কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন কোনো আকস্মিক উত্তেজনার ফল নয়। বরং মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসভাবে পাল্টে দিতে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশে এই যুদ্ধ। আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল–থানি।
আল–জাজিরাকে দেওয়া এক বিস্তৃত ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক ওই অঞ্চলের দ্রুত পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
শেখ হামাদ সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা এ যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তথাকথিত ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ গঠনের আকাঙ্ক্ষার বিষয়েও সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানান।
শেখ হামাদ বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের বড় ধরনের এক পুনর্গঠনের সাক্ষী হচ্ছি।’ আগামী কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রূপরেখা কেমন হবে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা সেটা নির্ধারণ করে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ‘ভ্রান্ত ধারণা’ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুল পদক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যে আসন্ন সংঘাতের বিষয়ে শেখ হামাদ গত বছরই সতর্ক করেছিলেন। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন, যাতে সামরিক হামলা প্রতিরোধ করা যায়।
শেখ হামাদ ইরানের সঙ্গে সংঘাত উসকে দেওয়ার একটি চেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। এ জন্য তিনি ইসরায়েলের ভেতরের একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীকে দায়ী করেন, যাদের নেতৃত্বে রয়েছেন নেতানিয়াহু।
শেখ হামাদের মতে, এই গোষ্ঠীটি সেই ১৯৯০-এর দশকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদসহ আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করতে দ্বিধা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের কাছে একটি ‘ভ্রান্ত ধারণা’ সফলভাবে বিক্রি করতে সক্ষম হন বলে মনে করেন শেখ হামাদ।
শেখ হামাদ বলেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) মার্কিন প্রশাসনকে বোঝাতে সক্ষম হন, এই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটবে।’
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীলতার সমালোচনা করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি সব সময়ই বলপ্রয়োগ এড়িয়ে চলার সক্ষমতায় নিহিত ছিল, তা প্রয়োগ করার মধ্যে নয়।’
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত সব পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। শেখ হামাদ মনে করেন, এ বছরের শুরুতে জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান যুদ্ধ এড়াতে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেই আলোচনাকে যদি আরও দুই সপ্তাহ বেশি সময় দেওয়া হতো, তবে এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো।
শেখ হামাদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, এই যুদ্ধের প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে নেতানিয়াহু সামনে চলে এসেছেন। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে জোরপূর্বক আঞ্চলিক জোট গঠনে তাঁর ধারণা এবং ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ পরিকল্পনাকে সামনে আনছেন—যা ইসরায়েলের ডানপন্থীদের একটি ধারণা। তাদের মূল লক্ষ্য প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর আরও গভীরে ইসরায়েলের সীমানার সম্প্রসারণ।
হরমুজ প্রণালি: নতুন বৈশ্বিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু
তেহরানের কৌশল মূল্যায়ন করে শেখ হামাদ বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে প্রতিপক্ষের প্রাথমিক সামরিক হামলার সামনে ইরান সফলভাবে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। পরে নতুন একটি কৌশলগত সুবিধা বুঝতে পেরে দেশটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সময়ক্ষেপণ করে। এই কৌশলগত সুবিধার মূল ভিত্তি ছিল, হরমুজ প্রণালিকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা।
এই জলপথকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাকে যুদ্ধের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিণতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শেখ হামাদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এখন এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকীর্ণ জলপথকে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তুলনায় বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এটি আরও তাৎক্ষণিক ও গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
শেখ হামাদ বলেন, ওয়াশিংটন নয়, এই (হরমুজ প্রণালি) সংকটের সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভোগ করেছে উপসাগরীয় দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শিকার হওয়ার পর ইরান পাল্টা জবাব দিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জ্বালানি, শিল্প ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
শেখ হামাদ ইরানের ওইসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাতে ওইসব হামলা চালিয়েছিল। অথচ উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্টভাবেই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।
এর ফলে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের অনেক রাজনৈতিক পুঁজি হারিয়েছে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিঘ্ন নিয়ে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়েছে। তবে শেখ হামাদ জোর দিয়ে বলেন, ভৌগোলিক কারণ দেশগুলোর সহাবস্থানকে অনিবার্য করে তুলেছে। তাই তিনি তেহরানের সঙ্গে একটি খোলামেলা ও যৌথ উপসাগরীয় সংলাপের আহ্বান জানান—যেখানে বিচ্ছিন্ন ও এককভাবে যোগাযোগের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ভবিষ্যৎ কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
‘গালফ ন্যাটো’ গড়ার আহ্বান
শেখ হামাদ জোর দিয়ে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ইরান, ইসরায়েল বা বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নয়; বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভাজন।
এর মোকাবিলায় শেখ হামাদ একটি সামরিক জোট ‘গালফ ন্যাটো’ গঠনের প্রস্তাব দেন। এটি হবে একটি যৌথ রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা প্রকল্প, যা শুরু হবে কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে। সৌদি আরব হবে এর নিরপেক্ষ মেরুদণ্ড।
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়নও শুরুতে অল্প কয়েকটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়েছিল এবং পরে তা সম্প্রসারিত হয়েছে। একই ধরনের একটি মডেলের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক আইনের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে এবং সদস্যরাষ্ট্রের জন্য আইন সমান, মেনে চলা বাধ্যতামূলক ও সম্মানযোগ্য হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ হামাদ স্বীকার করেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো কয়েক দশক ধরে প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চীনকে নিয়ন্ত্রণ এবং এশিয়ার দিকে ওয়াশিংটনের কৌশলগত ঝোঁক বিবেচনায় উপসাগরীয় অঞ্চল আর দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করতে পারবে না। তাই তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর আঞ্চলিক কৌশলগত হিসাব-নিকাশ
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শেখ হামাদ সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের শাসনব্যবস্থার পতনে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিপ্লবের শুরুর দিকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সাবেক প্রেসিডেন্টকে তাঁর জনগণের কথা শোনার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নতুন সিরীয় নেতৃত্বের বাস্তববাদী অবস্থানের প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ইসরায়েলি উসকানি এড়িয়ে চলার ক্ষেত্রে তাদের কৌশলের কথা উল্লেখ করে। পাশাপাশি তিনি প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ ও আসাদ সরকারের অব্যবস্থাপনার পর দেশকে পুনর্গঠন করতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্নির্মাণের ওপর মনোযোগ দেওয়ায় আহ্বান জানান।
আল–জাজিরার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ একটি গোপন কূটনৈতিক ইতিহাসও প্রকাশ করেন। শেখ হামাদ বলেন, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে বিল ক্লিনটন প্রশাসনের একটি বার্তা পৌঁছে দিতে কাতারি নেতৃত্ব তাঁকে তেহরানে পাঠিয়েছিল। ওই বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান তার নবজাত পারমাণবিক কর্মসূচি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করবে অথবা আন্তর্জাতিক কোনো ব্যবস্থার অধীনে তা গ্রহণ করবে।
সেখানে কাতার কেবল একজন বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করেছিল। তারপরও তেহরান সে সময় দোহাকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সমন্বিত বা সংগতিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।
ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।
রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।
এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।
সূত্র: দ্য রিপাবলিক
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।