমত হননি এবং যেগুলো তাঁদের দেশের জনগণের মধ্যেও জনপ্রিয় নয়—এসব বিষয় ইরানিরা ভালোভাবে নেননি।


ওই ব্যক্তি আরও বলেন, এভাবে তাঁদের দুর্বল মনে হবে কি না, এটা নিয়ে ইরানিরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।


ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প যেসব দাবি করছেন, তার মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প ব্লুমবার্গকে বলেছেন, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ‘অনির্দিষ্ট’ সময়ের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছে।


ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে বলেছেন, তেহরান ‘সবকিছুর সঙ্গে একমত হয়েছে’ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে।


আর অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেছেন, আরেকটি বৈঠক ‘সম্ভবত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত হবে’। তিনি যোগ করেন, ‘আমি মনে করি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’


প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এসব দাবির মধ্যে গত রোববার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে বড় পরীক্ষার মুখে পড়ে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালায় এবং সেটি জব্দ করে। এ ঘটনা ইরানিদের আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।


দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ট্রাম্পকে এখন আবার একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি কি একটি চুক্তি করবেন, নাকি এমন একটি সংঘাত আরও তীব্রতর করবেন, যেটি এখনকার মতো শেষ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।


ট্রাম্প আলোচনার জন্য ইরানকে বেশ কিছু ‘সীমারেখা’ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে—ইরানকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে এবং প্রায় পারমাণবিক বোমা তৈরির মানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে।


অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।


ট্রাম্প যেভাবে সবকিছু বিগড়ে দিচ্ছেন


আলোচনার প্রথম দফায়, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকেরা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে।


জবাবে ইরান পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে জানা আছে এমন একজন মার্কিন কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন।


আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি বলেন, সাম্প্রতিক একটি প্রস্তাবে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—প্রথমে ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখা হবে, এরপর আরও এক দশক ইরান শুধু অস্ত্র-মানের অনেক নিচের স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে।


অন্যদিকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বাতিল চান। তিনি এমনকি প্রথম দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি তার বিরোধিতাও করেন।


আগের এক প্রতিবেদনে সিএনএন বলেছিল, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশে জব্দ করা ইরানের ২ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।


এই পদক্ষেপ নেওয়া হবে ইরানের পক্ষ থেকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরের বিনিময়ে।


শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ নিজেদের শর্তে কতটা নমনীয় হবে, সেটির ওপর নির্ভর করছিল একটি চুক্তি হবে, নাকি হবে না।


ট্রাম্প তাঁর একটি অবস্থানে একদম অনড় রয়েছেন। সেটা হলো, এমন কোনো চুক্তিতে সম্মত না হওয়া, যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ইরান পারমাণবিক চুক্তির মতো হবে। ট্রাম্প শুরু থেকেই ওই চুক্তিকে দুর্বল বলেছেন এবং ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন।


একটি চুক্তি না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তত একটি প্রাথমিক রূপরেখাভিত্তিক সমঝোতা তৈরি হবে, এমনটা আশা করেছিলেন আলোচকেরা। তাঁরা ভেবেছিলেন, যদি একটি সমঝোতা তৈরি হয়, তবে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে চুক্তির সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে আরও গভীর আলোচনার পথ খুলে যাবে।


আলোচকেরা যখন অন্তত একটি সমঝোতার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, সোমবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে বসেন, তিনি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ অনুভব করছেন না।


অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছে এই যুদ্ধ ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।


ঘন ঘন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভ্যাসের কারণে আলোচনার ক্ষতিকর হতে পারে—এটা নিয়ে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ট্রাম্পের কোনো উপদেষ্টা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।


সেদিন দুপুর থেকে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ইরান যুদ্ধ নিয়ে একাধিক পোস্ট দেন। ওই সব পোস্টে তিনি ৯০০-এর বেশি শব্দ লিখেছেন।


আর ট্রাম্পের এসব প্রকাশ্য মন্তব্য আলোচনা ঘিরে শুধু অনিশ্চয়তাকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


যেমন রোববার সকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নেবেন না। যদিও ঠিক কী ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ, তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেননি।


একই সময়ে তাঁর সরকারের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা—জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়ালৎস এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে বলেছিলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনার মতো এই দফার আলোচনায়ও নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স।


এক দিন পর ট্রাম্প আরেকটি বিভ্রান্তিকর হালনাগাদ তথ্য দেন, এবার তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিয়ে। ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টের এক সাংবাদিককে বলেন, ভ্যান্স আকাশে রয়েছেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আলোচনার জন্য পাকিস্তানে অবতরণ করতে যাচ্ছেন।


কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখা যায়, ভ্যান্সের গাড়িবহর তাঁকে নিয়ে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে পৌঁছেছে।


পরিস্থিতি সামাল দিতে হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা ব্যাখ্যা দেন, ‘আমরা আশা করছি, প্রতিনিধিদল শিগগিরই রওনা দেবে।’


বহু বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের মিথ্যা বলার ইতিহাস রয়েছে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন, নাকি তিনি বারবার ভুল তথ্যের শিকার হচ্ছেন, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে।


কিন্তু তাঁর মিথ্যার পুনরাবৃত্তি এতটাই বেশি যে নেপথ্যে ইরান আসলে কী বলছে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপে বড় ব্যবধানে এগিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন। 


অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে দলটি ৯টিতে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।


গতকাল সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।


অনানুষ্ঠানিক ও প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, পিএমএল-এন মিরপুরের দুটি, ভিম্বরের তিনটি এবং কোটলির চারটি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে পিপিপি মিরপুরের দুটি ও কোটলির দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।


পিএমএল-এনের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে নির্বাচন চলাকালে দুটি সহিংস ঘটনার কথা জানান সানাউল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, একটি ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে। অন্যটি ঘটে নাকিয়াল এলাকায়, যেখানে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


রানা সানাউল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ভিম্বরের এক আসনে এক প্রার্থী নিজেই একটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


তিনি দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সামগ্রিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০৩ পিএম

আরেকটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসের মধ্যেই মঙ্গলবার ফ্রান্স ও স্পেনের দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, দেশ দুটিতে এবারের দাবানলটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের পাশাপাশি পুড়ে গেছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ বাসিন্দা।


ফ্রান্সে ওয়াইন উৎপাদনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বোর্দো শহরের কাছে জ্বলতে থাকা বড় দাবানল থেকে পাইরোকিউমুলোনিম্বাস বা অগ্নি মেঘ তৈরি হয়েছে। বিরল এই মেঘের কারণে ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাত হতে পারে।


আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পশ্চিম ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। যা মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে ও বুধবার থেকে স্পেনে অনুভূত হবে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


ফ্রান্সের বোর্দোতে কাজ করা দমকলকর্মীরা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগের রাতে কয়েকটি স্থানে নতুন করে দাবানল তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় সেটি আশপাশে ছড়াতে পারেনি। সোমবার বোর্দোর একটি এলাকা পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলো বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। আমাদের টিকে থাকার লড়াই করতে হবে।’


গত ছয়দিনে বোর্দোর আশপাশের দাবানলে ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা। সেখানে অন্তত ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৩৯ পিএম

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠকের পর আপাতত নতুন কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে দলটি।


সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সরকার আগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সৌরভ দাসের ভাষ্য, বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা নির্দেশনার কপি তাদের দেখানো হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্য বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা দ্রুত জারি করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস জানান, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, জবাবে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।


সৌরভ দাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য সব রাজ্য সরকারের কাছ থেকে একই ধরনের সুরক্ষামূলক নির্দেশনা জারির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।


তিনি বলেন, ‘সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে বিভিন্ন রাজ্যের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এতে আন্দোলনকারীরা নিরাপদ থাকবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’


সিজেপির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে। 


কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।


নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।  


‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে। 


স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি। 


সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়। 


বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।


তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ এএম

ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের কঠোর হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৭ জুলাই) মিশিগানে যাওয়ার পথে এই হুমকি দেন তিনি।


এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে ভালো ও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান পাল্টা দাবি করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।


চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা হলেও, হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং ১৩ জুলাই থেকে মার্কিন বাহিনী আবারও নতুন করে বিমান হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে।


টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান স্থগিত করে। টানা চার দিনের মতো সোমবারও (২৭ জুলাই) মার্কিন হামলা স্থগিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।



সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৭ সোমবার) হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত ও অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। এ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিতি ছিলেন। তারা দুজনই নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর ইরানে হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ হওয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। ওমানের সঙ্গে মিলে নৌযান চলাচলের নতুন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।


সূত্র: রয়টার্স


ভারতের জেন-জি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ পিএম

ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে রূপ নিতে চলেছে জেন জি বা জেনারেশন জেডের তরুণ-তরুণীরা। ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। 



সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাটি এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে যে দেশের তরুণ সমাজকে সরকার এখন আর এড়িয়ে চলতে পারে না। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনটি দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এক বৃহত্তর জাতীয় আলোচনায় রূপ নেয়, যা প্রমাণ করে যে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত ভারতীয় যুবসমাজ কত দ্রুত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।


জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সি জেন জি প্রজন্মের জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে (প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ২০ লাখ নারী)। এর মাধ্যমে তারা মিলেনিয়াল প্রজন্মকে পেছনে ফেলে ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত হবে। এই জনমিতিক পরিবর্তনের প্রভাব কেবল সংখ্যার পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; জেন জি প্রজন্ম দেশের বৃহত্তম ছাত্র সমাজ, প্রথমবার ভোটদাতা ভোটার এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করবে। ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন ও সুশাসনের মতো ইস্যুগুলো রাজনৈতিক ময়দানে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।


ভারতের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে সামগ্রিক ভোটারদের মধ্যে তরুণদের অনুপাত কিছুটা কমলেও, জেন জি তাদের বিশাল সংখ্যা, অভূতপূর্ব ডিজিটাল সংযোগ এবং দ্রুত সংঘবদ্ধ হওয়ার ক্ষমতার কারণে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। সামগ্রিক জনসংখ্যার রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুদের অনুপাত হ্রাসের পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। 


ভারত বয়সসীমার দিক থেকে প্রবীণ হওয়ার সাথে সাথে ঐতিহ্যগত জনমিতিক লভ্যাংশ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসায় বর্তমান সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেন জি এমন একসময়ে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রেণীতে পা রাখছে যখন তারা দেশের বৃহত্তম ও রাজনৈতিকভাবে অন্যতম সচেতন প্রজন্মে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনবে।


সূত্র: এনডিটিভি।